ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 

 

 

 

 

১.
গত কয়েক বছর যাবত এটিএন বাংলার প্রধান কাজ ইভা রহমানের গান প্রচার করা। ইভা রহমানের গান শোনার নয়, দেখার জিনিস। তার গানের ভিডিওটি কয়টি লোকেশনে চিত্রায়িত হয়েছে টেলপে লেখা থাকে । ইভা রহমানের গানের ধারাবাহিক প্রচারের পাশাপাশি এটিএন বাংলা অন্যান্য বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান এবং সংবাদ প্রচার করে থাকে। এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ভারতে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন সরকারের সাথে গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান থাকায় তিনি অতি সহজে এটিএন নিউজ চ্যানেলটি চালু করতে পেরেছেন। তাদের পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতা সাগর-রুনি হত্যাকান্ড এবং পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ পর্যবেক্ষনে স্বচ্ছ ও স্পষ্টভাবেই অনুধাবন করা যায়।

২.
এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান। সাধারন মানুষের কাছে তিনি যথেষ্ট বিরক্তিকর তার আচরন আর কর্মকান্ডের কল্যাণে। এই নেতিবাচক ধারনা একদিনে গড়ে উঠে নাই। সাধারন মানুষ নিজ পর্যবেক্ষন থেকে দীর্ঘদিনে এই ধারনা গড়ে তুলেছে এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছে। এই বিশ্বাস এতটাই অটল যে সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের পরে তাদের সন্দেহের আঙুল দ্বিধাহীনভাবে মাহফুজুর রহমানের দিকেই তাক করেছে। এটিএন বাংলার অভ্যন্তরে সাগর-রুনি হত্যাকান্ডে তাদের চেয়ারম্যানকে ঘিরে যে ফিসফাস আলোচনা হয় নাই এটা অবিশ্বাস্য। এটিএন বাংলার সংবাদকর্মীদের মধ্যে চেয়ারম্যানের পদলেহনে ধন্য গ্রুপের কৌশলী দাপটে ফিসফাস আলোচনা উচ্চকিত হতে পারে নাই। এই গ্রুপের কৌশলেই সাগর-রুনির বিষয়ে এটিএন কোন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বা বিশেষ ফলোআপ রিপোর্ট তৈরী ও প্রচারের আগ্রহ প্রদর্শন করে নাই।

৩.
এটিএন চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের পোষা আস্থাভাজন লোক জ.ই মামুন। উল্লেখ্য যে, বেশ কয়েকমাস পূর্বে জ.ই মামুনের গাড়িতে হামলা হয়েছিল। সেই হামলার ঘটনার কোন কূল কিনারা হয় নাই। অনুমান করা যায় যে, ঘটনাটি ঘটেছিল চেয়ারম্যান বা জ.ই মামুনের নিজস্ব কোন অপ্রকাশ্য হিসাবের দ্বন্দ্ব কিংবা নারীঘটিত কারণ থেকে। ফলে এই বিষয়টি ফলোআপ করার পরিবর্তে জ.ই মামুন তথা এটিএন বাংলা নীরবে বিষয়টিকে গিলে ফেলে। এই অভিজ্ঞতার আলোকে তারা সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের বিষয়টিকেও গিলে ফেলতে চেয়েছিল। কিন্তু ঘটনাটির সাথে সাধারন মানুষের নি:স্বার্থ আবেগ যুক্ত হওয়ায় তাৎক্ষনিকভাবে গিলতে ব্যর্থ হলেও গিলে ফেলবার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

৪.
সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের পরপরই সন্দেহভাজন হিসাবে এটিএন চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান ও তার ছোট ভাই, একজন মন্ত্রী ও পাওয়ার হাউজ কিং তার ভাই আর একজন উপদেষ্টার নাম আলোচিত হতে থাকে মিডিয়া হাউস থেকে শুরু প্রেস ক্লাব পর্যন্ত। বিভিন্ন পর্যবেক্ষন পর্যালোচনায় স্পষ্ট হয়ে উঠে জ্বালানী/বিদ্যুত সেক্টরের বিশাল দূর্ণীতি নিয়ে সাগর-রুনি অনেক গোপন তথ্য জেনে গিয়েছিল। এই তথ্য দেশীয় মিডিয়া প্রচারে আগ্রহী না হলেও সাগরের বৈদেশিক মিডিয়া যোগাযোগ থাকায় তথ্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মাধ্যমেই প্রকাশ হয়ে যেতে পারে। এই সকল তথ্যসমূহ যেন কখনই আলোর মুখ না দেখে সেই কারনে সাগর-রুনিকে হত্যা করা ছাড়া নীতি প্রতিবন্ধী সংশ্লিষ্টদের কাছে বিকল্প পথ ছিলনা । পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঘরের মূল্যবান কোন দ্রব্যের প্রতি খুনীদের লোভ ছিলনা। খুনীরা সাগরের ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন আর একটি পুতুল ( আমার ধারনা সম্ভবত এই পুতুলের ভিতরে কোন সিডি/পেনড্রাইভ বা মেমোরী কার্ড লুকিয়ে রাখার তথ্য খুনীদের কাছে ছিল) নিয়ে যায়। খুনের প্রাথমিক মোটিভ এখান থেকেই নির্ধারন করা যায়।

৫.
এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান সাগর-রুনি বিষয়ে আপত্তিকর যা কিছু বলেছেন তা সচেতনভাবেই বলেছেন এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমান করবার জন্যই বলেছেন। তিনি জানিয়েছিলেন অন্য সংবাদকর্মীরা সাগর-রুনির বাসায় মদের আড্ডা আর তাদের পরকীয়া সম্পর্কে জানতো। মাহফুজুর রহমানের চেনাজানা এই অন্য সংবাদকর্মী কারা? এই প্রশ্নের উত্তর এখন কঠিন নয়। গত রবিবার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর ডাকা পূর্বঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান ‘‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মাহফুজুর রহমানকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে-” কথাটি বলার সাথে সাথে এটিএন বাংলার উপস্থিত সাংবাদিকরা (যারা চেয়ারম্যানের পদলেহনে ব্যস্ত থাকেন) যেভাবে ঝাপিয়ে পড়লেন তাতে মাহফুজুর রহমানের ‘অন্য সংবাদিকদের’ সহি পরিচয় পাওয়া গেল। বিস্তারিত সাগর-রুনি হত্যা কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের হাতাহাতি

৬.
জ ই মামুন পূর্বের একটি অনুষ্ঠানে এটিএন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধ বক্তব্য রেখেছিলেন। সেই বক্তব্য সচেতন মানুষের বিস্ময় উদ্রেক করবার জন্য যথেষ্ট। চেয়ারম্যানের পদলেহনে ব্যস্ত ব্যক্তির পক্ষে এই বক্তব্য প্রদান অস্বাভাবিক ও বেমানান। তবে নাটকের প্রথম পর্ব হিসেবে সাধারন মানুষের মনযোগ আর্কষনের সফর কৌশল। গত রবিবার সেই নাটকের সিক্যুয়াল দেখা গেল। এটিএন বাংলার এতজন সাংবাদিক সিক্যুয়ালে নিজ নিজ ভূমিকা চিত্রায়নের জন্যই ঐ অনুস্ঠানে পরিকল্পিতভাবে উপস্থিত হয়েছিলেন। তারা ভুলে গিয়েছিলেন যে, এটিএন ছাড়াও অন্যান্য চ্যানেল আছে এবং সকল কাকই কাকের মাংস খায়না।

৭.
সাগর রুনির হত্যাকান্ডের সাথে এটিএন চেয়ারম্যানের যোগসূত্র আছে এটা নিশ্চিত। এই ঘটনায় জড়িত রয়েছে অন্যান্য রাঘববোয়ালবৃন্দ। চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী সরকারের সাথে তার গভীর সম্পর্কের মূল্য দিতে আর অন্যান্য রাঘববোয়ালদের নিরাপদ করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আটচল্লিশ ঘন্টা অসীমা সীমা লাভ করে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটির তদারকির দায়িত্ব নিয়ে ধামাচাপা দিতে কতখানি সফল হয়েছেন সাধারন মানুষ সরল হিসাবেই অংক কষে।

৮.
একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার আসামী হিসেবে একজন জজমিয়ার আর্বিভাব ঘটেছিল। বর্তমান সময়ে সচেতন জনগন ও মিডিয়ার কারনে জজমিয়াদের বড়ই দূর্দিন। সাম্প্রতিক সময়ে একুশে আগষ্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে অনেক অজানা তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জজমিয়াকে আড়াল করে বেরিয়ে এসেছে রাঘববোয়ালদের লিংক। একিদন সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের নেপথ্যের তথ্য বেরিয়ে আসবে। সেই তথ্য মাহফুজুর রহমান, জই মামুনসহ বর্তমান ক্ষমতাসীন কোন কোন মন্ত্রী, কোন উপদেষ্টা আর তাদের স্বজনদের মুখোশ উন্মোচন করে দিবে। সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের বিচার হবে কিনা জানিনা, অদূর ভবিষ্যতে এই ঘটনার তদন্ত ও বিচার রাঘববোয়লাদের ঘায়েল করবার মোক্ষম অস্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত হবে এই নিশ্চয়তা অনায়াসে দেয়া যায়।

এই পোস্টটির সাথে সহমত পোষণ করলে লিখাটি শেয়ার করুন।

ফেসবুক আইডি Abu Sayeed Ahamed