ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

 

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে ধর্ষণের চিত্র দেখে এটা বলা যেতেই পারে যে এই ভূমি ধীরে ধীরে ‘ধর্ষণের জন্য তীর্থ ভূমি’ হয়ে উঠছে! গতকাল মঙ্গলবার দিনাজপুরে ধর্ষিত হলো এক শিশু। শিশুটির বয়স মাত্র পাঁচ বছর। ধর্ষিত হওয়ার পর ওর গাল, গলা, হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন। শরীরে কামড়ের দাগ। ঊরুতে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার ক্ষত। শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত। আজ বুধবার চিকিৎসকেরা বলেছেন, শিশুটির প্রজনন অঙ্গের ক্ষত হাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে। এতে ওই অঙ্গে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। তাই এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণই এখন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

দেশে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও নারী বা শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেই চলছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ধর্ষণের মহোৎসব চলছে! কেন এই মহোৎসব? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে একটু পেছনে তাকাতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি কিভাবে জেঁকে বসেছে। আবার পক্ষপাতমূলক আইন ও রাষ্ট্রের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা এসবই ধর্ষণের মত গুরুতর অপরাধকে উস্কে দিচ্ছে। কত রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেই চলেছে গত কয়েক বছর থেকে। এই অপরাধীরা যদিও গ্রেপ্তার হয় অল্পকিছুদিন পরেই আইনের ফাঁক গলে বের হয়ে যায়। কেন হচ্ছে এমনটা। সহজ উত্তর! আগের ঘটনাগুলোতে কারো কিছু হয়েছে? দু-একটা ব্যতিক্রম বাদে উত্তর আসবে না। চলুন গত কয়েক বছরের ধর্ষণের রোমহর্ষক ঘটনাগুলো দেখে নেয়া যাক।

গত বছর টাঙ্গাইলে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি আমাদে‌র চোখে আঙ্গুল দিয়‌ দেখিয়‌ে দিয়েছিলো রাষ্ট্রযন্ত্রের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক যে রাষ্ট্রযন্ত্র পরোক্ষভাবে ধর্ষকদেরই পক্ষাবলম্বন করেছিলো। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর কালিহাতীতে প্রকাশ্য দিবালোকে মা-ছেলেকে বিবস্ত্র করার মতো জঘন্যতম অপরাধ সংঘটিত করা হলো। তারপর ছেলের সামনেই তাঁর মাকে ধর্ষণ করা হয়েছিলো।

অপরাধের মাত্রাটা কত বড় ছিলো একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে শরীরের লোমগুলো শিউরে উঠে। একবার একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন ঐ ছেলেটি আপনি আর ঐ মহিলা যাঁকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্যে ধর্ষণ করা হলো উনি আপনার মা! তখন অনুভুতিটা কেমন হতো একটু আঁচ করতে পারবেন কি? ভাবতেই পুরো শরীরটা ঠান্ডা হয়ে এসেছিলো। একটু ভেবে দেখেছেন কি পরিমাণ যন্ত্রনা আর ক্ষত নিয়ে বেঁচে অাছে এই মানুষ দুটি। তাদের কি কোন খোজখবর রেখেছি আমরা। না রাখি নাই। পৃথিবীটা এই মানুষ দুটির জন্য কতটা কঠিন হয়ে গেল এটিও আমরা চিন্তা করতে পারি নাই।

সবচেয়ে দু:খজনক ঘটনা ঘটেছিলো এই ঘৃন্য অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের নির্বিচার গুলি। পুলিশের গুলিতে তিনটি তাজা প্রাণ ঝরে গিয়েছিলো। গুলিবিদ্ধ হয়েছিলো আরও চারজন মানুষ। আহত হয়েছিলেন প্রায় আরও পঞ্চাশ জন। ঘটনাটি একটু বিশ্লেষন করে দেখা গিয়েছিলো পুলিশ ঐ ঘটনায় দুজন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছিলো শুধুমাত্র আইওয়াশ হিসেবে! জনতার চাপে ধর্ষকদের নামমাত্র গ্রেপ্তার করেছিলো ঠিকই। কিন্তু পুলিশ চায়নি এদের শাস্তি নিশ্চিত হোক! হয়ও নি এখন পর্যন্ত। মামলাটাই চলছে কি না কে জানে? এমনকি ঐ ঘটনায় এই সমস্ত কুলাঙ্গারদের মোটিভ জানতে তখন রিমান্ডে নেয়ার প্রয়োজন মনে করে নি পুলিশ। অথচ ঠুনকো অভিযোগে অনেক সম্মানিত নাগরিকেরই রিমান্ড মঞ্জুর করতে দেখি অহরহ। এতে কি এটাই প্রতিয়মান হয় না যে ‘রাষ্ট্রযন্ত্র উল্টো প্রভাবশালী ধর্ষকদেরই পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছিলো এবং করেই যাচ্ছে!

সাম্প্রতিককালে রাষ্ট্রের সামগ্রিক চরিত্র দেখলে এটি দিবালোকের মত স্পষ্ট যে রাষ্ট্র অপরাধীদের বিভিন্নভাবে লালন-পালন করছে!সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র অপরাধ সংগঘটিত করতে উৎসাহিত করছে! আর সমাজও সেই অপরাধগুলোকে স্বাভাবিক ভাবতে শুরু করেছে! একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের বৈশিষ্ঠ্য হলো রাষ্ট্র দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন করবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের হালচাল দেখে এটি বললে মনে হয় ভুল হবে না যে রাষ্ট্র দুষ্টের পালন আর শিষ্টের দমন করতে তার সমস্ত যন্ত্রকে ব্যবহার করছে!একটি গনতান্ত্রিক এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের জন্য এটি লজ্জার। সাম্প্রতিককালে ধর্ষণ, যৌন হয়রানির মতো অপরাধগুলো যে মাত্রায় বেড়ে গেছে রাষ্ট্র এই অপরাধগুলো নির্মুলে কাগুজে কিছু পদক্ষেপ ছাড়া কিছু করছে বলে বিশ্বাস করা যায় না। অপরপক্ষে বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজে যেভাবে চেপে বসেছে তাতে আমাদের মতো উদ্বিগ্ন নাগরিকদের আঁতকে উঠা আর হা-হুতাশ করা ছাড়া কিছু থাকে না।

সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জঘন্যতম ঘটনা ঘটে গেল গত বছরের বাংলা বর্ষবরণের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায়।এই ঘটনাগুলোতে যে কায়দায় নারীদের যৌন নির্যাতনের মতো ন্যক্কারজনক অপরাধগুলো সংগঠিত হতে দেখলাম; তাতে সভ্যসমাজে রুপান্তর হওয়ার ঠুনকো দাবিকে লাথি মেরে উড়িয়ে দেয়। আমাদের নেতানেত্রীদের মুখে নারীর সম-অধিকার, নারীর ক্ষমতায়নের বড় বড় গলা ফাটানো গল্পগুলোকে কল্পকাহিনীতে পরিণত করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব ঘটনা রুখতে তো পারলোই না বরং মানুষ যখন ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামলো উল্টো এ ঘটনার প্রতিবাদকারীদের ওপর নির্যাতনের খড়গ নামালো।শুধু এখানেই ক্ষান্ত হয়নি, ছাত্র ইউনিয়নের একজন প্রতিবাদী নারীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করলো।ঐ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে রীতিমত শিউরে উঠেছিল সমাজের বিবেকবান মানুষেরা।

পুলিশের এমন বল্গাহীন আচরণে অনেকে আঁতকে উঠেছিল। ভিডিওটিতে নির্যাতনের দৃশ্য দেখে এমন মনে হচ্ছিলো যেন ভয়ার্ত এক ‘হরিণী’ তার চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ! বাঘের থাবা থেকে বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে পালানোর। কিন্তু মানুষরূপী হিংস্র ব্যঘ্রটি ধরে ফেলল তাঁকে এবং অবর্ণনীয় কায়দায় নির্যাতন করতে শুরু করলো। দেশবাসী অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখলো।এ ঘটনায় রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হয়ে মাথা ‘হেইট’ হওয়া ছাড়া আর কিই বা করার থাকে? এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজধানীর কুড়িলে চলন্ত মাইক্রোবাসে একদল হায়েনা এক গারো তরুণীকে গণধর্ষণ করলো। বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে যৌন নিপীড়কদের দেড় মাসেও গ্রেপ্তারে পুলিশের ব্যর্থতার মধ্যে ২১ বছরের এই তরুণী ধর্ষিত হলো। সেই সাথে ঢাকা মেডিকেলে আনসার সদস্য কর্তৃক রোগীর স্বজনকে ধর্ষণের ঘটনাসহ প্রতিদিনই সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনা বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এরপর চলন্ত নৌকায় ধর্ষণের ঘটনাও আমরা দেখলাম করলাম। একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলছে প্রতিনিয়ত। এসব কোন ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হয়েছে এখন পর্যন্ত?

