ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

১৯৭১ থেকে আজ ২০১২ শেষ হতে চলছে।স্বাধীনতার ৪১ বছর পর আমরা খুব ভাল অবস্থানে পৌঁছতে পারিনি আমাদের এডিপির শতকরা ২০ ভাগও বাস্তবায়ন হয়না।যদি ৫০ ভাগও বাস্তবায়ন হতো তাহলে আমরা উন্নয়নের একটা বলার মতো জায়গায় থাকতাম। সাম্প্রতিক পদ্মাসেতু মসিউর ,আবুল হোসেন দুর্নীতিই কিন্তু একমাত্র প্রতিবন্ধকতা নয়।ব্যাপারটা গভীর ভাবে ভাবার দরকার আছে। বর্তৃমান সরকার দুর্নীতিতে রেকর্ড গড়েছেন।মুসার মত সম্মানিত সাংবাদিক তাদের তুই চোর বলে সম্বোধন করতে বলেছেন।ব্যারিষ্টার রফিক উদ্বিগ্ন। উদ্বিগ্ন ড: ইউনুস।এরশাদ সাহেব এই সরকারকে সমালোচনা করেছেন্ এদের ব্যর্থতার দায়ভার নিতে অস্বীকার করেছেন।আর অযোগ্য মন্ত্রীবর্গ তাদের দায়িত্ব জ্ঞানহীন মন্তব্যের জন্য সবার হাসির পাত্র হয়েছেন।

দেশের রাজনীতিবিদদের কাণ্ডকারখানা দেশপ্রেম মানসিকতা অত্যাধিক জঘন্য এতে সন্দেহ নাই। তারমধ্যে রাজনীতির এত খারাপ অবস্থার জন্য দায়ী ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ।রাজনীতিতে ব্যবসা ঢুকে পরেছে। রাজনীতি নস্ট করেছেন এইসব ব্যবসায়ীরা ।শুধু কি তাই। দাতাগুষ্ঠি এর জন্য বিরাট ভাবে দায়ী । তারা উল্টাপাল্টা শর্ত জুড়ে দেন আমাদের মতো দরিদ্র রাষ্ট্রের উপর।যার ফলে আসল উন্নয়ন ব্যহত হয় চরম ভাবে। আরেকটা জিনিস সেটি হলো আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি।অসততা পেয়ে বয়ে বসেছে আমলাদের ইন্জিনিয়াররা সব চোর । ফলে উন্নয়ন কর্মসূচী বান্তবায়ন হয়না বল্লেই চলে।আনন্দের বিষয় আমাদের প্রেক্ষিত প্ল্যান হয়েছে ২০১০ সালে সিক্স -ফাইভ ইয়ারস প্ল্যান।দেরিতে হলেও হয়েছে।ভারতের মত বড় রাষ্ট্রের প্রেক্ষিত প্ল্যান ৩৭ পৃষ্ঠা আর আমাদেরটা মাত্র ১৬৩ পৃষ্ঠা ।এত বড় হওয়ার কারন মত পার্থক্য বেশি । যেখানে আওয়ামীলীগ ও বিএনপি একটি করে প্রেক্ষিত প্ল্যান দেয়ার কথা সেখানে আওয়ামীলীগ একাই দিয়েছে ৪৬টি আর বিএনপি ?এর চেয়ে একটি বেশি মানে মাত্র৪৭টি? দলগুরোর ভিতরে মতপার্থক্য এখানে স্পষ্ট ।আর তাই আমাদের এত দীর্ঘ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা। আনন্দের বিষয় দেরিতে হলেও তা তো হয়েছে ২০২১ সালের একটা লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ।উন্নয়নের লক্ষমাত্রা। ভিশন-২০২এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা নতুন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আভির্ভূত হব এতে সন্দেহ নাই ।পূব শর্ত হবে সবাইকে সৎ আর পরিশ্রমী হতে হবে প্রেসিডেন্ট লী সিঙ্গাপুরকে এত উন্নত করতে পেরেছে শুধুমাত্র সততা আর পরিশ্রমের কারনে। সিঙ্গাপুর ছোট্ট একটা রাষ্ট্র। অনেক মানুষ।উল্লেখযোগ্য সম্পদও তাদরে ছিলনা তারপরও তারা বিশ্বের অর্থনৈতিক শক্তি। ভিয়েতনামও উঠে আসছে।একই কারনে।আমরাও পারব।আমাদের মাইন্ডসেট করতে হবে ।সততা আর পরিশ্রম।সুরঞ্জিত বাবু,আবুল হোসেন,মসিউর,হলমার্কের তানভীর,গিয়াস আল মামুন,সালমান এফ রহমানদের মত চোরদের প্রতিহত করতে হবে। সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘুষ দূর্নীতি ত্যাগ করতে হবে আর ব্যবসায়ীদের রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে। আরেকটি বাধা দাতা গোষ্ঠীর চাপিয়ে দেয়া বোঝা সেটার কি হবে? যতই বিশ্বব্যাংক তুলসীপাতা সাজতে চাক না কেন তাদের মূলনীতি হলো দরিদ্রকে আরও দরিদ্র কর আর ধনীকে ধনী ।এভাবে দাতাগোষ্ঠী আমাদের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়।তারা আমাদের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে ।এই বাধা জয় করা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ ।এগুলো জয় করতে পারলে আমরা সুখি সমৃদ্ধশালী জাতিতে পরিনত হতে পারব ।আর না পারলে আমাদের অর্থনীতি আরও বিপর্যস্ত হবে?হাহুতাশ করা ছাড়া আর কিই বা করতে পারব আমরা?