ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 
untitled-19_201308

‘কোন কিছু হায় করি নাকো ভয়, আমরা নওজোয়ান/কাটাভরা পথে চলি দিবা রাতে, মোরা সংগ্রামী আগুয়ান’ -এমন তেজদীপ্ত আদর্শ ভরা স্লোগান যারা বুকে ধারণ করে পথ চলে তারাই তো নতুন প্রজন্ম। তারাই তো এদেশের ভবিষ্যত কর্ণধার। স্বপ্ন, আশা, আকাঙ্খা, ইচ্ছে বুকের মধ্যে পোষণ করে দেশের জন্য তথা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে অবিরত।

তাদের এই আশা-আকাঙ্খাকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেওয়া হচ্ছে কিছু অনাকাঙ্খিত বিষয়ের কারণে। তাদের বিরুদ্ধে এখন ষড়যন্ত্র হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমাদের তরুণ প্রজন্ম আজ নিজেদের জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যতদের থামিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে প্রতিনিয়ত।

৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচন ও ৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধে এই ছাত্র-যুবক তথা তরুণ প্রজন্মরাই ঝাপিয়ে পড়েছিল। তারাই এদেশকে স্বাধীন করার জন্য নিজের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল বাংলার মাটিতে।

তরুণ প্রজন্মরা যেমন তেজদীপ্ত হয়, তেমনি তাদের আন্দোলনগুলো হয় ঝাঁঝালো। এই ঝাঁঝালো আন্দোলনে ছন্নছাড়া হয়ে দেশবিরোধীরা দেশের সূর্য সন্তানদের আটকাবার জন্য গড়ে তুলে নতুন নতুন ঘৃণ্য পরিকল্পনা। তাদের ফাঁদে আটকে আমাদের মেধাবী প্রজন্মকে নিঃশেষ করে দেবার পায়তারা করছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও তাদের দোসর মহল প্রজন্ম।

কিন্তু একটা কথা না বললেই নয়- এই তরুণ প্রজন্মদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আজ আমরা বাংলাভাষায় গর্ব করে কথা বলতে পারছি, প্রাণ ভরে ডাকছি মা শব্দটি, এঁদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামে একটি ভূখন্ড। আজ আমরা নিজ কন্ঠে উচ্চস্বরে গাইছি- ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’।

যারা কখনো এদেশের স্বাধীনতা চায়নি, যারা এদেশকে ওই পাকিস্তানি হায়েনাদের হাতে তুলে দিয়ে নিজেদের স্বার্থান্বেষী মনোভাবের পরিচয় দিয়ে দেশকে মরুভূমিতে পরিণত করতে চেয়েছিল; তারা এবং তাদের প্রজন্মরা আমাদের নবীন তথা তরুণ প্রজন্মদের বিরুদ্ধে আঁকছে একের পর এক ষড়যন্ত্রের রেখা!

যেহেতু আওয়ামী লীগ সরকার একুশ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল। তখন তাদের মতো দেশবিরোধী বর্বররা ক্ষমতায় থেকে এদেশের সম্পদ লুট করেছে, ক্ষমতা লাভ করেছে, তাদের গাড়িতে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের লাল-সবুজ’র পতাকা লাগিয়ে ঘুরেছে সারা বাংলাদেশে। তারা প্রতিপত্তির মালিক হয়েছে। দেশি-বিদেশী ক্ষমতাধরদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিল।

কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম আজ তাদের সেই মুখোশ উন্মোচন করে দিচ্ছে। তাদেরকে দেশবাসীর সামনে প্রমাণ করছে, তারা কখনোই এদেশের স্বামীনতাকামী ছিল না। তারা বাঙালি জাতির চির শত্র“ পাকিস্তানের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছিল, এখনও করে যাচ্ছে। এটাই যখন নব প্রজন্মরা তুলে ধরছেন, তখনই সেই পাকিস্তানি দালালেরা তাদের বিশেষ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অথবা উপার্জিত অবৈধ অর্থকে অস্ত্র বানিয়ে আমাদের মেধাবী সন্তানদের শেষ করে দিতে চাচ্ছে।

১৯৭১ সালে তাদের পরামর্শেই পাকিস্তানিরা আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। তারা ভেবেছিল এদেশকে যদি মেধাশূন্য করা যায় তাহলে এদশের মেরুদন্ড বলতে কিছুই থাকবে না।

ঠিক একই ঘটনা বর্তমানেও পরিলক্ষিত। এখনও সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নের নিমিত্তে কাজ করছে দেশবিরোধী অপশক্তি মহল। যে কিনা সংগঠনকে ভালোভাবে পরিচালনা করে দেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমকে বেগবান করবে, তাকেই তারা নিশ্চিহ্ন করে দেবার জন্য উঠে পড়ে লাগবে।

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ঘটনাবলীর মাধ্যমে তা প্রমাণিত। বাংলাদেশে যারা লেখালেখির মাধ্যমে অপরাজনীতির প্রমাণ দিবে, দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা দেশবাসীর কাছে কলমের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দিবে, যাদের মেধাতে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে তাদেরকেই টার্গেট করে হত্যা করা হচ্ছে এবং এই ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এটা নিছক পাকিস্তানি কার্যকলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।

স্বাধীনতাবিরোধী ও তাদের দোসর মহল ভাবছে, নতুন প্রজন্মদের ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে এদেশের উন্নয়ন ধারাকে বাধাগ্রস্থ করবে। সরকারকে বিব্রত করা সম্ভব হবে এবং বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ণ করা সহজ হবে।

কিন্তু তারা জানে না, মেধা ও মননশীলতায় বর্তমান প্রজন্ম কতটা শক্তিশালী। দেশকে নিয়ে তাদের চিন্তা-ভাবনা, ভাবার বিষয়টি কত সু-বিশাল।

বঙ্গবন্ধু’র কণ্যা শেখ হাসিনার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশকে পুরোপুরি রূপান্তর করতে নতুন প্রজন্মের কাজের দৃঢ়তাকে যতই ভেঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা করা হোক না কেন, তা কখনোই সম্ভব হবে না বলে আমার বিশ্বাস।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে আছে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা উদীয়মান মেধাবী তরুণ প্রজন্মরা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ শেখ হাসিনার হাত ধরে করবে বিশ্ব জয়। তরুণ প্রজন্ম হবে সেই জয়ের হাতিয়ার। সকল অপশক্তি, অপরাজনীতি, অপরাজনীতিবিদ ও পাকিস্তানের দালালদের নির্মূল করে ছুটে চলবেই নবীনদের প্রযুক্তির জয়যাত্রা।

লেখক : সাবেক ছাত্রনেতা ও সহ-সভাপতি, বোয়াফ