ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিল একটি অস্মপ্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে। এদেশর মানুষ যুদ্ধে করেছিল একটি উদার মূল্যবোধ সম্পন্ন গণতান্ত্রিক দেশের জন্য, যে গণতন্ত্র পাকিস্তানে ছিল না, আরও অনেক দেশে এখনো নাই। কিন্ত এদেশের মানুষ সেই গণতন্ত্রের জন্যে রক্ত দিয়ে ছিল , যে গণতন্ত্রে ধর্মনিরপেক্ষতা আসবে, সবার মধ্য অধিকার ও সুযোগের সমতা বজায় থাকবে, নুন্যতম চাহিদাগুলো মিটানো সহজ হবে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের আকাশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা রাজনীতির নামে যে রক্তের হোলি খেলা চলছে তা, কেবল মাত্র সংলাপ বা ক্ষমতার হাত বদল হলেই বন্ধ হবে না। তাই সবার আগে জনগণের মন থেকে বর্তমান নিঃস্পৃহতা দূর করতে হবে। একটি অস্মপ্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য সবার মধ্যে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে হবে, যে লক্ষ্যে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরেছিল। কিন্তু বর্তমানে এই লক্ষ্যটি যেন মানুষের মন থেকে মুছে গেছে বা মুছে ফেলা হচ্ছে ইতিহাস বিকৃতি করে । পাকিস্তানী হানাদারদের ১৯৭১ সালের গনহত্যা, তাদের বাংলাদেশের দোসরদের নির্যাতন/ বর্বরতা যেন মানুষের মন থেকে বিস্মৃতি প্রায়। এরই সুযোগই নিচ্ছে বর্তমান বিএনপি-জামাত স্বাধীনতা বিরোধী জোট। সাহস পাচ্ছে লাগাতার হরতাল আর হরতাল দিয়ে, পেট্রল বোমায় মানুষ পুড়িয়ে মারতে। ১৯৯০ কিংবা ২০০১ সালের মতো ক্ষমতায় যেয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধু , জয় বাংলা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ দেশ থেকে চিরতরে মুছে ফেলার স্বপ্ন দেখছে। তাঁরা চাইছে হাসিনাকে যে ভাবেই হোক ক্ষমাতা থেকে সরিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বাচাতে, ২৫ আগস্ট বোমা হামলার মামলা থেকে নিজেকে এবং দলকে বাচাতে। এবং সর্বোপরি বর্তমান বিএনপি-জামাত স্বাধীনতা বিরোধী জোট চাইছে পাকিস্তানের আদলে আরও একটি সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে ১৯৭৫-১৯৯০ সালের মতো। দেশের বর্তমান অবস্থায় জনমনের বিশেষ করে এলিট বা তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণী এবং বিদেশী পরামর্শ দাতার আচরণ ও কথাবার্তাও রহস্যময় মনে হয় । এই সব তথাকথিত বুদ্ধিজীবী মুখোশের আড়ালে আসলে নির্বাচনের নামে কি চাইছেন ( ক্ষমতা না অন্য কিছু…) তা বুঝা খুবই শক্ত। তাই ভয় হয় আমরা বুঝিবা আবার ১৯৭৫ সালের মতো কলঙ্কময় বীভৎস দিনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। যা হবে আমাদের জন্য ২য় পরাজয় (১ম পরাজয় ১৯৭৫)। তাই বিএনপি-জামাত স্বাধীনতা বিরোধী জোটের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে গনচেতনা, সাহস জাগাতে না পারলে কিংবা স্বাধীনতা বা মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী গণশত্রুদের বিরুদ্ধে সবাইকে নিয়ে গনপ্রতিরোধ গোড়ে তুলতে না পারলে শুধু সংলাপ আর নির্বাচন (যে নির্বাচিত সংসদে বিরোধী দল ৫ বছরে ২০ দিনও হাজির থাকেন না) দিয়ে বাংলাদেশকে তার মূল শিকড়ে ফিরানো যাবেনা ।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সামনে একটিই প্রশ্ন ? বাংলাদেশ কি মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ হিসাবে টিকে থাকতে পারবে, (দেশি/বিদেশি ষড়যন্ত্রের কারনে) নাকি ধর্মীয় কূপমণ্ডূকতা ও সাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শে গঠিত পাকিস্তানের মধ্যযুগীও বর্বরতার যুগে ফিরে যাবে।

(সাহায্যঃ আব্দুল গাফফার চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী)