ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)’র সাবেক মহাপরিচালক আব্দুল মান্নানের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় সম্প্রতি কারাবরণ করেছেন তরুণ নির্মাতা প্রাচ্য পলাশ। তথ্যচিত্র নির্মাণের চেষ্টায় কোন নির্মাতার কারাবরণের ঘটনা দেশে এটাই প্রথম। এমনকি অর্ধশত বছরের প্রাচীন বিটিভি’র ইতিহাসেও এমন ঘটনা নজিরবিহীন। নির্মাতা প্রাচ্য পলাশের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আব্দুল মান্নান বিটিভি’র মহাপরিচালকের পদ থেকে অপসৃত হয়েছেন। কিন্তু এ ঘটনার পেছনের অনেক কিছুই রয়ে গেছে দেশবাসীর অজানা। অনুসন্ধান ও সর্বশেষ উদঘাটিত তথ্য দ্রুততার সাথে আগ্রহী পাঠকদের জানানোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে নির্মাতা প্রাচ্য পলাশের একটি সাক্ষাতকার পাঠকদের জন্য প্রকাশিত হলো।

* আমাদের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন গ্রহন করুন।
** সম্মানীত পাঠক ও আপনাদের প্রতি আমার অকৃত্রিম ভালবাসা ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
* বিটিভি’র সাবেক ডিজি’র সাথে দ্বন্দ্বের কারণ কী?
** বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে সদ্য অপসৃত মহাপরিচালক আব্দুল মান্নানের সাথে আমার ব্যক্তিগত পর্যায়ের কোন দ্বন্দ্ব বা সংঘাত নেই, কখনো ছিলও না। আব্দুল মান্নান আমার কোন পূর্ব পরিচিত ব্যক্তি নন বা তিনি কোন পাবলিক ফিগারও নন যে তার সম্পর্কে আমার কোন পূর্ব ধারণা থাকতে পারে। প্রজাতন্ত্রের অপরাপর কর্মচারীদের মতোই আব্দুল মান্নানকে আমি সরকারি কর্মচারী হিসাবে চিনেছি, বিটিভিতে অনুষ্ঠান নির্মাণের জন্য একাধিকবার যেতে হবার কারণে। মূলত আমার প্রস্তাবিত তথ্যচিত্র ‘উদ্ভাসিত স্বদেশ’ নির্মাণকে ঘিরেই আব্দুল মান্নান ও বিটিভি’র আরো ক’জন কর্মচারীর সাথে যোগাযোগ হয়েছিল, যা ইতোপূর্বে প্রকাশিত সংবাদগুলোর মাধ্যমে আপনারা অবগত। 
* আপনার প্রস্তাবিত তথ্যচিত্র ‘উদ্ভাসিত স্বদেশ’ এর মূল লক্ষ্য কী?
** বর্তমান সরকার ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন। সরকারের এই আর্থিক উন্নয়ন কর্মসূচি কীভাবে তৃণমূল পর্যায় থেকে বাস্তবায়ন হচ্ছে, এর গতিমাত্রা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না, কোথাও কোন ঘাটতি রয়েছে কি না, লক্ষ্যমাত্র অর্জনে কোন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে কি না, বাস্তবায়ন করা জরুরি এমন কোন বিষয় সরকারের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে কি না- এমন বিষয়গুলো তুলে ধরার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখা-ই ছিল মূলত এ তথ্যচিত্র নির্মাণের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। 
* তথ্যচিত্রটি নির্মাণ ও সম্প্রচার হওয়া কেন জরুরি মনে করেন?
** এটা জরুরি হওয়ার পেছনের কারণের তালিকা একদিকে যেমন দীর্ঘ অন্যদিকে তেমন সে আলোচনা অনেক বিস্তৃত ও ব্যাপক। তবু সংক্ষেপে এভাবে বলা যেতে পারে যে, সম্পদের অসম বন্টন-ভোগদখলের কারণে আমরা বিশ্ববাসীর কাছে দরিদ্র দেশ হিসাবে পরিচিত। অথচ সঠিক ও সময়োচিত অর্থনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি অনুদান ছাড়াই বাংলাদেশ সনির্ভর রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এমন তথ্যচিত্র নির্মাণ ও সম্প্রচার শুধু সরকারের কর্মসূচি কেন্দ্রীক হবে বলে আমি মনে করি না। বরং দেশের উন্নয়নের জন্য জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভি’র পক্ষ থেকে এমন তথ্যচিত্র সবসময় নির্মাণ ও সম্প্রচার হওয়া জরুরি। 
* বর্তমানে বিটিভিতে এমন তথ্যচিত্র নির্মাণের সুযোগ আছে কি?
