ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

** প্রথমত:
জামাত কোন রাজনৈতিক দল নয়। কোন কালেই রাজনৈতিক দল ছিলনা। জামাত একটি মাফিয়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বাণিজ্যিক আধিপত্য বিস্তার এবং তা ধরে রাখবার জন্য রাজনীতি তাদের খোলস মাত্র আর তাদের ব্যবসার অন্যতম মোড়ক হল ইসলাম ধর্ম। তাদের ব্যবসা ক্ষেত্র হল ধর্মপ্রাণ মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রসমূহ। জামাত নিজ স্বার্থ অক্ষুন্ন রাখবার জন্য যেমন খুশী তেমন সাজো’র মতন ইসলামের অপব্যাখ্যা করে। ইসলাম রক্ষা অপেক্ষা স্বার্থ হাসিলে ইসলামকে ব্যবহার করা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোরআন আর হাদিসের অপব্যাখ্যা দিতে তাদের কোন সমস্যা হয় না। ফেতনা সৃষ্টি করতে কোন পাপবোধ করেনা। স্বার্থ হাসিলে যখন যেমন প্রয়োজন তখন তেমন করে ইসলামের ব্যবহার করা একমাত্র মুনাফিকদের দ্বারাই সম্ভব।

জামাতের কর্মকাণ্ড বিবেচনা করলে জামাতে ইসলামীর আদর্শ সংজ্ঞা হবে, “জামাতে ইসলামী এমন একটি মাফিয়া বাণিজ্যিক সংগঠন যাহা রাজনীতির খোলসে ইসলামের অপব্যবহার করিয়া ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতারিত করিবার মাধ্যমে ফায়দা হাসিল করিয়া থাকে এবং তাহাদের ফায়দার ভাগ বাটোয়ারায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলকে সময় ও সুযোগ মত লাভবান করিয়া থাকে। উল্লেখ্য যে, এই মাফিয়া সংগঠন হইতে ফায়দা গ্রহনের জন্য আদর্শ ও নীতিবিবর্জিত রাজনীতিক, সুশীল, মিডিয়াকর্মী এবং আস্ত রাজনৈতিক দলও তাহাদের সাহিত প্রকাশ্যে এবং গোপনে সুসম্পর্ক স্থাপন করিয়া তাহা দৃঢ়ভাবে ধরিয়া রাখে। জামাতের দুর্দিনে সুবিধাভোগী এই সকল গোষ্ঠী প্রকাশ্যে ও গোপনে জামাতকে রক্ষা করিবার নিমিত্তে বিভিন্ন কৌশলে আন্তরিক দায়িত্ব পালন করিয়া থাকে। জামাতের নামের পশ্চাতে ইসলামী শব্দটি যুক্ত থাকিলেও বুঝিতে হইবে যে জামাতের প্রকৃত নাম হইল জামাতে মুনাফিক। বিস্তারিত পোস্ট: স্যালুট শাহবাগ: জামাত বোঝ, দল-লীগ বোঝ, পাবলিক বোঝনা!

** দ্বিতীয়ত:
আজ সমমনা বারোটি ইসলামী দলের কর্মসূচী ছিল। এই দলগুলি সরাসরিই জামাতের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে। এদের কারো কারো সাথে ওয়ান ইলেভেনের পূর্ববর্তী জোট বাঁধতে আওয়ামী লীগের কোন আপত্তি ছিলনা। আজ বারোটি দলের কর্মসূচীর কাঁদে ভর করে জামাত তার স্বভাব মতই নিজের ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মাঠে নামে। তাদের এই মাঠে নামাকে স্বার্থক করে দিয়েছে আমাদের মিডিয়া। তারা সকলকেই জামাত বানিয়ে দিয়েছে। এতে লাভবান হয়েছে জামাত। আজকের সমগ্র অঘটনের দায় জামাতের ঘারে চাপিয়ে জামাত বান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার আর জামাতবান্ধব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলতে পারবেন যে, জামাতকে নিষিদ্ধ করতে ঐক্যমতের কোন বিকল্প নাই। জামাত অনেক সংগঠিত দল।

** তৃতীয়ত:
আজকের কর্মসূচীকে ঘিরে আগে থেকেই আশংকা ছিল। সৈয়দ আশরাফ বলেছিলেন উনার কাছে তথ্য প্রমাণ আছে। অথচ জামাতবান্ধব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মখা আলমগীর জামাতের প্রতি তার অশেষ দূর্বলতার কারণে বারোটি সমমনা ইসলামী দলের সাথে এই কর্মসূচীর বিষয়ে ইতিবাচক কোন আলোচনা সম্পন্ন করতে পারলেন না। সরকারের পক্ষ থেকে কেউ তাদের বোঝানোর দায়িত্ব নিলেন না যে, ব্লগার মাত্রই নাস্তিক নয়। যেমন টুপি দাড়ি মানেই জামাত নয়। তাদের সাথে ব্লগারদের আলোচনার একটা ব্যবস্থা করা কি খুবই কঠিন ছিল। যেখানে বারোটি দলই জামাতের রাজনীতির বিরোধিতা করে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে অযোগ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের সময়ে যে জামাত মাঠে নামতে পারে নাই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মখার আমলে সেই জামাত পুলিশী পাহারায় মিছিল করে। পুলিশদের রজনীগন্ধা উপহার দেয়। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মখা আলমগীরের সাথে জামাতের এত প্রেম এত প্রীতির পশ্চাতে যে দর কষাকষির হিসাব বহমান তা সচেতন যে কেউ বুঝবে। এই হিসাব নিকাশের সহজ সূত্রের সহজ কৌশলেই জামাতের পক্ষে আমার দেশ পত্রিকার মত বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জামাত বিরোধী ইসলামী দলগুলোকে এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিশাল একটা অংশকে শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিপক্ষ বানিয়ে দিলেন। জামাত বান্ধব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ ব্যতীত কোন বিকল্প দাবী হতে পারেনা।

** চতুর্থত:
বিএনপি জামাতের আমার দেশ পত্রিকা সকল ব্লগারকেই নাস্তিক বানিয়ে দিয়েছে। আরিফ জেবতিক এবং অমি পিয়ালের মতন ব্লগারের গায়েও নাস্তিকের সীল মেরে দিয়েছে। আজ নাস্তিক আর আস্তিকের লাইসেন্স দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন আমাদের দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। ধর্মীয় উস্কানি প্রদান এবং মিথ্যা তথ্য প্রদানের জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এত বিলম্ব কেন? উনার সাথেও কি দর কষাকষি চলছে?? অন্যদিকে, একজন রাজীবকে যিনি স্ববিশ্বাসে নাস্তিক ছিলেন তাকে আস্তিক বানানোর অপতৎরতা মাহবুবুর রহমানের কাজের মতই ঘৃণ্য কাজ। নাস্তিককে আস্তিক বানানো, নব্য রাজাকারের লিস্ট বানানো অপেক্ষা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং যুদ্ধাপরাধী সংগঠন ও ধর্মভিত্তিক অপরাজনীতি আবার বলছি ধর্মভিত্তিক অপরাজনীতি করার জন্য জামাতকে নিষিদ্ধ করার আন্দোলন চলমান রাখা আজ প্রধান দায়িত্ব।

**পঞ্চমত:
আজ পর্যন্ত বিএনপি জামাতের অংগ সংগঠনের মতন কাজ করে চলেছে। অন্যদিকে শাহবাগের জয়বাংলা শ্লোগান শুনে আওয়ামী লীগের নেতারা উল্লসিত। কিন্তু একবারও ভেবে দেখছেন না যে, জয় বাংলা শ্লোগান দিলেই সে আওয়ামী লীগের সমর্থক হয় না। তরুণ প্রজন্ম এখন শিকড়ের দিকে যাচ্ছে। যে তরুন প্রজন্ম আইডেনটিটি ক্রাইসিসে ভুগছিল তারা এখন শিকড়ের সন্ধান পেয়েছে।

তরুণ প্রজন্ম জানে যে পঁচাত্তর পরবর্তী আওয়ামী লীগ অতি মাত্রায় জামাত বান্ধব দল। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা হবে বলেই গত নির্বাচনে তরুণরা আওয়ামী লীগকে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু সেই আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আইন প্রণয়নে দীর্ঘ সময় নিয়ে (প্রকৃতপক্ষে সময় ক্ষেপণ করে) এমন আইনই প্রণয়ন করলো যাতে লাভবান হত শুধু যুদ্ধাপরাধীরাই। অন্যদিকে, আজও প্রসিকিউশনে অদক্ষ দলবাজদের ভীড়। যাদের অধিকাংশের একমাত্র যোগ্যতা দলীয় আনুগত্য। কাদের মোল্লার কৃত অপরাধের রায়ে যাবজ্জীবন শাস্তি অনেক কিছুই পরিষ্কার করে দিয়েছে। তাই আইনকে সংশোধন করবার জন্য আন্দোলন করতে হল তরুন প্রজন্মকে। অশ্রুময় চোখে ভাষন দিয়ে আইন সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লীগ যদি ধারনা করে তরুন প্রজন্ম এই আওয়ামী প্রতারণা কথা ভুলে যাবে তবে সেটা ভুল ধারনা। এই প্রজন্ম সবকিছু মনে রাখে, মনে রাখতে শিখেছে।

** ষষ্ঠত:
শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ যতদিন রাজনীতিক নেতামুক্ত ছিল, যতদিন ছাত্রনেতাদের দাপট ছিলো না ততদিন কোন সমস্যা হয় নাই। কোন প্রশ্ন উঠে নাই। আজ এটা স্পষ্ট যে, বিভিন্ন লেবাসের রাজনীতিকদের এবং বিভিন্ন রাজনীতিক দলের অংগ সংগঠনের নেতাদের মঞ্চে সংহতি জানানোর ও বক্তৃতা দেবার অধিকার দেয়া ভুল ছিল। কারণ অধিকাংশ রাজনীতিকই আজ প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে দেশপ্রেমশুন্য। এ্ই কল রাজনীতিকের মধ্যে দখল মানসিকতা সদা বিদ্যমান। তারা পাবলিক টয়লেটে পর্যন্ত নিজের দখল কায়েম করতে চায়। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ’তো অনেক বিশাল বিষয়। জামাতকে নিষিদ্ধ করবার জন্য ঐক্যমত না হলেও এই গণজাগরণ মঞ্চকে দখল করবার জন্য আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামাতের ঐক্যমত হলে অবাক হবার মতন কিছু থাকবেনা। অতীত ইতিহাস আমাদের এই শিক্ষাই দেয়। সুতরাং, শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চকে সকল দলের রাজনীতিকদের থেকে মুক্ত রাখতে হবে। এটা এখন সময়ের দাবী।

**সপ্তমত:
শাহবাগ আজ সমগ্র বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সচেতন মানুষ এখন শাহবাগকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছে। শাহবাগকে ব্যর্থ হতে দেয়া যাবেনা। যে কোন মূল্যে লক্ষ্য অর্জনে ঐক্য ধরে রাখতে হবে। ঐক্যের কোন বিকল্প নাই।

জয় শাহবাগ…
জয় জনতা..
জয় বাংলা…

=====================লেখকের ফেসবুক আইডি: Abu Sayeed Ahamed