ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চায় বাংলাদেশে পাঠাগারের শক্তিশালী বিকল্প এখনো নেই বললেই চলে। অত্যাধুনিক তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে মুহূর্তেই ইন্টারনেট ব্রাউজ করে বিশ্ব জ্ঞান ভাণ্ডারে ঘুরে বেড়ান সম্ভব হলেও জ্ঞানার্জনের এমন সংস্কৃতি ৬৮ হাজার গ্রাম-বাংলার এ দেশের বড় ও মাঝারি শহরগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। তবে ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গিকার বাস্তবায়নে এখনো দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না হলেও জনসাধারণের মাঝে ডিজিটাল দুনিয়া সম্পর্কে একটা আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

পাঠাগারের মাধ্যমে জ্ঞান চর্চায় বাংলাদেশের ঐতিহ্য রয়েছে। এ অঞ্চলের ঐহিত্যবাহী লোকসঙ্গীত ‘গম্ভীরা’র মতো দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখানকার পাঠাগারগুলোর পরিচিতি না থাকলেও অপেক্ষাকৃত অধিক শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর বসতি এ চাঁপাইনবাবগঞ্জেও পাঠাগার ভিত্তিক জ্ঞান চর্চার সমৃদ্ধ ইতিহাস দেখা যায়। বর্তমানে জেলায় সাংস্কৃতিক সংগঠন, এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও এনজিও ভিত্তিক কয়েক হাজার পাঠাগার তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আলোচ্য নিবন্ধে জেলার সর্ব প্রাচীন উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগারের চলমান কার্যক্রম ও এর সাফল্য-সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার প্রয়াস পাবো।

অর্ধ শতাব্দী আগে প্রতিষ্ঠিত এ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগারের বর্তমান বই সংখ্যা ২০ হাজার ৪৭৫ খানা। এর মধ্যে বাংলা ভাষার ১৭ হাজার ৫৯১ খানা, ইংরেজি ভাষার ১ হাজার ৫৩৮ খানা ও উর্দু ভাষার ৩৪৬ খানা। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ সংগ্রহের তালিকায় রয়েছে- এনসাইক্লোপিডিয়া, বাংলা পিডিয়া, রবীন্দ্র রচনাবলী প্রভৃতি।

সর্বস্তরের পাঠকদের জন্য পাঠাগারের উদ্যোগে পাঠকক্ষে ১০টি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্র ও ১টি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিয়মিত রাখা হয়। এগুলো হলো- দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক প্রথম আলো, দৈনিক জনকন্ঠ, দৈনিক সমকাল, দি বাংলাদেশ টুডে, দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক নয়াদিগন্ত, দৈনিক যুগান্তর, দৈনিক মানবজমিন ও সাপ্তাহিক রোববার।

এলাকার জ্ঞান পিপাসুদের তৃষ্ণা মিটিয়ে আসা উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগার একদিনে প্রতিষ্ঠা হয়নি। এর পেছনে রয়েছে বহু বুদ্ধিজীবী ও সরকারি কর্মকর্তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা। এলাকার জ্ঞান পিপাসুদের জ্ঞান আহরণের সুবিধার্থে শহরে গ্রন্থাগার স্থাপনের এক সিদ্ধান্ত ১৯৫৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মহকুমা প্রশাসক হাসান জাহির সাহেবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় গৃহিত হয়। নবাবগঞ্জ ক্লাবের দেয়া ০.২৭ শতাংশ ভূমি’র নির্দিষ্ট অংশে পাঠাগার ভবন নির্মানের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট এন. আহম্মদকে সচিব করে একটি বিচিত্রানুষ্ঠান আয়োজন কমিটি গঠন করা হয়। বিচিত্রানুষ্ঠান থেকে নীট আয় হয় ৮ হাজার ৭৭১ টাকা এবং তা দিয়ে শুরু হয় পাঠাগার ভবন নির্মান কাজ। ১৯৫৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মহকুমা প্রশাসক হাসান জাহির। নবাগত মহকুমা প্রশাসক এস,এ কোরেশী পাঠাগার ভবন নির্মান কাজ ত্বরান্বিত করতে টেস্ট রিলিফ ফাণ্ড থেকে ৫ হাজার ৭শ’ টাকা প্রদান করে আর্থিক ঘাটতি পূরণ করেন। পাঠাগার স্থাপনে প্রধান উদ্যোক্তার সম্মানে নাম রাখা হয় ‘হাসান জাহির পাবলিক লাইব্রেরী’। রাজশাহী জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কে. এম. এস. রহমান গত ১৯৫৯ সালের ২৬ এপ্রিল নবনির্মিত পাঠাগার ভবনের উদ্বোধন করেন। শুরুর দিকে এর সংগৃহিত বইয়ের পরিমাণ অতি সামান্য থাকলেও দিন দিন এর পরিমাণ বাড়তে থাকে। পাঠাগারের নথি অনুযায়ী ১৯৬৫-৬৬ সালে গ্রন্থ সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৯৭৪ খানা।

