ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

১.
বর্তমানে দেশ পরিচালনা করছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। আওয়ামী লীগ ব্যতীত মহাজোটের অন্য শরীক দলগুলোর অবস্থা এবং গ্রহনযোগ্যতা অত্যন্ত করুন। তারা ছিটেফোঁটা সুবিধা পেয়েই খুশী। অপরপক্ষে ৮৬-এর নির্বাচন থেকেই আওয়ামী লীগ এবং এরশাদের সম্পর্ক মধুর। মাঝের ৯০ থেকে ৯২ সাল পর্যন্ত কিছুটা দূরত্ব ছিল। সেই দূরত্ব ভুলে মধুর সম্পর্ক আজও অটুট আছে। তাই জাতীয় পার্টি তথা এরশাদই শুধু মহাজোট সরকারের তথাকথিত হেভীওয়েট পার্টনার। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিশাল বিজয়ের পরে তিনি সরকার থেকে যে সামন্য সুবিধা পান তাতেই তুস্ট। মহাজোট সরকার প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগেরই সরকার।

২.
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ধর্মনিরেপেক্ষ রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে চায়। দুটোই পুরোপুরি মিথ্যা কথা। কারন ৭২-এর সংবিধানে ফিরে গেলে ধর্মকে ঘিরে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিতে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের ওয়েব সাইটটি দেখুন http://www.albd.org সেখানে প্রথম লাইনটি হচ্ছে “আল্লাহ সর্বশক্তিমান’ । যারা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে এবং ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যেতে চায় তারা নৈতিকভাবেই কখনও দেশের একটি মাত্র ধর্মকে (সংখ্যাগুরু অথবা সংখ্যালুঘু যাদেরই অবলম্বিত ধর্ম হোকনা কেন) প্রধান্য দিতে পারে না।

আল্লাহ সর্বশক্তিমান – বাক্যটি লিখার অর্থ এই নয় যে, দেশের অধিকাংশ মানুষের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন। এই বাক্যটি সংযুক্ত করবার গূড় উদ্দেশ্য হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগ ছাড়া কারো হাতে ইসলাম নিরাপদ নয়। তাই নির্বাচনী পোস্টারে আওয়ামী লীগের নেত্রীকে দেখা যায় হেজাব পরিহিত অবস্থায়, তজবী গুনতে ব্যস্ত।

৩.
বর্তমান সরকারের সাথে ফজলুল হক আমিনীর সম্পর্ক কতটা গভীর তা আমরা পুরোপুরি জানিনা। তবে অনুমান করতে পারি সম্পর্ক অতীব মধুর। ফজলুল হক আমিনী এই পর্যন্ত আপনার বিরুদ্ধে, আপনার সরকারের বিরুদ্ধে যত কথা বলেছেন তার ১০০ ভাগের এক ভাগও বিরোধী দলের কেউ বলতো তবে তার বিরুদ্ধে কতগুলো মামলা দায়ের হত সেটা হিসাব করা দুষ্কর।

ফজলুল হক আমিনী সাহেবের ছেলের অপহরন ও প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আজও সরকার পরিস্কার করেনি। আমিনীর ভাগ্য অত্যন্ত ভাল যে, তিনি ছেলেকে ফিরে পেয়েছেন বা ছেলেকে ফিরে পাওয়ার নাটক মঞ্চায়িত করতে পেরেছেন। কিন্তু গায়েব হয়ে যাওয়া পুরান ঢাকার কমিশানর চৌধুরী আলমকে আজও খুঁজে বের করতে পারে নাই পুলিশ। শুধু চৌধুরী আলম কেন অন্য যারা গুম হয়েছেন তাদেরও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

আমিনী সাহেব নারী নীতির বিরুদ্ধে হরতাল আহ্বান করেছিলেন। দশ লাখ লোকের সমাবেশ ঘটানোর হুমকী দিয়েছিলেন। কিন্তু আপনার সাথে আলোচনার ইশারায় সব কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিলেন। এখন তিনি নীরব।

ধর্মভিত্তিক অপ রাজনীতির প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা আওয়ামী লীগের জন্য আজ এতটাই জরুরী! যতটা জরুরী ছিল ফতোয়াকে বৈধতা দানের চুক্তি! ক্ষমতা নিশ্চিত করাই মূল কথা, বাকী সব বাতুলতা।

৪.
ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে রাস্ট্রের সংবিধানে রাস্ট্র ধর্ম-এর বিষয়টি সংযুক্ত হল!

