ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

সাগর-রুনীর এক মাত্র সন্তান মেঘ আর কখনো বাবার আদর; মায়ের ভালোবাসা পাবে না। মা-বাবার প্রিয় মুখখানি আর দেখা হবে না তার। পৃথিবীতে মেঘ একা। চির স্নেহ বঞ্চিত মেঘ এখন রাস্তায় দাঁড়াতে হয়। তবে ভালোবাসা কিংবা স্নেহ পাবার জন্য নয়; বাবা মায়ের খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে। ৪৮ ঘন্টার জন্য কত শত ঘন্টা পার হয়ে মাস হারিয়ে গেল কিন্তু খুনিরা গ্রেফতার হলো না। চিহ্নিত করা গেলো না খুনিদের। যে কারণে পাঁচ বছরের শিশুকে নামতে হয়েছে রাস্তায়। যখন ৪৮ দিন পার হবে তখন কি করতে হবে মেঘকে মহান আল্লাহ ভালো জানেন।

১০ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ঘাতকদের হাতে প্রান হারান মেঘের বাবা বেসরকারি টেলিভিশন মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক সাগর সরোয়ার ও মেঘের মা এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি।
সাংবাদিক হওয়ায় তাঁরা খুন হয়েছেন। সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে তাঁরা আজ পৃথিবীতে নেই। শুধু আছে স্মৃতি।

যদি আমরা সাংবাদিক ছাড়া একটি পৃথিবী কল্পনা করি তা হলে পৃথিবীটা কেমন হবে ? যদি আমরা সংবাদপত্র ছাড়া বাংলাদেশকে চিন্তা করি-তবে আমাদের এই দেশটি কেমন হবে ? সত্যি যদি এমন চিন্তাই আমারা করি তবে হয়তো হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া স্বাভাবিক থাকবেনা। তা হলে কেনো এই দেশে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না; সাংবাদিক সম্পতির খুনিদের গ্রেফতার করা যায় না ? তা হলে কি সাংবাদিক জ ই মামুনের সাথে এক মত হয়ে সবাইকে বলতে হবে ‘এটা পুলিশের ব্যর্থতা নয়, সরকারের ব্যর্থতা’ ।

মেঘ তুমি আর কেঁদো না; রাস্তায় এসো না। আমার বিশ্বাস তোমাকে আর রাস্তায় এসে দাঁড়াতে হবে না। এদেশের রাষ্ট্রপতি প্রিয়জন হারানোর ব্যাথা বুঝেন। প্রধান মন্ত্রীও মা-বাবা,ভাইসহ স্বজনদের হারিয়েছেন তিনিও ব্যাথা কাকে বলে বুঝেন। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমি বুঝি; প্রধান মন্ত্রী যেহেতু তোমার দায়িত্বই নিয়েছেন সেহেতু খুনিরা গ্রেফতার হবে। খুনিদের বিচার হবেই। যেমন হয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর খুনিদের।