ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা

 

বাঙ্গালীর নার্ভ যে এতো শক্ত তা আমার জানা ছিল না। পাশাপাশি দুটি জিনিস আবারও প্রমাণ হলো। এক- ক্রিকেট একটি গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা এবং দুই- আগের ম্যাচের শোচনীয় পরাজয় ছিল নিছক একটা দূর্ঘটনা। ইংল্যান্ড দলটি যারা ভারতের সাথে টাই করার পর দক্ষিন আফ্রিকাকে দূর্দান্তভাবে হারিয়ে মানসিকভাবে অনেকটা এগিয়ে ছিল সেই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়টা এক কথায় অসাধারন এক মহাকাব্য, প্রতিকুল স্রোতের বিপরীতে এক প্রাণান্ত লড়াইয়ে টিকে থাকার গল্প।

বোলার ও ফিল্ডারদের অসাধারন পারফর্মেন্সের কল্যাণে অর্জিত মাঝারী আকারের টার্গেটের পেছনে ছুটতে যেয়ে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে তামিমের ঝড়ো এবং ইমরুলের দায়িত্বশীল ব্যাটিং-এ শক্ত ভিত পেলেও এক সময় বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৭৩। এ সময় ইমরুল ও সাকিব ৮২ রানের এক কার্যকরী পার্টনারশীপ গড়ে বাংলাদেশের এই প্রাথমিক এই বিপর্যয়ের সামাল দেন। তার পরপরই বাংলাদেশ ফিরে যায় তার পুরোনো চেহারায়। ৩ উইকেটে ১৫৫ রান থাকা অবস্থায় মাত্র ১৪ রানের মধ্যে পড়ে যায় ইমরুল, সাকিব ও মুশফিকুর রহিমের উইকেট সহ আরো ৫টি উইকেট। বাংলাদেশের রান তখন ৮ উইকেটের বিনিময়ে ১৬৯। ক্রিজে স্পিনার মাহমুদুল্লহ এবং পেসার শফিউল ইসলাম। জিততে হলে করতে হবে আরো ৫৭ রান, উইকেট হাতে আছে মাত্র দুটি। বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা এই সংক্ষিপ্ত পথ পাড়ি দিতে যেখানে ব্যর্থ, সেখানে আমরা কি প্রত্যাশা করতে পারি এই দুই টেল অর্ডারের কাছে?

তারপর যা হলো তা এক ক্রিকেটীয় মহাকাব্য। দুই স্পিনার ও পেস বোলারের চরম ধৈর্যশীল ও হার্ড হিটিং ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠার গল্প। প্রচন্ড স্নায়ু চাপে যখন মাঠে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকের নাভিঃশ্বাস ওঠার উপক্রম, প্যাভিলিয়নে বসে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা যখন কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করছেন, বাউন্ডারী রোপের বাইরে বোলার নাজমুলের পাশে বসে ব্যাটসম্যান আশরাফুলের স্নায়ু চাপে জর্জরিত মুখ, গ্যালারীতে বসে নাট্যকার ও লেখক আনিসুল হকের হাতের জাতীয় পতাকাটি বারবার ভাঁজ করে কোলে তুলে রাখা এবং বের করা, প্রেস বক্সে বসে দেশী সাংবাদিকরা আজকের ম্যাচ হারার জন্য আগামীকালের পত্রিকায় বাংলাদেশ দলের কাকে কাকে দায়ী করে রিপোর্ট লিখবেন বলে ভাবছেন, বাংলাদেশের বড় বড় শহরের জায়ান্ট স্ক্রিনের সামনে এবং বাড়িতে, দোকানে, মহল্লার টিভি সেটের সামনে বসে থাকা কোটি কোটি দর্শকরা যখন জিততে জিততে হেরে যাওয়ার কষ্ট নিয়ে রাতে ঘুমোতে যাবেন বলে ভাবছেন ঠিক তখন ইস্পাত কঠিন এক স্নায়ু চাপের পরীক্ষা দিয়ে পাস করে ফেললেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও শফিউল ইসলাম। অলরাউন্ডার হিসেবে সুখ্যাতি থাকায় মাহমুদুল্লাহ নিজেকে ক্রিজের এক প্রান্তে ধরে রেখে যখনই শফিউল স্ট্রাইকে গেছেন তখনই অভিভাবক সুলভ পরামর্শ দিয়ে শফিউলকে ব্যাটিং-এ উৎসাহ যুগিয়েছেন। আর তাই মাহমুদল্লাহর ৪২ বলে করা ২১ রান এবং শফিউলের ২৪ বলে ২৪ রান (৪ চার, ১ ছয়) অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। চমৎকার একটি ম্যাচ টার্নিং ক্যাচ এবং ১০০ বলে করা ধৈর্যশীল ৬০ রানের চমৎকার ইনিংসটির জন্য ইমরুল কায়েস ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কার পেলেও আমার মতো আম জনতার কাছে মাহমুদল্লাহ ও শফিউলই আজকের খেলার ম্যান অব দ্যা ম্যাচ।

তথ্য সূত্রঃ www.espncricinfo.com

স্কোর কার্ডের জন্য ভিজিটঃ http://www.espncricinfo.com/icc_cricket_worldcup2011/engine/current/match/433585.html