ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 
01_Khaleda+Zia_Gulshan_A+Pramanik_130315_0012

আপনারা সকলেই জানেন, ঐ মহাকারসাজির নির্বাচনী প্রহসনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে এটি একটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। শেখ হাসিনা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে একটা সমঝোতা হলে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে নতুন নির্বাচনের অঙ্গীকারও করেছিলেন। কিন্তু যথারীতি তিনি তার সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছেন। আসলে প্রতিশ্রুতি রক্ষার কোনো দৃষ্টান্ত তাদের নেই।

অবশ্যই ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ছিল সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার (নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়)। আপনারা চেয়েছিলেন দেশে একটি সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি করে তাঁর ফায়দা লুটিয়ে। তাই হাসিনা সরকার আপনাদের সেই চক্রান্তে ফাঁদে পা না দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও নির্বাচন করতে বাধ্য হয়ে ছিলন কিংবা আপনারা করতে বাধ্য করেছিলেন। তারপরেও তো আপনারা সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নির্বাচন বানচাল করতে সন্তাসীর আশ্রয় নিয়েছিলেন। আপনার যদি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতি বিন্দু মাত্র আস্থা থাকত তবে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে যে নাশকতার এবং পৈশাচিক বর্বরতার আশ্রয় নিয়ে ছিলেন তা থেকে বিরত থাকতেন। এমনকী নির্বাচনের দিন আপনারা ৫৮২ টি স্কুল জ্বালিয়ে দিতে পারতেন না এবং একজন প্রিজাইডিং অফিসারসহ হত্যা করতে পারতেন না ২৬ জন মানুষকে। কম হোক বেশি হোক তারপরেও মানুষ ভোটে দিয়েছে। এখন হাসিনা সরকার একটি বৈধ্য সরকার, আপনারা মানেন না মানেন। আপনাদের ভুলের মাসুল জনগণ কেন দিবে।

এত কিছু করেও উদ্দেশ্য হাসিল না হওয়াতে আওয়ামী লীগ অন্তর্ঘাত ও নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে। পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর প্রহরায় কিছু যানবাহন রাস্তায় নামায়। সেসব যানবাহনে পেট্রোল বোমা মেরে নারী-শিশুসহ নিরপরাধ মানুষকে দগ্ধ করে শোচনীয় মৃত্যুর পথে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আমরা এসব পৈশাচিক বর্বরতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছি। হীন সন্ত্রাসে জড়িতদের সঠিক ভাবে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তিরও দাবি করে চলেছি। কিন্তু আমাদের আহ্বানে তারা কর্ণপাত করেনি। তারা তাদের ষড়যন্ত্রের নীলনক্সা বাস্তবায়নে এগিয়ে গেছে এবং নিরপরাধ মানুষের শোচনীয় মৃত্যুকে তারা তাদের ঘৃণ্য রাজনীতির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে। দেশে যখন নিরপরাধ মানুষকে নির্বিচারে হত্যার মতো পৈশাচিক ঘটনা ঘটছে তখন বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত ও তথ্য প্রমাণের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের সনাক্ত করে গ্রেফতারের কোনো উদ্যোগ নেই। তার বদলে চলছে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে একতরফা অপপ্রচার।……এসব পরিকল্পিত বোমা হামলার সঙ্গে তারাই জড়িত বলে দেশের বেশির ভাগ মানুষ মনে করে।… আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ‘দেখা মাত্র গুলি’ করার বেআইনি আদেশ দেয়া হয়েছে

