ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এক দেলু রাজাকার ওরফে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে।

সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত বিশটি অভিযোগের মধ্যে আট নম্বর এবং দশ নম্বর অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। অভিযোগ দুইটির বিবরণ:-

“অভিযোগ-আট : একইদিন বেলা ৩টায় সাঈদীর নেতৃত্বে তার সাঙ্গপাঙ্গরা পাক বাহিনীর সহায়তায় সদর থানার চিতলিয়া গ্রামের মানিক পসারীর বাড়িতে হানা দিয়ে তার ভাই মফিজ উদ্দিন এবং ইব্রাহিমকে সহ দুই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচটি বাড়িতে কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া। সেনা ক্যাম্পে ফেরার পথে সাঈদীর প্ররোচণায় ইব্রাহিমকে হত্যা করে লাশ ব্রিজের কাছে ফেলে দেয়া হয়। মফিজকে ক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে সাঈদী ও অন্যদের আগুনে পারের হাট বন্দরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ঘরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সাঈদী সরাসরি অপহরণ, খুন, যন্ত্রণদানের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন। যার আইনের ৩(২)(এ) ধারা অনুসারে অপরাধ।**
এবং,
অভিযোগ-দশ : একইদিন সকাল ১০টার দিকে সাঈদীর নেতৃত্বে তার সশস্ত্র সহযোগীরা ইন্দুরকানি থানার উমেদপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ার হানা দিয়ে ২৫টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। যার মধ্যে চিত্তরঞ্জন তালুকদার, হরেণ ঠাকুর, অনিল মণ্ডল, বিসাবালি, সুকাবালি, সতিশবালা। সাঈদীর ইন্ধনে তার সহযোগীরা বিসাবালীকে নারকেলগাছের সঙ্গে বেঁধে গুলি করে হত্যা করা হয়। বেসামরিক মানুষের বসবাসের বাড়িতে আগুন দেয়া নিপীড়নের শামিল। সাঈদী বাড়িঘর পোড়ানো, বিসাবালিকে হত্যা মাধ্যমে মানবতা বিরোধী অপরাধ করেছেন। যা ৩(২)(এ) ধারায় অপরাধ।” **

দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী ওরফে দেলু রাজাকারের বিরুদ্ধে আনা বিশটি অভিযোগের মধ্যে দুইটি অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হয়েছেন। ট্রাইবুন্যালের রায়ে বলা হয় যে প্রসিকিউশনের যুক্তি তর্কে ছয়, সাত, আট, দশ, এগারো, চৌদ্দ, ষোল, উনিশ নম্বর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ বিশটি অভিযোগের মধ্যে প্রমানিত হয়েছে আটটি অভিযোগ। প্রসিকিউশনের চরম ব্যর্থতা হল দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী ওরফে দেলু রাজাকারের বিরুদ্ধে আনীত বিশটি অভিযোগের মধ্যে বারোটিই তারা প্রমান করতে পারে নাই। এই অভিযোগগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল পিরোজপুর সদর, মাসিমপুর বাসস্ট্যান্ড, পারেরহাট বাজার ও হোগলাবুনিয়ায় গণহত্যা এবং লেখক হুমায়ূন আহমেদ ও মুহম্মদ জাফর ইকবালের বাবা, পিরোজপুরের পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান আহমেদসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ। সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সাঈদীর মামলাতেও প্রসিকিউশনের দূর্বলতা স্পষ্ট।

যারা সত্যিকার অর্থেই চান যে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক। বিচারের মাধ্যমে তারা কৃত অপরাধের সর্বোচ্চ সাজায় দন্ডিত হোক। তাদের আনন্দ বন্যায় ভেসে গেলে চলবেনা। কারণ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থাকলেও ক্ষমতা লাভের পর থেকে এই বিচারকে দীর্ঘসূত্রিতায় পর্যবাসিত করবার জন্য তারা তৎপর ছিল। তারা প্রতিকী বিচারের কথাও বলেছিল। কিন্তু সকলে সোচ্চার থাকায় বিচার শুরু করতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে যে তাদের আন্তরিকতার অভাব আছে শাহবাগের আন্দোলনের পরে তা স্বচ্ছ হয়ে ধরা পরে। বিশাল সময় নিয়ে আইন প্রনয়েনর পরেও আইনের ফাকফোকড় বেরিয়ে পরে এবং এই ফাঁক ফোকড় দিয়ে প্রকৃতভাবে লাভবান হত যুদ্ধাপরাধী চক্র। এছাড়া, বিচারের শুরু থেকেই প্রসিকিউশনের সদস্যদের নিয়ে ব্যপক সমালোচনা সত্বেও প্রসিকিশনের পরিবর্তন আনা হয় নাই। সর্বশেষ সাঈদীর মামলার রায়ে প্রসিকিউশনের দূর্বলতা স্পস্ট।

আওয়ামী লীগ সরকার ব্যতীত অন্যকোন সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবেনা- এই কথা বলে কেউ কেউ তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারেন। নিশ্চিন্তে চোখ বন্ধ করে রাখতে পারেন। কিন্তু রূঢ় সত্য হল যে, আওয়ামী লীগ সরকার ব্যতীত অন্য কোন সরকারকে দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করানো যাবেনা। আর আওয়ামী লীগ সরকারকে দিয়ে বিচার করানোর জন্য আন্দোলনের কোন বিকল্প নাই। তাই শাহবাগের জন্ম, গণজাগরণ মঞ্চের শিক্ষা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাজা প্রদানের জন্য আন্দোলন অব্যাহত রাখবার কোন বিকল্প নাই। এছাড়াও, সরকারকে অতি জরুরী ভিত্তিতে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যালকে স্থায়ী রূপ প্রদানে জন্য বাধ্য করতে হবে। ভবিষ্যতে ক্ষমতার পালা বদল ঘটলেও যেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলমান থাকে।

জয় জনতা…
জয় বাংলা…

বি: দ্র: **অভিযোগ দুইটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর থেকে কপিকৃত।

==============================================

এই পোস্টটির সাথে সহমত পোষন করলে পোস্টটি শেয়ার করুন