আগের ঘটনাগুলোতে অপরাধীরা ধরা না পড়লে, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক কোন শাস্তি নিশ্চিত না করা গেলে; অপরাধীদেরকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন না করে সরকার ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিদের বড় বড় বয়ানবাজি করে অপরাধীদের বাঁচিয়ে দিলে একশবার এ সমস্ত অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটবে এবং আগেরটার চেয়ে ভয়ংকরভাবে ঘটবে! এবং সেটিই ঘটছে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতির কোন পর্যায়ে এসে পড়েছি, সেটি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে ঘটনাগুলো। বিচারহীনতার এই নোংরা সংস্কৃতি দেখে ধরেই নিতে বাধ্য হয়েছি যে প্রতিদিন যে সমস্ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে; ধর্ষণের প্রতিবাদে মানুষ বিক্ষোভ করলে পুলিশ গুলি করে হত্যা করছে; এসব কোন ঘটনায়ই আর বিচার হবে না! অপরাধীদের দু-একজন যদি কাকতালীয়ভাবে গ্রেপ্তার হয়েও যায়, পরে দুর্বল আইনের ফাঁকে ছাড়া পেয়ে যায়।

আমাদের দুর্ভাগ্য হলো পক্ষপাতমূলক আইন, বিদ্যমান বিচার ও সমাজ কাঠামো এখানে অপরাধীদের তিরস্কার করার পরিবর্তে ভুক্তভূগিকেই হেয় প্রতিপন্ন করতে বেশি ব্যস্ত। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে অপরাধীকেই উৎসাহিত করেই চলছে। স্বাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারা এর জ্বলন্ত উদাহরণ। এই ধারা অনুযায়ী, কোন অসহায় ধর্ষিতা বা ধর্ষণচেষ্টার শিকার কোনো নারী যদি ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেন, তাহলে আইনবলে ঐ লম্পট ধর্ষকেরা বিচারের শুরুতেই এটি দেখাতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে যে, ওই মহিলা ‘দুশ্চরিত্রা’ ছিল। আর ধর্ষক মায়ের উদর থেকে সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া নিষ্পাপ মহামানব! ভাবটা এমন যেন ওই নারীই তাকে ধর্ষণ করেছে! ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টার মতো একটি লোমহর্ষক ঘটনা ঘটলো। ধর্ষণের যন্ত্রনা সইতে না সইতেই আদালতে গিয়েই তাকে শুনতে হলো ‘দুশ্চরিত্রা’ নারী! আদালতের মতো পবিত্রাঙ্গনে বিদ্যমান আইনের কাঠামোর মধ্য থেকে বিচারক, আইনজীবী, আইনের রক্ষক পুলিশসহ সবার সামনে আবার প্রকাশ্যে ধর্ষিত হলো বিচারপ্রার্থী নারী! সামাজিকভাবেও তাকে বারবার প্রকাশ্য-দিবালোকে গণধর্ষণের আয়োজন করা হলো! আর এগুলো করা হলো বিদ্যমান আইন কাঠামের মধ্য দিয়েই! ১৮৭২ সালের স্বাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারাবলে পুনরায় ওই নারীকে ধর্ষণের সুযোগ করে দিচ্ছে আদালত! ধারাটি একবার দেখে নেয়া যাক- “When a man is prosecuted for rape or an attempt to ravish, it may be shown that the prosecutrix was of generally immoral character” “অর্থাৎ যদি কোন পুরুষ ধর্ষণ বা শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ফৌজদারিতে সোপর্দ হয়, সেক্ষেত্রে সে আদালতকে দেখাতে পারবে যে অভিযোগকারী সাধারণত একজন দুশ্চরিত্রবান নারী”। এই ধারাটির কতটা যৌক্তিকতা রয়েছে? একটু ভেবে দেখবেন কি? ধর্ষণ ঠেকাতে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড করার বিধান করা হচ্ছে। তাতে কি লাভ হবে। আইনের কি প্রয়োগ হবে সঠিকভাবে? বা আদালত অঙ্গনে ধর্ষিতাকে কি আবার ধর্ষণ করা হবে না? এর কি নিশ্চয়তা?

ধর্ষকদের প্রভাব-প্রতিপত্তি, টাকা দিয়ে পুলিশকে পকেটে রাখা, রাজনৈতিক আশ্রয়, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ আর পক্ষপাতমূলক আইন একজন ধর্ষিতা নারীকে সমস্ত কৌশল প্রয়োগ করে আদালতের মাধ্যমে দুশ্চরিত্রা প্রমাণ করে ধর্ষণকে উৎসাহিত করছে। এই আইন কাঠামের সুযোগ নিয়ে যেমন সামাজিকভাবে দুশ্চরিত্রা বলা হলো টিএসটিতে যৌন হয়রানির শিকার নারীদেরকে। দুশ্চরিত্রা বলা হলো পুলিশের হাতে নিগৃহীত ‘ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রীকে। অনেক ‘চরিত্রবানরা’ বলার চেষ্টা করলেন হয়রানীর শিকার নারীদের ‘পোষাকে’ সমস্যা ছিল। যা হয়েছে ঠিকই হয়েছে! এরা দুশ্চরিত্রা! এভাবে সামাজিকভাবে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছে তাঁরা। এমনকি সবচেয়ে বেশি আশ্চর্য হয়েছিলাম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তথাকথিত বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা কিছু শিক্ষিত মানুষেরও এই সুরে কথা বলা দেখে।

সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক মনে হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মত সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠগুলোতেই যৌন হয়রানির চিত্রগুলো ভয়াভহ রুপ ধারণ করছে। যেই পবিত্র অঙ্গন থেকে প্রতিবাদের ঝড় ওঠার কথা ছিলো, খোদ সেখানেই নিপীড়নের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। আবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আদালত কর্তৃক নির্দেশিত ও ইউজিসির নীতিমালা মোতাবেক যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই এই কমিটি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষকদের বা সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলে, সেটি অভিযোগ আকারে না নেয়ার মত ঘটনাও পত্রপত্রিকায় এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে যারা অভিযোগ করতে গিয়েছে তাদেরকেই চরিত্রহীন আখ্যা দিয়ে দুর দুর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। আর এই ‘চরিত্রহীন’ বা দুশ্চরিত্রা তকমা দেয়ার মহোৎসবে এই আইনের দায়ই সর্বোচ্চ।

ধর্ষণ, খুনের মতো অপরাধগুলো সংঘটন হলে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হবে এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু রাষ্ট্রের আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ প্রতিবাদী মানুষদের দমাতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে। পরোক্ষভাবে তারা এই বার্তা প্রদান করতে চায় যে অপরাধ সংঘটন হলেও এর প্রতিবাদ করা যাবে না!বিচার চাওয়া যাবে না! অপরাধীদের বিচার চেয়ে আন্দোলন করলে আন্দোলনকারীদেরই দমাতে হবে। এটিই এই সমস্ত ভঙ্গুর রাষ্ট্রের নীতি।টাঙ্গাইলের এই ঘটনাটিও একই সূ্ত্রে গাঁথা। এগুলো বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে মারাত্নক ভুল হবে। ঐ ঘটনায়ও যেমন পুলিশ কাউকে রাস্তায় নামতে দিতে চায়নি এখানেও ঠিক একই রকম করলো। প্রতিবাদে রাস্তায় নামা নিরস্ত্র মানুষগুলোর উপর সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করলো এবং খোদ নাগরিকদের রক্ষক রাষ্ট্রযন্ত্রই তার তিনজন সম্মানিত নাগরিকের প্রাণ কেড়ে নিলো।

অথচ পুলিশের নাকের ডগায় বসে ধর্ষণ আর খুন করা হলো গত কয়েক বছর ধরে। ব্লগার, সংখ্যালঘুদের হত্যার ‘মহোৎসব’ শুরু হয়েছিলো। এখন ধর্ষণ চলছে দেদারসে! কোন হত্যাকান্ড বা ধর্ষণের কি সুষ্ঠু বিচার হয়েছে এখন পর্যন্ত? আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সেদিকে কোন মাথা ব্যথাই খেয়াল করা যায় না। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে একটি উদাহরন সৃষ্টি করার তাগিদ অনুভব করেন না। উল্টো এগুলোর প্রতিবাদ করতে গেলে মানুষগুলোর কণ্ঠরোধ করতে তৎপর হয়ে উঠে পুলিশ। উল্টো প্রতিবাদীদেরকেই হুমকি ধামকি দেয়। ব্লগারদের দেশ ছেড়ে যাবার পরামর্শ দেয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।পরোক্ষভাবে এগুলো একটি ইঙ্গিত বহন করে। এগুলো রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যক্ষ সমর্থনকেই ইঙ্গিত করে। খুনি, ধর্ষক সর্বোপরি অপরাধীরা এভাবে সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রের পরোক্ষ মদদ-প্রাপ্ত হয়ে আরো উৎসাহিত হয়।

লেখক
এম.এ.সাঈদ শুভ
গবেষক ও লেখক
ইমেইল: sayeedlaw@gmail.com
ফেইসবুক: https://www.facebook.com/sayeed.shuvo.90

slide