দয়া করে মানুষের ভোটের অধিকার আর গণতন্ত্র উদ্ধারের দোহাই দিয়ে, পেট্রল বোমায় মানুষ পুড়িয়ে, বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করে সরকারের দোষ দিবেন না । আপনি বলেছেন আওয়ামী লীগ অন্তর্ঘাত ও নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে। অথচ সবাই জানে পেট্রোল বোমা মারছে জামাত ও শিবির, আর আপনার প্রিয় ছাত্র দল। আপনার দল বা জোটের সমর্থক, ছাত্রদল/জামাত/শিবির ইতিমধ্যেই ১১৫ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে । হাসপাতালের বিছানায় হাজার হাজার মানুষ মৃত্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। তাই যেহেতু আপনি বা আপনার জোট হরতাল ডেকেছে সেইহেতু তার দায় আপনাকে নিতেই হবে এবং প্রয়োজনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে। পুলিশের কথা বাদই দিলাম, পেট্রোল বোমা মারার সময় কিংবা বাসে আগুন দেয়ার সময় যারা জনতার হাতে ধরা পড়েছে এবং গণপিটুনি খেয়েছে তাঁদের বেশির ভাগই ছিল আপনার জোটের লোক (দয়া করে টিভি দেখতে পারেন)। আর ছিল বখাটে ও মাস্তান যারা টাকার বিনিময়ে এই সব জঘন্য করেছে। গত দুই মাসে ঢাকা, চট্রগ্রামে বোম এবং মারাত্মক অস্ত্র সহ যে সব শিবিরের আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেছে তাঁর উত্তর ই বা আপনি কি দেবেন। গতকাল আর গত বছর আপনিতো নিজেই বলেছিলেন ছাত্রদল- শিবির ভাই ভাই বা একই মায়ের দুই সন্তান। তাহলে ব্যপারটা কি দাঁড়াচ্ছে, আপনি বলুন ? নিরপরাধ মানুষের অন্তর্ঘাত ও শোচনীয় মৃত্যু এবং তাদের ঘৃণ্য রাজনীতির উপকরণ হিসেবে ব্যবহারে এসব পরিকল্পিত বোমা হামলার সঙ্গে ছাত্রদল- শিবির জড়িত প্রমানিত হুওয়ার পরও কি বলবেন যে আপনারা জড়িত নন । আপনারা নিবিচারে পেট্রল বোমায়, বাসে আগুন দিয়ে শোচনীয় মৃত্যুর পথে ঠেলে দিবেন, আর সরকারের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এই সব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে গেলে বা বা আপনার কথা মত ‘দেখা মাত্র গুলি’ করলেই বিরোধী দলের উপর অত্যাচার বা জুলুম করা হচ্ছে বলে অপপ্রচার চালাবেন তা কি বিশ্বাস যোগ্য। তাছাড়া যারা মানুষের উপর পৈশাচিক বর্বরতার চালাচ্ছে তাঁরা যদি আপনার লোক নাই বা হুবে (আপনার মতে সরকার দলের লোক) তা হলে আপনার এত মাথা ব্যথা কেন। জনগণকে নিরাপত্তা দেয়া সরকারে একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে অর্থাৎ সন্ত্রাসীদের প্রয়োজন বোধে ‘দেখা মাত্র গুলি’ করতেই পারে । উন্নত দেশে সন্ত্রাসীদের ধরতে কি কোন আপোষ করা হচেছ?

এইমাত্র পাওয়া  পুরান ঢাকার লালবাগে বিএনপির সহযোগী সংগঠন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতার বাড়ি থেকে ৭৪টি হাতবোমা ও বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। [সুত্রঃ bdnews24.com] ম্যাডাম তারপরেও কি বলবেন সন্ত্রাসীদের সব সরকারি দলের?

এর বিরুদ্ধে লড়াই না করলে আমাদের স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই আমরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছি। জনগণের সেই গণতান্ত্রিক আন্দোলন এখন চলছে। শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ স্বাভাবিক করতে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বরং একের পর এক উস্কানিমূলক আচরণ করে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটানো হচ্ছে। কাজেই যৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে

আপনি বলেছেন, এর (সরকারে) বিরুদ্ধে লড়াই না করলে স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে। অথচ আপনি নিজেই স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার, আলবদর আর নব্য জঙ্গিদের নিয়ে আমজনতাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করছেন অথচ দিচ্ছে সরকারের। আপনার পৈশাচিক আন্দোলন দেখে মনে হচ্ছে আপনি পাকিস্তানী কায়দায় শুধু এদেশের মাটি চান, যার উপর তিনি একটি নুতুন পাকিস্তান গড়ে তুলবেন তালেবানদের সহযোগিতায়। আর আপনি যে গণতন্ত্রের কথা বলছেন সে গণতন্ত্রের কথা আপনার শাসন আমলে, আমরা ভুলে যাই নি। আপনার গণতন্ত্র মানেই তো হাওয়া ভবনের গণতন্ত্র, ধর্ষণের রাজনীতি। আপনার গণতন্ত্র মানেই তো স্বাধীনতা বিরোধীরে গাড়িতে আমাদের জাতীয় পতাকা। আপনি বলেছেন যৌক্তিক পরিণতিতে না পৌঁছা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আপনার কাছে ‘ যৌক্তিক পরিণতি’ মানে যদি হয় স্বাধীনতা বিরোধীরে বিচার বন্ধ করা, স্বাধীনতা বিরোধীরে ক্ষমতায় বসানো তবে সেই যৌক্তিক পরিণতি আমরা জনগণ মানি না। আমরা চাই শান্তিতে, স্বস্তিতে আর নিরাপদে বাচতে। অবরোধ/হরতাল আপনারা কেন, যে কোন রজানৈতিক দল ডাকতে পারে, এটা তাঁর অধিকার। কিন্তু শুধু মাত্র নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য অর্থাৎ ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আপনি কি ভাবে এ অনুরোধ করতে পারেন? তাছাড়া আপনারা নিজেরাইতো অবরোধ/হরতাল মানে না। আপনাদের জোটে ভুক্ত সব দলেরই বিশেষ করে আপনার দল আর জামাতের নেতা নেত্রীদের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুরোদমে কাজ চলে, তাদের পরিবহন ব্যবসাও এই হরতালের মধ্যেই একচেটিয়া ব্যবসা করে যাচ্ছে, সেই খবর কি আপনি রাখেন। নাকি অবরোধ/হরতাল শুধু মাত্র সাধারণ জনতার জন্য।

বিএনপি হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। আমরা দৃঢ়ভাবে মনে করি, গণতন্ত্রিক রাজনীতিতে হত্যা ও সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই।…… আমি আবারো দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই যে, বিএনপি ও ২০ দল নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার ভয়ংকর রাজনীতিতে বিশ্বাস করেনা

খুব ভাল কথা আসুন দেখি আপনাদের শাসনামলে আমরা এদেশের মানুষ কেমন ছিলাম । প্রকৃত পক্ষে ১৯৯০-৯৬ এবং ২০০১-২০০৫ সাল ছিল আমাদের দেশে গণতন্ত্রের এক কলঙ্কময় ও ন্যাকারজনক অধ্যায়। আপনার কি মনে আছে (২০০১-২০০৫) আপনার শাসন আমলে আপনারই ক্যাডার বাহিনী এক রাতে ভোলায় পাঁচশোর অধিক নারী ধর্ষণ করেছিল। বানিয়াচরে ৫ বছরের শিশু থেকে ৭০ বছরের খৃষ্টান মহিলাও বাদ যাননি ধর্ষণ থেকে। আপনার জোটের ক্যাডার বাহিনী সংখ্যালঘু বাড়ীতে যেয়ে আবদার জানিয়ে বলেছে, আজকে রাতে আপনার মেয়ের সাথে আমরা সহবাস করবো। অসহায় মাকে বলতে হয়েছে বাবারা, আমার মেয়েটির বয়স কম, তোমরা এক সাথে না এসে একজন একজন করে এসো। আপনাদের জোট আমলে কত পূর্ণমার চোখের জলে বাংলাদেশ ভেসেছে তার হিশাব কি আপনার কাছে আছে। আর দশ ট্রাক অস্ত্র কেলেঙ্কারি, হাওয়া ভবনের সীমাহীন দুর্নীতি সহ অসংখ্য দুর্নীতির কথা কে না জানে ।শুধু তাই নয় আপনাদের শাসন আমল ১৯৯০-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৫ সাল পর্যন্ত হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, জঙ্গিবাদের উত্থন, স্বাধীনতা বিরোধীদের ক্ষমতায়ন সহ শেখ হাসিনাকে অবৈধ্য ভাবে ক্ষমতাচুত্য করার ষড়যন্ত্র সহ দেশ ধ্বংসকারী যে সকল কু কর্ম কাণ্ড আপনারা করেছেন এদেশের মানুষ কি তা ভুলে গেছে মনে করেছেন।
আমরা বাঙ্গালীরা শুধু মাত্র বিস্মৃতি জাতি নই দলকানাও বটে, তাই আপনাদের (জামাত-বিএনপি) জোটের ১৯৯০-৯৬ এবং ২০০১-২০০৫ সালে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আপনাদের কু কর্মের কিছু চিত্র দৃষ্টান্ত হিসাবে আপনার এবং দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে লোভে সামলাতে পারছিনা। উল্লেখ্য ১৯৯৯ সালেও আপনারা বোমা হামলার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছিলেন।

• ৬ই মার্চ ১৯৯৯, উদীচী বোমা হামলা, নিহত ১০ জন, আহত ১০০

• ৯অক্টোবর ১৯৯৯, খুলনায় আমহদিয়া মসজিদে বোমা, নিহত ৭ আহত ৫০

• ২০ জানুয়ারি ২০০১, কমিউনিষ্ট পার্টিও সমাবেশে বোমা, নিহত ৭ জন, আহত ১০০

• ১৪ এপ্রিল ২০০১, রমানা বটমূলে বোম হামলা, নিহত ১১ জন, আহত ১০০

• ২০ জুলাই, কোটালীপাড়ায় শেখ হাসিনার সভাস্থলে বোমাস্থাপন পূর্বেই উদ্ধার

• ১৬ নভেম্বর ২০০১, চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ গোপালকৃষ্ণ মুহুরীর উপর হামলা,
গোপালকৃষ্ণ মুহুরীকে হত্যা করে বিএনপি জামায়াত জোটের সন্ত্রাসীরা

• ৩ জুন ২০০১, বানিয়াচরের গির্জায় বোমা, নিহত ১০ জন, আহত ৩০

• ২৮সেপ্টে ২০০২, সাতক্ষীরায় গুরপুকুরের সিনেমা হলে ও সার্কাস প্রাঙ্গণে বোমা হামলা, নিহত ৩ জন, আহত ২০০

• ৬ ডিসেম্বর ২০০২, ময়মনসিংহের সিনেমা হলে বোমা , নিহত ২৭ জন, আহত ৫০

• ২১ এপ্রিল ২০০২, রাউজানে বৌদ্ধভিক্ষু জ্ঞানজ্যোতি মহাথেরোর উপর হামলা, গভীর রাতে বৌদ্ধভিক্ষু জ্ঞানজ্যোতি মহাথেরোকে জবাই করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা

• ২৩ জুলাই ২০০২ , গভীর রাতে শামসুন্নাহার হলে পুলিশ ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলা। স্বাধীন বাংলাদেশেও পাকিস্থানী প্রেতাত্মারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের দিবাগত রাতে পাকবাহিনী অসহায় বাঙালির উপর যে হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতন চালিয়েছিল সেটার পুনরাবৃত্তি যে স্বাধীন বংলাদেশেও ঘটতে পারে এটা ছিল অকল্পনীয়।

• ১৭ জানুয়ারি ২০০৩, সখীপুরের ফালুচাঁদ ফকিরের মাজারের মেলায় বোমা বিস্ফোরণ , নিহত ৭ জন, আহত ৮

• ২৬ আগষ্ট ২০০৩, মহালছড়িতে চাকমা ও মারমাদের ৩০০ বাড়ীতে আগুন১০ জন নারীকে ধর্ষণ করে জামায়াত শিবির পন্থী ক্যাডাররা, নিহত ২ জন, আহত

• ১৮ নভেম্বর ২০০৩, রাতের আঁধারে বাঁশখালীর সাধনপুর গ্রামের শীলপাড়ায় তেজেন্দ্র লাল শীলের বাড়িতে হামলা একই পরিবারের নিহত ১১ জন

• ১২ জানুয়ারি ২০০৪, শাহজালালের মাজারে আর্জস গ্রেনেড বিস্ফোরণ, নিহত ২ জন, আহত ৭০

• ৭ আগষ্ট ২০০৪ ‌ সিলেটে গুলশান হোটেলে আর্জেস গ্রেনেড বিস্ফোরণ , নিহত ১ জন, আহত ৪০

• ২১ আগস্ট ২০০৪, শেখ হাসিনাকে হত্যার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা । ১৯৭৫ সালের মতো শেখ হাসিনা সহ পুরা দলকে শেষ করার পরিকল্পনা। আইভি রহমানসহ ২৪ নেতা- কর্মী নিহত, আহত কয়েকশো নেতা-কর্মী

• ২১ মে ২০০৪, ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা, নিহত ৩ জন

• ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ , খুলনায় পরিকল্পিত বোমা-হামলা, নিহত সাংবাদিক মানিক সাহা

• ২৭ জানুয়ারি ২০০৫, হবিগঞ্জে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড হামলা,অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সহ নিহত ৩, আহত ৫০

• ১৭ আগষ্ট ২০০৫, দেশের তেষট্টিটি জেলায় একসঙ্গে পাঁচশ বোমা বিস্ফোরণ, নিহত৩ জন, আহত ১০০ এর অধিক

