ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

যে-কোনো কথার ভেতর প্রশ্ন কিংবা উত্তর থাকে। প্রশ্নোত্তর এক সাথেও থাকতে পারে। সাহিত্য আর শিল্পকলাতেও নিত্য নতুন প্রশ্নোত্তর বের হয়। সকল মাধ্যমে প্রকাশিত কথাদেরকে আমরা এক সাথে বলতে পারি প্রশ্নোত্তর। প্রশ্নোত্তরগুলো ভাব ধারণ করে। ভাব ধরবার জন্যে ভাষার আশ্রয়ে যাওয়া। ভাষা কখনো সুরসমেত ফোটবার পর উতলা করে কিন্তু ভাষা তার সীমার ভেতরে থাকে। কখনো বিশাল ভাবাংশের কিঞ্চিত ধরে ভাষা, অথবা ইশারা দ্যায়। ইশারা ধরে বুঝাবুঝি নানা পর্যায় অতিক্রম করে।

কিছু কথাতে, কিছু বিবৃতিতে, কিছু ভাষাতে উদ্ভাসিত ভাবকে সম্প্রসারণ করা যায় ইচ্ছামত। কথাও কথা বলে। কথার ভেতরে অর্থের স্তর বিন্যাস থাকে। লাল রঙের কথা নীল সবুজ শাদা হলুদ ইত্যাদি রঙের কথা বলতে পারে।

বিজ্ঞানীও বুঝে নিয়েছেন তাঁর বহু বছরের সাধনার ধন থিওরীগুলো ফলসিফায়েবল। মানে, তত্বগুলোর বাতিলযোগ্যতা আছে। কিন্তু বাতলিযোগ্যতা অর্থ থিওরীগুলো ভুল বা বাতিল না। ব্যাপারটা একটা সিঁড়ির প্রতিটি ধাপের মতন। প্রতিটি ধাপ প্রয়োজনীয়। সকল ধাপের কথাতে তত্বদের ছায়া থাকে।
আমরা বচনের দ্বারা তাত্পর্যের যোগ বিয়োগ পুরণ ভাগ করি; বচনের দ্বারা অনির্বচনীয়কেও বুঝি কিঞ্চিত। কিন্তু যা বুঝি তা ষোল আনা ভাষাতে ধরতে পারি না। কিছু দৃশ্য পাঠ করার পর আমরা ভাষা খুঁজে পাই না। আমাদের ভেতরের বাহিরের বন্ধন কিংবা ভালোবাসা প্রশ্নোত্তর ধারণ করে। আমরা যখন দেখি ঘ্রাণ ব্যাপারটা সারমর্ম ও রিফ্লেকশন, তখন সকল কিছুতে আমরা ঘ্রাণের পরিপ্রেক্ষিত পাই। জীবন প্রবাহের পরতে পরতে; বস্তু ও প্রাণের সখ্যতাতে, স্থান কাল শক্তির বিন্দু ও সিন্ধুতে আমরা পাই প্রশ্নোত্তর চর্চা। আমাদের কথাদের কোনো সদর্থক ইতি নাই, অশেষ অবস্থাতে একটা শেষ নির্ধারণ করি। এই বইয়ে বহুবিধ কিছু কথা- কিছু ভাব- কিছু প্রশ্নোত্তর চর্চা আছে।

বিষয়াবলীর গৌরচন্দ্রিকাও বহুবিধ হতে পারে। শব্দে শব্দে বাক্যে বাক্যে বহদূর যাওয়ার পর বাকি থাকে অনেক সুদূরে যাওয়ার। ভুল করি, শুদ্ধ করি, সরব সক্রিয় থাকি, নিরব সক্রিয়তাতেও আছি, ‘না-ডুবাই না-ভাষাই’ অবস্থাতেও চলতে থাকি পথে পথে জগতমন্ডলের গতি-স্পন্দনের সাথে।

-সারওয়ার চৌধুরী

…………………………………
বইমেলায় বইটি পাওয়া যাচ্ছে। প্রকাশ করেছে আদর্শ প্রকাশনী এবং পরিবেশক ‘ভাষাচিত্র’। বাংলা একাডেমির বিক্রয় কেন্দ্রের পাশে (বটতলায়) আদর্শ প্রকাশনীর ৯৭ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে।