ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান সভাপতি মোস্তফা কামাল এমপি। তার কার্যক্রম সম্পর্কে নতুন করে বলবার কিছু নাই। তিনি শেয়ার বাজার কারসাজির অন্যতম নায়ক হিসেবেও বিবেচিত। দু:খজনক হলেও সত্য যে, তার সর্ম্পকে যাদের কঠোর হওয়া উচিত ছিল তাদের কাছে রাজনৈতিক বিবেচনাটাই বারবার মূখ্য হয়ে উঠেছে। তিনি ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে ক্ষমতা গ্রহনের পর থেকেই নিজের দাপট আর ক্ষমতার কারিশমা প্রদর্শনে তৎপর রয়েছেন। সর্বশেষ দল নির্বাচনে উনার হস্তক্ষেপ ধারাবাহিক কারিশমার ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। অযোগ্য আর ক্ষমতালিপ্সু সভাপতির কারণেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আকরাম খানের পদত্যাগের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।

ক্রিকেট বোর্ডের মহান সভাপতি, ক্রিকেট বাণিজ্য সম্পর্কে বিশাল জ্ঞান রাখেন। তার জ্ঞানের বিশালতার কারণেই স্কুল ক্রিকেট ও বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট উপেক্ষিত হয়। অপরদিকে, বিপিএল আয়োজনে মালাইকা অরোরা-বিপাশা বাসুর সম্পৃক্ততার মত বিষয়গুলি বারবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বর্তমান সভাপতির মেয়াদে ক্রিকেট বোর্ডের ইতিবাচক যা কিছু অর্জন তাতে তার ভূমিকা অতি নগন্য। ক্রিকেট বোর্ড সংশ্লিষ্ট যে কেউ এই কথা স্বীকার করবেন।

ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান সভাপতির লক্ষ্য আইসিসি’র সভাপতি পদে গদিনশীন হওয়া। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট আর সভাপতির কর্মকান্ডের মাধ্যমে স্পষ্ট যে, আইসিসির সহ-সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তিনি পাকিস্তানকে শর্তসাপেক্ষে রাজী করাতে পেরেছেন। সেই ভয়ংকর শর্তটি হল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে পাকিস্তান সফরে যেতে হবে। ইতোমধ্যে অতি উৎসাহী বোর্ড সভাপতি পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষন করে এসেছেন এবং নিরাপত্তার বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি যে একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ(!!) এটা প্রথম জানা গেল। অর্থাৎ, তিনি চাইছেন যে কোন মূল্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর বাস্তবায়ন করতে।

শ্রীলংকা ক্রিকেট দলের উপর জঙ্গী হামলার পূর্বেও পাকিস্তান শ্রীলংকাকে নিরাপত্তার বিষয়ে পূর্ণ নিশ্চয়তা প্রদান করেছিল। তবে বাস্তবতার চিত্রটি ভয়ংকর বলেই শ্রীলংকা ক্রিকেট দল জঙ্গী হামলার মুখোমুখি হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকে ক্রিকেট বিশ্বের কোন দলই ক্রিকেটারদের জীবনকে হুমকীর মুখে রেখে পাকিস্তান সফরে রাজী হয় নাই। কেউ সামান্যতম আগ্রহ প্রকাশ করে নাই। বরঞ্চ পাকিস্তান শারজায় খেলা আয়োজন করতে বাধ্য হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান সভাপতি। তিনি পাকিস্তান সফরের বিষয়ে বড় উচাটন হয়ে আছেন। এই সফরে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা থাক বা না থাক, বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা নিরাপত্তার বিষয়ে মানসিক চাপের মধ্যে থাকুক বা না থাকুক, এই সফরের মাঝে ক্রিকেট কূটনীতি ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত না থাকুক, তাতে বর্তমান সভাপতির কিছুই যায় আসেনা। এই সফরের একমাত্র লক্ষ্য বর্তমান বোর্ড সভাপতির আইসিসির সহ-সভাপতি মত আরো ক্ষমতাধর পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পথকে মসৃন করা। অর্থাৎ পদের মোহে বোর্ড সভাপতি এতটাই অন্ধ হয়ে গেছেন যে, ক্রিকেটারদের জীবন বাজী রাখার বিষয়ে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠা বোধ করছেননা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার নিকট আকুল আহ্বান, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর বাতিল করবার বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করুন। ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান সভাপতির বিষয়ে একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিন। এমন পদক্ষেপ নিন যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোন ক্ষমতালিপ্সু স্বার্থান্ধ ব্যক্তি ক্রিকেট বোর্ডকে নিজের সম্পত্তি মনে করার র্স্পধা না দেখায়। বড় পদের মোহে বা নিজের স্বার্থ উদ্ধারে ক্রিকেটারদের জীবন বাজী রাখার অপচেষ্টায় লিপ্ত না হয়।

প্রিয় পাঠক ও ব্লগলেখকবৃন্দ, আসুন আমরা বাংলা ব্লগ সমূহে এবং ফেসবুকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পাকিস্তান সফর বাতিলের বিষয়ে সোচ্চার হই। আইসিসির সহ-সভাপতি হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান সভাপতি কর্তৃক ক্রিকেটারদের জীবন বাজী রাখার অপতৎপরতার বিষয়ে সবাইকে সচেতন করি।

আপনি এই লেখার বিষয়ে একমত হলে লিখাটি শেয়ার করুন।

***
ফিচার ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত