ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়বৃন্দ, আমি এক অক্ষম লেখক। জানি আমার লেখাতে কারো কিছু যায় আসে নাই এবং যাবে আসবেও না। তবে কথায় বলে “ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।” আমার সেই ঢেঁকির অবস্থা। কোন কিছু হবেনা জেনেও লিখে যাই। অনেকটা একতরফা প্রেমের মত।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়বৃন্দ, বর্তমান সময়ে জীবন যাপন করতে গিয়ে সাধারন আর দশজনের মত আমারও বেহাল অবস্থা। সবাই সব কিছু মেনে নিতে শিখেছে। কিন্তু আমি একনিষ্ঠ ঢেঁকি অথবা বেয়াড়া একতরফা প্রেমিকের মত নিজের কাছে নিজে প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়বৃন্দ, যথাযথ সম্মান রেখে আপনাদের প্রতি আমার কিছু প্রশ্ন। জানি এই প্রশ্নগুলির কোন উত্তর পাবনা। তবে আপনারা যদি নিজেদেরই এই সকল প্রশ্নের উত্তরগুলি সকালে দাঁতব্রাশ করবার ফাঁকে অথবা রাতে ঘুমাবার আগে নিজেদের দিতেন তবে ভবিষ্যতে আর আমার মত অক্ষম বেয়াড়ারা এই প্রশ্নগুলি করার সুযোগ পাবেনা।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়বৃন্দ, আপনাদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন পূর্বক এই অধমের কিছু প্রশ্ন:-

১. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি শেষবার কবে নিজের টাকায় জ্বালানী তেল কিনেছিলেন?

২. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে বিগত সরকারের আমলে জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরে আপনার প্রতিক্রিয়া শেষবার কবে মনে হয়েছে?

৩. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি কবে শেষবার আপনার নিজের গাড়ী সরকারের কাজে ব্যবহার করেছেন বা রিকুইজেশনে দিয়েছেন?

৪. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনার বিদ্যুৎবিল, ওয়াসার বিল, টেলিফোন বিল, ইন্টারনেট বিল, মোবাইল বিল ইত্যাদি শেষবার কবে প্রদান করেছিলেন?

৫. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি শেষবার কবে নিজের ব্যায়ে বিমানে বা ট্রেনে টিকেট কেটে সাধারন/নন ভিআইপি শ্রেনীতে ভ্রমন করেছেন?

৬. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি শেষবার কবে পত্রিকার বিল, কাজের লোকের বেতন, ড্রাইভারের বেতন নিজের পকেট থেকে প্রদান করেছেন?

৭. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে বা আগে আপনি কখনও কি ন্যায্যমূল্যের দোকান বা ট্রাক সেল থেকে লাইনে দাড়িয়ে চাল কিনেছেন?

৮. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি শেষবার কবে নিজের টাকায় বাজার করেছেন?

৯. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে এবং আগে আপনি কি হকার্স মার্কেট বা স্ট্রীট হকারদের কাছ থেকে কখনও কোন জিনিস কিনেছেন?

১০. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে এবং আগে আপনি শেষবার কবে রিকশায় বা পাবলিক বাসে করে জ্যামপূর্ণ শহরে যাতায়াত করেছেন?

১১. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে শেষবার কবে আপনি অতিষ্ঠ গরমে বাসায় বা অফিসে দরদর করে ঘামে ভিজে উঠেছিলেন?

১২. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে বা আগে শেষবার কবে আপনি অসহনীয় শীতে ঠকঠক করে কেঁপেছিলেন?

১৩. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনার ইস্ত্রীকরা এক পোষাক কি আপনি তিন দিন অথবা কমপক্ষে দুইদিন ব্যবহার করেন?

১৪. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি কি এই শহরের সিএনজি ভাড়া জানেন?

১৫. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে বা আগে শেষবার কবে আপনার বেতন ভাতা আটকে ছিল বা পেতে দেরী হয়েছিল?

১৬. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে শেষবার কবে আপনি কোন কিছু কিনবার জন্য বা কোন সেবা পাবার জন্য লাইন দিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন?

১৭. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি কি মনে করেন আপনার আর দশজন সাধারন মানুষের মত চলাফেরা করা উচিত?

১৮. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি কি কখনও গাড়ির জানালা খুলে কোন ভিক্ষুককে একটাকা বা দুইটাকা দান করেছেন?

১৯. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি কি কখনও আপনার গাড়ীতে অসহায় কোন অন্ধ, দূর্ঘটনায় আহত রোগী বা প্রতিবন্ধীকে লিফট দিয়েছেন?

২০. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি কি জানেন পলিটিক্যাল ব্যাকিং না থাকলে নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণ পাওয়ার জন্য কিভাবে দৌড়াতে হয়?

২১. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে বা আগে একজন সাধারন মানুষ হিসেবে আপনি কি কখনও কোন থানায় জিডি করতে গিয়েছেন?

২২. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি কি নিজেকে একজন বিদ্বান, বৈপ্লবিক, পরিবর্তনে নিমগ্ন আদর্শ নেতা মনে করেন না নিজেকে জনতার সেবক ভাবেন?

২৩. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি কি কখনও কোন ব্যক্তির (নিজ দলের নেত্রী ব্যতীত) সাথে শ্রদ্ধায় মাথা নুইয়ে অভিভাবদন জানিয়েছেন? আপনার মতের বিরোধী কাউকে শ্রদ্ধায় আলিঙ্গন করেছেন?

২৪. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি কখনও আপনার কাজের ফলাফল নিয়ে আত্নচিন্তা করেছেন?

২৫. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে কখনও কি মনে হয়েছে এই ক্ষমতা ক্ষনস্থায়ী এবং জনপ্রিয়তা চিরস্থায়ী?

২৬. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনার কাজের ক্ষেত্রে নিজেকে কতটা দূরদৃষ্টি সম্পন্ন মনে করেন?

২৭. মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পরে আপনি কি মনে করেন যে দাতা দেশের প্রতিনিধি, জাতিসংঘ, ইউএনডিপি, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি গতি প্রকৃতি ও চাহিদা যেভাবে অনুধাবন করতে পারেন তার থেকে দেশের উন্নয়নের বিষয়ে সাধারন মানুষের আকাংখাকে বেশী অনুধাবন করতে পারেন?

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়বৃন্দ, উপরের প্রশ্নগুলি খুব সহজ। উত্তরগুলি খুব কঠিন নয়। আপনার উত্তরগুলি মিলিয়ে নিন। আপনাদের প্রতিটা উত্তর আমাদের সাথে আপনাদের দূরত্ব বাড়বার সূচক। আপনারা সাথে থাকবেন, আপনারা আমাদের কাছাকাছি আসবেন বলেই আমরা ভোট দিয়েছিলাম। আমরা আন্তরিক চিত্তে ইতিবাচক পরিবর্তনের মন্ত্রী হিসাবে আপনাদের বরণ করে নিয়েছিলাম।

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়বৃন্দ, আপনাদের অতি দামী সময় নষ্ট না করে, কোন এক শান্ত সকালে দাঁতব্রাশ করবার ফাঁকে অথবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ীতে যাতায়াতের কোন এক অলস সময়ে একবার অন্তত ভাবুন আপনারা আমাদের কাছ থেকে কতটা দূরে সরে গেছেন। আমাদের কতটা দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।