ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

noakhali

ছবিঃ মাইজদী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এর পাশে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পার্ক স্থাপিত হলে এর পবিত্রতা ক্ষূণ্য হবে বলে মনে করেন এলাকার সংস্কৃতিকর্মীরা।

আমার প্রাণের শহর মাইজদী। এই শহরে আমি বেড়ে উঠেছি। শিশু থেকে কৈশোর, কৈশোর থেকে যৌবন এবং আমার সাংস্কৃতিক বোধের এবং চর্চার বিকাশ ঘটেছে এই মাইজদীতে। আমাদের সংস্কৃতি চর্চার মূল কেন্দ্রবিন্দু তথা চারণভূমি ছিলো এই কচিকাঁচার মেলা সংলগ্ন প্রশস্ত সবুজ ভূমি। এক সময় আমরা আন্দোলন করে কচিকাঁচার মেলার পাশে একটি মুক্ত মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় এখানে ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার স্থাপিত হয়েছে, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবন দানকারি নোয়াখালীর বীর শহীদদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ। যতদূর জানি আমার জন্মের বহু আগে থেকে মাইজদী শহরে টাউন হল এবং কচি কাঁচার মেলা সাংস্কৃতিক বলয় হিসেবে পরিব্যপ্ত ছিলো।

এই চত্বরে নোয়াখালীর সংস্কৃতিসেবীরা প্রতি বছর বিজয় মেলার আয়োজন করেন। এক সময় আমিও এই মেলার একজন একজন গর্বিত সংগঠক ছিলাম। চৈত্র সংক্রান্তির উৎসব বলুন আর কবিতা পাঠের আসর বলুন- সব কিছুর প্রাণ বিন্দু এই মৌমাছি কচিঁকাঁচার মেলার আশপাশের এলাকার প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম পরিবেশ।

কিন্তু শোনা যাচ্ছে এখানে একটি ‘ড্রিম পার্ক’ নামক ব্যবসাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার আয়োজন একবারেই পাকাপোক্ত। আমি বলবো এটি শুধুই নিছক কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নয়, নোয়াখালীর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে ধ্বংশ করার একটা হীন চক্রান্ত। এর পেছনে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির অর্থায়ন আছে বলে শোনা যায়। সেটা যদি সত্যি হয়- তাহলে বলবো- তারা ভেতরে ভেতরে নোয়াখালীর সংস্কৃতি কর্মিদের উপর প্রতিশোধ নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কেননা এই মঞ্চ থেকেই আমরা সব সময় প্রতিক্রীয়াশীলতা এবং সাম্প্রদায়ীকতার বিরুদ্ধে সকন্ঠ উচ্চারণ করে থাকি। আমি বলবো আমাদের কন্ঠরোধ করার জন্যেই এই উদ্যোগ।

সুতরাং, এখনি সময় সোচ্চার হওয়ার। প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ ভাবে এর মোকাবেলার। এক সময় জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের কাছ থেকে নোয়াখালী টাউন হল কেড়ে নেয়া হয়েছে। এখন সর্বশেষ আশ্রয়স্থলটুকুও কেড়ে নেয়ার চক্রান্ত বাস্তবায়নে মেতে উঠেছে প্রতিক্রীয়াশীল এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি যুগপৎভাবে। আমাদের এই অপচেষ্টা ও দখলদারিত্ব রুখতেই হবে।