ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ধন্যবাদ শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। আজ মঙ্গলবার সকালে ওসমানী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত মে দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে আপনি বলেছেন, “‘ইলিয়াসের বিধবা স্ত্রী জানেন, তাঁর স্বামীর প্রকৃত খুনি কে।’ ‘ইলিয়াসের বিধবা স্ত্রী যখন টেলিভিশনে কথা বলেন, তখন মনে হয় তিনি অনেক কথা জানেন, কিন্তু বলতে পারছেন না।’ ইলিয়াসের স্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনি জানেন, আপনার স্বামীর খুনি কে, কারা তাঁকে অপহরণ করেছিল। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা, তিনি কোনো দিন এ কাজ করতে পারেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাকে ডেকেছেন, তাঁর কাছে সব খুলে বলুন। আশা করি, আপনার স্বামীর খুনিরা ধরা পড়বে।’ আজ যারা সরসারি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান দেখেছেন তারা এই বক্তব্য সরাসরিই শুনতে পেয়েছেন। আর যারা দেখতে পারেন নাই তাদের জন্য প্রথম আলোর লিংক: আপনার স্বামীর খুনি কে প্রধানমন্ত্রীকে খুলে বলুন (ভিডিও)

মন্নুজান, আপনি একজন প্রতিমন্ত্রী এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই বক্তব্য দিয়েছেন। আজ ওসমানী মিলনায়তনে যখন এই বক্তব্য দিয়েছেন তখন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। মে দিবসের সরকারী অনুস্ঠানে ভাষন প্রদান আর পল্টন ময়দানে রাজনৈতিক বড়ি বেচার ক্যানভাসের পার্থক্য আপনি বেশ ভালো জানেন। সুতরাং আপনার বক্তব্য মিথ্যা বলার দু:সাহস কারো নাই।

মন্নুজান, আপনার কাছে বিনীত প্রশ্ন:

১. ইলিয়াস আলী খুন হয়েছেন- একথা সরকারের পক্ষ থেকে আপনি জানালেন কেন?

২. ইলিয়াস আলীর খুনীদের ধরবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব খুলে বলতে হবে কেন? কারণ খুনীদের গ্রেপ্তার করা সরকারের দায়িত্ব?

৩. দর কষাকষির যে তথ্য প্রকাশ পেয়েছিল তা যদি সত্য না হয় তবে আপনি কর্তৃক ইলিয়াস আলীকে খুন করার সংবাদ প্রদানের একদিন আগে থেকে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে সরকার ব্যস্ত হল কেন?

৪. আপনি যখন জানেন যে, ইলিয়াস আলীর বিধবা স্ত্রী সব জানেন। সুতরাং সরকারও বিষয়টা জানে। এই তথ্য অবগত থাকার পরেও সরকারের পক্ষ থেকে ইলিয়াস আলীকে জীবিত উদ্ধারের নাটক মঞ্চায়নের উদ্দেশ্য কি?

৫. ইলিয়াস আলী মৃত। অথচ তাঁকে খূঁজতে খুঁজতে বিভিন্ন সরকারী বাহিনীর অবস্থা কাহিল। আসলে তারা কাকে খুঁজছে?

৬. আপনি/সরকার জানেন ইলিয়াস আলীর স্ত্রী সব জানেন। আপনি/সরকার যে সূত্র থেকে জানেন যে, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী সব জানেন সেই সূত্র থেকে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী কি কি জানেন সেটা জানতে পারছেন না কেন?

৭. সাগর-রুনির হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রসেঙ্গ নির্লজ্জ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী তদারকি করছেন বিধায় তদন্তকে ধামাচাপা দেয়া সম্ভব হবেনা। প্রকৃতপক্ষে এই তদারকি ছিলো তদন্তকে সুষ্ঠভাবে ব্যর্থ করবার তদারকি। ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনা কি একই পথে হাটছে না?

৮. আপনারা সাধারন মানুষকে কেন এতটাই বোকা মনে করেন যে, তারা ঘটনার আসল তদন্ত আর জজ মিয়া নাটকের পার্থক্য বোঝেনা?

