গত প্রায় দেড় দশক ধরে চলছে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে হাউকাউ। আসলে স্বাধীনতার ঘোষক কে? এমন প্রশ্ন রাজনীতিবিদেরাই করেন এবং নিজেরাই এর উত্তর দিয়ে দেন। এই প্রসঙ্গে টিভি চ্যানেলের টক-শোতে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার মওদুদকে প্রশ্ন করা হয়, স্বাধীনতার ঘোষক কে? সরাসরি প্রশ্নের উত্তর তিনি খুব সাহসিকতার সাথে এড়িয়ে যান। সাহসিকতা শব্দটা এই জন্য ব্যবহার করলাম কারণ, তিনি ধাপ্পাবাজ নেতা হওয়া সত্ত্বেও খুব সুন্দর করেই রাজনৈতিক জীবন অতিবাহিত করছেন। আর এই জীবন পার করার জন্য দরকার সাহস। যাহোক, উত্তরে তিনি বলেছিলেন, দেখুন- “আমরা বাঙালী জাতি হিসেবে অত্যন্ত সংকীর্ণ মনোভাবের পরিচয় দিচ্ছি। স্বাধীনতার এতোগুলো বছর পরও আমাদের এইগুলো নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে ইতিহাসের কোন প্রশ্ন নেই। কিন্তু যারা এই ধরনের ইস্যূ দাঁড় করাতে চাচ্ছেন তারাই বঙ্গবন্ধুকে খাটো করছেন। সবচাইতে বড় বিষয় জিয়াউর রহমান তার জায়গায় এবং বঙ্গবন্ধু নিজ জায়গায় এখনও বসে আছেন।”
আমাদের টক-শোগুলোতে সমস্যা এখানেই। আমরা যে বিষয়গুলো নিয়ে টক-শো দেখি সে বিষয়টি বাদে অন্য বিষয়গুলোই বেশী হয়। এবং লাইন বিচ্যূত হওয়ার পরও উপস্থাপকরা পাল্টা বিষয়টাতে ফেরত আসেন না।
যাইহোক, আজকে ব্লগে মিনহাজ হেলাল নামে একজন ব্লগার স্বাধীনতার ঘোষক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। (এই লিংকে লিখাটি আছে।)
আলোচনার শুরুতেই তিনি বলেছেন, “স্বাধীনতার ২৫ বছর পর অর্থাৎ ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগ পর্যন্ত স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে কেউ অস্বীকার করেন নি।”
যুক্তিতর্কের কাছে এই মন্তব্যটি খুবই দূর্বল। কারণ সত্যি কথা বলতে কি ১৯৯৬ সালের পূর্বে বঙ্গবন্ধুকে অনেকটা আড়ালেই রাখা হয়েছিল। অন্তত আমি বলতে পারি, ৯৬ সালের পূর্বে আমি শুধু নিজের ঘরেই মায়ের মুখে বঙ্গবন্ধুর নাম শুনেছিলাম। এবং সেই সাথে বলতে হয়, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন সম্পর্কেও আমি জানতাম না। আওয়ামী লীগের মতে ৯৬ সাল পর্যন্ত দেশকে একটা অন্ধকারের মধ্যে রাখা হয়েছিল। আসলে, দেশ অন্ধকারে না থাকলেও ইতিহাস বিষয়ে অনেকটাই অন্ধকারে ছিল এই দেশ। এমনকি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক জাদুঘরও হয়েছে ৯৬ সালের পর। এর আগে জিয়া-এরশাদ কেউ ভাবেননি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ করা উচিত। তবে, জিয়া বরাবর নিজেকে একটা লাইম লাইটে আনার চেষ্টা করেছেন। তবে সেটা নিজ উদ্যোগে নয়। চাটুকার তো আছেই এই জন্য।
ইতিহাসে জিয়াউর রহমান একজন ভাগ্যবান মানুষের নাম। এমন কপাল নিয়ে মনে হয় শুধু তিনিই জন্মেছিলেন। ২৬ মার্চ ঘোষনা পত্র পাঠ করার জন্য একজন সেনা অফিসার প্রয়োজন ছিল। সামনে জিয়াকে পাওয়া গেলো। জিয়াকে দিয়ে পাঠ করানো হলো। প্রথমে তিনি বঙ্গবন্ধুর নাম উল্লেখ করেন নাই। পরে তাকে আবার পাঠ করতে বলা হয়। তিনি আবার পাঠ করেন, আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের পক্ষে বলছি……..
