ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

তখন আমি হাইস্কুলে পড়ি। ক্রিকেট খেলা শেষকরে মাত্রই বাড়ি ফিরেছি, মা বললেন সারাক্ষণতো খেলাধুলা নিয়েই ব্যাস্ত থাকিস যা বাগানে সব্জি গাছের জন্য মাচা তৈরি করছেন যে তাঁকে কাজে সাহায্য কর; আর শোন ওনার সাথে ভদ্রভাবে কথা বলবি, উনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।

আমি বাগানে উঁকিদিয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে দেখলাম, একজন বয়স্ক লোক মনযোগ দিয়ে কাজ করছেন। আমি দেখলাম উনার মাথার উপর রোদ পড়ছে তাই ঘর থেকে একটি ছাতা এনে উনাকে দিলাম। প্রবীণ লোকটি মাথা তুলে আমাকে দেখলেন, তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম “আপনি কি মুক্তিযোদ্ধা?” তিনি মৃদু হাসলেন এবং মাথানেড়ে সায়দিলেন। আমি বললাম আপনি এত কষ্ট করে কাজ করছেন, আপনি মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাননা? তিনি বললেন “আমি ইচ্ছাকরেই ওইসব সুবিধা নেইনা”। আমি জিজ্ঞেস করলাম “কেন?” তিনি বললেন “প্রথমে ভেবেছিলাম ভাতা নেব কিন্তু পরে ভেবেদেখলাম দেশকে রক্ষাকরা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য, আমি আমার কর্তব্য পালন করেছি, তাই কোন সুবিধা নেইনা।” আমি বললাম “১টা সার্টিফিকেট থাকলে সবাই আপনাকে সম্মান করতো।” তিনি বললেন “আমিতো তোকে সার্টিফিকেট দেখাইনাই তাহলে তুই সম্মান করে ছাতা এনে আমার মাথার উপর ধরলি কেন? শোন, সম্মান পেতে সার্টিফিকেট লাগেনা। তুই দেশকে ভালোবাসবি দেখবি সবাই তোকে সম্মান করছে, আর বড় বড় সার্টিফিকেট নিয়েও যদি দেশ বিরোধী হোস তাহলে কেউ তোকে সম্মান করবেনা।”

তখন আমি ভাবলাম মুক্তিযোদ্ধারা শুধু বীর যোদ্ধাই না তাঁরা স্বশিক্ষিতও বটে।