ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

অবিভক্ত সমগ্র ভাঁজে ভাঁজে বিদ্যমান সকল ‘আছে’ আর ‘নাই’! দেখলেই ভাঁজ দেখা, দেখলেই ভাঁজ খোলা, দেখলেই ভাঁজে ভাঁজে ‘আছে’ আর ‘নাই’। না-দেখিলেও যেনো নাই বলা যায় না।

একজন সুস্থ সবল জীবিত মানুষ আর মৃত মানুষ নিয়ে ভাবতে থাকি কিছুক্ষণ। আমাদের ‘আছে’ জ্ঞানানুসারে জীবিত মানুষটির মধ্যে অনেক প্রকার বিষয়-আশয় আছে। যেমন, প্রাণ, চেতনা, ভাষা, আশা, বহুবিধ তৃষ্ণা ও ক্ষুধা, মৃত্যুভয়, অজস্র প্রকার চিন্তার সক্রিয়তা (চিন্তা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান মোতাবেক)ইত্যাদি। জীবিত মানুষটির মধ্যে স্বয়ংক্রিয় একটি হৃদযন্ত্র চালু আছে। তার মধ্যে উদ্দীপনার জন্ম হয়, তার ইচ্ছা শক্তি আছে, তার শরীরের ভেতর ‘ইমমিউন সিস্টেম’ নামের একটা সিস্টেম সক্রিয় আছে শরীরকে রোগ-ব্যাধি থেকে হেফাজতের জন্য। রোগাক্রান্ত হলে ইমমিউন সিস্টেমের সৈন্যরা তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত হয়। যুদ্ধ চলাকালে আমরা নির্দিষ্ট অংশে ব্যথা পাই, কখনো সর্বাঙ্গে ব্যথা, জ্বর। এই অবস্থা যুদ্ধের কারণে। ইমমিউন সিস্টেমকে সাহায্য করবার জন্য বাইরে থেকে আমরা ওষুধ সরবরাহ করে থাকি।

মানুষটি যখন মৃত হলো, উপরে বর্ণিত সকল প্রকার সক্রিয়তা তার মধ্যে অনুপস্থিত। আমরা বুঝলাম মানুষটি মৃত অবস্থায় আছে। মানে মানুষটি, জীবিত অবস্থায় না মৃত অবস্থায় আছে। একটা ক্ষণকালের ‘আছে’ অবস্থা। উপরে বর্ণিত সকল প্রকার ‘আছে’ জীবিত মানুষটির মধ্যে নাই। অনেক প্রকার নাই নাই নাই নাই নাই নাই। ‘খাঁটি মৃত’ হওয়ার পর সোনার ময়না পাখির দেহপিঞ্জরের ডিকমপজিশনের পর্যায় শুরু-
‘Once the heart stops, chemical changes occur within the body and result in changes in pH, causing cells to lose their structural integrity. The loss of cell structure brings about the release of cellular enzymes capable of initiating the breakdown of surrounding cells and tissues.’

মৃত মানুষ স্বেচ্ছায় তত্পর হতে পারে না কারণ ‘জীবন প্রদীপ’ নিভে গেছে বিধায় সকল সক্রিয়তা অচল হয়েছে। ‘জীবিত মানুষ’ তার শরীরের ইমমিউন সিস্টেমের সহযোগিতাসহ স্বেচ্চায় খাদ্যপ্রাণ গ্রহণ করে জীবিত থাকবার চেষ্টা করতে করতে এক পর্যায়ে স্বাভাবিক ‘মৃত্যু’ হয়। মানে, দেখা যাচ্ছে, জীবিত মানুষ জীবিত থাকে স্বয়ংক্রিয় সচল থাকবার সহযোগিতা প্রাপ্তি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত। যে-সীমা আমাদের বোধগম্য কালের হিসাব সাপেক্ষে।

জীবিত মানুষটি বলতে পারে ‘আমার শরীর’। মৃত মানুষটির স্বরযন্ত্র বলতে পারে না ‘আমার শরীর’। মৃত মানুষটি নাই হওয়া মানে ইন্দ্রিয় জ্ঞানে ধরবার অবস্থায় সে আর নাই। হৃদস্পন্দনের দ্বারা চলতে থাকা রক্ত সঞ্চালন বন্ধ এবং শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার পর কয়েকটি পর্যায় অতিক্রম করে মানুষটি ‘মৃত’ হয় (death is a series of physical events)। দেখা গেছে, কার্ডিয়াক এ্যারেস্টের ক্ষেত্রে cardiopulmonary resuscitation (CPR) এর মাধ্যমে ক্লিনিক্যালি ডেড অবস্থা থেকে ‘জীবন’ ফিরে না-আসলে ‘খাঁটি মৃত্যু’ হয়েছে বোধগম্য হয়। তারপর ক্রমান্বয়ে লিভিং অরগ্যানিজমের কার্যাবলি থেমে যেতে থাকে। উল্লেখ করা যায়,চিকিত্সা বিজ্ঞানের জ্ঞানের দৌলতে মানবজাতি পেয়েছে, ফিজিওলজিক্যাল ডেথ অবস্থা থেকে কখনো জীবনে ফিরে আসবার উপায়। আসল কথা হলো, এক সময় সকল উপায় অকার্যকর হয় নির্দিষ্ট ব্যক্তিটি’মৃত’ হতে বাধ্য হয়।মানুষটি মৃত মানে আমরা বুঝি, ইন্দ্রিয় জ্ঞানে তাকে সক্রিয় দেখবার অবস্থায় সে নাই। তার মানে এই পরিপ্রেক্ষিতেও ‘আছে’ আর ‘নাই’ জ্ঞানেন্দ্রিয়দের সনদ প্রদান সাপেক্ষে। এই ‘আছে’ আর ‘নাই’ আসলেই কি ‘আছে’ অথবা ‘নাই’?

কারণ, আমরা দেখি, আলো ছাড়া আসবাবপত্র ভর্তি (যদি আসবাবপত্র সম্পর্কে জ্ঞানশুন্য থাকে) কক্ষটির অন্ধকারের উপর দৃষ্টি রাখলে, অন্ধকার শুধু, আর কিছু নাই। ফোটন কণাদের সমন্বিত অবস্থা আলোকে জানি বলে, বলতে পারি, কক্ষটি আলোকিত হলে কিছু আছে কি না বলা যেতে পারে। যদি আলোর সাথে পরিচয় না-থাকতো, তাহলে আমরা ‘অন্ধকার’ আর ‘নাই’ পর্যন্ত থেমে যেতাম। অন্ধকারটাকেও আলোর সাপেক্ষে আমাদের চেনাজানা। অন্ধকারে নাই দেখতে পাওয়া মানে নাই না। অন্ধকারের ভেতরে আছে যা কিছু তা নাই আকারে প্রকাশিত।ফলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, আলো, অন্ধকার, ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান আর প্রয়োজন বা আকাঙ্খা সাপেক্ষে ‘নাই’ হওয়া মানুষটি কী আসলেই নাই? তাহলে কী অন্য প্রকার ‘আলো’র সাপেক্ষে মানুষটি ‘আছে’ অবস্থাতে আছে যা আমাদের বোধগম্য ফেনমেননের বাইরে?

হাইয়ার ফিজিক্স আমাদেরকে একটা হাইপোথিসিস দিয়েছে যার নাম ‘ডার্ক মেটার’। অভিকর্ষের ইফেক্ট থেকে এই অনুমান। বলেছে মহাবিশ্বমন্ডলের নব্বই ভাগেরও বেশি বাস্তবতা ওই ‘ডার্ক মেটার’। রকমফেরও আছে। গরম ডার্ক মেটার ঠান্ডা ডার্ক মেটার, মিশ্র ডার্ক মেটার। আমাদের আছে নাই-জ্ঞান ওই ‘ডার্ক মেটার’ সম্পর্কে। কেননা রেডিও এ্যান্টেনায় ধরে না, কোনো উপায়ে ডিটেক্ট করা যায় না। বিশাল সমুদ্রের বিশাল মাছটি মরবার পর পঁচে গলে ছিন্ন ভিন্ন অন্য কারো খাদ্য হলেও দেখা যাচ্ছে সমুদ্রময় হয়ে গেল। কিন্তু আমরা বললাম, মরে ‘নাই’ হয়ে গেছে।

চোখের দ্বারা যা দেখি, জ্ঞানের দ্বারা তার নাম পরিচয় জানি। নীল সামিয়ানার মতো নীলাকাশ যা দেখি, তারে ধরতে গেলে সাক্ষাত নাই। অমন কিছু্ নাই-ই তার সাক্ষাত মিলে কেমনে! শুন্য স্পেস শুন্য না, তাতে কিছু আছে। খালি চোখে যা দেখি, মাইক্রোস্কোপের নীচে দেখি আরো বহু কিছু। যেখানে দেখি কিছু ‘নাই’ সেখানে অন্যভাবে দেখলে দেখি কিছু ‘আছে’।কারণ, আমরা দেখি, আলো ছাড়া আসবাবপত্র ভর্তি (যদি আসবাবপত্র সম্পর্কে জ্ঞানশুন্য থাকে) কক্ষটির অন্ধকারের উপর দৃষ্টি রাখলে, অন্ধকার শুধু, আর কিছু নাই। ফোটন কণাদের সমন্বিত অবস্থা আলোকে জানি বলে, বলতে পারি, কক্ষটি আলোকিত হলে কিছু আছে কি না বলা যেতে পারে। যদি আলোর সাথে পরিচয় না-থাকতো, তাহলে আমরা ‘অন্ধকার’ আর ‘নাই’ পর্যন্ত থেমে যেতাম। অন্ধকারটাকেও আলোর সাপেক্ষে আমাদের চেনাজানা।ফলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, আলো, অন্ধকার, ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান আর প্রয়োজন বা আকাঙ্খা সাপেক্ষে ‘নাই’ হওয়া মানুষটি কী আসলেই নাই? তাহলে কী অন্য প্রকার ‘আলো’র সাপেক্ষে মানুষটি ‘আছে’ অবস্থাতে আছে যা আমাদের বোধগম্য ফেনমেননের বাইরে?

হাইয়ার ফিজিক্স আমাদেরকে বলেছে মহাবিশ্বমন্ডলের নব্বই ভাগেরও বেশি বাস্তবতা ওই ‘ডার্ক মেটার’। আমাদের আছে নাই-জ্ঞান ওই ‘ডার্ক মেটার’ সম্পর্কে। কেননা রেডিও এ্যান্টেনায় ধরে না, কোনো উপায়ে ডিটেক্ট করা যায় না।চোখের দ্বারা যা দেখি, জ্ঞানের দ্বারা তার নাম পরিচয় জানি। নীল শামিয়ানার মতো নীলাকাশ যা দেখি, তারে ধরতে গেলে সাক্ষাত নাই। অমন কিছু্ নাই-ই তার সাক্ষাত মিলে কেমনে! শুন্য স্পেস শুন্য না, তাতে কিছু আছে। খালি চোখে যা দেখি, মাইক্রোস্কোপের নীচে দেখি আরো বহু কিছু। যেখানে দেখি কিছু ‘নাই’ সেখানে অন্যভাবে দেখলে দেখি কিছু ‘আছে’।পদার্থবিদ ডেভিড বাম দেখেছেন, হলোমোভমেন্ট, মানে, বাস্তবতা আছে ক্রমাগত এ্যানফল্ডমেন্ট এবং আনফল্ডমেন্টের মধ্যে। মানে, দেখা মাত্র ভাঁজ খুলি, দেখা শেষ, ভাঁজ করে রাখা। ভাঁজে ভাঁজে বিদ্যমান ‘আছে’ আর ‘নাই’ জ্ঞান অবিরাম, অনির্বচনীয় অবিরাম।