ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

আমি সাধারনত রিকশায় চলাফেরা করি। মন ভালো থাকলে রিকশা চালকের সাথে আলাপ জমানোর চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে সফলও হই। আজকাল ঢাকা শহরে বৃদ্ধ রিকশা চালক খুব বেশী দেখা যায়। এই বৃদ্ধ বয়সেও রিকশা চালানোর মতন একটা কষ্টকর কাজ করতে তারা বাধ্য হচ্ছেন। অনেকে মায়া দেখিয়ে বৃদ্ধ রিকশা চালাকের রিকশায় সওয়ার হন না। তাতে মায়া দেখানো হয় বটে তবে ঐ রিকশা চালকের উপর্জন কমে এটও সত্য।

কয়েক বছর আগের কথা। তখনও ঢাকা শহরে বৃদ্ধ রিকশা চালকের সংখ্যা এতটা বাড়ে নাই। অফিসে যাওয়ার জন্য রিকশা নিলাম। রিকশা চালাচ্ছেন শীর্ণ দেহের এক বৃদ্ধ। উনার একটা চোখ ঘোলা হয়ে আছে। সাদা পলিস্টার কাপড়ের পাঞ্জাবী পরেছেন। অল্প একটু যেতেই ঘামে ভিজে ওঠে তার শরীর। পালিস্টারের পাঞ্জাবীটা লেপ্টে যায় তার দূর্বল দেহে।

রিকশা খুব ধীরে চলছে । বৃদ্ধের সাথে আলাপ করতে শুরু করলাম। আলাপ চারিতায় জানা গেল তার তিন জোয়ান ছেলে। দুই ছেলে বিবাহিত। তাদের যা আয় তা দিয়ে নিজেদেরই চলেনা। বাপকে যতটুকু সাহায্য করে তা এই বাজারে অতি সামান্য। কিছুই হয়না ঐ সাহায্যে। তিন ছেলের মধ্যে ছোটটি অবিবাহিত। ঐ ছেলের দিনমজুরীর টাকা দিয়ে এই দূর্মল্যের বাজারে দুই মেয়ে, বউসহ পাঁচ জনের সংসার চলেনা। তাই তাকেও উপার্জনের জন্য নামতে হয়েছে।

চরম দারিদ্রের মধ্যেও তার বড় ছেলে ঈদে তাকে এই পাঞ্জাবী কিনে দিয়েছে। এই কথাটা জানাতে এক ধরনের তৃপ্তি খেলে গেল তার কন্ঠস্বরে। অথবা হয়তো আমার শুনবার ভুল ছিল।

আমি রিকশায় বসে ঘেমে ভিজে যাওয়া বৃদ্ধের পিঠের দিকে তাকিয়ে থাকি। এই বৃদ্ধ বয়সে তার বাড়ির মধ্যে থাকার কথা। নাতি-নাতনিদের গল্প বলবেন। তার সন্তানরা খোঁজ খবর করবে আজ প্রেসার আছে কিনা, সুগার বাড়লো কিনা!! কিন্তু বাস্তবতা সুগার চিনেনা, ব্লাড প্রেশার চিনেনা .. চিনে টাকা পয়সা। বাস্তবতার হাট বাজারে খুচরো দামে বিক্রি হয় এইসব ভাংতি বৃদ্ধ মানুষ।

সহজ জীবন সরল যাপন/পর্ব-১ সালাম চাচার দগ্ধ সন্তানেরা
———————————————————————————–
এই পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করার অনুরোধ রইল।