ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বিএনপি তথা চারদলীয় জোটের সাম্প্রতিক লং মার্চে নূন্যতম ব্যায় হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। ঢাকার মহাসমাবেশে ব্যায় হবে নূন্যতম আরো ২০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় তিনশত কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগ। এই টাকার অধিকাংশই যোগান দিয়েছে দলের সুহৃদ ব্যাবসায়ী আর রাজনৈতিক নেতারা।

অন্যদিকে, বিএনপি তথা চারদলীয় জোটের এই কার্যক্রমকে প্রতিহত করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে যথেচ্ছ ব্যবহার করছে সরকার তথা আওয়ামী লীগ বা মহাজোট। এছাড়া রাজনৈতিক কার্যক্রমও আছে। এই সকল কার্যক্রমের ব্যায় বহন করছে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের সুহৃদ ব্যবসায়ী আর রাজনৈতিক নেতারা।

প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচন হবে। নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলসমূহ লড়াই করবে। রাজনৈতিক দলসমূহ একে অন্যের সমালোচনা করবে। আমজনতার দাবী আদায়ে সোচ্চার হবে। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দেশে চারদলীয় জোটের শাসনামলে আওয়ামী লীগের ছিল ডেডলাইন রাজনীতি আর আওয়ামী লীগ তথা মহাজাটের শাসনামলে চলছে চল চল ঢাকা চল রাজনীতি। চারদলীয় জোট আর মহাজোটের নৈতিক পার্থক্য কোথায়! দুই জোটই চায় ক্ষমতায় যেতে আর ক্ষমতা আকড়ে থাকতে। সামগ্রিক বিবেচনায়, রাজনীতি আজ এতটাই লাভজনক বাণিজ্য যে নির্বাচনপূর্ব বিনিয়োগের জন্য লোকের অভাব হয়না। আর ক্ষমতা আকড়ে রাখবার কার্যক্রমেও বাজেট ঘাটতি পরে না।

স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের পরে সবকিছুই নতুন করে শুরু হবার কথা ছিল। আমজনতা পরিবর্তনের বিষয়ে আশাবাদী ছিল। কিন্তু গত দুই দশকে এই দেশের প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দলের দুই নেত্রী ঐকান্তিক চেষ্টায়, নিরলস শ্রমে আর ক্ষমতা লিপ্সার অন্ধ আবেগে রাজনীতিকে এক লাভজনক বাণিজ্যে পরিণত করেছেন। বাণিজ্যে পরিণত করার ক্ষেত্রে নিমগ্ন অবদান রেখেছেন চারদলীয় জোট আর মহাজোটের সকল শরিকরা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে রাজনীতিকে বাণিজ্যিক রূপদানের জন্য গণতন্ত্রের মানসকন্যা, আপোসহীন দেশনেত্রী, পল্লীবন্ধু ও আমীর উমরাসহ সকল মহৎ কর্মবীর রাজনীতিকদের কথা স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। তবে, একটি নীতিমালার মাধ্যমে রাজনীতিকে শিল্প হিসাবে ঘোষনা করা হলে রাজস্ব আয়ের একটি শক্তিশালী দ্বার উন্মোচন হয়।

রাজনীতিকে শিল্প হিসাবে ঘোষনার জন্য বর্তমান ডিজিটাল সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের আহ্বান জানাচ্ছি।