এখন বোবার বিয়েতে বোবার হয়ে কাজি যদি কবুল বলেন তাহলে বউ হয়ে যাবে কাজির। বিষয়টি যদি এমন হয় তাহলে যুক্তিতর্কে যাওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। আর একটি ঘোষনা পাঠ করা নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষক কে! এমন প্রশ্ন করাটাই অবান্তর। বঙ্গবন্ধু মানেই তো স্বাধীনতা।
ব্লগার মিনহাজ বলেছেন, যদি ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে থাকেন তবে সেইদিন কেন স্বাধীনতা দিবস পালন হয় না।
এখান থেকেই প্রকাশ পায় ব্লগারের অজ্ঞতা। বঙ্গবন্ধু অপেক্ষা করছিলেন সশস্ত্র হামলার। কারণ, বিপ্লব সশস্ত্র হামলা ছাড়া আসবে না। বিপ্লবের জন্য প্রয়োজন হামলার। এবং এটা তখন অনেকটা নিশ্চিত ছিল যে পশ্চিম পাকিস্তান হামলা করবে। এবং ঠিক তখনই বাংলাদেশে স্বাধীনতার ঘোষনা করা হবে। এমন প্রস্তুতি ছিলই। আর সেজন্যই তিনি ৭ মার্চের ভাষনে বলেছিলেন, “তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো।”
৭ মার্চের ভাষনে শুধু একটি রাজনৈতিক ভাষন ছিল না। সেখানে একটি যুদ্ধের নির্দেশনা ছিল।
এই ভাষন শুনে কিংবা দেখে যে বাঙালী ইতিহাস নিয়ে তর্ক করেন তার দেশপ্রেম বিষয়ে যথেষ্ট বড় একটা প্রশ্নবোধক চিহ্ন দাঁড় করানো যায়। উক্ত ব্লগার এও বলেছেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ধাপ হিসেবে লাখো কোটি জনতার সাক্ষ্যকে অস্বীকার করা পূর্বক আওয়ামী ঘরানার কিছু স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবী স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানকে অস্বীকার করে বসে। গায়ে প্রগতিশীল তকমা লাগিয়ে ক্ষমতাসীনদের আনুকুল্য পেতে এক শ্রেনীর বুদ্ধিজীবী নামধারী সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তির দাসেরা একের পর এক মিথ্যা, বানোয়াট এবং মনগড়া ইতিহাস রচনার প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয়। আর দেশের আপামর জনসাধারনকে ধোকায় ফেলার এক নগ্ন খেলায় মেতে ওঠে তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা। ভাড়াটিয়ে লেখক দিয়ে ইচ্ছেমত ইতিহাস রচনা করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে চরম বেঈমানী করে নতুন প্রজন্মকে অন্ধকারে পতিত করার যে কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয় তা গত আড়াই বছরে লজ্জাজনক স্তরে পৌছে গেছে।”
বিষয়টি আসলে ভয়াবহ। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে কথা বলতে গেলে ভাড়াটিয়া লেখকের তকমা গায়ে লাগানো বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি নিজেও বলতে চাচ্ছি – ‘জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা যায় না। ‘ কিন্তু আমি কোন ভাড়াটিয়া লেখক নই। আমাকে এই সত্যিটি প্রকাশ করার জন্য কেউ টাকা দেয়নি। দিতে চাইলেও ইতিহাস পাল্টাবার অধিকার আমার নেই। সত্যি যতই চাপা দিয়ে রাখা হোক না কেন প্রকাশ তাকে পেতেই হবে। তিনি আবার বলেছেন, জিয়াউর রহমান নিজেও কখনও স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে নিজেকে দাবি করেন নাই।
