ক্যাটেগরিঃ কৃষি

এখন শুষ্ক মৌসুম। প্রতি বছর এসময় এলেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গরিব কৃষকরা না বুঝে ফসলি জমির উর্বর মাটি বিক্রি করে থাকে। দারিদ্র্যতার কারণে না বুঝে কৃষকরা অসাধু মাটি ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে ইট ভাটায় মাটি বিক্রি করে। জমির মালিকরা এর কুফল বিবেচনা করতে পারছেনা। সামান্য টাকায় পানির দামে বিক্রি করছে মূল্যবান মাটি । প্রতি বছর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী সহজ সরল কৃষক ও জমির মালিকদের টাকার লোভ দেখিয়ে আবাদি জমির মাটি কেনেন। ইটের ভাটার ইট তৈরী, নিচু জমি ভরাট, বসত বাড়ি ও রাস্তা নির্মাণ, মার্কেট তৈরীসহ নানা উন্নয়নে ফসলি জমির উপরের মাটি বিক্রি হচ্ছে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে আমন ধান কাটা শেষ হয়ে গেলে মাটি বিক্রি শুরু হয়। বেশিরভাগ অভাবি কৃষক অভাব অনটনে পড়ে আবাদি জমির ওপরের অংশ বিক্রি করে। এক থেকে দুই ফুট নিচের দিকে গর্ত করে মাটি কেটে নেয় ব্যবসায়ীরা। মাটি ব্যবসায়ীরা সামান্য টাকায় কেনা মাটি চড়া টাকায় বিক্রি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ইট ভাটার মালিকদের কাছে।

এভাবে প্রতি বছর ফসলি জমির উর্বর মাটি বিক্রি ও অপসারণের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে আশে-পাশের আবাদি জমির চরম ক্ষতি হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও গাছপালার ভিত দুর্বল হয়ে পড়ছে। জৈবসার ব্যবহারে জমির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু মাটি কেটে নেয়ার পর প্রথম বছর ওই জমিতে কোনো ফসল হয় না। এবং পরবর্তী কয়েক বছর জমিতে কোনো ফসল হয় না।