ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

আসছে ১৫ জুন, শুক্রবার বাচসাস (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি) নির্বাচন। সবকিছু ঠিক থাকলে ঢাকার চলচ্চিত্র সাংবাদিকরা ঐদিন প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট দেবেন। পুরনো কমিটির বিদায়। আসবে নতুন কমিটি। নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ থাকবেন ২ বছর। আবার নির্বাচন। আবার নতুন কমিটি। আবার … । সংগঠনটি যাত্রা শুরু করেছিল ১৯৬৮ সালের ৫ এপ্রিল, পাকিস্তান আমলে। উদ্দেশ্য ছিল, এপার বাংলার বাংলা চলচ্চিত্রের উন্নয়ন। উর্দু ছবির সেই দাপুটে সময় থেকে আজ পর্যন্ত ঢাকাই ছবির উন্নতি তথৈবচ। ঢাকাই চলচ্চিত্রের নিম্নমুখী স্রোত থেকে জাতিকে রক্ষার প্রশ্নে শুরু হয় স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আন্দোলন। বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম তাঁর ‘আগামী’ (১৯৮৩-৮৪) ছবি দিয়ে শুরু করেছিলেন এই যাত্রা। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এফডিসি’র বর্তমান এমডি, জননন্দিত অভিনেতা পিযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। কথায় কথায় ক’দিন আগে তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন- জানো, আমি আজ পর্যন্ত বাচসাসের কোন পুরস্কার পাইনি। কথাটা শুনে বিস্মিত হয়েছিলাম। একসময় এই সংগঠনের একটা এ্যাওয়ার্ড শিল্পীদের সম্মানিত করতো। আর এখন?

অনেক দূর এগিয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আন্দোলন। সাধারণ মানুষ আবার হলমুখী হচ্ছেন। আর পূর্ণদৈর্ঘ্য ঢাকাই ছবি? পিছিয়েছে বহু দূর। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্ন প্রকট আকার ধারণ করেছে। আসলে, এ পর্যন্ত বাচসাসের অর্জন কী?

পাকিস্তান আমলে যাঁরা চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে এই সংগঠনটি তৈরি করেছিলেন তাঁদের কয়েকজন এখনো বেঁচে আছেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। এছাড়া সংগঠনের প্রবীণ সদস্য হিসাবে আছেন- হারুন-উর-রশিদ খান, কবি ফজল শাহাবুদ্দিন, জয়নাল আবেদিন, খন্দকার শাহদাৎ হোসেন, রফিকুজ্জামান, অনুপম হায়াৎ, আবদুর রহমান, চিন্ময় মুৎসুদ্দি, আহমেদ নূরে আলম, আহম্মদ জামান চৌধুরী (খোকা ভাই) প্রমুখ।

এবার প্যানেল হয়েছে দু’টি। একপক্ষে সভাপতি আবদুর রহমান অন্যপক্ষে রফিকুজ্জামান। এঁদের মধ্যে বিজয়ী হয়ে একপক্ষ আসবেন। কিন্তু তারপর? কী এমন পরিবর্তন আসবে এই সংগঠনে? দুঃখজনক একটা কথা প্রচলিত আছে এই সংগঠন নিয়ে। এখানে নাকি যোগ্যতা সম্পন্ন, ব্যক্তিত্বপূর্ণ সাংবাদিকের বড় অভাব? সংগঠনের অনেক সদস্যই নাকি নামমাত্র চলচ্চিত্র সাংবাদিক! আবার অনেকে সাংবাদিকই নন! অবশ্য এই অভিযোগ হয়তো খারিজ করে দেবেন এবার যাঁরা নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসবেন। জানিনা, ভবিষ্যত কী বলবে?

অবাক করা বিষয়, স্বাধীনতার ৩০ বছর পরও এ সংগঠনের কোন ব্যাংক একাউন্ট ছিল না। ১৯৯৯-২০০১ কমিটির সময়ে সংগঠনের ব্যাংক একাউন্ট এবং রেজিষ্ট্রেশন হয়েছে(!)। তবে এখনো স্থায়ী অফিস নেই। সংগঠনের যাঁরা সদস্য তাঁদের নেই কোন আইডি কার্ড। বাচসাসের কোন সামাজিক কর্মকাণ্ড নেই। ভেবে আশ্চর্য হই, এই সংগঠনের নেই কোন ওয়েবসাইট। ভাবা যায়! এই ২০১২ সালে চলচ্চিত্র সাংবাদিকদের এতোবড় একটি সংগঠনের এমন করুণ দশা? কই, বাচসাস তো আজ পর্যন্ত সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে জরুরি কোন বৈঠক করেননি? কোন অনুষ্ঠানেই তাঁদের আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মান জানাননি? এই সংগঠনের দেউলিয়াত্ব কি এতোই প্রবল?

আশা করি, নির্বাচিত কমিটি দ্রুত একটি অফিস নেবেন। দ্রুত তৈরি করবেন বাচসাসের আধুনিক ওয়েবসাইট। চলচ্চিত্র সাংবাদিকতার উন্নতির স্বার্থে তারা নিয়মিত চালাবেন গোলটেবিল। বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে এই সংগঠনের প্রতিনিধি নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠান করবেন। আয়কৃত টাকা জমা হবে সংগঠনের তহবিলে। দেখা যাবে, অতিদ্রুত সেখানে জমা হয়েছে একটা হ্যান্ডসাম এমাউন্ট। সেই অর্থের একটা অংশ দিয়ে নিশ্চিন্তে চালানো যাবে সামাজিক কর্মকাণ্ড। সবচেয়ে বড় কথা- অসুস্থ এবং গরিব সাংবাদিকদের নিয়মিতভাবে আর্থিক সহায়তা দেয়ার একটা ফাণ্ড গঠন করা জরুরি। আমরা আশা করবো, নির্বাচিত নতুন কমিটি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে ভাববেন। ভুলে গেলে চলবে না, গোষ্ঠীবদ্ধ সম্মান অর্জন না করতে পারলে একক সম্মানে কখনো, কোনদিন লাভ হয়নি-হবেনা। এই সহজ সত্য যারা বুঝবেন, আশা করি তাদের বিজয় সুনিশ্চিত।

ভিজিট করুন