ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

Har Gobind Khorana

উর্বর এই ভারতীয় উপমহাদেশ শুধু গুণী শিল্পী-সাহিত্যিক জন্মদিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি বরং বহু বিজ্ঞানীর জন্মদাত্রীও এই উপমহাদেশ।এই রত্নগর্ভার কোলে স্থানপেয়েছেন প্রাচীণকালের আর্যভট্ট, ব্রহ্মগুপ্ত থেকে শুরুকরে বর্তমাণকালের সি.ভি.রমণ, সুব্রহ্মণ্যন চন্দ্রশেখর, আব্দুস সালাম, কুদরাত-ই-খুদা, সত্যেন্দ্র নাথ বোস, শ্রীনিবাস রামানুজন, স্যার জগদীশ চন্দ্র বোস সহ আরো অনেক সুধীবৃন্দ। ড. হরগোবিন্দ খোরানা তেমনি এই উপমহাদেশের এক সুযোগ্য সন্তান।

জন্ম: ড. খোরানা ৯ই জানুয়ারী ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিম পাঞ্জাবের (বর্তমান লাহোর, পাকিস্তান) রায়পুর গ্রামে এক দরিদ্র হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পিতা ছিলেন একজন গ্রাম্য খাজনা সংগ্রাহক।

শিক্ষা: তিনি লাহোরের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৩ সালে বিএসসি এবং ১৯৪৫ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।ড. খোরানা ১৯৫১ সালে যুক্তরাজ্যের ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যার আলেকজান্ডার টড এর তত্ত্বাবধানে নিউক্লিক এসিড বিষয়ে গবেষণা করেন। তিনি পোস্ট ডক্টরেট অর্জনের জন্য সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত সুইচ ফেডারেল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে গমণকরেন।

কর্মজীবন: তিনি ১৯৫২ সালে ভ্যাঙ্কুভারের ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় যোগদান করেন।১৯৬০ সালেম্যাডিসনের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিনে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে তিনি ম্যাসাচুসেট্‌স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে যোগদানকরেন এবং ২০০৭ সালে অবসর গ্রহণের পূর্বপর্যন্ত সেখানে শিক্ষকতা করেন।

আবিষ্কার: ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে ড. মার্শাল ওয়ারেন নিরেনবার্গের সাথে ড. খোরানা যৌথ গবেষণা করেন।তাঁরাই প্রথম “প্রোটিন সংশ্লেষণে নিউক্লিওটাইডের ভূমিকা” আবিষ্কার করেন। ড. খোরানা স্বতন্ত্রভাবে ব্যাখ্যাকরেন যে কিভাবে নির্দিষ্ট অ্যামিনোএসিডে নিউক্লিওটাইড সমূহ ক্রমবিন্যস্ত থাকে। তিনি আরো প্রমাণকরেন যে নিওক্লিওটাইড কোডসমূহ তিনটি গ্রুপে প্রেরিতহয়, তাদের নাম হচ্ছে কোডন। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে তিনিই প্রথম ঈস্ট থেকে কৃত্রিম জীন সংশ্লেষণ করেন।

ড. খোরানা তাঁর আবিষ্কারের স্বীকৃতিস্বরুপ ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে চিকিৎসাবিজ্ঞানে রবার্ট উইলিয়াম হোলি ও মার্শাল ওয়ারেন নিরেনবার্গের সাথে যৌথ ভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।ড. খোরানাই উপমহাদেশের প্রথম এবং একমাত্র ব্যাক্তি যিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভকরার গৌরব অর্জনকরেন।

 

 

পুরস্কার সম্মাননা:

#  চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (১৯৬৮)

#  গির্ডনার ফাউন্ডেশন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড।

#  লুইজা গ্রস হরউইটজ প্রাইজ (কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, নিউইয়র্ক,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)।

#  উইলার্ড গিবস অ্যাওয়ার্ড (মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র)।

#  পদ্মবিভূষণ (ভারত সরকার)।

এছাড়াও ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন- ম্যাডিসন, ভারত সরকার ও ইন্দো-আমেরিকা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফোরাম “খোরানা প্রোগ্রাম” চালু করে।

 

মৃত্যু: ২০১১ খ্রিস্টাব্দের ৯ই নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনকর্ডে (ম্যাসাচুসেটস) এই বিজ্ঞানী মৃত্যুবরণ করেন।