ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

আকাশের ঠিকানায় চিঠি লেখার গল্প রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ আমাদের শুনিয়ে গেছেন। আকাশের ঠিকানায় কেউ চিঠি লিখেছেন কিনা জানি না, কিন্তু প্রিয় মানুষদের চলে যাবার মিছিলের দিকে তাকিয়ে থেকে আমরা প্রতিনিয়ত দীর্ঘশ্বাস গোপন করেছি। তারপর শবযাত্রা শেষে আপন আলয়ে ফিরে এসে গগন হরকরার মতো আমরাও বলেছি ‘কোথায় পাবো তারে আমার মনের মানুষ যে রে’।

মনের মানুষের ঠিকানা কেউ জানে না- হয়তো মনের ঠিকানাই জানা নাই কারও। তাই মনের মানুষেরা একে একে হারিয়ে যান, আর ‘আমরা’ বসে থাকি আমাদের অক্ষমতা নিয়ে।

কিন্তু সকলে তো একদলে নই। এই আমাদের মধ্যেই একদল ‘আমরা’ আছেন, যাঁদের মেধা আর শ্রমে প্রতিনিয়ত ঋদ্ধ হচ্ছে বিডিনিউজ২৪ ব্লগ। সারা পৃথিবীর আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা খবরগুলো নিয়ে যাঁদের চৌকষ বিশ্লেষণে ঝলমল করছে ব্লগের পাতা। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি-ইতিহাস-ঐতিহ্য- এক কথায় আকাশ ভরা বাঙলা নিয়ে এই একদল ‘আমরা’ কী অপরিসীম উচ্ছ্বাসে রচনা করছেন রোদের ব্যাকরণ।

পরমাণু ছোটো হলেও সামান্য নয়- এ ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন জন ডালটন। একইভাবে বিডিনিউজ২৪ ব্লগের পাতায় পাতায় ছড়িয়ে থাকা রোদ্দুরের পরমাণুগুলোর মধ্যে কোনো একটি যে আলোচনার বিষয় হতে পারে- তা প্রমাণ করলেন ব্লগার ও প্রিয় মানুষ রণদীপম বসু। এতে অবশ্য আশ্চর্য হবার কিছু আছে। কারণ বামুনের দেশে মহাকায় নিয়ে আলোচনা বেশি হয় না।

তিনি মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী। আমাদের মৃদুল স্যার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিষয়ক প্রথম পাঠ্যক্রম যাঁর হাত দিয়ে শুরু হয়- তিনিই মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী। গত ১৫ই আগস্ট স্যারের জীবনাবসান ঘটে। বিষয়টি আমাদের তথাকথিত মিডিয়ায় খুব বেশি স্থান পায়নি। সেখানে অপাঙতেয়দের ঠাসাঠাসি।

ফলে রণদা’র উৎসাহে আর আইরিন আপুর প্রেরণায় আর সেই সাথে অন্যান্য ব্লগারদের পর্বতসম উৎসাহ একটি ব্লগীয় স্মারক গ্রন্থের উদ্যোগ নেবার বিষয়ে বেশ আগ্রহী করে তোলে। প্রাথমিকভাবে এই ব্লগীয় স্মারকগ্রন্থটিকে ইন্টারনেটে ই-বুক আকারে প্রকাশের ইচ্ছে রইলো। পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষের ইচ্ছে অনুযায়ী এর প্রিন্ট সংস্করণও প্রকাশ সম্ভব। ব্লগ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে। কেবল ব্লগারগণই নন, আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব, যাঁরা হয়তো বিডিনিউজ২৪ ব্লগে লেখেন না- তাঁরাও নানাভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু ব্লগারদের কাছ থেকেই সবচেয়ে বড়ো সহযোগিতা পাওয়া যাবে- কারণ কেন্দ্রটা তো আমরাই- মানে ব্লগাররাই। এই ব্লগীয় স্মারকগ্রন্থের বিষয়ে যে ধরণের পদক্ষেপ প্রয়োজন তার একটি প্রাথমিক তালিকা নিচে দেয়া হলো। মন্তব্যে প্রকাশিত পরামর্শের ভিত্তিতে তা হালনাগাদ করা হবে।

