ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গত ১৭ জুন বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম-এর পক্ষ থেকে সরাসরি কথা হয় তরুণ রাজনীতিবিদ মাহী বি চৌধুরীর সাথে। রাজনৈতিক জীবন এবং স্বপ্ন নিয়ে তিনি সরাসরি কথা বলেছেন। এই সাক্ষাৎকারটি বাংলানিউজে দুই পর্বে প্রকাশিত হয়েছে। ব্লগে রেকর্ড করা আলোচনাটি হুবহু কম্পোজ করে দেয়া হলো।
———————————

১.
অন্য যে কোনো পেশার চেয়ে রাজনীতি একটু ব্যতিক্রম। তবে আমি একটা জিনিস সাধারণ দৃষ্টিতে বলি, আমার বাবা একজন ডাক্তার। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় আমার ছোটবোন ডাক্তারের জিনিসপত্র নিয়ে খেলত। খেলনা মানেই ওর কাছে ওগুলো। সে বাবাকে যেভাবে দেখেছে সেটাই ওর কাছে বড় মনে হয়েছে।

একই সাথে আমার বাবা একজন রাজনীতিবিদ। সেজন্যই সেখানে আমার আলাদা একটা আকর্ষণ সবসময়ই ছিল। তবে আমি রাজনীতি করবো এমন একটা বদ্ধমূল ধারণা আমার মধ্যে ছিল বলে আমার মনে পড়ে না। কিন্তু একদম সাধারণভাবে বললে একজন চিকিৎসকের সন্তান বাবার মতো ডাক্তার হতে চায়, ব্যবসায়ীর সন্তান বাবার মতো ব্যবসায়ি হতে চায়। এর মানে হলো, বাবার পেশার প্রতি সন্তানের আকর্ষণ আসতেই পারে। সেভাবেই আমার ভেতর আগ্রহটা বেড়ে উঠতে পারে।

কিন্তু রাজনীতিটা পেশা হিসেবে ব্যতিক্রম কেনো! একজন ডাক্তার কিন্তু একা একজন ডাক্তার। পুরো পরিবার একজন ডাক্তারের পেশার জন্য সরাসরি জড়িয়ে যায় না। হ্যা, হয়তো কখনও কোনো রোগী খুব অসুস্থ তখন বাবাকে দেখা যেতো তিনি খুব টেনশনে আছেন। কিন্তু এটাতে সরাসরি একটি পরিবার জড়াবে না। কিন্তু রাজনীতিবিদের পরিবার কিন্তু সরাসরি জড়িয়ে যায়।

আমার ছোটবেলাটা কেটেছে এরশাদের সময়ে। সপ্তাহে চারদিন বাবা রাত বারোটার পর বাসা থেকে চলে যেতো। রাত দুটা কিংবা তিনটার সময় আমাদের কাপড়ের ব্যাগ রেডি থাকতো। মা আমাদের ঘুম থেকে ডেকে দিতো। এরপর আমরা বেরিয়ে যেতাম। দেয়াল টপকে পাশের বাসায় গিয়ে ঘুমাতাম। এভাবে নয়টা বছর কেটেছে।

আমার নিজের এক ছেলে এক মেয়ে। আমি বিএনপির রাজনীতি করতাম এরপর বিএনপি থেকে পদত্যাগ করলাম। এরপর যে একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে আমি কিন্তু জানতাম না। আমি ভেবেছিলাম আমি পছন্দ করছি না, আমি পদত্যাগ করবো এটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত ব্যপার। কিন্তু আমার পদত্যাগ করাটা বিএনপি কীভাবে নিলো? আমার উপর যে আক্রমণ, আমার বাড়ির উপর, আমার পরিবারের উপর যে আক্রমণ। আমার মেয়ের বয়স তখন ৭ বছর। আমার মেয়ের গাড়িতে গুলি করা হলো। আমার মেয়ে গাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় শুয়ে হামাগুড়ি দিলো। আমার সাত বছরের মেয়ে এবং তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে যখন এই বাসায় ঘুমিয়ে ছিলাম তিন তলায়। তখন রাত চারটার সময় আমার বাড়িতে আগুন দেয়া হলো। দেখুন, রাজনীতি কিন্তু আমার সন্তানরা করছে না কিন্তু তারপরও জড়িয়ে যাচ্ছে। তাই রাজনীতিবিদদের পরিবারগুলো অন্য যে কোনো পরিবারের থেকে অনেক বেশী জড়িত। তাই এই পেশাটা ভিন্ন।

আমার দাদা বা বাবা সরাসরি রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল। আমার এ জন্যে রাজনীতির প্রতি একটা স্পৃহা সবসময় ছিল। তবে সেই সাথে আর একটা বিষয় আমার উপর খুব বড় একটা বোঝা। বোঝা না বলে দায়িত্ববোধও বলতে পারেন। কফিলউদ্দিন চৌধুরী আমার দাদা যখন রাজনীতিতে আসলেন তখন কিন্তু তার প্রতি জনগণের খুব একটা প্রত্যাশা ছিল না। কারণ তার বাবা রাজনীতি করতেন না। তারপরও তিনি একটা ইমেইজ তৈরী করে গেছেন। তিনি একটি সৎ-শিক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় পেয়ে গেছেন। সেজন্য এখনও লোকে তার বিরুদ্ধে কথা বলে না। আমাদের এলাকাতেও না। তারপর তার সন্তান বদরুদ্দোজা চৌধুরী যখন রাজনীতিতে আসলেন তখন কিন্তু লোকে বলল- নাহ্ ইনি কফিল উদ্দিন চৌধুরী ছেলে। এ কিন্তু কোনো খারাপ কাজ করতে পারবে না। এবং তিনি বাবার উদাহরণটাকে বজায় রেখেছেন। ভদ্র রাজনীতি তিনিও প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন। যখন আমি আসলাম, তখন তো একদিকে বদরুদ্দোজা চৌধুরী আর একদিকে কফিলউদ্দিন চৌধুরীর বোঝা আমার উপর চাপলো। সুতরাং আমার উপর কিন্তু দুইটা প্রজন্মের দায়িত্ব ছিল।
তাই আমি মনে করি, পরিবারতন্ত্র এবং পারিবারিক ঐতিহ্য দুইটা দুই জিনিস। পরিবারতন্ত্র মানে রাজার ছেলে রাজা হবে। এটাই ভুল। এই তন্ত্র আমি কখনই মানি না। আমি বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সন্তান এটা কিন্তু আমার কোন রাজনৈতিক কোয়ালিফিকেশন না। আবার একইসাথে এটা আমার জন্য কোন ডিসকোয়ালি-ফিকেশনও না। যেহেতু আমি বদরুদ্দোজ চৌধুরী সন্তান সেহেতু আমি রাজনীতি করতে পারবো না এটাও কিন্তু ঠিক না। যে কেউ তার নিজ নিজ যোগ্যতায় রাজনীতিতে উঠে আসবে। যে যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবে সে টিকে যাবে আর যে পারবে না সে রাজনীতিতে থাকবে না। এই পর্যন্তই বিষয়টা থাকা উচিত।

তবে পারিবারিক ঐতিহ্য থাকা উচিত। এটা কাজে লাগে। এবার বলি, পারিবারিক ঐতিহ্য জনগণের জন্য কিভাবে কাজে লাগে? একজন নতুন মানুষ যখন আসে তখন মানুষ তার কাছে কিছুই প্রত্যাশা করে না। আর পারিবারিক ঐতিহ্য নিয়ে যখন কেউ আসে তখন মানুষ ভালো মানুষের ছেলের কাছে ভালো জিনিস প্রত্যাশা করে। আর ভালো মানুষের ছেলে খারাপ হলেও প্রমাণ করাটা খুব কঠিন। হ্যা, আজকে যারা চিহ্নত দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে তাদের সন্তানরা ভালো হলেও রাজনীতিতে নিজেকে প্রমাণ করা অনেক কঠিন। তাই পারিবারিক ঐতিহ্যটা রাজনীতিতে কাজে লাগে।
আমার রাজনীতিতে একটা পারিবারিক ঐতিহ্য আছে। আমার দাদা-বাবা এবং আমি মিলিয়ে গত ৭৫ বছর সক্রিয়ভাবে তিনটি প্রজন্ম রাজনীতিতে আছি। আর সেই সাথে আমার একটা অহংকার আছে। আমার অহংকারটি হচ্ছে, আমি হচ্ছি বাংলাদেশের প্রথম তৃতীয় প্রজন্মের সংসদ সদস্য। এবং একই সাথে এই তিন প্রজন্ম ধরে একবারের জন্য আমাদের বিরুদ্ধে কোন দূর্নীতি, সন্ত্রাসীর অভিযোগ করতে পারেনি। ৭৫ বছরের স্বচ্ছ, শিক্ষিত, রুচিশীল রাজনীতি করে আসছে আমার পরিবার।

