ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

কোনমতেই ডাক্তারদের গ্রামে রাখা যাচ্ছে না। শুধু গ্রামাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ সুবিধা দিয়ে অ্যাডহক ভিত্তিতে ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদের গ্রামে রাখা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ উপক্ষো এবং নিয়োগের শর্ত লঙ্ঘন করে গ্রামে নিয়োগ পাওয়া ডাক্তাররা তদবির করে ফিরে আসছেন শহরে। এসব বদলিতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভূমিকা পালন করছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও সরকার সমর্থক চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতারা।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও নীতিমালা ভঙ্গ করে চট্টগ্রামে যেসব ডাক্তারকে বিভিন্ন শহরের হাসপাতালে বদলি করা হয়েছে, তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আবু তৈয়ব। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে পৃথক চারটি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।

গ্রামের জন্য অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তারদের মধ্যে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার চরতি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় ডা. রুমী দাশকে। দু’বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গত ২২ মে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক চিঠিতে তাকে প্রভাষক (এনাটমি) হিসেবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পদায়ন করা হয়েছে। একইভাবে চন্দনাইশের দোহাজারী হাসপাতলে নিয়োগপ্রাপ্ত ডা. জাস্টিন ক্লাম্পকে গত ১৫ মে সহকারী সার্জন/মেডিকেল অফিসার (রেডিওলজি অ্যান্ড ইমাজিং) হিসেবে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে পদায়ন করা হয়। এভাবে নিয়োগ বিধি ভঙ্গ করে দু’বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. নিরুপম দাশকে বদলি করে মেডিকেল অফিসার হিসেবে পদায়ন করা হয় নোয়াখালী মেডিকেলে। এ রকম আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। ২০১০ সালের শেষের দিকে চট্টগ্রামে নিয়োগ দেওয়া অ্যাডহক ডাক্তারদের মধ্যে প্রায় ৫০ জনকে গ্রামের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় হাসপাতালে বদলি করা হলে সে সময় স্বাস্থ্য খাতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

২০১০ সালের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশোধিত নীতিমালার এক দশমিক নয় নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, গ্রামের জন্য নিয়োগ পাওয়া ডাক্তারদের নিয়োগের পর কমপক্ষে দুই বছর চাকরি করতে হবে। এরপর একজন ডাক্তার উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে পদায়নের সুযোগ পাবেন। তবে জেলা হাসপাতালে পদায়নের যোগ্য হবেন না।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা, আবু তৈয়ব সমকালকে বলেন, ‘গ্রামাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্যই অ্যাডহক ভিত্তিতে ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররা গ্রামের কোন কর্মস্থলে কতদিন থাকবেন তা নীতিমালায় সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। নীতিমালা উপেক্ষা করে যেসব ডাক্তারকে বদলি করে শহরের হাসপাতালগুলোতে পদায়ন করা হয়েছে, সেসব বদলির আদেশ বাতিল করতে আমি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি দিয়েছি। আশা করি তারা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।’

সংশ্লিষ্ট একাধিক চিকিৎসক-কর্মকর্তা বলেন, চট্টগ্রামের কয়েক প্রভাবশালী স্বাচিপ নেতা স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে গ্রামের জন্য নিয়োগ দেওয়া ডাক্তারদের শহরে বদলি করছেন।

২০১০ সালের জুলাইয়ে গ্রামাঞ্চলে নিয়োগ দেওয়া হয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার ডাক্তার। এর মধ্যে প্রায় ৭০০ জনকে চট্টগ্রাম বিভাগে এবং ৩২৫ জনকে বৃহত্তর চট্টগ্রামে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করার শর্তে নিয়োগ পাওয়া এসব ডাক্তারকে দেওয়া হয় বিশেষ সুযোগ-সুবিধাও। এতকিছুর পরও গ্রামে রাখা যাচ্ছে না ডাক্তরদের। জানা গেছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চিত্রও অভিন্ন।