ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

একেবারে খোলা চোখে, সরল সাদা মনে আমরা কি একবারও চিন্তা করে দেখেছি আসলেই খালেদা জিয়া বা তার বিএনপি-জামাত জোট তথাকথিত আন্দোলনের নামে কি করতে চায় বা কি তাদের চাওয়া এদেশের মানুষের কাছে বা কেনই বা তারা অবরোধ বা হরতালের নামে হত্যা করছে সাধারণ জনগণকে পেট্রলের আগুনে; যদিও তারা বলে বেড়াচ্ছে, তাদের এই আন্দোলন এদেশের মানুষকে তাদের ভোটের অধিকার বা গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য (কবেই বা এ দেশের সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিল আর তারাই বা গণতান্ত্রিক অধিকার বলতে কি বুঝাতে চান) আসলে তাদের এই তথাকথিত আন্দোলনের উদ্দেশ্য অন্য কিছু এবং আরও গভীরে গথিত। বিএনপি-জামাত জোট সত্যি যদি ভোটের অধিকার ব্যাপারে আগ্রহী বা সামান্য তম শ্রদ্ধা থাকত, তবে তারা গত নির্বাচনের আগেই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিশেষ করে যে দিন প্রধান মন্ত্রী হাসিনা খালেদা জিয়াকে ফোন করেছিলেন সেই দিনই মীমাংসা করতে পারতেন বা মীমাংসার একটা পথ খুলতে পারতেন। তা না করে খালেদা জিয়া ফোনে হাসিনাকে এমন সব কথা বলেছে, যা ছিল অপ্রাসঙ্গিক এবং একজন প্রাক্তন প্রধান মন্ত্রীর মুখে বেমানান ও অশোভন। আসলে গত নির্বাচনে আগের নির্বাচনে হারার পর থেকেই তিনি (খালেদা জিয়া) একটার পর একটা ষড়যন্ত্রর জাল বুনে গেছেন হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে। যে ভাবেই হোক। তার প্রমান বিডির বিদ্রোহ, ধর্মীয় ও মৌলবাদীদের উস্কানো, হেফাজতকে দিয়ে ঢাকা অবরোধ করে হাসিনা সরকারকে অবৈধ্য ভাবে ক্ষমতাচুত্য করার চেষ্টা, পদ্মা ব্রিজকে নিয়ে ষড়যন্ত্র সহ আরও অনেক অনেক ষড়যন্ত্রর (৫ আগস্ট নির্বাচন না করাও ছিল ষড়যন্ত্র অংশ) জাল। আর ২৫ আগস্ট বোমা হামলা করে হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার কথা তো আমরা সবাই জানি।

আদতেই খালেদা জিয়া গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাননি। (এবং জেতার ১০০% সম্ভাবনা না থাকলে আগামীতে নির্বাচনে যাবেন কিনা সন্দেহ আছে) তিনি আগাগোড়া চেষ্টা করেছেন, জোর করে অবৈধ্য ভাবে শেখ হাসিনার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করতে আর এর পিছনে ইন্ধন জুগিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি জামাতের কালো হাত, যা এখনও সক্রিয় । বর্তমানে বিএনপি-জামাত ফ্যাসিবাদী জঙ্গি গোষ্ঠীর তথাকথিত আন্দোলনও (অবরোধ/হরতাল) সেই একই কারনে সংগঠিত হচ্ছে। এই ফ্যাসিবাদী জঙ্গি গোষ্ঠী গত ৫-৬ বছর যাবত একই লক্ষ্য নিয়ে দেশের মধ্যে রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আর তা হচ্ছে অবৈধ পন্থায় (হত্যা করেই হোক কিংবা মিথ্যাচার, প্রোপাগান্ডা প্রচার করে সরল জনগণকে উস্কে দিয়েই হোক কিংবা ধর্মীয় ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধমেই হোক) শেখ হাসিনাকে বা এদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে মুক্তিযুদ্ধে পক্ষের শক্তিকে অপসারণ করে ফ্যাসিবাদী জঙ্গি গোষ্ঠী বা ১৯৭১ এর পরাজিত অপ শক্তির সহায়তায় ক্ষমতার মসনদে বসতে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন বিএনপি-জামাত ফ্যাসিবাদী জোট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে এত মরিয়া হয়ে উঠেছে। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য? হাসিনার অপশাসন, দলীয়করণ, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য? (তারাও একই দোষের ভাগীদার) নাকি অন্য কোন কারনে। কেন তাদের এত রাগ শেখ হাসিনার উপর। কারন একটাই আর তা হচ্ছে আমাদের মহান স্বাধীনতার/মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং যুদ্ধা অপরাধীদের বিচার। যার পিছনে ছায়ার মত দাড়িয়ে আছে একজনই, শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা। শেখ হাসিনার বাবাই (বঙ্গবন্ধু) ১৯৭১ বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছিল; পরবর্তীতে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছিল এবং বিচারের রায় বাস্তবায়ন করেছে। এই শেখ হাসিনাই আবার ক্ষমতায় এসে যুদ্ধা অপরাধীর বিচার শুরু করেছে । তাদেরকে জেলখানায় আটক করে রেখেছে (খালেদার ভাষায় ওরা নাকি রাজবন্দী)। এবং তিনি এই যুদ্ধা অপরাধীর বিচার শেষ করবেন বলে জাতির কাছে ওয়াদা বধ্য। বিএনপি-জামাত ফ্যাসিবাদী স্বাধীনতা বিরোধী জোট ভালো ভাবেই জানে যে শেখ হাসিনাকে সরাতে না পারলে যুদ্ধা অপরাধীদের বিচার এবং বিচারে রায় কোন ভাবেই বন্ধ করা যাবে না । আর এই বিচার বন্ধ করতে না পারলে যুদ্ধা অপরাধী জামাতও বিএনপিকে রেহাই দেবে না। তাই এই প্রাতিক্রিয়াশিল অপশক্তি শেখ হাসিনার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচুত্য করতে এত মরিয়া।

আসলে হাসিনার উপর তাদের কোন রাগ নেই আছে ভয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে আর আছে ১৯৭১ সালের পরাজয়ের প্রতি হিংসা। যে পরাজয়ের প্রতি হিংসায় জীবন দিতে হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। এখন তারা একই কায়দায় ক্ষমতা থেকে সরাতে চায় শেখ হাসিনাকে। আমাদেরকে, আমাদের নুতুন প্রজন্মকে ফিরিয়ে নিতে চায় ১৯৭৫-১৯৯০ সালের বিভীষিকাময় দিনগুলিতে। এখানে একটা কথা মনে রাখা দরকার যে বিএনপি’র জন্ম হয়েছিল (অবৈধ ক্ষমতাদখলকারী মেজর জিয়ার নেতৃত্বে) স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তান পন্থী অপশক্তিগুলোর সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম আকারে। পরবর্তীতে এই প্লাটফর্মই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি নাম ধারন করে আর এই সম্মিলিত প্লাটফর্মে একত্রিত হয়ে ছিল বিচ্যুত বাম ধারা, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামী সহ ধর্মীয় ও উগ্র মৌলবাদী ডানপন্থী দলগুলো যারা ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ হত্যার অংশীদার এবং আসামী । ধর্ষণ করে ছিল প্রায় ৪ লক্ষ্য মা বোনদের। তাই বর্তমানে আন্দোলনের নামে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে তা কোনভাবেই রাজনৈতিক সংঘাত বলা যাবে না বা রাজনৈতিক আন্দোলনও নয়, এটা আসলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং বিপক্ষের মধ্যে বাচা মরার লড়াই বা অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ। স্বাভাবিক ভাবেই হাসিনা বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এদের টার্গেট হবে তা বলাই বাহুল্য। তাই নির্দ্বিধায় বলা যায় এই যুদ্ধে বা লড়াইতে আমাদের নিরপেক্ষ থাকার কোনো অবকাশ নেই।যারা নিরপেক্ষতার ভান করে সংলাপের বাণী কপচাচ্ছে, তাদের অধিকাংশই ভণ্ড, জ্ঞানপাপী বা সুযোগ সন্ধানী (তার প্রমান মান্না গংদের গোপন ষড়যন্ত্র) আর বামদের কথা না বলাই ভাল তাঁরা সবসময়ই কথা রাজনীতিতে বিশ্ববাসী। মনে রাখা দরকার অতীত বা বর্তমান কোন কালেই জঙ্গিদের/সন্ত্রাসীদের সাথে আলোচনা করে কোন আপোষ রফা বা জঙ্গিদের মাথা নত করা যায় নি বা যাবেও না । তাই সংলাপ বা আলাপ আলোচনা বাদ দিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধেরে বিরোধিতাকারী জঙ্গিবাদ আর জঙ্গি গোষ্ঠীকে এবং তাদের মদদ দাতাদের নির্মূল করতে হবে সমূলে বা শিকড় থেকে। তা না হলে এদেশে শান্তি কোনদিনও আসবে না। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধেরে বাংলাদেশ হবে না। হবে ১৯৭৫ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসকারীদের বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের ধর্ষকদের বাংলাদেশ। বাংলাদেশ হাঁটবে উল্টা পথে……।