২.
আমরা সবাই সঠিক রাজনীতি চাই। সুস্থ রাজনীতি চাই। কিন্তু এই সুস্থ রাজনীতিটা করবে কে? আজকের ছাত্রদল বা ছাত্রলীগ যারা আমাদের ভবিষ্যতের নেতা তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড কি? তারা কেনো রাজনীতি করে? তারা কি এই দেশকে ভালোবেসে আদর্শের রাজনীতি করে? না তারা করে না। সারা বাংলাদেশে বলা হয় প্রায় ১৭০০ ব্রিজ আছে যেখানে টোল কালেক্ট করা হয়। এই ইজারাটা পায় কারা? হয় ছাত্রদল না হয় ছাত্রলীগ। বাংলাদেশের সাড়ে সাত হাজার ইউনিয়নে সাড়ে সাত হাজার ইউনিয়ন বাজার আছে। বাজারগুলো কাদের ইজারা দেয়া হয়? হয় যুবদল না হয় যুবলীগ। অথবা ছাত্রদল বা ছাত্রলীগ। এভাবেই প্রতিটি জায়গা হিসেব করলে দেখা যাবে সারা দেশকে দুইটা দলকে ইজারা দিয়ে রাখা হয়েছে। এবং তাদের আয় রুজি সব কিছুই রাজনীতির উপর নির্ভর করে। এজন্য তাদের নেত্রী যখন ঢাকায় ডাক দেয় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ময়দান লক্ষ লক্ষ লোকে ভরে যায়। একমাত্র কারণ হলো এখান থেকেই তাদের আয়।

এখানে আদর্শ, দেশপ্রেম কোথায়? আপনি পরিবর্তন চাচ্ছেন? এই জায়গায় পরিবর্তন কী খুব সহজ মনে হচ্ছে? খুব সহজ না কিন্তু। একদম মাঠ পর্যায় থেকে পরিবর্তন করতে হলে আপনাকে তিউনিশিয়া হতে হবে, ইজিপ্ট হতে হবে। শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকেই বিপ্লব করে সামনে এগিয়ে আসতে হবে। তিউনিশিয়া, ইজিপ্টে যদি নতুন প্রজন্ম একটা ফেসবুক ব্যবহার করে বিপ্লব করে ফেলতে পারে তাহলে আমাদের দেশে কেন সম্ভব না? আমরা চাই নতুন প্রজন্ম আসুক। কাজ করুক। যারা আন্দোলন করতে চায় না। ঝামেলাতে যেতে চায় না। কিন্তু মনে মনে ঠিকই পরিবর্তন চায়। তাদেরও আমরা উৎসাহিত করে অন্তত নিজ জায়গা থেকেও যাতে প্রতিবাদ জানায়।

৩.
আমরা কিন্তু একটা বিশ-বছর চক্রে আটকে আছি। ৫২ তে নতুন প্রজন্ম কিন্তু তাদের দায়িত্ব পালন করে গেছে।তারা আমাদেরকে ভাষা দিয়ে গেছে।তার বিশবছর পর আবার ৭১-এর প্রজন্মও তাদের দায়িত্ব পালন করে গেছে। তারা আমাদের একটা রাষ্ট্র দিয়ে গেছে। আবার বিশবছর পর ৯১-এর প্রজন্ম একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র দিয়ে গেছে। এখন ২০১১। ব্যর্থতার বিশবছর কিন্তু পার হয়ে যাচ্ছে। এটা এই প্রজন্মের দায়িত্ব। এটা খালেদা জিয়া বা শেখ হাসিনার দায়িত্ব না। এটা আমাদের দায়িত্ব। আপনাদের দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মের প্রতিটি ছেলে-মেয়ের দায়িত্ব। এটা প্রজন্মের দায়িত্ব। সুতরাং করতে হবে। হাতে কিন্তু সময় নেই।

৪.
৭১-এ আমরা সবাই মিলে এক ছিলাম। কিন্তু স্বাধীনতার পর বিভক্তির রাজনীতি আমাদের সবাইকে বিভক্ত করে ফেলেছে। আমরা স্বাধীন রাষ্ট্রে রাজনীতির ধরণটা পাল্টাতে পারি না। ৬৬-তে আমরা মাঠে শ্লোগান দিয়েছি- ‘জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো’ আমরা ২০১১ তেও এই স্লোগান দেই। আমরা এখনও বলি, ‘দিয়েছি-তো রক্ত আরও দিবো রক্ত’। কিন্তু কেনো? আমি স্বাধীন দেশে কেনো রক্ত দিবো? স্বাধীন দেশে আমি মেধা দিবো, জ্ঞান দিবো। রক্ত কেনো দিবো? এটাই আমি বুঝতে পারি না। সুতরাং রাজনীতি কিন্তু কেউ বদলাতে পারে নাই। বিভক্তির রাজনীতি বরং আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। এই বিভক্তির রাজনীতি তাদেরই ভেঙে দিতে হবে। প্রতি-হিংসা বন্ধ করতে হবে। শ্রদ্ধার রাজনীতি আনতে হবে। আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি কিন্তু জিয়াউর রহমানকে ভালোবাসি না। ভালো কথা। কিন্তু তাই বলে আমি কেনো জিয়াউর রহমানকে গালি দিবো? কিংবা কেনো বঙ্গবন্ধুকে গালি দিবো?

তাই নতুন প্রজন্মের উচিত, কারো বিরুদ্ধে না যাওয়া। শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধেও কথা বলার অধিকার আমাদের নাই। কারণ এই দুই নেত্রী তাদের দায়িত্ব ৯১-তে পালন করে ফেলেছেন। তারা দেশকে গণতন্ত্র দিয়েছেন। হ্যা, এখন তাদের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ আসলে সেটা নিয়ে আর আলোচনা হতে পারে। কিন্তু সেই আলোচনা আর কত বছর? অনেক বছর তো এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়ে গেছে। আর আলোচনার প্রয়োজন তো নেই। এখন নতুন প্রজন্মের উচিত বলা, আপনাদের দায়িত্ব এখন শেষ। আমরা স্ব-সম্মানে আপনের বিদায় জানাতে চাই। এবার আমাদের দায়িত্ব আমাদের পালন করতে দিন।

৫.
এই প্রক্রিয়াটার জন্য মাঠে নামতে হবে। প্রক্রিয়াটার জন্য চকলেট বয় হয়ে ঘরে বসে থাকলে হবে না। ভাই রাজনীতি খারাপ ময়লা জিনিস, আমি যাবো না। এটা বললে হবে না। পরিস্কার নিজেকেই করতে হবে। এই জন্য আমরা কাজও করছি। এবং আমি বিশ্বাস করি এই প্রজন্ম দিয়ে এটা সম্ভব। অসম্ভব কিছু না। একটা উদাহরণ দিয়ে বলি, বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে হারার পর তাদের গাড়িতে কিছু ছেলে জুতা মারলো। সারা বিশ্বের এ নিয়ে নিন্দার ঝোড়। ঐ মুহূর্তে আমাদের নতুন প্রজন্ম কি অসাধারণ কাজ করলো!! একটা ফেসবুক গ্রুপ খুলে একরাতের মধ্যে আলোচনা করে ২০০০ হাজার ছেলেমেয়ে ‘উই আর সরি’ বলে একটা প্ল্যাকার্ড নিয়ে রাস্তায় দাড়িয়ে গেলো। নিজের ভুলের জন্য নতুন প্রজন্ম ক্ষমা চাইতে শিখে গেছে। এটা কি সম্ভাবনা নয়? সম্ভব তো। এই নতুন প্রজন্ম দিয়েই তো সম্ভব।

আমরা কিন্তু মাইনাস টু বলছি না। আমরা বলছি মাইনাস ফোর। মাইনাস প্রতিহিংসা, মাইনাস সংঘাত, মাইনাস আবেগ, মাইনাস বিভক্তি। আর আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি, সংঘাতের রাজনীতি, আবেগের রাজনীতি চাই না। ৪০ বছর ধরে আবেগের রাজনীতি চলছে। বাংলাদেশি নাকি বাঙালী। এই বিতর্ক শেষ হয় না। আপনি বিতর্ক শেষ করতে পারবেন? আমরা চাই কর্মসূচীর রাজনীতি। কীভাবে দারিদ্র বিমোচন হবে? কীভাবে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে, কীভাবে নাগরিক সমাজকে দেশ গঠনে সম্পৃক্ত করা যাবে, কীভাবে দায়িত্ববোধের রাজনীতি তৈরী করা যাবে।