স্মারক গ্রন্থের নাম
সম্মানিত ব্লগার এবং অতিথিগণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে এই স্মারকগ্রন্থের জন্য নাম প্রস্তাবের।

লেখার বিষয়
১। মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী স্যারের শৈশব-কৈশোর জীবনের উপর লেখা
২। তারুণ্য ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের উপর লেখা
৩। শন্তি নিকেতনের জীবন।
৪। তাঁর গবেষণাগ্রন্থ সমূহের আলোচনা।
৫। বাঙলাদেশে ফেরা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগ প্রতিষ্ঠা
৬। শিক্ষকতা জীবন
৭। সঙ্গীতমুখর কর্মজীবন
৮। শিক্ষার্থীদের প্রিয় মৃদুলকান্তি স্যার
৯। সহকর্মীদের চোখে মৃদুলকান্তি চক্রবর্তী

(সম্মানিত ব্লগার ও অতিথিদের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে লেখার বিষয় পরিবর্তন হতে পারে)

আলোকচিত্র
১। পারিবারিক অ্যালবাম থেকে ছবি
২। শান্তি নিকেতনে থাকার সময়ের ছবি
৩। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যারের কর্মময় জীবনের ছবি

(সম্মানিত ব্লগার ও অতিথিদের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আলোকচিত্রের বিষয় পরিবর্তন হতে পারে)

চিত্রকর্ম
১। মৃদুল স্যারের একটি পোট্রেট পেইটিং (যে কোনো মাধ্যমে)
২। ডিজাইনের জন্য প্রয়োজনীয় ইলাস্ট্রেশন (যা আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে)

প্রযুক্তিগত সহযোগিতা
১। ই-বুক তৈরির বিষয়ে সাহায্য
২। ডিজাইনিং এর বিষয়ে সাহায্য

ই-বুক আকারে প্রকাশের সম্ভাব্য সময়
বিষয়ের গভীরতা ও কাজের পরিধি বিবেচনায় রেখে অনুগ্রহ পূর্বক এই বিষয়ে মন্তব্যটি প্রদান করবেন।

মন্তব্যের মাধ্যমে মতামত প্রদানের নিয়ম

যে বিষয়টি নিয়ে মতামত প্রদান করতে চান, সে বিষয়টি লিখে বোল্ড করে নিচে মতামত প্রদানের অনুরোধ রইলো।

উদাহরণ: ধরুন আপনি লেখার বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত শিক্ষকতা জীবন সম্বন্ধে মতামত দিতে আগ্রহী। তাহলে লিখুন

লেখার বিষয়

৬। শিক্ষকতা জীবন: .. .. .. .. ..

অতিথি মন্তব্যকারীগণ অবশ্যই তাঁদের ই-মেইল এড্রেসটি লিখবেন, যেন সংশ্লিষ্ট মন্তব্যের বিষয়ে যোগাযোগ করা যায়।

উল্লিখিত প্রস্তাব প্রাথমিক প্রস্তাব হিসেবে বিবেচ্য হবে এবং সবার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পোস্ট প্রকাশিত হবার দশ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রস্তাব গৃহীত হবে। চূড়ান্ত প্রস্তাব গ্রহণের পরেই লেখা সংগ্রহ এবং যাবতীয় কাজকর্ম শুরু হবে। তবে মন্তব্যের পরিধি বড়ো হলে চূড়ান্ত প্রস্তাব মনোনয়নের আগেই একটি আপডেট দেয়া হবে।

সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। যাত্রা তব শুরু হোক।

২৪ ভাদ্র, ১৪১৮