যারা সরাসরি ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করে তাদের জনগন চিনে। তাদের উদ্ধেশ্য অনুধাবন করে। কিন্তু আওয়ামী লীগের মত দল (তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ) যখন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে তার ফলাফল হয় আরও ভয়ংকর, অশ্লীল এবং বিধ্বংসী। আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি’র মত দলগুলি রাজিনৈতিক ফয়দা হাসিলের জন্য ধর্মকে হিজড়া বানিয়ে যখন যেমন খুশি তেমন সাজিয়ে অপব্যবহারের কারনেই ধর্মভিত্তিক অপরাজনীতি উৎসাহিত হয় আর জঙ্গীবাদ বিকশিত হয়।

৫.
সংবিধানে বিসমিল্লাহ না থাকলে দেশে ইসলাম থাকবেনা। বিএনপি আর জামাতের প্রচারনা সবসময়ই এমন। এই প্রচারনার মাধ্যমে সাধারন মানুষদের ধর্মীয় অনুভূতিকে সহজেই লাভজনক পূঁজিতে পরিণত করা যায়। সংবিধানে বিসমিল্লাহ না থাকলে যদি দেশে ইসলাম না থাকে তবে সেই ইসলামের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু! মাওলানা ভাসানী পশ্চিম পাকিস্তানের নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন আমাকে কি লুঙ্গি তুলে দেখাতে হবে যে আমি মুসলমান। আজ মাওলানা ভাসানী বেঁচে নেই। তিনি বেঁচে থাকলে দেখতেন আমরা যে মুসলমান তা সংবিধান খুলে দেখাতে হয়।

৬.
ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করা কেন যাবেনা! ৭২-এর সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির উপর কোন বিধিনিষেধ ছিলোনা। ৭২-এর সংবিধানের বক্তব্য ছিলো ধর্মের অপব্যবহার করা যাবেনা। ধর্মের অপব্যবহার আর ধর্মভিত্তিক রাজনীতি কি এক!

৭.
এ. কে. খন্দকার (যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের পরে সর্বপ্রথম মুশতাক সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন) এখন মন্ত্রী পরিষদের সদস্য। তিনি সংবিধানে রাস্ট্রধর্ম এবং বিসমিল্লাহ রাখবার পক্ষপাতী ছিলেন না। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সভায় তার মত প্রকাশ করলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে উদ্ধেশ্য করে বলেছিলেন যে, এরশাদ সরকার যখন রাস্ট্রধর্ম ইসলাম করে তখন কোথায় ছিলেন!” উল্লেখ্য যে, এ, কে খন্দকার এরশাদ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। সেদিন এ, কে খন্দকার কোন উত্তর দিতে পেরেছিলেন কিনা জানি না। তবে এখন উনার জন্য উত্তর দেয়া অনেক সহজ। তিনি বলতে পারবেন, এরশাদ সরকার যখন রাস্ট্রধর্ম-এর বিষয়টি সম্পৃক্ত করে সেই মহেন্দ্রক্ষনে আমি মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু কিছু বলতে পারি নাই। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি যখন ৭২-এর সংবিধানে প্রত্যাবর্তনের নামে আবারও রাস্ট্র ধর্মের বিষয়টি আরও পোক্তভাবে বহাল করলেন তখনও আমি মন্ত্রী আছি। এমন সৌভাগ্য কয়জনের হয়!

৮.
৭২-এর সংবিধানে প্রত্যাবর্তন করা এই সরকারের এজেন্ডা ছিল। এই সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে(!) ধারন করে। অথচ এই সরকারের হাতেই আমরা পেলাম রাস্ট্রধর্ম এবং এবং একটি ধর্মের উপর আস্থা রাখার সাংবিধানিক রীতি সংবলিত সংবিধান।

৭২-এর সংবিধান আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চমৎকার বহি:প্রকাশ!

৯.
বর্তমান সরকার বাংলাদেশের সংবিধানকে ক্রমাগত বুক অব ম্যাডনেস বা পাগলামীর পুস্তকে পরিণত করছে।