তরুণ প্রজন্মের প্রতি আমার কিছু বক্তব্য আছে।

প্রথম হচ্ছে, আমরা সবাই বলি, আমরা দেশকে ভালোবাসি। কিন্তু কোথায় সেই ভালোবাসা? আমার দেশকে লুটপাট করে চলে যাবে। আমি দেখবো আর ঘরে বসে বলব, আমি দেশকে ভালোবাসি। তাহলে তো হবে না। ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে। দেশকে যে তোমরা ভালোবাসো সেটা দেখাও। দেশের জন্য কিছু করে প্রকাশ করো।

দ্বিতীয়ত হচ্ছে, দয়া করে রাজনীতিকে ঘৃণা করো না।

তৃতীয়ত হচ্ছে, দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় নিজেকে সম্পৃক্ত করো। সর্বশেষ হচ্ছে, তুমি একা নও। আসো। মাঠে এসে দেখো। তোমার মত সবাই ঘরে ঘরে বসে অপেক্ষা করছে কে আগে আসবে। তুমিই এসে দেখবে সবাই চলে এসেছে। তোমার সাথে সবাই আছে।

রাজনীতিতে সততা ও মেধা দুইটাই থাকতে হবে। শুধু মেধা আছে কিন্তু সততা নাই। তখন হবে কী জানেন, যে দূর্নীতিবাজ সে জাহাজের তেল চুরী করবে। কিন্তু যার মেধা আছে কিন্তু সততা নাই সে তেল চুরি করবে না; সে পুরা জাহাজটাই গায়েব করে দিবে। তাই সততা ও মেধা এই দুইটি দিয়ে কিন্তু আপনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। সততা, মেধা, দেশপ্রেম, সাহস এগুলো রাজনীতিতে জরুরী।

বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তিতে আমি কিছু সমস্যার সমাধান করতে চাই। আমি এমন কোনো প্রত্যাশা দিতে চাই না যেই প্রত্যাশা পুরণ করা সম্ভব না। ২০২১ সালে বাংলাদেশের বয়স হবে ৫০। আজকে থেকে ঠিক দশ বছর পর। ১০ বছর পর আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ দেখতে চাই। ভালো কথা। যদিও আমার কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশ ধারণাটা খুব একটা পরিস্কার না।

আপনাকে ভাবতে হবে, এখনও মনে হয় দেশের শতকরা ৪৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পায় না। এখনও দেশের ৫০ ভাগ মানুষ বিশুদ্ধ পানি পায় না। এখনও দেশের ৬০ ভাগ মানুষের স্যানেটেশন নাই। এমন একটা জায়গায় দাড়িয়ে আমরা ১০ বছর পর ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলছি। স্বপ্ন ঠিক আছে। কিন্তু বাস্তবতাটা কী? সময় কী এসেছে? অবশ্যই না। আমার মনে হয়, ২০২১ সালে বাংলাদেশ হওয়া উচিত দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ। দারিদ্র্য সীমার উপরে আমরা উঠে আসবো। এটা সম্ভব। এটার জন্য প্রথমেই দরকার বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ ছাড়া কিভাবে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে আমি বুঝি না। ঢাকা শহরেই সরকার বিদ্যুৎ দিতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে হাজার হাজার টাকার কম্পিউটার গ্রামে কীভাবে চলবে? যাই হোক, ২০২১ সালের বাংলাদেশকে যদি ডিজিটাল করে দারিদ্রমুক্ত করা যায় তাহলে সেভাবেই আগানো উচিত কিন্তু যদি দারিদ্র্যমুক্ত করতে হলে এনালগ করে আগাতে হয় তাহলে এনালগ করেই আগানো উচিত।

***
বাংলানিউজ টোয়েন্টি ফোর.কমের স্বপ্নযাত্রা পাতায় প্রকাশিত সাক্ষ্যাৎকারটি : পর্ব ১, পর্ব ২