** বর্তমান সরকারের দাবি তারা গণমাধ্যম বান্ধব। সে হিসাবে বিটিভি’র উদ্যোগে এমন অনুষ্ঠান নির্মাণ ও সম্প্রচারে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহন ও তা বাস্তবায়ন করা জরুরি। আমার প্রস্তাবনার বিপরীতে ওয়ার্ক অর্ডার যেহেতু বিটিভি দীর্ঘ সময় দেয়নি, তাই এ ব্যাপারে বিটিভিতে যোগাযোগের কোন প্রয়োজনীয়তা আমি অনুভব করছি না। বিটিভিতে বর্তমানে যে সব নির্মাতা কাজ করছেন তারা ছেঁড়া-ফাটা, টুকরো, কুচকানো কাগজে প্রস্তাবনা জমা দেন। আমার দেয়া মাত্র এক পাতার সাজানো-গোছানো পরিপাটি প্রস্তাবনাটি বিটিভি’র হজম করার ক্ষমতা নেই, তা শুধু আমার কাছে নয়- সবার কাছেই পরিস্কার। অথচ এই প্রস্তাবনা বেসরকারি টিভি চ্যানেলের জন্য প্রস্তুত করলে সেটার আকার অন্তত ১০/১২ পাতা হবে এবং আমি জানি এমন প্রস্তাবনা জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা দেশের যে কোন বেসরকরি চ্যানেল তা লুফে নেবে। কারণ আমার পরিকল্পনার তথ্যচিত্রটি দেশের বিভিন্ন চ্যানেলে চলমান যে কোন রিয়েলিটি শো’র চেয়েও অনেক বেশি ইফেক্টিভ।
* জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম কেমন হওয়া দরকার এবং বিটিভি তার কতোটুকু পূরণ করতে পারছে?
** যে কোন দেশের জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম অবশ্যই দেশের সর্বস্তরের জনগণের তথ্য জানার অধিকার পরিপূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের জন্য রুচিশীল-মার্জিত বিনোদন দিবে ও দেশজ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। কিন্তু বর্তমানে দেশের বোদ্ধামহল বা সর্বসাধারণ এগুলোর একটি ক্ষেত্রেও বিটিভি’র ভূমিকা সন্তোষজনক বলে মনে করছেন না। বিটিভিসহ দেশের অপরাপর বেসরকারি টিভি চ্যানেলের উন্নয়নে স্বাধীন জাতীয় সম্প্রচার কমিশন গঠন করা যেতে পারে, কিন্তু সবকিছুর আগে দরকার সরকারের সদিচ্ছা।
* অনুষ্ঠান নির্মাণকে কেন্দ্র করে কোন নির্মাতার কারাবরণের ঘটনা দেশে এটাই প্রথম- বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখেন?
** যে কোন সভ্য জাতির জন্যই এটা ভীষণভাবে লজ্জাজনক। একই সাথে এটা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী বর্তমান সরকার, সরকারি কর্মকমিশন, জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যম বিটিভি এমনকি দেশের গোটা গণমাধ্যমের জন্য লজ্জাকর। দেশ স্বাধীনের ৪৫ বছর পর জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমের মহাপরিচালক পদে আসীন ব্যক্তির এমন কর্মকাণ্ড সত্যিই আমাকে ভীষণভাবে ভাবতে বলে- সভ্যতার মানদণ্ডে আমরা কি অগ্রসর হচ্ছি? পাশাপাশি এমন ভাবনাগুলোর জন্ম দেয়- সরকার কী বিবেচনায় বিটিভি’র মহাপরিচালক নির্ধারণ করছেন? সামান্য পাঁচ-দশ হাজার টাকার লোভ সামলাতে না পারা একটা ইতর কি করে বিটিভি’র মহাপরিচালক হতে পারে? 
* কারাবরণের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলুন।
** কারাগার তো কোন ফ্যান্টাসী কীংডোম নয়, যে এখানে মজার কোন অভিজ্ঞতা অর্জন হবে। যা অর্জিত হয়েছে তার সবটুকুই তীক্ততায় ভরা। কারাগারের মধ্যে কেউ আমাকে বিক্রি করেছে, কেউ আমাকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে- এমন কেনাবেচা বই-পুস্তক-সংবাদে পড়েছি। কিন্তু কারাগারে পণ্যের মতো আমাকে কেউ বিক্রি করলো আবার কেউ কিনে নিয়ে গেলো- তা দেখলাম। কারা অভ্যন্তরে অনুসন্ধানী ভাবনা একেবারেই ছিল না- ছিল কেবলই কখন বের হতে পারছি সে ভাবনা। অন্তরীণ থাকার কোন মজাদার অভিজ্ঞতা না থাকলেও বের হয়ে আসার পর কিছু মজার অভিজ্ঞতা হয়েছে। পরিচিতজনদের মধ্যে দু’টি মন্তব্য সর্বাধিক শুনেছি। প্রথমটি হলো- আমার না কি কারাবরণের অভিজ্ঞতা দরকার ছিল এবং এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সে অপূর্ণতা পূর্ণ হলো। আর দ্বিতীয়টি হলো- আমি ১৭ দিন কারাগারে ছিলাম সে হিসাব শুনে আরো ২/৪ দিন যোগ করে তারা নিজেরাও কারাবরণ করেছেন- এমন দাবি করছেন। এই দুই ধরনের প্রতিক্রিয়ায় আমি ভীষণ বিস্মিত হয়েছি। কারণ কোন চলচ্চিত্রেও এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে আমি দেখিনি।
* বর্তমানে আপনি কী কাজ করছেন?
** বর্তমানে আমি ধারাবাহিক নাটক ‘মীরা’ স্যুটিংয়ে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর পর্বসংখ্যা ৫২০ এবং এর প্রধান চরিত্রগুলোতে রওনক হাসান, জাকিয়া বারী মম, আফরান নিশো, ইশানা, শ্যামল মওলা, কে.এস ফিরোজ, শর্মিলী আহমেদ, ড. ইনামুল হক, আব্দুল্লাহ রানা অংশ নিবেন। শহুরে সভ্যতায় পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও কলহ ‘মীরা’ নাটকের মূল উপজীব্য। এছাড়া বেশ কিছু একক নাটক, টেলিছবি ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। 
* দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গন সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ কী?
** এটা সত্য যে, দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গণে নেমে আসা মন্দা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। কিন্তু তার কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। সে চেষ্টা আরো গতিশীল হওয়া দরকার। কারণ আমাদের দেশের চলচ্চিত্র অনেক সম্ভাবনাময়ী একটি খাত। গার্মেন্টস, চিংড়ী, পাট প্রভৃতির মতোই চলচ্চিত্রও হয়ে ওঠতে পারে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানীমুখী শিল্প। এ জন্য দরকার সরকারের সময়োচিত উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহন এবং তা বাস্তবায়ন।
* দেশী চলচ্চিত্রের উন্নয়নে করণীয় সম্পর্কে বলুন।
** দেশী চলচ্চিত্রের উন্নয়নে করণীয় সম্পর্কে তিন খণ্ডের বই লেখা সম্ভব। কিন্তু মোটা দাগে আমি দু’টি বিষয়ের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করি। এক. বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দুই. নির্মাতাসহ নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের যুগের চাহিদা ও মানের আলোকে দক্ষ করে তোলা। চলচ্চিত্র সর্বদা শিল্পের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে- একথা সত্য। কিন্তু বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে চলচ্চিত্র নোংরামীতে ছেয়ে যাবে।
* অনুদানের চলচ্চিত্র বিষয়ক আপনার ভাবনা কী?
