ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

এই মূহুর্তে আমার মনটা খুব খারাপ। এই মন খারাপ ভাবটা থাকবে দীর্ঘ সময়। হয়তোবা কাল সারাদিন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন হেরে যায় তখনই এমন হয়। আগে এমন হতো না। কিন্তু যে দিন থেকে বুঝতে পারলাম বাংলাদেশ সামর্থ অর্জন করেছে বিশ্বের যে কোন দলকে চমকে দেবার, সে দিন থেকেই আমার এই ইমোশনাল ব্রেক ডাউনের শুরু। চমৎকার একটা শুরু কিংবা ব্যাটিং, বোলিং অথবা ফিল্ডিং যে কোন একটা সাইডের এক্সট্রা অর্ডিনারি পারফর্মেন্সের পর যখন অন্যান্য সাইডগুলোর পারফর্মেন্স ফল্ করে তখন খুবই খারাপ লাগে। এটা কেন হলো, ওটা কেন হলো না, ইত্যাদি ভাবনা এসে ভীর জমায় মনের অতল গহীনে। মনে মনে ভাগ্যকে দোষারোপ করতে করতে আবার আশায় বীজ বুনি পরবর্তী ম্যাচের রোমাঞ্চকর পরিনতির জন্য।

আসলে দিনটি বাংলাদেশের ছিল না। যখন দলীয় ৪২ রানে মোহাম্মদ হাফিজ, ৪৭ রানে কামরান আকমল এবং ৫৮ রানে ইউনুস খানের মতো পাকিস্তানের তিনজন ক্লাস এ ক্যাটাগরীর ব্যাটস্ম্যানকে উপর্যুপরি প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠায় বাংলাদেশ, তখন কেন আহমেদ শেহজাদ (১০৩) ও মিসবাহ-উল-হকের (১০০) সমন্বয়ে গড়ে ওঠে ১৫২ রানের এক বিশাল পার্টনারশীপ। তারপরও বাংলাদেশ দলের দুঃসময়ের কান্ডারী সাকিব আল হাসানের সময়োচিত তিন তিনটি উইকেট পাকিস্তানকে তিন শতাধিক রানের পাহাড় গড়ার পথে বাধার সৃষ্টি করে। সাকিবকে ভালো সাপোর্ট দেন রুবেল হোসেন (৩ উইকেট) এবং দলের অন্যান্য স্পিনাররা। ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ২৮৬ রান, যা স্পর্শ করা কঠিন হলেও বাংলাদেশ দলের জন্য অসম্ভব কিছু ছিল না।

দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম বলটাই যেন বলে দেয় দিনটি বাংলাদেশের নয়। আব্দুল রাজ্জাকের একটা দূর্দান্ত বলে বিভ্রান্ত হয়ে ইনিংসের প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরত আসেন বাংলাদেশ দলের টপ অর্ডারের প্রধান ভরসা তামিম ইকবাল খান। সাথে সাথে তামিমের আরেকটি ধুন্দুমার ব্যাটিং কারিশমা দেখা থেকে বঞ্চিত হয় বাংলাদেশের দর্শকরা। দলীয় ৭১ রানে জুনায়েদ সিদ্দিকী ২৮ বলে ৩৮ রানের ঝকঝকে ইনিংস গড়ে বিদায় নিলেও তখনও মনে হয়নি বাংলাদেশ কোন প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়তে ব্যর্থ হবে। কিন্তু দলীয় ৯৮ রানে মুশফিকুর রহিম এবং ১১৮ রানে সাকিব আল হাসান ব্যক্তিগত ১১ রানে বিদায় নিলে বাংলাদেশের সামনে উদয় হয় আরেকটা শতোর্ধ রানের পরাজয়ের আশংকা। মোহাম্মদ আশরাফুল যিনি কিনা অনেকেরই আশার ফুল তিনি বিদায় হন ৩ বল খেলে ১টি চমৎকার বাউন্ডারীর ঝলক দেখিয়ে ব্যাক্তিগত ৪ রানে। এর পরের ইতিহাস শুধু অতীতেরই পুনরাবৃত্তি। লোয়ার অর্ডারে নাঈম ইসলাম (২২) ও রাকিবুল হাসান (৩০) একটু প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। রুবেল হোসেনের আউটের মধ্য দিয়ে ১৯৬ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের রানের চাকা। পরাজয় ৮৮ রানে।

প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ কি পারত না ম্যাচটাকে ক্লোজ করতে? প্রথম ইনিংস যেখানে পাকিস্তানের দু-জন ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরী হাঁকিয়েছেন সেখানে বাংলাদেশের কমপক্ষে দুটি হাফ-সেঞ্চুরী তো আমরা প্রত্যাশা করতেই পারি। কিন্তু তা হয়নি পাকিস্তানের বোলার আব্দুল রাজ্জাকের কারনে। অনেকে হয়তো প্রথম ইনিংসে দুটি সহজ ক্যাচ ফেলে দেয়া এবং বাজে ফিল্ডিংকে বাংলাদেশের পরাজয়ের মূখ্য কারন বলে অভিহিত করবেন, আমি তা মনে করি না। আব্দুল রাজ্জাক তামিম ও সাকিবকে সরাসরি বোল্ড করে আউট করেছেন এবং বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিবও তার শিকারে পরিনত হয়েছেন মাত্র ১১ রানে। মূলতঃ খেলাটা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ দলকে এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিতে হবে। না হলে ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের সম্মানের ওপর বিশাল আঘাত আসবে।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ (দিবা-রাত্রি): ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১১, মিরপুর ১নং জাতীয় ষ্টেডিয়াম, ঢাকা।
প্রতিপক্ষ: পাকিস্তান।
টস জয়ী: পাকিস্তান, ব্যাটিং।
১ম ইনিংস: পাকিস্তান ২৮৫/৯, ৫০ ওভার (আহমেদ শেহজাদ ১০৩, মিসবাহ ১০০, সাকিব ১০-০-৪৯-৩, রুবেল ১০-০-৭৩-৩)
২য় ইনিংস: বাংলাদেশ ১৯৬/১০, ৪১.৪ ওভার (ইমরুল ৩৯, জুনায়েদ ৩৮, রাকিবুল ৩০, আব্দুল রাজ্জাক ৬-০-৩১-৩)
ফলাফল: বাংলাদেশ ৮৮ রানে পরাজিত।

—————————————
সূত্রঃ www.espncricinfo.com