সাফল্য :
জেলার সর্ব প্রাচীন ও বৃহত্তম জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র হিসাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগারের সবচে’ বড় সাফল্যই হচ্ছে জ্ঞানের আলো বিকিরণের মাধ্যমে আলোকিত হৃদয়ের মানুষ গড়ে তোলা। জাতীয় সংসদের সদস্য থেকে শুরু করে প্রকৌশলী, চিকিৎসক, অধ্যাপক, সাংবাদিক, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মি নির্বিশেষে সর্বস্তরের এমন অনেক আলোকিত মানুষ রয়েছেন যাঁরা সকলেই এই চাঁপা্নিবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগারের কাছে অসামান্য ঋণী। যাঁরা আজীবন এ পাঠাগারের কাছে ঋণী ছিলেন তাঁদের মধ্যে সাবেক সাংসদ ডা: আ.আ.ম. মেশবাহুল হক বাচ্চু, ডা. বুলবুল-এ গুলেস্তান, এ্যাডভোকেট রণজিৎ কুমার বাগচী, অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, অধ্যাপক সোহরাব আলী, অধ্যাপক অরবিন্দ ঘোষ, এ্যাডভোকেট আহমদ উল্লাহ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা রোজিউর রহমান বিশু, শেখ আবুল হায়াত, ব্যবাসয়ী নেতা মো: আমিনুল ইসলাম প্রমুখ অন্যতম।

এছাড়া যাঁরা আজীবন ঋণী থাকবেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- অধ্যাপক এনামুল হক, এ্যাডভোকেট সুলতানুল ইসলাম মনি, প্রফেসর তুরিকুল ইসলাম, অধ্যাপক আব্দুর রহিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ডি.এম. তালেবুন নবী, শিক্ষাবিদ ড. সিরাজ উদ্দিন, জেলা সিপিবি’র সভাপতি এ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম, মজিবুর রহমান সোনা, সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি মোহিত কুমার দাঁ, মনিম-উদ-দৌলা চৌধুরী, মিজানুর রহমান মিজু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেত্রী শোভা সাজ্জাদ, অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান, অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম, শফিকুল আলম ভোতা, আব্দুল হান্নান হানু মিয়া, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, নাট্যকার গোলাম রাব্বানী তোতা, প্রধান শিক্ষক ও সাংবাদিক গোলাম মোস্তাফা মন্টু, আব্দুল হান্নান মাস্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ লেখক শিবিরের আলী আশরাফ, গম্ভীরা নাতি ফাইজুর রহমান মানি, কবি ও গবেষক ড. শহীদ সারওয়ার আলো, অধ্যাপক কনক রঞ্জন দাস, এ্যাডভোকেট আবু হাসিব দৈনিক সানসাইনের নির্বাহী সম্পাদক তসিকুল ইসলাম বকুল, সাবেক ছাত্রনেতা বাবুল কুমার ঘোষ, রফিক হাসান বাবলু, কামাল উদ্দিন, রেডিও টুডে’র আনোয়ারুল হক, সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মাজহারুল ইসলাম তরু, আশরাফুল আম্বিয়া সাগর, প্রভাষক আবু বাকের, আবু নাসিব, এনটিভি প্রতিনিধি শহীদুল হুদা অলক, প্রভাষক মোহা: জহুরুল ইসলাম, কবি ও গল্পকার সোলায়মান সুমন, দি বাংলাদেশ টুডে’র জেলা প্রতিনিধি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের আহ্বায়ক সাত্তার হোসেন (এ নিবন্ধের লেখক), কবি ইয়াকিন আলী, কবি শফিকুর রহমান হিমেল, কবি আনিফ রুবেদ, দৈনিক কালের কণ্ঠের সহ-সম্পাদক জুয়েল মুস্তাফিজ, দিগন্ত টিভি’র স্টাফ রিপোর্টার জিয়াউল হক সবুজ, কবি আরিফুর রহমান বাপী প্রমুখ।

জ্ঞান চর্চায় যাঁরা এ পাঠাগারের কাছে ঋণী এমন তালিকায় উঠে আসবে আরো কয়েকশ’ ব্যক্তির নাম।

সমস্যা :
অর্ধ শতাব্দী প্রাচীন এ পাঠাগারটি বহুবিদ সমস্যায় জর্জরিত। তবে সবচে’ বড় সমস্যা হল এক যুগেরও অধিক সময় জুড়ে চরম অর্থ সংকটে ধুকে বর্তমানে পাঠাগারটি করুণ অবস্থায় উপনীত হয়েছে। করুণার দানের অপেক্ষায় চেয়ে থাকতে হয় পাঠাগারের বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য। পাঠাগারের ২০০৯-১০ অর্থ বছরের খসড়া বাজেট সম্ভাব্য আয় ১১ লাখ ১৭ হাজার ৩৮৯ টাকা ৪৫ পয়সা, অনুমোদিত ব্যয় ৫ লাখ ৪১ হাজার ৮৯০ টাকা ও উদ্বৃত্ত ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৯ টাকা ৪৫ পয়সা দেখানো হয়েছে। তবে সম্ভাব্য আয়ের মধ্যে ব্যাংকের স্থায়ী জামানত ২ লাখ টাকা এবং প্রায় ৭/৮ বছর আগে মার্কেটের দোকানঘর বিক্রি বাবদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্লাব থেকে সম্ভাব্য প্রাপ্য ৫ লাখ ৫১ হাজার ৫শ’ টাকাও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। চলতি অর্থ বছরে ক্লাব থেকে সম্ভাব্য প্রাপ্য অর্থের সমুদয় পাওয়া গেলে অনুমোদিত ব্যয় ৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা সংকুলান করতে তা থেকে ২ লাখ টাকা ব্যয় করতে হবে। এভাবে ব্যাংক আমানত খরচ করে সর্বোচ্চ আর ২ অর্থ বছরের বাজেটের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। পরের অর্থ বছরগুলোতে পাঠাগার কিভাবে চলবে, এ সমস্যার দীর্ঘ মেয়াদী বা স্থায়ী সমাধান কী হতে পারে- এসব প্রশ্নের উত্তর দরকার এখনই।

সম্ভাবনা :
এলাকার জনসাধারণের জ্ঞান আহরণে ১৯৫৮ খৃষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগারটি আর্থিক সংকটের কারণে একুশ শতকের জ্ঞান আহরণের বিশাল আধুনিক ক্ষেত্রগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হতে পারেনি। অথচ জ্ঞান চর্চার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগারের উদ্যোগে গড়ে উঠতে পারে সাইবার ক্যাফে, যার মাধ্যমে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জ্ঞান ভাণ্ডারে সরাসরি প্রবেশগম্যতার মাধ্যমে এলাকার জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চাকে বিশ্বের সাথে তাল মেলানোর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশের স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের কদর বিশ্বজুড়ে। এই পাঠাগারের উদ্যোগে স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী উৎসব আয়োজন করে জনগণের মাঝে দেশাত্ববোধ বৃদ্ধি এবং অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগেও এ দেশিয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তোলা সম্ভব। পাঠাগারের উদ্যোগে আরো হতে পারে নবীন লিখিয়েদের জন্য লেখাজোখা সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও বিভিন্ন জাতীয় দিবসে শিশুদের মাঝে নানা প্রতিযোগিতা আয়োজন। প্রতি বছর বা দু’বছর পর পর দেশের কবি-সাহিত্যিকদের নিয়ে সাহিত্য সম্মেলন, বই ও তথ্য প্রযুক্তি মেলাও আয়োজন করা যেতে পারে।

