ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

কৈফিয়ত
আমার এই পোস্টটি মূলত ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১১ তারিখে সকাল ৮ টা ২৬ মিনিটে প্রকাশিত জহির ভাইয়ের একটি পোস্ট ‘বিশ্ববিদ্যালয় না জেলখানা’ তে করা ফজলুল হকের একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে। আমি তাকে অনুরোধ করেছিলাম তার মন্তব্যের জায়গাগুলো নিয়ে একটি আলাদা পোস্ট দেয়ার জন্যে, কিন্তু তিনি দেন নাই। ফলে তিনি যে মন্তব্যটি করেছেন- তার প্রতি মন্তব্য হিসেবেই আমার এ পোস্টটি গৃহীত হবে।

মন্তব্যের যেখানে শুরু

ফজলুল হকের মন্তব্য

মানুষ বাকশালী শাসনে অতিষ্ঠ, আর আপনি আছেন জামাত-শিবির নিয়ে। জামাত-শিবির এখন দেশের কোন সমস্যা নয়। সমস্যা হচ্ছেন আপনারা যারা প্রতিহিংসা চরিতার্থ আর দাদাদের তাবেদারি করতে গিয়ে দেশ জাতির বারটা বাজাচ্ছেন। মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরানোর জন্য এগুলো আপনাদের অপকেৌশল এটা সবাই বুঝে। গণরোষে পড়ার ভয়ে এসব পুরনো প্যাচাল পারছেন। এসব পুরনো প্যাচালের ভাত নেই। জামাত শিবিরের তথাকথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের নামে গায়ের জোরে বিচার করছেন। সাঈদীকে এতো ভয় কেন? কারণ সাঈদীর মাহফিলে যত লোক হতো সেটা আপনার নেত্রীর জনসভার চেয়ে কমকরে হলে ৫গুন বেশী হবে। সাঈদীকে আল্লাহই রক্ষা করবেন। অপেক্ষা করুন, আল্লাহর পক্ষ থেকে চক্রান্তকারিদের জন্য কী শাস্তি অপেক্ষা করছে।

উল্লিখিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমার মন্তব্য

শনিবারের চিঠির মন্তব্য

ফজলুল
আপনি যা বলছেন তার যুক্তি প্রমাণ তথ্য সহ একটা পোস্ট দেন। সেইখানে আলোচনা হউক। জহির ভাইয়ের পোস্টে না।

আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ দিলাম। আপনি যদি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করতে পারেন জামাত-শিবির দুধে ধোয়া, জামাত শিবিরের তথাকথিত মানবতা বিরোধী অপরাধের নামে গায়ের জোরে বিচার হচ্ছে- আমি জীবনে কোনোদিন ব্লগ পোস্ট করবো না।

দেখি আপনার কল্প কাহিনি কতদূর আগায়। আপনার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম।

ব্লগার ফজলুল হকের দীর্ঘ মন্তব্য

@ শনিবারের চিঠি
আমি জামাত-শিবিরের কোন ঠিকাদারি নিই নাই। জামাত-শিবির দুধে ধোয়া তুলসী পাতা সেটা প্রমান করার দায়িত্ব আমার কাঁধে না। আমি বলেছি এ সময়ে জামাত শিবির প্রসঙ্গ সামনে আনার উদ্দেশ্য নিয়ে। এটা মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরানোর জন্য নয় কী ?

আর জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ সেগুলো রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে প্রমানিত হয়ে গেছে। যে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে এসব গালি দেয়া হতো সেই আওয়ামীলীগ তাদের সাথে নিয়ে আন্দোলন করেছে বসেছে, রাজনীতি করেছে ঠিক বিএনপির মতো। গোলাম আযমের কাছে দোয়ার জন্য আওয়ামীলীগের লোকদের যাওয়ার কথা জাতি ভুলেনি। সংসদে নিজামীকে সাথে নিয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের ছবিটি জাতির আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। লিয়াজো কমিটির বৈঠকে আলী আহসান মুজাহিদের বৈঠকের অসংখ্যা ছবি ও প্রমাণ আছে। গোলাম আযমের সাথে মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদের সাক্ষাতের ঘটনার অজানা কাহিনীর মতো আরও বহু কাহিনী এখনো অপ্রকাশিত আছে।

জামাত-শিবির স্বাধীনতা বিরোধী ছিল সন্দেহ নেই। যেমন ছিল ইসলাম পন্থী ও বামপন্থী আরও কয়েকটি দল। সেই বিরোধিতার সিদ্ধান্ত ছিল রাজনৈতিক। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ভুল বা সঠিক হতে পারে। জামাত স্বাধীন দেশের অস্তিত্ব মেনে নিয়ে দেশে রাজনীতি করে আসছে। স্বাধীন দেশের বিপক্ষে জামাত কাজ করছে বা করেছে এমন একটি প্রমাণও যদি আপনার হাতে থাকে দেখান।

আর স্বাধীনতার সময় জামাতের শক্তি সামর্থ্য কতটুকু ছিল ? ‘৭০ এর নির্বাচনে তারা কত ভোট পেয়েছিল? স্বাধীনতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান আর মানবতা বিরোধী অপরাধ এক জিনিস ?। খুন, ধর্ষণ অগ্নিসংযোগের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারাই মানবতা বিরোধী অপরাধী। সেটা যারা করেছে তারা ব্যক্তিগতভাবে অপরাধী। জামাত বা স্বাধীনতা বিরোধীরা রাজনৈতিক ঘোষনা দিয়ে এই কাজগুলো করেছে সেটার কোন প্রমাণ আছে কি? তখনকার পাকি সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠা রাজাকার, আল শামস বাহিনীতে ব্যক্তিগতভাবে যারা যোগ দিয়ে অপকর্ম করেছে সেটা তাদের ব্যাপার । আপনা গ্রামের মুরব্বিদের কাছে শুনি একই পরিবারের বাড়ীর ছেলেদের ভাগ করে কাউকে মুক্তিযোদ্ধাদের দলে আবার কাউকে রাজাকারে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এগুলো তখন পরিস্থিতির শিকার হয়েই করেছেন বলে শুনতে পাই। যারা অপরাধী তাদের বিচার হোক। কিন্তু সেটার জন্য কোন দলকে কেবল স্বাধীনতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত থাকার কারনে দোষী করা কেন? আর দোষী হলে অন্য দলগুলো কেন বিচারের আওতায় আসছেনা? আসছেনা এই জন্য- সে দিনের ক্ষুদ্র দলটি দিনে দিনে অনেক বেড়ে গেছে। এরা বড় রাজনৈতিক শক্তি হয়ে গেছে। এরা বিপরীত রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষমতায় যাওয়া ও টিকে থাকার জন্য গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তাদের শেষ করতে হবে।

যদি স্বাধীনতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থানের কারনে জামাতকে শায়েস্তার মুখোমুখি হয়, লাগে তাহলে অন্য যে সব দল স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল তাদের বিচার করা হচ্ছেনা কেন?
স্বাধীনতার বিরোধীতাকারিরাই যদি মানবতা বিরোধী অপরাধী হিসেবে বিচারের মুখোমুখি হয় তাহলে আওয়ামীলীগ বা বামপন্থীদের যারা স্বাধীনতা বিরোধী ছিল, রাজাকার আল বদর বাহিনীতে ছিল তাদের বিচার হচ্ছেনা কেন?

ঢাকঢোল পিঠানো হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে। কিন্তু সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে পিছু হটলো কেন? আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল নাম দিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এখন বলা হচ্ছে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার। বিচার হচ্ছে অপরাধীদের সহযোগিদের। যারা মূল অপরাধ করলো সেই পাকিস্তানী ১৯৫ সেনা অফিসার তাদের ক্ষমা করে দিয়ে বা তাদের বিচার না করে সহযোগিদের বিচার তাও আবার একটি বিশেষ দলের শীর্ষ কয়য়কজন নেতার সেটাকে সোজা চোখে দেখার সুযোগ আছে কী। এই বিচার নিয়ে সাদা চোখেই প্রশ্ন দেখা দেয়াটাই স্বাভাবিক নয় কী? ট্রাইব্যুনালের প্রধান বিচারক ঘানানিকের আইনজীবী ছিলেন। এই বিচারক নিরপেক্ষ বিচার করবেন এটা পাগলেও বিশ্বাস করবেনা। আর ট্রাইব্যুনালে যারা এখন কাজ করছেন তাদের বক্তব্য, শরীরের ভাষা কী প্রমাণ করে তারা নিরপেক্ষভাবে কাজ করছেন ? তারা ন্যায় বিচার করতে পারবেন?

ট্রাইব্যুল তাদের সুবিধামতো বিধি বানাচ্ছে, আসামীদের জামিন বন্ধ রাখছে, অভিযোগপত্রের বিষয়ে আসামী পক্ষকে অন্ধকারে রাখছে, বিদেশী আইনজীবী নিয়োগ দিতে দিচ্ছেনা। আসামী পক্ষের কোন আবেদনই ট্রাইব্যুনাল আমলে নিচ্ছেনা। অভিযোগ গঠনের আগেই আসামীদের অপরাধী আখ্যায়িত করে কথা বলা হচ্ছে। এগুলোকে আপনি স্বাভাবিক বলবেন ? আইনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহল থেকে আপত্তি এসেছে। আইনের ১৭টি ধারায় সংশোধনের কথা এসেছে। সেগুলো আমলেই নেয়া হলোনা। এরপরও কী বলবেন বিচার গাযের জোরে হচ্ছেনা ?

মাওলানা সাঈদীকে আমি চট্টগ্রাম দেখেছি। তার তাফসীর মাহফিল দেখেছি। তিনি ‘৭৩ সালে জামাতে যোগ দিয়েছেন বলে জেনেছি। তার হাতে শত শত লোক মুসলমান হয়েছে। তার ওয়াযের ক্যাসেট সিডি এখনো হাজার হাজার পরিবারে আছে। মোবাইলে এখনো তার কণ্ঠের ওয়াজ শুনতে পাবেন। তাকে `দেইল্লা’ বলছেন ট্রাইব্যুনালে লোকজন। হায়রে মানুষ!
আর আমাদের এক ব্লগার তাদের অনুকরনে মাওলানা সাঈদীর নামের সাথে আরও কত কিছু যোগ করে তাকে পারলে জায়গায় বধ করার ইচ্ছার জানান দিলেন! বিচার শুরুই হয়নি, আর আপনার ফাঁসীই দিয়ে দিচ্ছেন।

আমার এসব কথা আপনাদের ভালো লাগবেনা। আপনারা সকল যুক্তিতে হেরে গেলে বলবেন, স্বাধীনতা বিরোধীদের আমাদের মানবাধিকার কী, আইন বিচার কী। এদেরকে শেষ করে দাও।
তাহলে আর আইন আদালত, অপরাধ প্রমাণ, বিচারের কথা বলেন কেন? এদের নিষিদ্ধ করে, এদের সবাইকে শেষ করে দেয়াই শ্রেয় নয় কী? তারা কোটি ছাড়িয়ে গেছে তাতে কী ! কচুকাটা শুরু করলে কোটি শেষ হতে কতক্ষন লাগবে ?

আলাদা পোষ্ট চাইছেন, হয়তো কখনো কেউ তথ্য প্রমাণসহ সে ধরনের পোষ্ট উপস্থাপন করতে পারবেন। কিন্ত আপনারা সেটা সহ্য করতে পারবেন কিনা সেটা সন্দেহ আছে।
তবে ব্লগ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করবো আপনারা শালীন ভাষায় কেউ তাদের মতামত যুক্তি তুলে ধরলে তা প্রকাশ করতে একটুও কার্পন্য করবেন না। আপনাদেরও একটি আদর্শ থাকতেই পারে। কিন্তু এখানে সবার মতামত তুলে ধরার সুযোগ দেবেন। পাঠক যেটা গ্রহণ করার করবে। ব্লগটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। যুক্তির কথা নীতির কথা বললেই কেউ যার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরছে তার সমর্থক বা সেই দলের হয়ে যাবে সেটা মনে করার কোন কারণ নেই। একজন সাধারণ মানুষও ঘটনাক্রমে বাস্তবচিত্র উপস্থাপন করতে পারে। সেটা কারো পক্ষে বা বিপক্ষে যেতেই পারে।

সবশেষে এই পোস্ট এবং ব্লগার ফজলুল হকের প্রতি জবাব

আপনি জানালেন জামাত-শিবিরের কোনো ঠিকাদারি আপনি নেন নাই। তারা যে ধোয়া তুলসী পাতা- এইটে প্রমাণও আপনার কর্ম নয়। কিন্তু এই ঘোষণা দিয়েই কিন্তু আপনি নেমে পড়লেন জামাত শিবিরের সাফাই গাইতে। অবশ্য তাতে দোষ নেই, কারণ আপনিই আবার লেখার শেষে বলেছেন- সবার মতামতের কথা। অতএব আপনি হলেন সে-ই গোত্রের মানুষ যারা সর্প হয়ে দংশন করে, ওঝা হয়ে বিষ ঝাড়ে।

কিন্তু এ লাইনে আপনিই নূতন নন। এরকম অনেকেই আছে- যারা ছলে-বলে কৌশলে আসলে একটা কথাই প্রচার করতে চায়- জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে যা হচ্ছে, তা অবিচার। আমি এ রকম দুইজন প্রতিষ্ঠিত শিবিরকে চিনি- যাদের একজন নিজের বিবাহের দিন হিসেবে বেছে নেয় ১৭ মার্চ, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এবং আরেকজন ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করেও কবিতা নিয়ে নানা আদিখ্যেতা দেখিয়ে বেড়ায়- বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের কবিতা। যাক গে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা না করে মূল প্রসঙ্গে আসি।

আমি আপনার কমেন্টের টু দ্যা পয়েন্টে আনসার দিচ্ছি।

১। রাজনৈতিক অভিযোগ

আর জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ সেগুলো রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবে প্রমানিত হয়ে গেছে।

রাজনৈতিক অভিযোগ হলে সমস্যা কি? রাজনৈতিক অভিযোগের কোনো বিচার নাই? তার চেয়েও বড়ো কথা হলো একাত্তরে জামায়াতে ইসলামী যে জঘন্য কাজ করেছে- তা তারা রাজনৈতিক কারণে করে নাই, করেছে ধর্মীয় লেবসে রাজনীতির ফায়দা হাসিল করতে, ফাঁকিস্তান (আপনি পড়ন পাকিস্তান) টিকিয়ে রাখতে। এর প্রমাণ তৎকালীন সময়ে প্রকাশিত দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার অজস্র রিপোর্ট। অজস্র রিপোর্ট তুলে দেয়া গেলো না বলে দুঃখিত, তবে সংকলিত কয়েকটি রিপোর্ট তুলে দিলাম।

একাত্তরের ৩ এপ্রিল
দৈনিক সংগ্রামের প্রথম পাতায় প্রথম কলামে ব্যানার হেডলাইন দিয়ে মওলানা মওদুদীর একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। বিবৃতিটি ছিলো- ‘বাংলাদেশের গণহত্যা: ইন্দো-ইসরাইলী মিথ্যা প্রচারণা’। সেখানে উল্লেখ করা হয়-

‘আকাশবাণী, বি.বি.সি, ভয়েস অব আমেরিকা ও পশ্চিমা প্রচার যন্ত্রগুলোর মিথ্যা প্রচারণা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ইন্দো-ইসরাইলী ষড়যন্ত্র’

একাত্তরের ৬ এপ্রিল
‘ভারতের ডাইনী মায়া’ হেড লাইন দিয়ে সংগ্রাম সম্পাদকীয়তে বলা হয়-

‘গত এক সপ্তাহ যাবৎ তারা মিথ্যা প্রচারণা ও উদ্দেশ্যমূলক প্রস্তাবের লীলা খেলা চালিয়ে পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের সূচনা করেছে। পাকিস্তানের ঘরোয়া গোলযোগের অজুহাতে তারা পূর্ব পাকিস্তান দখলের মাধ্যমে তাদের পাকিস্তান ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে অত্যাধিক তৎপর হয়ে উঠেছে।.. স্বাধীন বাংলা সরকার নামে কোথাও কিছু নেই বলেই তারা এখন এক কাল্পনিক সরকার ও স্ব সৃষ্ট বেতারের আশ্রয়ে পূর্ব পাকিস্তান গ্রাসের জন্য সীমান্তে বিপুল সৈন্য সমাবেশ করেছে।’

একাত্তরের ৮ এপ্রিল তারিখে সংগ্রামের একটি খবর উল্লেখ করার মতো। ‘ভারতীয় অপপ্রচারের ব্যর্থতা’ শিরোনামে ওই সম্পাদকীয়তে লেখা হয়-

‘.. ..এমন কি রোকেয়া হলে কিছু হওয়া তো দূরে, অন্য হলের দু’চারটা ছেলে এসে আশ্রয় নিয়েছিলো সেখানে।

কিন্তু এ বক্তব্যের অসারতা প্রমাণ করে রবার্ট পেইনের ‘ম্যাসাকার’ গ্রন্থের ১২ পৃষ্ঠায় উদ্বৃত অংশটুকু-

‘দুদিন বাদে ছাত্রাবাস দেখতে এলেন একজন বিদেশী সাংবাদিক মিচেল লরেন্ট। প্রায় জনাবিশেক ছাত্র তখনও এখানে ওখানে পড়ে রয়েছে। আরো অনেকে বিছানায় যে অবস্থায় ছিলো সে অবস্থাতেই দেখতে পেলেন তিনি, চারিদিকে ছিলো ছোপ ছোপ রক্তের চিহ্ন, শুকনো রক্তের ধারা, ছিলো ট্যাঙ্কের মাড়িয়ে যাবার চিহ্ন।
(অনূদিত)

একাত্তরের ১০ এপ্রিল সংগ্রামের ‘ভারতের মায়াকান্না; শীর্ষক উপ-সম্পাদকীয়তে ‘দূরবীন’ হিন্দু ধর্মের জিগির তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে লেখে-

‘রবীন্দ্রনাথের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি হিন্দু’

একাত্তরের ১৭ মে সংগ্রাম পত্রিকার প্রথম পাতায় ৫৫ জন শিল্পী ও অধ্যাপকের একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। পুরো সংবাদটি প্রায় এক পৃষ্ঠাব্যাপী। ‘ভারতের দূরভিসন্ধিমূলক প্রচারণার নিন্দা’ শিরোনামে বিবৃতিটির স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলো ড. সাজ্জাদ হোসেন, প্রিন্সিপ্যাল ইব্রাহিম খাঁ, ড. মীর ফখরুজ্জামান, ড. কাজী দীন মোহাম্মদ, নুরূল মোমেন, জুলফিকার আলী, আসকার ইবনে শাইখ, মোহর আলী, ড. আশরাফ সিদ্দিকী, আর্জুমান্দ বানু, ফেরদৌসী রহমান, সাইয়েদ মর্তুজা আলী, ফররুখ আহমেদ, আ. সালাম, বদরুদ্দীন, আবুল কালাম সামসুদ্দীন, আকবর উদ্দীন, প্রিন্সিপ্যাল আ. ক. ম. আদমুদ্দীন।

একাত্তরের ১৯ জুলাই তারিখে এমন একটি বক্তব্য উপসম্পাদকীয় আকারে ছাপা হয় যা তাদের হঠকারিতার এক নগ্ন ও মতিহীন নজির প্রকাশ করে। ব্রিটিশ টেলিভিশনে বাঙলাদেশের গণহত্যার মর্মস্পর্শী ছবি প্রদর্শিত হলে সারা বিশ্বে হৈ চৈ পড়ে যায়। সমগ্র বিশ্ব বিবেক পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠলে পাকিস্তানি সামরিক ঘাতকরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। দৈনিক সংগ্রাম সামরিক এই ঘৃণ্যদের অপরাধকর্মকে ধামাচাপা দেবার জন্য ‘ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি’ উপসম্পাদকীয়তে বলে-

‘.. ..বৃটিশ টেলিভিশনে যে ছবি দেখানো হচ্ছে সেগুলো সাম্প্রতিককালের নয় বরং সেগুলো ঘূর্ণিঝড়ের সময়কার ছবি। বৃটিশ কর্মকর্তারা বোঝাতে চাচ্ছেন সেনাবাহিনী কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণের পর পূর্ব পাকিস্তানে এই চরম বীভৎস অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সন্দেহ নেই বৃটিশ প্রচার মাধ্যমের এ ষড়যন্ত্র হিন্দুস্তান থেকেই প্রেরণা পেয়েছে’।

একাত্তরের ৩ আগস্ট পত্রিকাটির সম্পাদকীয় ছিলো ‘পাকিস্তান টিকে থাকবেই’। এতে রাজাকার মতিউর রহমান নিজামীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে উল্লেখ করে বলা হয়-

‘আমাদের এ কথা স্মরণ রাখতে হবে যে এই পাক সেনাবাহিনীই গত ২৪ বছর ধরে আমাদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন ছাড়াও জাতীয় প্রতিটি দুর্যোগে আমাদের সাহায্য করে আসছে।.. সুতরাং জনাব নিজামী তাদেরকে আমাদের ভাই বলে যথার্থই বলেছেন এবং সেনাবাহিনী ও সাধারণ নাগরিক একাত্ম হয়েই আজ এ দেশবাসী শত্রুর মোকাবেলা করবে’।

একাত্তরের ১৬ আগস্ট আজাদী দিবস উপলক্ষে ইসলামী ছাত্রসংঘ (বর্তমানে ইসলামী ছাত্রশিবির) বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি মতিউর রহমান নিজামী বলে-

‘পাকিস্তান কোনো ভূখন্ডের নাম নয়, একটি আদর্শের নাম’।

একাত্তরের ২৬ সেপ্টেম্বর সংগ্রামের বিষয় ছিলো এক সংবর্ধনা সভার বক্তব্য। পাকিস্তান সামরিক ঘাতকদের অধীনে যেসব জামায়াত নেতারা তাঁবেদার মন্ত্রী হয়েছে, তাদের জামায়াত কর্তৃক সংবর্ধনা দেয়া হলে ২৬ সেপ্টেম্বর সংগ্রামের প্রথম পাতায় তা উঠে আসে। সেখানে রাজাকার গোলাম আজমের বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে-

‘.. পাকিস্তান যদি না থাকে তাহলে জামায়াত কর্মীরা দুনিয়ায় বেঁচে থাকার কোনো স্বার্থকতা মনে করে না’।

এখানে যা উল্লেখ করলাম, তা ঝলক- সিনেমার ভাষায় বলতে গেলে ট্রেলার।

জামায়াত আর ইসলামী ছাত্র সংঘ একাত্তরের সময় যে অপকর্ম করেছে, তার ট্রেলার দেখাতেও দুইদিন লাগবে। বর্তমানে শিবির ও বর্তমান জামায়াত ইসলামীও একই রাস্তায় হাঁটে। উপরের রিপোর্ট দেখলে বুঝবেন যে তারা প্রত্যেকেই একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার বিষয়টিকে একটি ধর্মীয় ভাবাদর্শের প্যাকেজ হিসেবে নিয়েছিলো। পাকিস্তান রক্ষা মানেই ইসলাম রক্ষা- এটা কখনোই রাজনৈতিক সমস্যার ফলাফল হতে পারে না।

খুন, ধর্ষণ অগ্নিসংযোগের ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারাই মানবতা বিরোধী অপরাধী। সেটা যারা করেছে তারা ব্যক্তিগতভাবে অপরাধী। জামাত বা স্বাধীনতা বিরোধীরা রাজনৈতিক ঘোষনা দিয়ে এই কাজগুলো করেছে সেটার কোন প্রমাণ আছে কি? তখনকার পাকি সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গড়ে উঠা রাজাকার, আল শামস বাহিনীতে ব্যক্তিগতভাবে যারা যোগ দিয়ে অপকর্ম করেছে সেটা তাদের ব্যাপার

আপনার জ্ঞাতার্থে জানালাম- আল-বদর বাহিনীর পুরো স্কোয়াডেই ছিলো ইসলামী ছাত্র সংঘের সদস্যদের নিয়ে তৈরি। আর জামায়াত যে ধর্মীয় লেবাস ধারণ করে হত্যা-ধর্ষণ-নির্যাতন করেছে এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে পাকিস্তানের পক্ষে কাজে লাগিয়েছে, উপরের রিপোর্টগলো তার প্রমাণ।

২। জামায়াতে ইসলামীর সাথে আওয়ামী লীগের আন্দোলন

যে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে এসব গালি দেয়া হতো সেই আওয়ামীলীগ তাদের সাথে নিয়ে আন্দোলন করেছে বসেছে, রাজনীতি করেছে ঠিক বিএনপির মতো। গোলাম আযমের কাছে দোয়ার জন্য আওয়ামীলীগের লোকদের যাওয়ার কথা জাতি ভুলেনি। সংসদে নিজামীকে সাথে নিয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের ছবিটি জাতির আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। লিয়াজো কমিটির বৈঠকে আলী আহসান মুজাহিদের বৈঠকের অসংখ্যা ছবি ও প্রমাণ আছে। গোলাজ আযমের সাথে মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদের সাক্ষাতের ঘটনার অজানা কাহিনীর মতো আরও বহু কাহিনী এখনো অপ্রকাশিত আছে।

প্রথম কথা হলো আলোচনায় বসা আর আন্দোলন এক কথা না। আওয়ামী লীগ আলোচনায় বসেছে, কিন্তু যৌথ আন্দোলনের ম্যাণ্ডেড নিয়ে বসেনি। আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক দর্শন অনুযায়ী আন্দোলন করেছে। আলোচনায় বসার সাথে তার কোনো সম্বন্ধ নেই। আলোচনা এক বিষয় আর আন্দোলন এক বিষয়। একাত্তর পূর্ব সময়ে বঙ্গবন্ধু নানা ইস্যুতে ইয়াহিয়ার সাথে আলোচনায় বসেছেন- তাতে কি বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলনে কোনো সমস্যা হয়েছে? যা সূর্য- তা অবিনশ্বর মিস্টার ফজলুল হক। পাকিস্তান জন্মের আগে ভাবী পাকিস্তান সম্বন্ধে অনেকের মতোই সবচেয়ে বেশি উৎসাহী ছিলেন মওলানা ভাসানী। তিনিও আলোচনায় বসেছেন, কিন্তু যখন পাকিস্তানের ‘ফাঁকিস্তানি’ ধরা পড়লো- তখন কিন্তু এই মওলানা ভাসানী ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানিয়েছেন।

তাছাড়া জামায়াতের গঠনতন্ত্রে তো আছে ‘নারী নেতৃত্ব হারাম’। তবে নিজামী খালেদা জিয়ার আঁচলের তলায় কোন রসগোল্লার হাঁড়ি খুঁজতে গিয়েছিলেন? কেনো গিয়েছিলেন?

৩। জামায়াতের বিরোধীতা

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী দল মানেই বাঙালির চেতনার সাথে সংঘাতপূর্ণ অস্তিত্ব- সে বামপন্থী হোক, আর ডানপন্থী হোক। এখন শুনুন- জামায়ত ইসলামী এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ, যা বর্তমানে ইসলামী ছাত্র শিবির- এরা কেবল বিরোধীতাই করে নাই হত্যা-ধর্ষণ-লুণ্ঠন করেছে। সারা বাঙলাকে পাকিস্তানি মিলিটারিদের সাথে মিলে এক ধ্বংসাবশেষে পরিণত করেছে। এরা মানবিকতাকে ভূ-লুণ্ঠিত করেছে। সারা বিশ্বে পাকিস্তানের পক্ষে সাফাই গেয়েছে। এরা মুক্তিযোদ্ধাদের দুষ্কৃতিকারী বলেছে। হাজার বাঙালি নারীকে তারা গণিমতের মাল বলেছে- আর আপনি কিনা স্বীকারোক্তি দিলেন-

জামাত স্বাধীন দেশের অস্তিত্ব মেনে নিয়ে দেশে রাজনীতি করে আসছে।

হাস্যকর, ফজলুল হক- এবং একই সাথে দুঃখের। আপনি থিতু হন। বিরোধীতার জন্যে বিরোধীতা না করে যুক্তি আর ইতিহাসের তথ্যে আসেন- আপনার গা শিউরে উঠবে। একাত্তরে জামায়াতে ইসলাম যা করেছে তা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব না- তা কেবল অমানুষ আর বিবেকবিবর্জিত, বিকৃত মতিষ্কের একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষেই সম্ভব।

৪। স্বাধীন দেশে জামায়াতের বিরোধীতা

স্বাধীন দেশের বিপক্ষে জামাত কাজ করছে বা করেছে এমন একটি প্রমাণও যদি আপনার হাতে থাকে দেখান।

একটি স্বাধীন রাষ্ট্র তাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিরোধীতাকারীদের, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধীদের, দেশীয় কুলাঙ্গারদের বিচার করতে চাইছে। আর জামায়াতে ইসলামীর সারমেয়রা (আপনি পড়–ন নেতারা) একে রাজনৈতিক বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে, এই বিচার বন্ধ করতে নানা দিক থেকে ষড়যন্ত্র করছে- এটাই কি স্বাধীন দেশের বিপক্ষের কাজ নয়? তাছাড়া আপনি কী ভুলে গেলেন জামায়াতে ইসলামীর জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা, ইসলামী ব্যাংকের সাথে জঙ্গিদের অর্থনৈতিক যোগাযোগ ইত্যাদি। না কি জেগে ঘুমাচ্ছেন?
যদি জেগে ঘুমিয়ে থাকেন তবে নিচে পড়ুন।

O N F I D E N T I A L SECTION 01 OF 02 DHAKA 000132

SIPDIS

E.O. 12958: DECL: 02/14/2020
TAGS: PGOV PHUM PREL KUIR PINR BG
SUBJECT: JAMAAT PLEADS ITS CASE BEFORE AMBASSADOR

REF: DHAKA 38

Classified By: AMBASSADOR JAMES F. MORIARTY, FOR REASONS 1.4 (B) and (D
)

SUMMARY
=======

¶1. (C) On February 10, 2010, the Ambassador and
Jamaat-e-Islami Assistant Secretary General Razzaq discussed
the recent upsurge in student violence, the possible repeal
of the 5th amendment, and the looming war-crimes trials. One
of Bangladesh,s leading barristers, Razzaq repeatedly
stressed Jamaat’s commitment to the Bangladesh Constitution
and the rule of law. Razzaq contended that recent events had
betrayed the government’s lack of interest in the rule of law
and highlighted its desire to crush the Jamaat-e-Islami.

Rajshahi University and Other Student Violence
——————————————— –

¶2. (C) During a February 10 meeting arranged at his request,
Jamaat-e-Islami Assistant Secretary General Barrister Abdur
Razzaq joined the Ambassador in condemning recent student
violence around Bangladesh that had left at least three
people dead and injured scores of students, faculty and
authorities. Razzaq described for the Ambassador a
confrontation between student political groups at Rajshahi
University in northwestern Bangladesh. According to Razzaq,
the clash had started as a small incident in the early
evening at a dorm between four male students, two from the
Awami League-backed student group, the Chatra League, and two
from the Jamaat-backed student group, Bangladesh Islami
Chatra Shibir. Razzaq said the confrontation had led over
1,500 Chata Shibir to gather later in the evening. He said
that the the Shibir students had reportedly gone on a
rampage, killing one Chatra League member and shoving his
corpse down a manhole. Chatra Shibir activists also
alledgedly slit the tendons of a number of Chatra League
members.

¶3. (C) Razzaq said Jamaat would cooperate fully in any
investigation. He agreed the violence was “inhumane,
regrettable, and indefensible.” When asked whether the
Government of Bangladesh should ban student political groups,
Razzaq replied that Jamaat was prepared to work with the
government on a ban, provided the government used proper
legal procedures and applied the ban impartially. (Note:
Embassy Dhaka will provide an update on the events at
Rajshahi University and other university campuses in septel.
End Note.)

5th Amendment and the Road Ahead (is it in the streets?)
——————————————— ———–

¶4. (C) Turning to the reason he had sought the meeting,
Razzaq provided his perspective on the recent judicial
decisions that repealed the Fifth Amendment of Bangladesh,s
Constitution (reftel). The repeal of the Fifth Amendment
paved the way for the government to outlaw religious-based
political parties, including Jamaat. According to Razzaq,
Bangladesh,s courts overreached, ruled on issues that were
never raised in court, acted too quickly and did not allow
more time for investigation. “The Appellate and High Courts
were apparently in a rush,” Razzaq said. He said no one knew
when the courts would issue the details of their decision,
which would provide the key to knowing whether religious
political parties would be banned.

¶5. (C) Razzaq said Jamaat believed in “the Constitutional
path” and would abide by the court’s decision. If Bangladesh
banned religious-based political parties, Jamaat would
emulate the response of religious-based political parties in
Turkey. Jamaat would rename itself and remove religious
tenets from its Constitution, but would at the same time
challenge the ruling in court. According to Razzaq, a ban on
religious parties would cost Jamaat some money that was tied
to bank accounts and trusts in the party,s name, but the
party would survive. Razzaq said it would be a wound, but a
wound that could be healed.

¶6. (C) Razzaq added that it would be disappointing — and
potentially dangerous — if the government silenced the
voices of moderation in this way. He also opined that
Bangladesh,s judges made the decision based on affiliations
with the Awami League government, rather than in accordance
with constitutional law. If the government tried to control
democracy ) if it “closes democratic avenues” ) then it was
breeding the discontent that led to the September 11 attacks

DHAKA 00000132 002 OF 002

in the United States, Razzaq said. The 9/11 terrorists did
not come from democratic countries, but autocratic ones. By
fighting Jamaat, which was a democratic organization in
belief and practice, Razzaq claimed the government would
foster an autocratic nation without constructive mechanisms
for dissent.

¶7. (C) Razzaq said that Jamaat’s alliance partner, the
Bangladesh Nationalist Party, had not officially commented on
5th amendment matters. In response to the Ambassador’s
question whether the Bangladesh Nationalist Party would go to
the streets soon, Razzaq replied that he thought this
unlikely. Razzaq added that he believed the Bangladesh
Nationalist Party should be active in Parliament, and that
Jamaat was “ready to cooperate with this government.”

War Crimes Trials
—————–

¶8. (C) Razzaq asked the Ambassador about the upcoming war
crimes trials. The Ambassador replied the government seemed
determined to go forward with the trials but appeared
uncertain as to how to proceed. Both Razzaq and the
Ambassador agreed that the 1973 international tribunals act
might not meet international standards. Razzaq said that for
the trials to be acceptable, this law would have to be
amended or a new law would have to be passed.

¶9. (C) Razzaq said there were three problems with raising the
issue of war crimes trials: 1.) This was already a settled
issue and there was no need to reopen it; 2.) this had been
brought back for political reasons; and 3.) the current law
fell far below international standards. However, if the law
was revised, Jamaat would not object to the government going
forward.

Comment
——-

¶10. (C) As with the Embassy’s previous meetings with Razzaq,
he again proved himself to be a persuasive spokesman for his
party. The Ambassador was able to take advantage of this
meeting to lay down a marker on Shabir’s use of violence. As
the Government of Bangladesh increases the pressure on
Jamaat, hardliners in his party may not live up to Razzaq’s
claim that the party would accept the rule of law. The
Jamaat currently faces its greatest challenge since 1971.
There is little doubt that hardline elements within the
ruling party believe that the time is right to crush Jamaat
and other Islamic parties.
MORIARTY

৫। সত্তরের নির্বাচন

আর স্বাধীনতার সময় জামাতের শক্তি সামথ্য কতটুকু ছিল ? ‘৭০ এর নির্বাচনে তারা কত ভোট পেয়েছিল?

এইটা সত্যিই হাস্যকর হয়েছে। কেনো ভুলে গেছেন সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে মুসলীম লীগ তেমন কোনো ভোট পায় নাই নিজেদের স্বভাব দোষে। আর না পেলেই বা কি? তাতে কি প্রমাণিত হয় তাদের কোনো অপকর্ম করার ক্ষমতা নাই? এইবারের নির্বাচনে বিএনপি-রাজাকার জোট সরকার তো ভোটই পায় নাই, তাতে কি বোঝা গেলো? এদের শক্তি নাই? জামায়াত একাত্তর সালে পাকিস্তানি বাহিনীর পদলেহন করেছে, সুতরাং সেনাবাহিনীই ছিলো তাদের পিতা। এইটা ভুলে গেলে তো চলবে না।

৬। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ

ঢাকঢোল পিঠানো হলো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে। কিন্তু সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে পিছু হটলো কেন? আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল নাম দিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এখন বলা হচ্ছে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার।

কিছু মনে করবেন না। আমার ব্যক্তিগত ধারণা, আপনি কেবল লোকের মুখে শুনেই এ প্রশ্নটি করেছেন। একটু চোখ বুলান। তবেই জানতে পারবেন বিষয়টি আসলে কেনো? আমি একটু সহযোগিতা করছি আপনাকে।

উল্লিখিত অ্যাম্বাসি ডকুমেন্টের এক জায়গায় লক্ষ্য করেন রাজ্জাক বলেছে, ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালটি আন্তর্জাতিক মানের নয়। সে কী বুঝে বলেছে বলা মুশকিল। তারপরেও যেহেতু সে যুদ্ধাপরাধীদের দলের আইনি পালের গোদা- তাই আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইবুন্যাল করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সে উদ্যোগেই মূলত কয়েকটি নূতন ক্লজ যুক্ত হয়েছে। নিচে একটি সারমর্ম উল্লেখ করলাম।

৯ডিসেম্বর ১৯৪৮ জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের অধিবেশনে CONVENTION ON THE PREVENTION AND PUNISHMENT OF THE CRIME OF GENOCIDE নামে পাশকৃত রেজুলেশনটি। এর মুখবন্ধে গনহত্যাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বলে ঘোষনা করে বলা হয়েছেঃ-

‘ genocide is a crime under international law, contrary to the spirit and aims of the United Nations and condemned by the civilized world; Recognizing that at all periods of history genocide has inflicted great losses on humanity; and Being convinced that, in order to liberate mankind from such an odious scourge, international co-operation is required’

রেজুলেশনের ২৬০(৩) ধারার অনুচ্ছেদ ২ এ নির্ধারন করা হয়েছে , শুধু হত্যা নয় আরো কিছু অপরাধ গনহত্যা হিসেবে গন্য হবে —

১।পরিকল্পিত ভাবে একটি জাতি বা গোষ্ঠিকে নির্মুল করার জন্য তাদের সদস্যদেরকে হত্যা বা নিশ্চিহ্নকরন
২।একই উদ্দেশ্যে শারীরিক বা মানসিক ক্ষতিসাধন
৩।একটি জাতি বা গোষ্ঠিকে নির্মুল করার উদ্দেশে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা যাতে তারা সম্পুর্ন বা আংশিক ভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়
৪।এমন পরিবেশ তৈরী করা যাতে একটি জাতি বা গোষ্ঠীর জীবনধারন কষ্টসাধ্য , সেই সংগে জন্মপ্রতিরোধ করে জীবনের চাকা থামিয়ে দেয়া হয়
৫।একটি জাতি বা গোষ্ঠি শিশু সদস্যদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে তাদের জন্ম পরিচয় ও জাতিস্বত্বা মুছে ফেলা

গণহত্যার সংজ্ঞা নির্ধারনের পর ধারা ৩ এ গনহত্যা সংশ্লিষ্ট অপরাধ সমুহ ও চিহ্নিত করা হয়েছে

১। গণহত্যা চালানো
২।গণহত্যা চালানোর ষড়যন্ত্র/পরিকল্পনা করা
৩। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে গণহত্যা উস্কে দেয়া
৪।গণহত্যা চালানোর চেষ্টা করা
৫।গণহত্যায় যে কোন প্রকারে সহযোগী হওয়া ও সমর্থন করা

ধারা ৩ এর পর ধারা ৪ এ বলা হয়েছে–উপরোক্ত যে কোনো একটি অপরাধেই, অপরাধী যুদ্বাপরাধী হিসেবে বিবেচিত হবে- তা সে সাংবিধানিক সরকার, সরকারের আজ্ঞাবাহী কর্মচারী, কোন দল কিংবা একক কোনো ব্যক্তি ই হোক ।

ধারা ৭ এ আবার স্পষ্ট করে বলা হয়েছে –ধারা ৩ এ বর্নিত অপরাধ সমুহ কোনো ভাবেই রাজনৈতিক অপরাধ বলে গন্য হবেনা ।
জাতিসংঘের দেয়া গনহত্যার সংজ্ঞা এবং আইনী ঘোষনার আলোকে একাত্তরের রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মানবতার বিরুদ্ধেই অপরাধ করেছে, যেহেতু গণহত্যা শেষপর্যন্ত মানবতার বিরুদ্ধেই অপরাধ। অত্যন্ত যৌক্তিক ভাবেই গণহত্যার জন্য তাদের বিচার হওয়া উচিত।

আপনি বিদেশী আইনজীবী নিয়োগের কথা বলছেন কেনো? রাজ্জাকের উপর আপনাদের ভরসা নাই? রাজ্জাক কিন্তু শিবিরের বিরাট নেতা ছিলো। নিজামীর টাকায় সে ব্যারিস্টারি পড়েছে। সে আপনাদের পাশে থাকবে। এতো নিমকহারাম সে নয়।

অভিযোগের আগেই অপরাধী বলা হচ্ছে মানে? বলেন ৪০ বছর ধরে অপরাধীর বিচার হয় নাই। বাযতুল মোকারমে আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম আযমকে লোকে যে জুতা পেটা করছিলো- সে কি এমনি এমনি? আপনি বলছেন আইনের ১৭টি ধারায় সংশোধনের প্রস্তাব এসেছে। আইনকে সংশোধন করতে হয় যখন সে আইন বর্তমান কার্যকর পন্থায় আর উপযোগি নয় বলে ধরা হয়। এক্ষেত্রে তো তা হচ্ছে না। তবে যেটুকু আধুনিকায়ন করা দরকার- সেটা করা হচ্ছে। আপনি কী আশা করছিলেন, ধৃত রাজাকাররা নিজেদের সুবিধা মতো সংশোধন পাঠাবে আর তাকে গ্রহণ করতে হবে? এইটা তো ফাঁকিস্তান না ভাই, এইটা বাঙলাদেশ, স্বাধীন বাঙলাদেশ- যে দেশের স্বাধীনতা আপনারা এবং আপনাদের নেমেসিস পিতারা চাননি।

দেলোয়ার হোসেই সাঈদী মনে হচ্ছে আপনার খুব প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তার জন্মদিনে নিয়মিত কেক কাটেন? আপনি তো একেবারেই অন্ধ ভক্ত। তো আপনার প্রিয় অমানুষ (আপনি পড়ুন মানুষ) সম্বন্ধে শুনুন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রথম সারির এই নেতা মুক্তিযুদ্ধকালে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কুখ্যাত। জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী ড. জাফর ইকবালের পিতা তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমানসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, নির্যাতন, নারী ধর্ষণ ও লুটপাটে অভিযুক্ত ধর্মের লেবাসধারী এই নেতা স্বাধীন বাংলাদেশেও দীর্ঘ সাড়ে ৩ দশক ধরে নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। মওলানা সাঈদী পবিত্র ইসলাম ধর্মকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলসহ তার দল জামায়াতের হীন রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করে চলেছে। দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর কণ্ঠস্বর মধুর হলেও একাত্তরে পালন করেছেন ঘাতকের ভূমিকা। ওয়াজ তাফসিরের মাধ্যমেই তিনি দেশের মানুষের কাছে পরিচিতি অর্জন করেছেন বেশি। কিন্তু ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তখন তিনি খুব বিখ্যাত কেউ ছিলেন না। শোনা যায়, তখন ছোটখাটো একটি মুদি দোকান ছিল তার। মুক্তিযুদ্ধ শুরম্ন হলে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী নিজের ভাগ্য গড়ার পথ হিসেবে বেছে নেন পাকিবাহিনীর দালালি। হানাদার বাহিনীর সহযোগী হয়ে প্রত্য ও পরোভাবে লুটতরাজ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ, হত্যা ইত্যাদি সংঘটিত করে একজন ভাল দালাল হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেন দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কিছুদিন আত্মগোপনে থেকে ভোল পাল্টে ফেলেন সাঈদী। ওয়াজ মাহফিলে ইসলামের মাহাত্ম্য বর্ণনা করে দেশে-বিদেশে ভিক্ষা করা তার পেশা। তবে লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাঙালীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছিলেন চিহ্নিত রাজাকার হিসেবে। ওয়াজের ব্যবসা চলা অবস্থায়ই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে ঘটে তার যোগাযোগ। সুললিত কণ্ঠের অধিকারী মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী যে কি নিষ্ঠুর প্রকৃতির মানুষ, মুক্তিকামী মানুষের বিরুদ্ধে, সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে তার যে কি ধরনের প্রতিহিংসা ছিল তার কিছু চিত্র ব্লগার ফজরুল হকের সুবিধার্থে এখানে তুলে ধরা হচ্ছে।

‘৭১ সালে সাঈদী সরাসরি জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তবে বরাবরই জামায়াত, নেজামে ইসলাম পার্টি, মুসলিম লীগ, পিডিপির প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমায় যারা মুক্তিযোদ্ধাদের নিধনের লক্ষ্যে আলবদর, আল শামস এবং রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল সাঈদী ছিলেন তাদের অন্যতম এবং অতি উৎসাহী। পাকহানাদারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সাঈদী ও তার সহযোগীরা পিরোজপুরের সর্বত্র মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিদের হত্যা, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে নারী ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় সে তার কুখ্যাত চার সহযোগী নিয়ে ‘পাঁচ তহবিল’ নামক একটি সংগঠন গড়ে তোলে। এই তহবিলের প্রধান কাজ ছিল মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী বাঙালী হিন্দু-মুসলিমদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি জবরদখল করা। এসব মালামাল সাঈদী গনিমতের মাল আখ্যায়িত করে পাড়েরহাট বন্দরে বিক্রি করত। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসই সে ও তার সহযোগীরা গনিমতের মালের জমজমাট ব্যবসা অব্যাহত রাখতে সম হয়।

মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সাঈদীর তৎপরতা। ‘৭১-এ সাঈদীর নৃশংসতার বর্ণনা করতে গিয়ে পিরোজপুরের একজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার সাবডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) ফয়জুর রহমান আহমেদ। স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরম্ন হলে মুক্তিকামী বাঙালীর জন্য তার প্রাণ কেঁদে ওঠে। ‘৭১-এর মার্চ থেকেই তিনি মুক্তিকামী বাঙালীকে নানাভাবে সহযোগিতা শুরু করেন। যার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে পাক হায়েনাদের হাতে তার প্রাণ হারিয়ে শহীদ হওয়া। ফয়জুর রহমান হচ্ছেন আজকের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বাবা। ‘৭১-এর ৬ মে পিরোজপুর থানার সামনে থেকে হায়েনারা ফয়জুর রহমান আহমেদকে ধরে বলেশ্বর নদীর পাড়ে বধ্যভূমিতে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেননি। স্বজনদের কাঁদিয়ে তিনি পেয়েছেন শহীদের মর্যাদা। ওই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ফয়জুর রহমান আহমেদের মতো অনেকের মৃত্যুর জন্যই দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী ও তার সহযোগীরা দায়ী। ৬ মে ফয়জুর রহমান আহমেদকে প্রকাশ্যে ধরে নিয়ে যাওয়ার একদিন পর ৭ মে সাঈদীর নেতৃত্বে তার সহযোগীরা ফয়জুর রহমান আহমেদের বাসায় চার সঙ্গীকে নিয়ে লুটপাট চালায়।

পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানার বালিয়াপাড়া ইউনিয়নের ইউসুফ আলী সিকদারের ছেলে দেলোয়ার ওরফে দিউল্লা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের আগ পর্যন্ত ছিল একজন মুদি দোকানি। মুক্তিযুদ্ধই তার ভাগ্য বদলে দেয়। যুদ্ধ শুরু হলে দেলোয়ার হোসেন স্থানীয় রাজাকার হলে স্থানীয় রাজাকার ও তথাকথিত শান্তি কমিটির নেতা দানেশ মোল্লা, মোসলেম মাওলানা, আ. করিম, আজহার তালুকদার ও সেকেন্দার সিকদারের নৈকট্য লাভে সমর্থ হয় এবং তথাকথিত পাঁচ তহবিল নামে গঠিত কমিটিতে যোগ দেয়। এ কমিটির কাজ ছিল লুটের মালামাল ভাগবাটোয়ারা এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে পাকিস্তানী বাহিনীর যোগসাজশে আনা লুটের মাল বণ্টন করা। মুদি দোকানি স্বাধীনতা যুদ্ধের পর কোথায় কীভাবে ছিল তা কেউ বলতে না পারলেও রাতারাতি সে বনে যায় ধর্ম ব্যবসায়ী। শুরু করে ধর্মের নামে ওয়াজের ক্যাসেট বিক্রি। হঠাৎ করেই এই অপরিচিত লোকটি হয়ে ওঠে রাজনীতিবিদ। বিভিন্ন টাইটেল নিয়ে পিরোপুরে এসে নষ্ট করে সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি। হিন্দু-মুসলমান বিভেদ সৃষ্টি করে কলুষিত করে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী, মুক্তিযুদ্ধের পরে লোক এবং স্থানীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনে বিশ্বস্ততা অর্জনের ফসল হিসেবে তাকে ৩শ’ সদস্যের এক স্বাধীনতাবিরোধী বাহিনীর নেতা বানানো হয়েছিল। নিষ্ঠুরতা প্রদর্শনের পুরস্কার হিসেবে সাঈদী তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার প্রধান স্বাধীনতাবিরোধী মানিক খন্দকারের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। স্বাধীনতাবিরোধী মানিক খন্দকার বাংলাদেশকে মেনে না নিলেও এদেশের মাটিতেই তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

পাড়ের হাট ইউনিয়নের একজন মুক্তিযোদ্ধা জানান, মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় তথাকথিত মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী পাকহানাদার বাহিনীর সহযোগিতায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিল। সে পবিত্র ইসলামের অজুহাত দেখিয়ে পাড়েরহাট বন্দর এলাকার হিন্দু সমপ্রদায়ের ঘরবাড়ি লুটের পর তা নিজের মাথায় বহন করত। তিনি বলেন, সাঈদীর নৃশংসতা, অপকর্ম ও দেশদ্রোহিতার কথা পাড়েরহাটের সাধারণ মানুষ আজও ভুলতে পারেনি।

