ক্যাটেগরিঃ ব্যক্তিত্ব

http://t1.gstatic.com/images?q=tbn:ANd9GcQxGZ4gl1DZN-Jrb24MCmu_vbOIAf2eWAABnQ34xEuOeS7v6x-gTAr5MVxfpg

যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছোয়াঁবো
আমি বিষপান করে মরে যাব!
বিষন্ন আলোয় এই বাংলাদেশ
নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ
প্রান্তরে দিগন্তে নির্মিশেষ–
এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভুমি
যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছোয়াঁবো
আমি বিষপান করে মরে যাব!
ধান ক্ষেতে চাপ চাপ রক্ত
এই খানে ঝরেছিল মানুষের ঘাম
এখনো স্নানের আগে কেউ কেউ করে থাকে নদীকে প্রনাম
এখনো নদীর বুকে
মোচার খোলায় ঘোরে
লুটেরা, ফেরারী!
শহরে বন্দরে এত অগ্নিবৃষ্টি
বৃষ্টিতে চিক্কণ তবু এক-একটি অপরুপ ভোর,
বাজারে ক্রুরতা, গ্রামে রণহিংসা
বাতাবি লেবুর গাছে জোনাকির ঝিকমিক খেলা
বিশাল প্রাসাদে বসে কাপুরষতার মেলা
বুলেট ও বিস্ফোরণ
শঠ তঞ্চকের এত ছদ্মবেশ
রাত্রির শিশিরে কাঁপে ঘাস ফুল–
এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভুমি
যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছোয়াঁবো
আমি বিষপান করে মরে যাব!

কুয়াশার মধ্যে এক শিশু যায় ভোরের ইস্কুলে
নিথর দিঘির পারে বসে আছে বক
আমি কি ভুলেছি সব
স্মৃতি, তুমি এত প্রতারক?
আমি কি দেখিনি কোনো মন্থর বিকেলে
শিমুল তুলার ওড়াউড়ি
মোষের ঘাড়ের মতো পরিশ্রমী মানুষের পাশে
শিউলি ফুলের মতো বালিকার হাসি
নিইনি কি খেজুর রসের ঘ্রান
শুনিনি কি দুপুরে চিলের
তীক্ষ্ণ স্বর?
বিষন্ন আলোয় এই বাংলাদেশ…..
এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভুমি
যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছোয়াঁবো
আমি বিষপান করে মরে যাব!

তখন আমি উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ি।ঢাকা কলেজে।পূর্বপশ্চিম পড়লাম।খুব ভাল লাগলো।প্রথম আলো পড়লাম আরও ভালো লাগলো।ভক্ত হয়ে গেলাম সুনীলের।তার কবিতা গুলো অসাধারণ।তিনি জন্মেছিলেন এই বাংলায়।তার লেখায় তাই বাংলা,বাংলাদেশ,মুক্তিযুদ্ধ।প্রথম আলো পূর্বপশ্চিম এতটাই বাস্তব করে লিখা মনে হয় এই বুঝি কবি গুরুকে ছুয়ে দিব কিংবা মহাকবি মাইকেলকে ধরে ফেলব।এতটাই জীবন্ত করে লিখেছেন।
২০১২ সাল
রত্নগুলো ঝরে পরছে,খসে পরছে তারা
অভাগা আমরা আজ তাই এমনই ছন্নছারা

হুমায়ুন আহমেদ তার মেয়ের বিয়েতে সুনীলকে হাজির করেছিলেন বিয়ের গিফট হিসেবে যাতে মেয়ে গিফট ফিরিয়ে দিতে না পারে।শিলা তার কদমবুচি করেছিলেন।অন্য কোন গিফট দিলে তা নেয়া হত না কারণ হুমায়ূন আহমেদের ২য় বিয়ে মেনে না নিয়ে তাকে বয়কট করেছিলেন শীলা বিয়ের দাওয়াতও দেন নাই।

আরেক গ্রেট হুমায়ূন ফরিদী তার জীবনের শেষ জন্মদিন বালাই ষাট।যে বালাই তিনি অতিক্রম করতে পারেন নি।অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আফজাল হোসেন আর ইমদাদুল হক মিলন তাদের প্রাণপ্রিয় বন্ধু ফরিদীকে দুইটি নিয়মে আবদ্ধ কলেছিলেন কারণ ফরিদী সারাজীবন বলেছেন আর বন্ধুরা শুণেছেন সুতরাং কারনে সবাই সেদিন বলবে আর ফরীদি শুনবে আর আরেকটা শর্ত হলো ফরীদি স্মোক করতে পারবেন নাআর চেয়ার ছেড়ে উঠতেও পারবেন না য়েহেতু তিনি কখনও এক জায়গায় বসে থাকেন না।ফরীদি ঠিকই জায়গা থেকে একবার উঠেছিলেন স্মোক ও করেছেন আর তাকে রবোট বানিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে বুঝানোর জন্য চেয়ারে বসেই রবোটের মতো চারদিকে মাথা ঘুরাছ্ছিলেন তাকে অবিকল রবোট মনে হচ্ছিল। না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না।সেই অনুষ্ঠানের শেষ বচন সুনীলের যদি নির্বাসন দাও কবিতার কিয়দংশ আবৃত্তি

যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছোয়াঁবো
আমি বিষপান করে মরে যাব!
বিষন্ন আলোয় এই বাংলাদেশ
নদীর শিয়রে ঝুঁকে পড়া মেঘ
প্রান্তরে দিগন্তে নির্মিশেষ–
এ আমারই সাড়ে তিন হাত ভুমি
যদি নির্বাসন দাও, আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরি ছোয়াঁবো
আমি বিষপান করে মরে যাব!

কে নির্বাসন দিয়েছিল ফরীদিকে?কে?আজ ফরীদি নাই,হমায়ূন আহমেদ নাই,সুনীলও নাই আছে তার কবিতা খানি।যদি নির্বাসন দাও আমি ওষ্ঠে অঙ্গুরী ছোয়াব আমি বিষপান করে মরে যাব।তারা তিন জনই আজ না ফিরার দেশে।চিরনির্বাসিত।