ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
 যে দেশে ‘ফ্লোর-ক্রসিং’ অর্থাৎ ৭০ নং অনুচ্ছেদ রয়েছে সে দেশে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদে অর্পণ করা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য কতটা হুমকিস্বরুপ সেটি বুঝতে খুব বেশি পাণ্ডিত্যের দরকার পড়ে না। বিচারকদের যদি সংসদ সদস্যদের দ্বারা অপসারণের বিধান রাখা হয়, তাহলে সেখানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে এটি শতভাগ নিশ্চিত।সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কোনো আইনপ্রণেতা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না, সেহেতু বিচারপতিদের অপসারণের বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে যা হবে, সেটাই কার্যকর হবে।
আরো স্পষ্ট করে বললে যেটি দাঁড়ায় সেটি হলো-বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সম্পূর্নভাবে অর্পিত হবে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির হাতেই! সেটি যেকোন সময়ের ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতার হাতেই থাকবে। এই একজন ব্যক্তি চাইলে কোন বিচারককে অপসারন করতে এক মিনিট সময়ও লাগবে না! এই বাস্তবতায় আরেকটি বিষয় এখনই ভাবার সময় এসেছে সেটি হলো সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকেই অবৈধ ঘোষনা করা।কারন এই অনুচ্ছেদটি যেকোন বিবেচনায় সংবিধানের মূল স্পিরিটের সাথে শতভাগ সাংঘর্ষিক।
আরেকটি বিষয় ভাবতে হচ্ছে। সেটি হলো- সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষনার পর কতিপয় সাংসদ যে ভাষায় আদালতকে আক্রমন করতে শুরু করেছেন এটিও বিচার বিভাগের জন্য এ্যালার্মিং মনে হচ্ছে। কারন হাইকোর্টের এ্ই রায়টি যদি তাঁরা অসাংবিধানিক মনেই করে থাকেন তাহলে অাইন অনুযায়ী আরো দুইটি পর্যায় রয়েছে এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করার। অাপীল বিভাগে আপীল এবং রিভিউ। কিন্তু সেটি না করেই দায়িত্বশীল অনেক সাংসদই বেশ অসংলগ্ন কথা-বার্তা বলছেন যা আইন এবং বিচার বিভাগ উভয়ের জন্যই ভয়াবহ পরিনতি ডেকে আনতে পারে! গনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে নিজেদের দাবি করলে আইনের শাসনের প্রতি শতভাগ শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
এম.এ. সাঈদ শুভ
এম.ফিল. গবেষক
ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ

slide