এ সব কিছুই পাঠাগারের উদ্যোগে করা সম্ভব। তবে এ জন্য প্রয়োজন পাঠাগারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রশ্নে রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দের ঐক্যমত্য, সময়োজিত পরিকল্পনা-উদ্যোগ ও তার বাস্তবায়ন। পাঠাগারের বর্তমান নির্বাহী কমিটিতে অভিজ্ঞ-দূরদর্শীদের পাশাপাশি রয়েছে উদ্যোমী তরুণদের অভাবনীয় সমন্বয়। ঐতিহ্যবাহী এ পাঠাগারকে ঘিরে যে সম্ভাবনা তার সবটুকুই বাস্তবায়ন সম্ভব এমন একটি কমিটির সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগারের আর্থিক উন্নয়ন প্রশ্নে সদস্যদের মাঝে ভিন্নমত রয়েছে। এ পর্যায়ে দু’টি প্রস্তাবনা সাধারণ পরিষদের সদস্যদের বিবেচনার জন্য উত্থাপন করছি:

প্রথমত :
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলাধীন কৃষি জমি এলাকাগুলোতে বহু পরিত্যক্ত খাড়ি রয়েছে, যার মালিক সরকার এবং এগুলো নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব মূলত: স্থানীয় প্রশাসনের। এ খাঁড়িগুলোর অধিকাংশই স্থানীয় ভূমিদস্যুরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছে। এগুলো থেকে ১০/১২টি বন্দোবস্ত নিয়ে খাড়ির পাড়ে ফলবৃক্ষ ও খাড়ির পানিতে মাছ চাষ করে উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে বছরে অন্তত ২০ লাখ টাকা নীট আয় করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগারের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সাহেবের সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

দ্বিতীয়ত :
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগারসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অধ্যুষিত এর আশপাশ এক দশক আগেও জ্ঞান আহরণের এলাকা হিসাবেই পরিগণিত হতো। তবে বর্তমানে এ অঞ্চলটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের বিকাশমান বাণিজ্যিক এলাকায় পরিণত হয়েছে। সে কারণে পাঠাগারের নিজস্ব জমিটির আর্থিক মানদণ্ডে দাম বেড়ে গেছে বহুগুণ। এ জমিতে অনায়াতে গড়ে উঠতে পারে অত্যাধুনিক বহুতল শপিং কমপ্লেক্স এবং এর দোকান ঘরের পজিশন বিক্রি ও ভাড়ার টাকা দিয়ে পাঠাগারটি আর্থিক সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে এভাবে বলা যেতে পারে- সুদৃশ্য-সুরম্য শপিং কমপ্লেক্সটির গ্রাউণ্ডে গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা এবং ১ম থেকে ৩য় তলা পর্যন্ত থাকবে বিপনী বিতান। চতুর্থ তলায় চলবে পাঠাগারের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং পঞ্চম তলায় থাকবে মিলনায়তন, যেখানে পাঠাগারের উদ্যোগে নিয়মিত স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বিভিন্ন সভা-সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শিশুদের মাঝে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে।

বিরাজমান আর্থিক সমস্যা সমাধানে প্রস্তাবনার যে কোন একটি অথবা দু’টি একসাথে অথবা পর্যাপ্ত সময়ের ব্যবধানে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। ঐতিহ্যবাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সাধারণ পাঠাগারের বোদ্ধা সদস্যরা তাঁদের সুচিন্তিত মতামত দিয়ে উপরিউক্ত প্রস্তাবনা দু’টি সমৃদ্ধ করতে অথবা অধিকতর যুক্তিযুক্ত তৃতীয় প্রস্তাবনা দিয়ে পাঠাগারের আর্থিক সংকট নিরসনে এগিয়ে আসবেন- এমন প্রত্যাশা সকলের। ০৪.১১.২০০৯
* আইএনবি দর্পন, ঢাকা, নভেম্বর ২০০৯ সংখ্যায় প্রকাশিত

নোট : লেখাটি ২০০৯ সালের হলেও এর প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে ব্লগে পোস্ট দেয়া হল।