এটা সত্যি। তাঁর কোন বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেননি। সুতরাং বুঝে নিতেই হবে এই স্বাধীনতার ঘোষক পদটি সৃষ্টি করেছে চাটুকারেরা।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, স্বাধীনতার ঘোষক হওয়ার জন্য জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন। যা জিয়াউর রহমানের ছিল না।
এ প্রসঙ্গে আমার মতামত হচ্ছে- এভাবে জিয়াউর রহমানকে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করছেন আওয়ামীলীগ স্বয়ং। দরকার কি? সংবিধানে বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে লেখা হবে। এই নিয়ে মওদুদ আহমেদ বলেছেন, তাঁর সরকার ক্ষমতায় গেলে এগুলো সব পরিবর্তন করবে।
স্পষ্ট হয়ে গেলো ৫ বছরের ইতিহাস নিয়ে মারামারি কাটাকাটি চলবে। আবার সংসদ এভাবেই উত্তপ্ত হবে। বঙ্গবন্ধুকে গালি দেবে বিএনপি। জিয়াকে গালি দেবে আওয়ামী লীগ। জিয়া নিজেও মনে হয় অবাক হতো তার এতো জয়জয়কার দেখে। যেই জিয়া মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। তিনি হয়ত স্বপ্নেও ভাবেন নাই একদিন এভাবে এ দেশের ইতিহাসে একটা উল্লেখযোগ্য জায়গা তিনি দখল করে নিবেন।
জিয়া সম্পর্কে কর্ণেল তাহেরের বক্তব্য ছিল- মীর জাফরের পর জিয়া হলো আরেকজন মীর জাফর।
তাঁর জবানবন্দীতে আছে,
“আমাদের জাতির ইতিহাসে আর একটাই মাত্র এরকম বিশ্বাসঘাতকতার নজীর রয়েছে, তা’ হচ্ছে মীর জাফরের। বাঙালি জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে সে গোটা উপমহাদেশকে দু’শ বছরের গোলামীর পথে ঠেলে দিয়েছিল। ভাগ্য ভালো যে এটা সতের শ’ সাতান্ন সাল নয়। উনিশ শ’ ছিয়াত্তর। আমাদের আছে বিপ্লবী সিপাহি জনতা, তারা জিয়াউর রহমানের মতো বিশ্বাসঘাতকদের চক্রান্তকে নির্মূল করবে।”
জিয়াকে জন্ম দিয়েছিল কর্ণেল তাহের। সেই তাহেরকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছিল জিয়া। ৭ নভেম্বর জিয়ার অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় বাংলাদেশের ইতিহাসে। খেতাব প্রাপ্ত একজন পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছে। এটা সত্যি আমাদের ইতিহাসের সবচাইতে কলঙ্কজনক অধ্যায়। জিয়া একজন শাসক হিসেবে কেমন ছিলেন আমি সেই প্রশ্নে যাবো না। তবে আমি প্রধানমন্ত্রীর কিছু কথা টানতে চাই। তিনি বক্তব্য দিয়েছেন, জিয়া সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি।
আমি বলবো সংকীর্ণতার জবাব আরেকটি সংকীর্ণতার উদাহরন। এই খেতাব জিয়ার অর্জন। এবং বঙ্গবন্ধুই এই খেতাব জিয়াকে দিয়েছেন। এই ধরনের প্রসঙ্গ টানলে বার বার বঙ্গবন্ধুকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা হয় বলে আমার মনে হয়। জিয়া আমার দৃষ্টিতে একজন মুক্তিযোদ্ধা। তারপর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি। আবার বঙ্গবন্ধু আমার কাছে প্রথমে একজন নেতা। বাংলার স্বাধীকার আন্দোলনের নেতা। তারপর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি। নেতার পর তিনি শাসক। এখানেই বঙ্গবন্ধু এগিয়ে। নেতার সমতূল্য আর কেউ হতে পারে না। জিয়া তো নেতা ছিলেন না।
এতো সংলাপ-সংলাপ নিয়ে চিল্লান আমাদের রাজনীতিবিদরা। তাদের উচিত ইতিহাস নিয়ে এই দুই দলের সংলাপে বসা। একটি দেশ ইতিহাসের জায়গায় বিভক্ত। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে। একটি পয়সার এপিঠে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ। অন্য পিঠে জিয়ার বিএনপি। পাঁচ বছরের ইতিহাসের খেলা হয় “বঙ্গবন্ধু বনাম জিয়া”। আর মাঝখান দিয়ে সুবিধা আদায় করে নেয় চাটুকাররা। বিষয়টা এমন হয়ে গেছে একই ঘরে কেউ বঙ্গবন্ধুকে গালি দিবে কেউ জিয়া গালি দিবে। গালাগালির রাজনীতিতে বিদ্ধ হচ্ছেন দুই রাষ্ট্রপতি।