আমি আমার পূর্বের পোস্টে সাগর-রুনি, ইলিয়াস আলী, নির্লজ্জতা বাজাও তালি লিখেছিলাম চরম নির্লজ্জতার অন্ধ স্বার্থবাদী রাজনীতির কথা। এই নির্লজ্জতা আর অন্ধ স্বার্থবাদী রাজনীতির জন্যই ইলিয়াস আলীকে সরকার খুঁজে দেয় নাই, খূঁজে দিবেনা। সরকারের স্বার্থ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া, ক্ষমতার সুধা আর অর্থের মধু দিয়ে একান্ত অনুগত কুকুরের মত প্রভুভক্ত দলীয় নেতাকর্মীদের (সকল নেতাকর্মী নয়) উদরপূর্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিরোধী দলের নিরাপত্তা প্রদানের মত সময় সরকারের নেই। বিগত সরকারের (যারা এখন বিরোধী দল) এই সময় ছিলোনা। স্বাধীনতার পর থেকেই সরকারী দল আর বিরোধী দলের কর্মকান্ড এটাই প্রমান করে যে, সাধারন জনগন হল সাধারন জনগন। তাদের কেনা গোলাম। সুতরাং সাধারন জনগন নামক গোলামদের নিরাপত্তার প্রয়োজন কি! সাধারন জনগনের নিরাপত্তা দিলে মরবে কারা? নিষ্পেষিত হবে কারা? আতংকিত জীবন যাপন করবে কারা? নির্যাতিত হবে কারা?

ইলিয়াস আলী ফেরত আসুক, জীবিত ফেরত আসুক-এটা বিরোধী দল চায় নাই। কারণ একজন ইলিয়াস আলী গুম হওয়াতে একের পর এক হরতাল করা গেছে। বিরোধী দলের ভোটের রাজনীতিতে গুম হওয়া ইলিয়াস আলী লাভজনক বিনিয়োগ, জীবিত ইলিয়াস আলী নয়। অন্যদিকে বিরোধী দলের ডাকা হরতালে মৃত সাতজন মানুষ এখন সরকরী দলের মুনাফা জনক বিনিয়োগ। আগামী ভোটে মুনাফা লাভের এই বিনিয়োগ বন্দোবস্ত করে দেবার জন্য সরকারী দল আন্তরিক চিত্তে বিরোধী দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই পারে।

ক্লিন ইমেজের সোহেল তাজ আর ক্যাডার ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা ইলিয়াস আলী একটা বিন্দুতে এসে মিলে যান। তাদের ইচ্ছা বা অনিচ্ছার কোন দাম নেই। দলের নেত্রীর কাছে তাদের ইচ্ছা, আদর্শ, নীতি এবং জীবন নিজের অজান্তেই বন্ধক দিয়ে দিয়েছেন। তাই সোহেল তাজ মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করবার পরেও বেতন ভাতা পান, নিজের অজান্তেই হয়ে যান দপ্তরবিহীন মন্ত্রী। নিজের বিবেকের দংশনে যখন এমপি পদটিও ত্যাগ করতে চান, তখন নেত্রীর ইচ্ছায় তার পদত্যাগ করার সহজ পথটিও জটিল হয়ে যায়। একজন সোহেল তাজের আত্নদংশন থাকলেও তিনি যাকে নেত্রী মানেন তার কর্মকান্ড নির্লজ্জতা ছাড়া কিছুই প্রকাশ করেনা। একইভাবে, ইলিয়াস আলীর জীবনে দাম তার কাছে আছে, তার পরিবারের কাছে আছে, তার অভাববোধ সন্তানদের কুড়ে কুড়ে খাবে। কিন্তু তিনি যার অনুগত সেই নেত্রীর কাছে বর্তমানে ইলিয়াস আলী বিনিয়োগকৃত পূঁজি মাত্র, এর বেশী কিছু নন।

দুই দলের প্রধানদের নিকট প্রভুভক্ত কুকুরের মত অন্ধ নিজস্ব অনুগত নেতাকর্মী ব্যতীত আজ অন্য নেতাকর্মীরাও নিরাপদ নয়। সেখানে আম জনতার অবস্থান সহজেই অনুমেয়। আমাদের এই একটা মাত্র দেশ। আমাদের এবং আমাদের সন্তানদের জন্য আর কোন দেশ নাই। আমাদের ইচ্ছা এবং সাধ্যও নাই যে, অন্য দেশে নিজ সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করে, নিরাপদে রেখে দেশে বসে ক্ষমতার লোভে দেশপ্রেমের বাণিজ্য করবো। নিজের ক্ষমতা নিশ্চিত করবার জন্য সাধারন মানুষদের জীবন-যাপন, শান্তি ও স্বস্তিকে ব্যহত করবো। আম জনতার একজন অক্ষম সদস্য হিসাবে স্পষ্ট অনুধাবন করি যে, পিঠ দেয়ালে ঠেঁকে গেছে। অসহ্যের সীমাও অতিক্রম করে গেছেন নির্লজ্জ মিথ্যাবাদী রাজনীতিকরা। আসুন আরো বেশী দেরী হয়ে যাবার আগেই নীতি আদর্শহীন রাজনীতির বিরুদ্ধে যে যার ক্ষেত্র থেকে সাধ্যমত অবস্থান নেই, প্রতিবাদে মুখর হই।

আপনি যদি এই ‘অক্ষমের মন্তব্য প্রতিবেদন’-এর সাথে সহমত পোষন করেন তবে পোস্টটি শেয়ার করুন। -ধন্যবাদ