• ২৯ নভেম্বর ২০০৫, গাজীপুরে আইনজীবী ভবনে বোমা হামলা, নিহত ১০ জন, আহত ২২০

• ৮ ডিসেম্বর ২০০৫, নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয়ে বোমা- হামলা, নিহত ৮ জন, আহত শতাধিক

এ রকম হাজার হাজার বোমাবাজি, ধর্ষণ, বিচার বহির্ভূত হত্যা, গুম, খুন, অপহরণ ও নির্যাতনের মাধ্যমে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন আপনারা। চাঁপাই নবাবগঞ্জে বিদ্যুতের জন্য গুলি করে ১৯জন কৃষক হত্যা, কুষ্টিয়ায় বিদ্যুতের জন্য গুলি করে কৃষক হত্যা, সারের জন্য কৃষক হত্যা সহ অসংখ্য নির্মম হত্যা কাণ্ড, আর্মি থেকে শুরু করে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পর্যন্ত শিবিরের কর্মী নিয়োগ,প্রশাসনে নিয়োগের নামে শিবির করণ সহ ঘটনা ঘটিয়েছিল ১৯৯০-৯৬ এবং ২০০১-২০০৫ সালে আপনাদের জোট সরকার। তার পরেও আপনারা গণতন্ত্রের (?) জন্য মায়াকান্না করেন। আন্দলনের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। জনগণের সহযোগিতা কি হাতের মোয়া, যে চাইলেই পাওয়া যায়?

প্রয়োগের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় পরিলক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতিও ঐক্যমতের ভিত্তিতেই সংশোধনের সুযোগ ছিল এবং উচিত ছিল সেটাই করা । আওয়ামী লীগ তা না করে একতরফা সিদ্ধান্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়। তারা দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধান করে। এ লক্ষ্যে তারা সংবিধানের যে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করেছে তাতে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও স্বাভাবিক পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের সব পথই প্রায় রুদ্ধ করে ফেলা হয়েছে। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কোনো সুযোগই রাখা হয়নি। সংকটের মূল উৎস সেখানেই। এই মহাবিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনীর আওতায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এক নির্লজ্জ প্রহসনের মধ্য দিয়ে তারা গণতন্ত্রের নাম-নিশানাও মুছে দিয়েছে। এই প্রহসনের অংশ হিসাবে অপকৌশলের মাধ্যমে তারা ভোট ছাড়াই সংসদের ১শ’ ৫৩টি অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করে। … তথাকথিত হলেও একটি সংসদের অধিবেশন চলছে। একতরফাভাবে যে বিতর্কিত পঞ্চদশ সংশোধনী তারা পাশ করেছে তা তারা একতরফাভাবে বাতিলও করে দিতে পারে। তাতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পথ খুলবে। এই সংশোধনীর পর বর্তমান ক্ষমতাসীনেরা পদত্যাগ করে নতুন নির্বাচনের ব্যবস্থা করলেই দেশে সংকটের অবসান ঘটবে