জিয়ার জন্ম সেনা ব্যারাক থেকে। যেখান থেকেই জন্ম হোক। জিয়ার স্ত্রী দু্ইবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা সাহসের সাথে লড়েছেন গণতন্ত্রের জন্য। এটাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এটাও মেনে নিতে হবে, কোন দেশের পলিটিক্যাল নেতারা একদম পরিশুদ্ধ হন না। সেটা থাকাও সম্ভব না। ক্ষমতা কখনও মানুষ কুক্ষিগত করতে পারে না। আসলে ক্ষমতাই মানুষকে কুক্ষিগত করে ফেলে। সেই ক্ষমতা মানুষকে কিছুটা হলেও নৈতিক জায়গা থেকে সরিয়ে আনবে এটা অনেকটা মানুষের নিয়তি।
সেখান থেকে বেগম জিয়া কিংবা শেখ হাসিনা কেউই বের হয়ে আসতে পারেন নাই। পারবেন বলেও আমি আশা করি না। তবে হয়তো নতুন প্রজন্ম এই দেশটাকে অনেকটাই পরিবর্তন করে দিতে পারে। কিন্তু ইতিহাসটা নির্ভর করবে আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের উপর। তাদের রেখে যাওয়া পুথি আমরা পাঠ করবো। সেটা নির্ধারণ হওয়া উচিত। সঠিক ইতিহাসটা রচিত হওয়া উচিত। আমি পাঁচ বছর আর তুমি পাঁচ বছর এই করে আমাদের ইতিহাসটাই হয়তো একসময় নিস্তেজ হয়ে যাবে। শুধু থেকে যাবে বঙ্গবন্ধু বনাম জিয়া। সত্যি কথা হচ্ছে- দুজন “বনাম” নয়। দুজন সমান কাতারেও নয়। দুজন আলাদা। সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দুজনের জন্ম। ভিন্ন জায়গায় দুজন বেড়ে ওঠা। একজন সাধারণ মানুষ থেকে নেতা হয়ে উঠা। আরেকজন সামরিক পোষাক থেকে শাসক হয়ে ওঠা। দুজনের ভিন্নতা থাকবেই। শুধুমাত্র এক জায়গাতেই তাঁরা দুজন ছিলেন অভিন্ন। সেটা হলো মুক্তিযুদ্ধ। দুজনের কেউ এখানে কম্প্রোমাইজ করেননি। দুজনই একটি স্বাধীন দেশ চেয়েছেন।

sabbir ahmed বলেছেনঃ
ব্যারিষ্টার মওদুদকে ধাপ্পাবাজ নেতা bola ta moteo uchit hoine likha’r modhe shalinota rakha uchit. etihas tomader moto lokeder jonnoi paltai.. onek sundor kore ….shekmujib’r pokkhe likso …..jehetu tume hasinar lok , zia’r valo kisui tomar choke porena…,
tumi bolso ….keow shekmujib k abr keow zia k gali dei…eta pura vul..valo kore jachai kore dhekho ..sudo shekmujib gali khai o tar porebar tara ki kore ni oi shomoi ….khun, dakate, nari dorson etc.. r zia’r shomoi manus onek shentete celo…zia jokhon mara zai banglar kote kote manus kans…r shekmujib’r mora’r shomoi kanna korar lok khuje paoa jai ni…
কাউছার বলেছেনঃ
বিজ্ঞ লেখক খুব চতুরতার সাথে আওয়ামীলীগকে সমর্থন করে গিয়েছেন। আসলে এখানেই আমাদের সমস্যা…!
আপনি নেতা হিসেবে শেখ মুজিবেকে মহান বানিয়ে দিলেন আর যে কিনা নয় মাস সেক্টর কমান্ডার হিসেবে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করল এবং যে কিনা আধুনিক বাংলাদেশের স্থপিত এবং যে কিনা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা (সামরিক ব্যক্তি হওয়ার পরও) এবং যে কিনা সফল শাসক সে জিয়াউর রহমানকে সাধারণের মত বানিয়ে দিলেন…! হায়, শুধুই দুঃখবোধ হয়…!
ভাই নেতা হিসেবে শেখ মুজিবেকে কেউ কোন দিন অপবাদ দিতে পারেবে না কিন্তু যে নেতার ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লক্ষ জনগন ঝাপিয়ে পেড়েছে সে নেতাই কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে নিজের আসন কুক্ষীগত করতে বাকশাল করেছে আর তার ছেলেদের কার্যকলাপ নাই বললাম।
ভাই, আপনার বন্ধু কোন জায়গায় সমস্যায় পড়লে আপনি যদি কাপুরুষের মত ওখান থেকে কেটে পেড়েন তাহলে ঐ বন্ধুর সামনে আপনি নিশ্চয়ই আসতে লজ্জা পাবেন, পরবর্তীতে সমস্যায় পড়লে যাবেন এটা বলা তো দূরে থাক! আমাদের শেখ মুজিব সাহেবকে এর সাথে মিলিয়ে দেখেন তো কেমন অনুভূতি আসে। জানি আপনার অনুভূতি নাড়া দেবে না।
আরেকটি কথা, শেখ মুজিব সাহেবকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার থেকে বেশী পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষমতাই আকৃষ্ট করত। যখন দেখল যে তা আর সম্ভব হচ্ছে না ঠিক তখনই মার্চের ভাষণটি খুব ব্যথাভরা হৃদয়কে সান্তনার জন্যই দিয়েছেন।
পরিশেষে ভাই মুজিব ও জিয়ার তুলনা কখনই হওয়ার নয়, কারন, জিয়াই আমার দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ। তবে নেতা হিসেবে মুজিবকে আমি ১০০ ভাগ দিতে কার্পন্যবোধ করব না!
ডাকপিয়ন বলেছেনঃ
@ Sabbir
ধাপ্পাবাজকে ধাপ্পাবাজ বলা অশালীন হবে কেন?
আর ইতিহাসকে কখনো পাতিহাস ভাবা ঠিক নয়। গোলাপী আপা যা বলেছেন তা আর যাচাই করার সুযোগ কখনোই হাসের বাচ্চাদের হবে না। ইতিহাস নিয়ে পাতিহাসের ডানার ভেতর উমে থাকুন। অনলাইন ব্রিলিয়ান্টদের যায়গা। পীর ফকিরের মুরিদদের যায়গা না।
আর বাংলা ব্লগে দয়া করে বাংলা লিখবেন। কর্তৃপক্ষকে বলছি ইংরেজি মন্তব্য নিরুৎসাহিত করুন। বাংলা লিখতে বাধ্য করুন।
শাহরিয়ার শফিক বলেছেনঃ
জনাব শেরিফ আল সায়ার লেখাটির জন্য ধন্যবাদ । আপনার সাথে ঐকমত্য পোষণ করছি ।
জনিকা বলেছেনঃ
কারা পক্ষে কথা বলে গেল আর কারা গঠনমূলক একটা মন্তব্য করে গেল তা তো বোঝাই গেল।
যাই হোক্, অনেক ধন্যবাদ সায়ার ভাইকে তার বক্তব্যের জন্য।
এটা অবশ্যই দু:খজনক যে, স্বাধীনতার ৪০ বছর পাড় হবার পরো ঘোষক কে !! তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
এখন এই ইতিহাস নিয়ে মাতামাতি করে সংসদে বসে অামাদের যোগ্য নেতা/নেত্রীরা, আমাদের জন্য কী দেশীয় অগ্রসরতা নিয়ে আসছে, তাই প্রশ্ন রইল।
অবশ্য এইসব যোগ্যদেরকে তো আমরাই নির্বাচন করে থাকি।
শিবলী বলেছেনঃ
ভাই একটা কথা বাঙ্গালী মরুক আর বাঁচুক নোপ্রবলেম মরহুম মুজিব সাহেব এবং মরহুম জিয়া সাহেবের সম্মান যাতে নষ্ট না হয়। পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষা করে, মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী কলম বিক্রি করে, মুক্তিযোদ্ধাকে আওয়ামীলীগ কর্মী থাপ্পর মারে, খালেদা জিয়া জামায়েতের সাথে জোট বাধে। আর আমরা সাধারন জনগণ দুই ভাগ হয়ে যাই এদের জন্য।
Website Design & Development
আম জনগন বলেছেনঃ
