ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আজ (১ জুন, ২০১২)সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে আপনি জানাইয়াছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু সাংবাদিকদের পুলিশ হইতে দূরে থাকিবার পরামর্শ প্রদান করেন নাই। মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে আপনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করিয়াছেন, স্বারাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল ইসলাম টুকু এমন কথা বলেন নাই। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, টুকু যে এরূপ কোন কথা বলেন নাই তাহা নিশ্চিত করিবার জন্য আপনি আরও যোগ করিয়াছেন “প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, তিনি এমন কিছুই বলেন নাই। অথচ এটাই মিডিয়াতে বারবার তুলে ধরা হচ্ছে।” বিস্তারিত খবর সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় মন্ত্রীর ‘দুঃখ’ প্রকাশ

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনার এবং আপনার প্রতিমন্ত্রীর কথা ভূলক্রমেও মিথ্যা হইতে পারেনা। কিন্তু সমস্যা হইল যে, অবিকল শামসুল হক টুকুর মতন দেখিতে একজন ব্যক্তি স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী হিসাবে এই কথা বলিয়াছেন এবং তাহার এই বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিটি চ্যানেলের সংবাদে প্রচারিত হইয়াছে। শুধু তাহাই নহে প্রতিটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তাহার প্রদত্ত বক্তব্য সংবাদাকারে প্রকাশিত হইয়াছে। আপনার সদয় অবগতির জন্য সংবাদপত্রের লিংক সাংবাদিকদের প্রতি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী/পুলিশ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে সংবাদ সংগ্রহ করুন প্রদান করিলাম। প্রতিটি টিভি চ্যানেলে তাহার বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ রহিয়াছে যাহা আপনি তলব করিয়া দেখিতে পারেন।

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করিবার কর্মকান্ডে লিপ্ত নকল/ ছদ্মবেশী স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে অতিসত্বর গ্রেফতার করিয়া আসল ডাইনামিক শামসুল ইসলাম টুকুকে বির্তকমুক্ত করুন। নকল দুই নম্বর বদমায়েশ টুকুর বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করুন যাহাতে আর কেহ নকল টুকু সাজিয়া অবান্তর কথা বলিয়া সরকারের মহত অর্জনগুলিকে প্রশ্নবিদ্ধ করিতে না পারে। আপনার দৃঢ় বক্তব্যের পরে এই ধারনা বদ্ধমূল হইতেছে যে নকল টুকু মিডিয়ার সৃষ্টি হইতে পারে। সুতরাং জোচ্চর টুকুকে গ্রেফতারের পরেই মিডিয়ার বিরুদ্ধে কঠোরতর ব্যবস্থা গ্রহন করিতে হইবে। এই সকল মিডিয়ার সংবাদ বিভাগে কর্মরতদের এমন ভাবে পিটাইতে হইবে যেন তাহারা এই ধরনের কোন নকল টুকুকে জন্ম দিতে না পারে, চিরদিনের জন্য বন্ধ্যা হইয়া যায়। মিডিয়ার বিরুদ্ধে রাস্ট্রদ্রোহের মামলা করিয়া দৃষ্টান্ত স্থাপন করা যাইতে পারে। নকল টুকুকে লইয়া মাতামাতির কারনে একটি শক্ত আইন প্রনয়ন করিয়া বাংলা ব্লগগুলিকে চিরদিনের জন্য নিষিদ্ধ করা ব্যতীত বিকল্প কোন পথ খোলা নাই।

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ভিডিও ফুটেজ-এর ব্যক্তিটি যদি আসল শামসুল ইসলাম টুকু হইয়া থাকেন তবে আপানকে মিথ্যা বলার অপরাধে তাহাকে বিদায় করুন। আপনার যোগ্য ডেপুটি হিসাবে ইতোমধ্যে তিনি যথেষ্ট বিনোদন দান করিয়াছেন। তবে বাস্তবতা হইল জনগনের করের টাকায় বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদার একাধিক ভাড় পালন করিবার বিলাসিতা শোভা পায়না। আপনি আপনার অধিনস্থ আইজিপিকেও বিদায় করুন। কারণ তিনি ইতোমধ্যে প্রমান করিয়াছেন যে, তদন্তের ‘প্রনিধানযোগ্য অগ্রগতি’ আর ‘সন্তুষ্টি’ তাহার বোধগম্য নহে। যে মামলার সামান্য অগ্রগতি নাই তাহাতে তিনি প্রনিধানযোগ্য অগ্রগতি খুঁজিয়া পাইয়া সন্তুষ্টি প্রকাশ করিয়াছিলেন। এই ধরনের লোক কিভাবে আইজিপি পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হন আর বহাল তবিয়তে থাকেন তাহা গবেষনার বিষয় হইতে পারে।

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সবশেষে অক্ষম জনতার পক্ষ হইতে বিনীত প্রার্থনা ও আবেদন, জনগনের করের টাকায় অযোগ্যতা সত্বেও মন্ত্রীত্বের সুবিধা ভোগ করিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদটাকে সম্পূর্ণ ভাড়ের পদে পরিনত করিবার জন্য নিজের বিবেকের নিকট ক্ষমা চাহিয়া পদত্যাগ করুন, বিদায় হউন। মন্ত্রীত্ব ছাড়িতে কষ্টবোধ করিলে প্রধানমন্ত্রীকে বলিয়া বিনোদন মন্ত্রণালয় নামক একখানা মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করিয়া তাহাতে মন্ত্রী পরিষদের অন্যান্য রত্নদের লইয়া বিনোদন ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ডিজিটাল করিবার মহত লক্ষ্যে নিবেদিত হউন। তাহাতে আপনাদের মেধা ও জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগে দেশ লাভবান হইবে এবং অক্ষম জনতা নিরাপত্তার পরিবর্তে বিনোদনবাক্য শ্রবনের অত্যাচার হইতে নিষ্কৃতি পাইবে।

এই পোস্টটির সাথে সহমত পোষণ করলে লিখাটি শেয়ার করুন।

ফেসবুক আইডি Abu Sayeed Ahamed

প্রাসঙ্গিক সাম্প্রতিক পোস্ট:
স্যার, ইহা এক ঐতিহাসিক নির্দেশনা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করুন, সাথে নিয়ে যান আইজিপিকে

সাগর-রুনি, ইলিয়াস আলী, নির্লজ্জতা বাজাও তালি