** চলচ্চিত্রের উন্নয়ন ও অনুদানের চলচ্চিত্রকে আমি অবিচ্ছেদ্য হিসাবে দেখতে চাই। চলচ্চিত্রের জন্য অনুদান সরকার দলীয় খয়রাতীদের কল্যাণে যেন বরাদ্দ দেয়া না হয় সেটা যেমন জরুরি, ঠিক তেমনি চলচ্চিত্রের আর্কাইভ সমৃদ্ধ করার জন্যও যেন বরাদ্দ দেয়া না হয়। উদাসী কবির কাব্যচর্চা কিংবা ভবঘুরে বাউলের গান গাওয়ার মতো করে চলচ্চিত্রকে দেখার কোন সুযোগ নেই। এ জাতীয় সকল পশ্চাদমুখী নিয়ম-নীতি ঝেড়ে ফেলে আধুনিক চিন্তা চেতনা সমৃদ্ধ বিনোদনমুখী চলচ্চিত্রকে অনুদান প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এর ৩৩% নতুন নির্মাতাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার ভাবনা যুক্ত করা যেতে পারে। 
* চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার পরিকল্পনার কথা বলুন।
** দেশের রুচিশীল দর্শকদের চাহিদা মাথায় রেখে বিনোদনধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাণ করার পরিকল্পনার মধ্যেই বর্তমানে সীমাবদ্ধ রয়েছি। যে ২/৩টি গল্প নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি তার সবগুলোই রোমান্টিক ও রোমান্টিক-এ্যাকশনধর্মী। আমাদের দেশে এমনকি এশিয়ার মধ্যেও এমন গল্পের চলচ্চিত্রের চাহিদাই সর্বাধিক। গল্পে যেমন বৈচিত্র্য থাকবে নির্মাণেও তেমন বৈচিত্র্য থাকবে। বিশেষ করে গান ও ফাইট অবশ্যই হবে দৃষ্টিনন্দন মানের।
* একজন স্বাধীন নির্মাতার কারাবরণ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা- বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
** সরকার গণমাধ্যম বান্ধব বলে আমরা যতোই চিৎকার-চেচামেচি করি না কেন- জাতিগত ভাবে আমরা যতোদিন পর্যন্ত না সভ্য হচ্ছি ততোদিন এমন ছন্দপতনের ঘটনা ঘটা অব্যাহত থাকতে পারে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী যেন নিজেকে ক্ষমতাধর ভাবার সুযোগ না পায় সে জন্য বৃটিশ ও পাকিস্তানী আমলের আইন, নিয়ম-নীতি, রেওয়াজ সবকিছুর সংস্কার করতে হবে। তা না হলে প্রতিবছর মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। 
* বিটিভি’র ডিজি’র অপতৎপরতার ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা কী? 
** মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনার পর সরকার বিটিভি থেকে আব্দুল মান্নানকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর বাইরে অন্যকোন উদ্যোগ আমার জানা নেই। সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়েছে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী মান্নান- এ লজ্জা গোটা জাতির। তাই এ ব্যাপারে সরকারের আরো বেশি যতœবান ও কঠোর হওয়া জরুরি। বিশেষ করে- মান্নান যে আমার বিরুদ্ধে ৩৫৩ ধারার অভিযোগ করেছেন তার প্রমাণ চাওয়া উচিত। মান্নানকে অবশ্যই দেখাতে হবে- আমার কারণে সরকারি কোন কোন কাজ বাধাগ্রস্থ হয়েছে এবং আমি তাকে কী ধরণের হুমকী দিয়েছি? পাশাপাশি মান্নান আমাকে সরকারের উন্নয়ন সম্পর্কিত জনমত বিষয়ক তথ্যচিত্র ‘উদ্ভাসিত স্বদেশ’ নির্মাণে বাধা প্রদান করে ৩৫৩ ধারার অপরাধ করেছেন- এ বিষয়টিও সরকারের আমলে নেতা উচিত।
* মামলার সর্বশেষ অবস্থা কি এবং আপনার প্রত্যাশা কী?
** বর্তমানে মামলাটি মূখ্য মহানগর হাকিমের আদালত-৩৩ এ বিচারাধীন রয়েছে। গত ৬ আগস্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ জাকির হোসেন টিপু মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আগামী ৮ সেপ্টেম্বর পরবর্তি দিন ধার্য করেছে। বিটিভি’র মহাপরিচালকের পদ থেকে মান্নানকে প্রত্যাহার করলেও সরকার এই মিথ্যা মামলাটি এখন পর্যন্ত চলমান রেখেছে। আমি আশা করবো- আমি কি কি সরকারি কাজ বাধাগ্রস্থ করেছি ও কি কি হুমকী প্রদান করেছি তা প্রমাণের সুযোগ মান্নান অবশ্যই গ্রহন করবে। 

(সাক্ষাতকারটি পাক্ষিক অপরাধ জগত এর চলতি সংখ্যা (বর্ষ-২৫, সংখ্যা-০৬, সেপ্টেম্বর ০১-১৫, ২০১৫) ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল আইএনবি নিউজ ২৪ ডট কম এ ৩১ আগস্ট ২০১৫ প্রকাশিত)

 

slide