ভাই, আশা করি এই হাছিনা আপার চোখে কেউ এই লেখাটা ধরিয়ে দেবে এবং আপনার জন্য একটা জায়গামত পদে বসিয়ে দেবেন, আমীন।
রিজভী বলেছেনঃ
লেখাটা পড়ে ভাল লাগলো। আগেই বলে রাখি, আমি হাসিনা/খালেদা কারো দলে নাই। অর্থাৎ রাজনীতি করি না। কিন্তু আমার আপত্তি লেখার টাইটেল এ। টাইটেলে কার সাথে কার তুলনা করলেন?!!!! ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করবেন। শুভকামনা রইল।
Sadi বলেছেনঃ
Zia ziai. Muzib Muzij. Tara beche takle hoytho athohuotta korto asob deke. Karo obodanoi kom noy deser gonne. So pls tader obosthan nie kotha nabolai valo
সালেহ সিদ্দিকী বলেছেনঃ
দয়া করে বলবেন কি বাকশাল কি কারনে তৈরী হয়েছিল? এত মহান নেতা মুজিবুর রহমান কেন নিজেই ঘোষনা দেন নাই? কারন যদি পশ্চিম পাকিস্থান উনাকে মেরে ফেলে সেই ভয়ে।
রাসেল বলেছেনঃ
আপনি বলেছেন “আবার বঙ্গবন্ধু আমার কাছে প্রথমে একজন নেতা। বাংলার স্বাধীকার আন্দোলনের নেতা। তারপর তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি। নেতার পর তিনি শাসক। ”
আপনার সাথে আমি একমত। কিন্তু আপনি একটি কথা বলতে ভুলে গেছেন হয়তো এড়িয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু একজন সৈরশাসকও ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে বাকশাল কায়েম করেছিলেন। এবং তিনি সংসদে দাড়িয়ে বলেছিলেন ” আজ কোথায় সেই সিরাজ শিকদার”।
মানুষের ভাল খারাপ দুটি দিক থাকে। কোন মানুষই ১০০% ভাল হতে পারেননা। কোন মানুষ ১০০% খারাপও নন।
Rafiq বলেছেনঃ
বন্ধু সায়ারের লেখার জন্য ধন্যবাদ। আমি আপনার সাথে কয়েকটি বিষয়ে একমত হলেও সবকটিতে একমত হতে পারিনি। “স্বাধীনতার ঘোষনা” যদিই ON BEHALF OF শেখ মুজিব হতো তবে তা হতে পারত অবশ্যই কোন আওয়ামীলীগ নেতার মুখ থেকে, জিয়াউর রহমানের মুখ থেকে নয়। আর শেখ মুজিব যদি ৭ই মার্চ এর ঐতিহাসিক ভাষনের পর, স্বাধীনতা ঘোষনা করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন , আমাদের উপর পাকিস্তানের আক্রমনের জন্য ( সায়ারের ভাষায় ) তবে কেন শেখ মুজিবের বিকল্প হিসাবে অন্য কাউকে স্থলাভিষিক্ত করেননি? উনি যদি জানতেই পারতেন যে তাহাকে গ্রেফতার করা হবে, এবং সাথে সাথে কেউ তাহার পক্ষ থেকে ( second in command) কাউকে স্বাধীনতার ঘোষনা করতে হবে। তবে এটার একটা পরিকল্পনা থাকত। কিন্তু ইতিহাসে এরকম কোন দলিল নাই। বরং শেখ মুজিব গ্রেফতার হওয়ার পর তৎকালীন চাটুকার আওয়ামীলীগ নেতারা আত্নগোপনে চলেগিয়েছিলেন আর জিয়াউর রহমানই জীবনের বাজি রেখে স্বাধীনতার ঘোষনা করেছিলেন। আর সে ডাকে সারা দিয়ে এদেশের আপামর মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন।
সুতরাং আমার দৃষ্টিতে ৭০ এর নির্বাচনের পর যদি আওয়ামীলীগকে ক্ষমতা দেওয়া হত, তাহলে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রশ্নই উঠেনা অন্তত ‘৭১ সালে।
