ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বিএনপির উপদেষ্টা মিঃ এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন সিটি নির্বাচন হচ্ছে বিএনপির জন্য একটি যুদ্ধ এই যুদ্ধে পরাজিত হলে দুর্ভোগ হবে ভয়াবহ।  আমরা জানি না কোন দৃষ্টি কোন থেকে তিনি একথা বলেছেন। পরাজয়ে দলের জন্য দুর্ভোগ হলে এর জন্য দায়ী হবেন আপনারাই । আপনাদের দুই মাসের পেট্রোল বোমায় আগুনে মানুষ মারার সুফল এবং রাজনৈতিক  অসৎ কর্মকাণ্ড। আর যদি দেশের দুর্ভোগ হয়,  তাহলে তো বলতে হয় আপনার দল বিএনপি সেই ১৯৭৫ সাল থেকেই তো দেশের জন্য একটার পর একটা দুর্ভোগ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। মিথ্যাচারের দুর্ভোগ, প্রোপাগান্ডার দুর্ভোগ, ধর্ম নিয়ে বদমাইশি করার দুর্ভোগ ইত্যাদি ইত্যাদি আরও কতো কি!

স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত অপ শক্তি রাজাকার, আলবদর, আদর্শচ্যুত বামদের নিয়ে অবৈধ্য ভাবে ক্ষমতা দখল করে ১৯৭৫ সাল থেকে আপনারা বা আপনার দল বিএনপি এদেশের বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে একের পর এক যুদ্ধ করে যাচ্ছেন। আপনাদের কাছে  যুদ্ধ মানেই তো রাজাকারদের  ক্ষমতায় বসানো।  আপনাদের কাছে  যুদ্ধ মানেই তো জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধুকে এদেশ থেকে নির্বাসন দেওয়া। আপনাদের কাছে  যুদ্ধ মানেই তো এদেশেকে একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত করা আর সাধারণ মানুষকে ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে উত্তেজিত করে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা। আর শুধু যুদ্ধই বা বলি কেন আপনারা পাকিস্তানী গোয়েন্দাদের সাথে নিয়ে আমাদের এই দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র তো কম করেন নি। আপনাদের কাছে তো যুদ্ধ ও ষড়যন্ত্র দুটি পরিপূরক শব্দ । আপনারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন রাজনীতি/নির্বাচন মানে যুদ্ধ আর যুদ্ধ মানে ষড়যন্ত্র। যার লক্ষ্য একটাই- ১৯৭১ সালের পরাজিত অপ শক্তিকে নিয়ে  ধর্মের বড় বড় বুলি আউরিয়ে নির্বাচনের/ভোটের আড়ালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার শেখরে আরোহণ। গণতন্ত্র, তত্ত্বাবধায়ক এগুলো সব আপনাদের ভাঁওতাবাজি। গত মার্চের ৫ থেকে শুরু করে গত দু‘মাসে প্রায় ১৮০ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা এবং শতাধিক সাধারণ জনগণের শরীরের চামড়া পুড়িয়ে, ৫ লক্ষ্য পরীক্ষার্থীর লেখাপড়া বারোটা বাজিয়ে এবার যুদ্ধ (ষড়যন্ত্র) ঘোষণা করছেন  সিটি নির্বাচনে জেতার জন্য। তাও আবার ১৯৭১ সালের পরাজিত জামাতকে নিয়ে । আপনাদের লজ্জা করেনা পেট্রোল বোমায় এতগুলো মানুষ হত্যা করে, নির্বাচনে অংশ গ্রহণে কোরতে । আপনাদের তো উচিৎ ছিল নির্বাচনে অংশ গ্রহণে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া। তাই নয় কি ? ষড়যন্ত্র, হুঙ্কার আর ভণ্ডামি ছেড়ে সঠিক রাজনীতির পথে হাঁটুন। নিজেরা বাঁচুন দেশের মানুষকে বাঁচতে দিন।