ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

ঘটনাটি ঘটেছে এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে। বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল তার প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে, ভবিষ্যত নেতৃত্বকে হত্যার চক্রান্তে সামিল হয়েছে। উপ মহাদেশে প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়ে ক্ষমতায় অধিষ্ঠানের ঘৃণিত অপসংস্কৃতি বহুকাল আগে থেকে চলে আসছে। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে খুন, ভারতের ইন্দিরা গান্ধী, রাজিব গান্ধী, পাকিস্তানে জিয়াউল হক, বেনজীর ভূট্টো এ ধরনের নিষ্ঠুর রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের শিকার। ৭৫ পরবর্তি সময়ে বাংলাদেশে এ ধরনের বহু হত্যাকান্ড সংঘঠিত হয়েছে। জাতীয় চার নেতা, কর্ণেল তাহের, খালেদ মোশাররফ, জিয়াউর রহমান তেমনি ভাবে রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের শিকার। এরপর বহুবার বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে।

সর্বশেষ শেখ হাসিনার সন্তান সজিব ওয়াজেদ জয় এর উপর অনুরূপ হত্যাচেষ্টা করা হয়, তাও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বর্হিরাষ্ট্রে বসে।

একথা অনস্বিকার্য যে জয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর দৌহিত্র এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং শাসকদল আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনার পুত্র। আগামি দিনে জয় এর রাজনীতিতে আসা অত্যন্ত সংগত এবং পরিস্কার। এই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়ে ভবিষ্যত রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নিজেদের অবস্থান সংহত করার হীন চক্রান্তের অংশ হিসেবে আমাদের বিরোধী দলের একটি অংশ তৎপর রয়েছে। এই অংশটিই শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছে, যার বড় উদাহরণ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। যেখানে শুধু শেখ হাসিনা নয়, ১৫ আগস্টের মতো আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা ছিলো।

joy

সম্প্রতি শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে জয় হত্যা ষড়যন্ত্রটি সবার নজরে আসে। এ আগে তিনি (জয়) বহুবার গণমাধ্যমে বললেও বিষয়টি অতোটা আলোচিত হয়নি। নিজের হত্যা প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে অনেকের কাছে সমালোচিতও হয়েছেন।

সম্প্রতি ইমরান এইচ সরকারের মতো একজন আলোচিত ব্যক্তি শফিক রেহমানের গ্রেফতার এর সমালোচনা করেছেন। তার এই বক্তব্য কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিলো এই বিষয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে। তিনি সচেতন ভাবে এই বক্তব্য প্রদান করলে মনে করতে হবে তাঁর মধ্যে হয়তো কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের সবাইকে একটি কথা মনে রাখতে হবে-দেশের আর সব হত্যাকান্ড কিংবা হত্যা পরিকল্পনার সাথে জয় এর হত্যা প্রচেষ্টা এক করে দেখা যাবেনা। জয় এর অনুপস্থিতি বাংলাদেশের ভবিষ্যত রাজনীতি তথা আওয়ামীলীগ এবং ভবিষ্যত বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যে শেখ হাসিনা এবং জয় এর বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরী। সেই সাথে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়াও অনুরূপভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শফিক রেহমান কি ছিলেন সেটা বড় কথা নয়। তিনি যদি এ ধরনের একটি ন্যাক্কার জনক ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকেন, তাঁকে অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে এবং শাস্তি পেতে হবে। শুধু তিনি নন, এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককেই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা সাধারণ নাগরিক সাগর-রুনী এবং তনুর মতো অন্যান্য হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে যেভাবে সোচ্চার, তেমনি বাংলাদেশের ভবিষ্যত রাজনৈতিক কর্ণধার সজীব ওয়াজেদ জয় এর হত্যা প্রচেষ্টার বিপক্ষে সোচ্চার এবং উচ্চকন্ঠ।