সুতরাং শেখ মুজিবের নেতৃত্বে তৎকালীন আওয়ামীলীগ দেশের মানুষকে বুঝিয়েছিলেন যে, আমাদের হাতে ক্ষমতা আসলে, আমরা আমাদের অধিকার আদায় করতে পারব । (যেমনটি বর্তমান আওয়ামীলীগ ও বিএনপি বলে থাকেন বিরোধী দলে থাকাকালীন এবং ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষের ভাগ্যে কি হয় তাতো সচক্ষেই দেখতে পাচ্ছি ।) সুতরাং এটা ছিল অধিকার আদায়ের আন্দোলন (কারো কারো )। আর জিয়াউর রহমান ঐ মূহুর্তে “স্বাধীনতা ঘোষনা করে ” বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের স্বপ্নকে “স্বাধীনতার স্বপ্নে” পরিনত করেছিলেন। সুতরাং অধিকার আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে শেখ মুজিবকে অবশ্যই মানতে হবে। কিন্তু জিয়াউর রহমানকে ছাড়া যাহারা স্বাধীনতার কথা চিন্তা করে তাহারা শুধু সংকীর্ন মনেরই নয়, অজ্ঞতা সম্পন্নও বটে।
মুনিম সিদ্দিকী বলেছেনঃ
এই দেশের জনক বঙ্গবন্ধু শহিদ শেখ মুজিব আর শহিদ জিয়া কেউ কারো সমান্তরাল নন। শেখ মুজিবের পরিপুরক হলেন জিয়া। যে কাজটি মুজিব করে যেতে পারেন নাই, সে কাজটি ইতিহাস জিয়াকে দিয়ে করে নিয়েছে।
আর এর জন্য তো স্বয়ং বঙ্গবন্ধু কখনও উনার জীবিত অবস্থায় জিয়ার অবমুল্যায়ণ করেনাই।
এবং আওয়ামীলীগও করত না। যদি জিয়া ক্ষমতায় এসে আওয়ামীলীগকে মইনউদ্দিনের মত ক্ষমতায় নিয়ে আসার পথ প্রস্থ করে যেতেন।
৭১এর দিশেহারা সময়ে যখন কারোনা কারো একটি সাহসী আহ্বান শোনার জন্য সারা দেশ অপেক্ষা করছিল, সে সময়ে ইতিহাস জিয়াকে টেনে আনে।
তেমনি ৭৫ এ মুজিব উত্তর সময়ে যখন দেশ টাল মাতাল ঠিক তখনও জিয়ার অজান্তে ইতিহাস জিয়াকে ক্ষমতার কেন্দ্রে টেনে নিয়ে আসে।
পৃথিবীর ইতিহাস দেখলে দেখা যাবে কেউ কেউ স্বীয় চেষ্টায় দীর্ঘপথ পরিক্রমার পথ ধরে নেতা আসন পান। আবার এও দেখা যায় যে, কেউ কেউ সময় ও পরিস্থিতির চাপে নেতা হয়ে বসেন। জিয়াও তেমন করে ক্ষমতায় কেন্দ্রে চলে এসেছিলেন। এর জন্য যদি কেউ কাউকে দায়ী করতে চান তাহলে সে সময়ের রাজনীতিবিদদেরকে দায়ী করা যেতে পারে।
স্বাধীণতার ঘোষক নিয়ে আজ যে বিবাদ তা আমাদের জাতির জন্য কল্যাণকর নয়। উচিত ছিল এই বিষয়ে উভয় পক্ষ বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মুজিব ও জিয়াকে বিতর্কের উপরে নিয়ে যাওয়া।
সামিউল করিম বলেছেনঃ
তার মানে বঙ্গবন্ধু মারা গিয়েছেন আর আমাদের স্বাধীনতাও শেষ !
প্রধানমন্ত্রী বললেই কী সেটা সিদ্ধ হয়ে যায়।
মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেছেনঃ
অতি চমৎকার বলেছেন, ভাই।
২০১১ সালের লেখা, ২০২০ সালে পড়ছি। কারণ এটা একটা চিরায়ত আবেদনের লেখা।
তবে কোন দলীয় সংলাপে ইতিহাসের বিষয় মীমাংসিত হয় না। ইতিহাস ইতিহাস দ্বারাই মীমাংসিত হতে হয়। কালের প্রবাহে এ সব দ্বন্দ্ব এক সময় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে। তখন সংলাপ লাগবে না, বিষয়গুলো সম্পূর্ণ একাডেমিক হবে। প্রাত্যহিক রাজনীতির মাঠ গরমে যার প্রয়োজন থাকবে না, তা নিয়ে মাঠের নেতার চিন্তাও করবেন না। আর কঠিন বাস্তবতা হল, তখন আপনি, আমি, মানে, এই প্রজন্ম থাকব না।