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় পরিলক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতি না বলে বলা ভাল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিতর্কিত করা । যা করেছেন আপনারা আপনার দল। সেই সময় বিচারপতিদের দুই বছর চাকরির বয়স বাড়িয়ে দলের সাবেক এক নেতাকে (যিনি অ্যাডভোকেট হিসেবে বিচারপতি হয়ে, একসময় দেশের প্রধান বিচারপতিও হয়েছিলেন) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার ষড়যন্ত্র করেছিল আপনার দল। এখানেই শেষ না, বশংবদ নির্বাচন কমিশন গঠন করে এক কোটির ওপর ভুয়া ভোটার তৈরি করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এবং সর্বশেষে প্রেসিডেন্ট স্বং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসাবে ঘোষণা সহ সব ধরনের ন্যক্কার জনক কাজ করে আপনারাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায়কে বিতর্কিত করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে দেশে জরুরি আইন জারির মাধ্যমে, সেনা সমর্থিত ২ বছরের অদ্ভুত তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেপে বসে। ক্ষমতায় আসার পর এই অদ্ভুত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান কাজই হয়ে দাড়ায় মাইনাস ২ ফর্মুলা বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশকে রাজনীতিশূন্য করা। নির্যাতনের স্টিম রোলার চালানো হয় অর্থশালী লোক, ব্যবসায়ী এবং আপামর জনগণের ওপর । আর তাদের এই সব অপকর্মের সাথে হাত মেলান এদেশরই কয়েকজন তথাকথিত বুদ্ধিজীবী। যারা এখনো ঐ একই কায়দায় কিছু একটা চিন্তা ভাবনা করছে বলেই মনে হচ্ছে। কিন্তু বিভিন্ন আভ্যন্তরীণ কারনে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। তাই ক্ষমতায় এসেই সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধনের পথ বেছে নেয়, এবং উচ্চ আদালত একটি রিটের চূড়ান্ত আলোকে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইনটি বাতিল করে দেয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইনটি বাতিল করার আগে বারবার আপনাদের বলা হয়েছিল আলোচনায় এসে আপনাদের প্রস্তাব পেশ করার জন্য। কিন্তু আপনারা কোন সাড়া দেননি। জাতীয় সংসদের যে অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ব্যবস্থা বাতিল করা হয় তখনোও আপনাদের বলা হয়েছিল সংসদে এসে আপনারা যেন তাদের বিকল্প প্রস্তাব পেশ করেন। কিন্তু কোন অনুরোধই আপনারা কানে দেন নাই। অথচ এখন আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য মায়া কান্না করছেন। মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। আপনাদের সত্যি যদি ভোটের অধিকার ব্যাপারে আগ্রহী বা সামান্য তম শ্রদ্ধা থাকত, তবে আপনারা গত নির্বাচনের আগেই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিশেষ করে যে দিন প্রধান মন্ত্রী হাসিনা খালেদা জিয়াকে ফোন করেছিলেন সেই দিনই মীমাংসা করতে পারতেন বা মীমাংসার একটা পথ খুলতে পারতেন। আসলে গত নির্বাচনে আগের নির্বাচনে হারার পর থেকেই আপনি একটার পর একটা ষড়যন্ত্রর জাল বুনে গেছেন হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে। শেষ পর্যন্ত ষড়যন্ত্রএ ব্যর্থ হুয়ে আপনি ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন। এটাও ছিল আপনার ষড়যন্ত্র একটি অংশ। আপনি আগাগোড়া চেষ্টা করেছেন, জোর করে অবৈধ্য ভাবে শেখ হাসিনার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করতে আর এর পিছনে ইন্ধন জুগিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি জামাতের কালো হাত, যা এখনও সক্রিয় ।

সম্মেলনে আপনি নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের কথা বলেছেন। ২০১১ সালের ৩০ জুন এ সংশোধনী আনা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের পাশাপাশি অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের জন্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধ বিবেচনায় সর্বোচ্চ দণ্ডের বিধান রাখা হয় এ সংশোধনীতে। এছাড়া এ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭২’র সংবিধানের চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সুতরাং কারো বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না যে আপনার আসল উদেশ্য। প্রকৃত পক্ষে আপনি ক্ষমতায় যাওয়ার পাশাপাশি আমাদের সংবিধান থেকে ৭২’র সংবিধানের চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিল করে, আগের সংবিধানে ফিরে যেতে চান। অর্থাৎ এক ডিলে দুই পাখি মারার কৌশল। তাই নয় কি?

আপনারা জানেন, গত ৫ জানুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনের বর্ষপূর্ত্তির দিনটিকে আমরা গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালনের কর্মসূচি দিয়েছিলাম। ঢাকায় আমাদের সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচি বানচালের উদ্দেশ্যে ক্ষমতাসীনেরা ৩ জানুয়ারি থেকে অঘোষিত ভাবে দেশ অবরুদ্ধ করে ফেলে। সড়ক ও নৌপথে সব যানবাহন চলাচল বন্ধ করে রাজধানীকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।

গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে হারার পর থেকেই আপনি একটার পর একটা ষড়যন্ত্রর জাল বুনে গেছেন হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে। তার প্রমান বিডির বিদ্রোহ, ধর্মীয় ও মৌলবাদীদের উস্কানো, হেফাজতকে দিয়ে ঢাকা অবরোধ করে সরকারকে অবৈধ্য ভাবে ক্ষমতাচুত্য করার চেষ্টা, পদ্মা ব্রিজকে নিয়ে ষড়যন্ত্র, মৌলবাদী মাহমুদুর ও তার আমার দেশ পত্রিকার মাধম্যে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা, সহ আরও অনেক অনেক ষড়যন্ত্রর জাল। আপনি আগাগোড়া চেষ্টা করেছেন, জোর করে অবৈধ্য ভাবে শেখ হাসিনার মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করতে আর এর পিছনে ইন্ধন জুগিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি জামাতের আর পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার ষড়যন্ত্রর। গত ৫ জানুয়ারি আপনাদের গণতন্ত্র হত্যা দিবসের ঢাকা সমাবেশ এবং মিছিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঢাকার রজপথ দখল করে এবং ঢাকাকে পুরো দেশ থেকে বিছিন্ন করে দিয়ে, চূড়ান্ত নাশকতার সৃষ্টি মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী কায়দায় জোর করে অবৈধ্য ভাবে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা চুত্য করার অপচেষ্টা, যার প্রমান পাওয়া যায় ৫ জানুয়ারির পূর্বে আপনাদের জোটের বিভিন্ন নেতা নেত্রী কথা বার্তায় এবং আপনার প্রবাসি সু সন্তান তারেক জিয়ার হুংকারে। তাই দেশের আইন শৃঙ্খলার স্বার্থে সরকারকে বাধ্য হয়েই আপনাদের ঐ সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। অবৈধ্য ভাবে সরকারক হটানোর আপনাদের যে কোন ষড়যন্ত্র এ ভাবেই নস্যাৎ করে দেয়া হবে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের যে সব বন্ধুরাষ্ট্র এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং গণমাধ্যম ও সিভিল সমাজের সদস্যবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছেন আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

আমাদের রাজনীতির একটা বড় ট্রাজেডি হচ্ছে, রাজনৈতিক ভাবে আমরা কোন সঙ্কটে পরলেই, তাঁর সমাধানে বিদেশীদের উপর নির্ভর হয়ে পরি। তাদের সাহায্য এবং সহানুভুতির জন্য হাত পেতে বসে থাকি। কোন দেশ বা সংগঠন সহানুভুতি না দেখলাও, মিথ্যা বা বানোয়াট সহানুভুতি বা সমর্থনের খবর মিডিয়াতে প্রকাশের জন্য ব্যস্ত হয়ে পরি। অথচ আমরা ভুলে যাই বর্তমান অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে কোন কিছু গোপন থাকে না। আপনাদের এই তথাকথিত মানুষ মারার আন্দোলনে প্রতি কতিপয় দেশের ভুয়া সহানুভুতি বা সমর্থনের খবর প্রচারে আপনার বা আপনাদের জোটের মান সম্মানের কোন হানী হয়েছে কিনা জানি না, তবে বিশ্বের বাংলাদেশের সুনাম যে ক্ষুণ্ণ হয়েছে তা নির্দ্বিধয় বলা যায়। আর প্রয়োজন বোধে সংলাপ বা সমঝোতা হতেই পারে রাজনৈতিক নেতৃত্তের সাথে । কোন সন্ত্রাসী বা বোমাবাজদের সাথে কোন সংলাপের বা সমঝোতার হবে না। আমরা এদেশের মানুষ সন্ত্রাসী বা বোমাবাজদের সাথে কোন সংলাপের বা সমঝোতার হতে দিব না, বিশেষ করে যুদ্ধা অপরাধী/ মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামাতি সন্ত্রাসীদের সাথে কোন আপোষকামিতা বা সংলাপ/সমঝোতার প্রশ্নই আসে না। আপনার সাথে তাল মিলিয়ে যে সব বুদ্ধিজীবী সংলাপের বা সমঝোতার কথা বলছেন, সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ/চেতনার কথা তাঁরা ভুলে গেছেন কিংবা ক্ষমতার লোভে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ/চেতনা ধুলায় লুণ্ঠিত করে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামাতের সাথে সংলাপের বা সমঝোতার কথা বলছেন। জাতি তাদের কোন দিন ক্ষমা করবে না।

পরিশেষে কথা একটাই প্রোপাগান্ডা, মিথ্যাচার, ধর্মীয় উম্মাদনা, আর ষড়যন্ত্র করে মানুষকে সব সময় বোকা বানানো যায় না। তাঁর প্রমান ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১ এবং ২০১৩ সালের শাহবাগ। তাই ‘হুমকি-ধুমকি’ আর ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী অভ্যুত্থানে অপচেষ্টা বাদ দিয়ে আপনার উচিৎ পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের বাংলাদেশ ধ্বংসকারী কু পরামর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিকে বাদ দিয়ে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে আসা ।

সাহায্য ঃ ইন্টারনেট