ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

বারাক ওবামা এখন দক্ষিণপূর্ব এশিয়া সফরে । সোমবার তিনি মিয়ানমারে আসবেন।মিয়ানমার একটি খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ এলাকা ও ভৌগলিক গুরুত্বের কারনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে এর ব্যাপক গুরুত্ব আছে ।বিশেষ করে চীনকে সামুদ্রিক ভাবে ঘিরে ফেলা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম পররাষ্ট্রনীতি।

বাংলাদেশের জন্য এই সফর গুরুত্বপূর্ণ এই কারনে যে বর্তমান রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ এবং লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিক অধিকার আদায়ে এই সফর ভূমিকা রাখতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারকে তাদের এশিয়া অঞ্চলের সম্পর্কের প্রধান খুটি হিসেবে দেখছে।কার্যত এই সফরের পর মিয়ানমারে ছদ্ম গণতন্ত্রের আড়ালে শাসনকারী সামরিক জান্তা আরও শক্তিশালী হবে।

সামরিক জান্তারা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে ঢোকাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের উদ্বাস্তু করতে মদদ দিচ্ছে।বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেলে এগুলো আরও বাড়ার আশংকা আছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর মিয়ানমারের নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রের মূল উদ্বেগের কারণ বলে উল্লেখ করেছে।পশ্চিমাঞ্চলের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ আবশ্যক।

হোয়াইট হাউস থেকে বলা হচ্ছে মিয়ানমার সরকারকে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গঠনমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।ওই সব এলাকায় মানবাধিকার কর্মীদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার কি ভাবছে সেটাই এখনকার বার্নিং ইস্যু।কারণ রোহিঙ্গা শিবিরে তাদের সংখ্যা বাড়ছে।এমনকি বঞ্চিত জনগোষ্ঠী নানা অনৈতিক ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের কাজেও তাদের নাম জড়িয়ে যাচ্ছে।সম্প্রতি রামুর ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে।তারা ৭০০ বছর মিয়ানমারে বাস করা সত্যেও নাগরিক মর্যাদা পায় নাই।বরঞ্চ নানা ধরনের হয়রানি সহিংসতা গণহত্যা আর অনিশ্চিত জীবনই তাদের নিয়তি।এই হতাশা অনিশ্চয়তা থেকে তারা সহিংসতায় বিশেষ করে বিচ্ছিন্নতা বাদী চরম সংঘটন রূপে আত্নপ্রকাশ করলে তা এই এলাকার জন্য তথা বিশ্বের জন্য হবে ভয়াবহ।তাই রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত নিস্পত্তি অবশ্যম্ভাবী।এবং এটি অত্র অঞ্চলের জন্য একটি খুবই সেনসেটিভ ইস্যু।

মিয়ানমারে রয়েছে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ আর খনিজ সম্পদ।পাঁচ কোটি মানুষের বৃহৎ বাজার।ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব মিযানমারের অনেক বেশি।তাদের সাথে আমাদের রয়েছে সীমানা।রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কি হতে পারে তাই নিয়ে অধীর আগ্রহে সারা বিশ্ব আর বিশ্ব মানবতা।যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব নিকাশে বাংলাদেশের স্বার্থ জুড়ে দিতে পারলে সেটা আমাদের বিরাট কূটনৈতিক অর্জন হতে পারে।টেকসই সমাধানে বহুপাক্ষিক কূটনীতি নিঃসন্দেহে আবশ্যক।আর রোহিঙ্গা ইস্যু অবশ্যই এর প্রতিকার হতে হবে এবং তা দ্রুততম সময়েই।