সাবেক পিপি এ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক খান বলেন, অনেক অপকর্মের সঙ্গে পাকহানাদারদের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সরবরাহ ছিল সাঈদীর অন্যতম কাজ। সাঈদীর কারণে সে সময় অনেক তরুণ স্বাধীনতাবিরোধী নানা দল-উপদলে যোগ দিতে বাধ্য হয়। পিরোজপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সুন্দরী মেয়েদের ধরে নিয়ে পাক হায়েনাদের ক্যাম্পে পাঠানোর মতো জঘন্য কাজটিও করত এই সাঈদী।
পাড়েরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পিরোজপুর জেলা গণফোরাম সভাপতি এ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন খান অভিযোগ করে বলেন, সাঈদীর পরামর্শ পরিকল্পনা ও তৈরি করা তালিকা অনুযায়ী পিরোজপুরের বুদ্ধিজীবী ও ছাত্রদের পাইকারিভাবে হত্যা করা হয়। তিনি জানান, পাড়েরহাটের আনোয়ার হোসেন আবু মিয়া, নুরুল ইসলাম খান, বেনী মাধব সাহা, বিপদ সাহা, মদন সাহা প্রমুখের বসতবাড়ি, গদিঘর, সম্পত্তি এই সাঈদী ও তার সহযোগীরাই লুট করে নেয়। তৎকালীন ইপিআরের সুবেদার আবদুল আজিজ, পাড়েরহাট বন্দরের কৃষ্ণকান্ত সাহা, বাণীকান্ত সিকদার, তরণীকান্ত সিকদারসহ আরও অনেককে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয় এই নরঘাতক সাঈদীর নির্দেশে। সাঈদীর লোকজন স্থানীয় হরিসাধু ও বিপদ সাহার মেয়ের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। পিরোজপুরের বিখ্যাত তালুকদার বাড়ি লুটপাটও হয় তারই নেতৃত্বে। ‘৭১-এর ১৬ আগস্ট সাঈদীর নেতৃত্বে গোপাল বণিক নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে ধরে নিয়ে পাকসেনাদের হাতে তুলে দেয়া হয়। স্বাধীনতার পর গোপাল বণিকের লাশ কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হয় আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে গোপাল বণিককে ও হত্যার পর মরদেহ পার্শ্ববর্তী নদীতে ফেলে দেয়া হয়। পর পর দু’দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে নিজের নামে সাঈদী ফাউন্ডেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের টাকায় ১৪ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। জামায়াত শিবিরের ঘাঁটি হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলা হয়েছে বলে স্থানীয় সাধারণ মানুষ মনে করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাঈদীর আস্ফালন ॥ গত নির্বাচনের আগে এক নির্বাচনী সভায় (২০০১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর) নরঘাতক জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সদম্ভে ফতোয়া দেন এবারের নির্বাচন হবে এ দেশের মুসলমান বনাম আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, যারা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে তারা মুসলমান নয়। আমরা আগামীতে চারদল মতায় গিয়ে এ দেশ থেকে কাফেরদের রাজনীতি চিরতরে নির্মূল করব। পিরোজপুরের ইন্দুরকানি বাজারে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় তিনি এ কথা বলেন। খালেদা জিয়াকে খুশি করতে ইন্দুরকানির নাম বদল করে বলা হয় জিয়ানগর। সেদিন নরঘাতক সাঈদীর সমপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টকারী এ বক্তৃতায় পিরোজপুরবাসী বিস্মিত না হলেও তাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল ১৯৭১-এর ভয়াল স্মৃতি। সে স্মৃতি তাদের গত ৩৫ বছর ধরে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের শক্তি বহুধা বিভক্ত হওয়ায় সাঈদী বা তার সহযোগীদের এ আস্ফালন স্বাভাবিকভাবেই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন তারা। ইসলাম বিশেষজ্ঞরা সাঈদীর এ ফতোয়াকে ইসলামসম্মত নয় বলে মতামত দিলেও এতে সাঈদীর কিছু যায়-আসেনি। ব্যাপারটি অনেকটা এরকম যে, সে যাই বলবে তা-ই ইসলামসম্মত। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, সাঈদী আসলে ধর্মীয় চিন্তাবিদ নন। সে আসলে ধর্মব্যবসায়ী। ফলে ইসলামের অপব্যাখ্যাকেই সে সঠিক ব্যাখ্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে।

সাঈদীর এ ধরনের আস্ফালন একই বছরে ১৭ জানুয়ারিতেও শোনা যায়। ওই দিন পিরোপুরের জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় সাঈদী সদম্ভে বলেন,আমাদের যারা রাজাকার বলে তারা পিতার অবৈধ সন্তান। এ সভায় সে হাইকোর্টের বিচারকদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আজ হাইকোর্টও সরকারের পোষ্য দালালে ভরপুর। তা না হলে আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত হিল্লা বিয়ে একশ্রেণীর বিচারক অবৈধ বলে রায় দিতে পারত না। এসব বিচারক মহলবিশেষের স্বার্থে হিন্দুস্তানের দালাল।

ইসলাম যাকে-তাকে কাফের মোশরেক, মোনাফেক বলার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকলেও সাঈদী তার ধার ধারে না। তাই তো তিনি ২০০১ সালের ২৭ আগস্ট পিরোজপুরের কৃষ্ণচূড়া চত্বরে আয়োজিত এক সভায় বলেন, ধর্মনিরপেতায় যারা বিশ্বাস করে তারা কাফের। আমরা চারদল ধর্মনিরপেতায় বিশ্বাস করি না। সামপ্রদায়িক সমপ্রীতিতে অবিশ্বাসী স্বাধীনতাবিরোধী সাঈদীর এ ধরনের বক্তব্যে নতুন কিছু নয়। অতীতেও তিনি এ ধরনের বহু বক্তব্য দিয়েছে এবং এখনও দিয়ে চলেছেন। তার টার্গেট মূলত খেটে খাওয়া মানুষকে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করা।

মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ে সাঈদীর আত্মগোপন। ১৯৭১ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি পিরোজপুর থেকে পালিয়ে যান। এরপর তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। ‘৭১-এর ডিসেম্বর থেকে ‘৮৫-এর আগস্ট পর্যন্ত ১৪ বছর তিনি কোথায় ছিলেন কেউ বলতে পারে না। ‘৮৫-এর সেপ্টেম্বর থেকে স্বাধীনতাবিরোধী সাঈদী বাংলাদেশের মাটিতে বসেই যে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ‘৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি ভোট ডাকাতির মাধ্যমে পিরোজপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে দেশের আইন প্রণেতা বনে যায়। সাঈদীর সফলতা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের পরে শক্তির মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি। এতেই তিনি নির্বাচিত হয়। ২০০৮ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছিলো। কিন্তু এবার জনগণ তাকে প্রত্যাখ্যান করে।

আপনি যুক্তিতে হারিয়ে দেবার যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাতে লাভ নেই। আর হেরে গেলে তো বললাম- ব্লগিং করাই ছেড়ে দিবো।

আপনার এবং অন্যান্য ব্লগারগণের মন্তব্যের অপেক্ষায় রইলাম।

***
২৬ ভাদ্র, ১৪১৮