ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

07_Foot-over-bridge_041214_0016

সন্দেহ নেই, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদের কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং স্বীয় দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্টার সাথেই পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু আফসুসের বিষয়, কতিপয় দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার কারনে উনার পরিশ্রমের সুফল জাতি উপভোগ করতে পারছে না। অন্যায় প্রশ্নে তিনি যত কঠোর, ঐ কর্মকর্তারা তার চেয়েও অধিক ধুরন্ধর।

রাজধানীর ভিতরের রাস্তাগুলির অবস্থা তুলনামূলক ভাল হলেও বাইরের জেলাগুলোর রাস্তা-ঘাটের অবস্থা খুবই করুণ। আমার স্বচক্ষে দেখা সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সড়ক যান চলাচলের জন্য একেবারে অনুপযোগী। বিশেষ করে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট-গাছবাড়ী-কানাইঘাট(গাজী বুরহান উদ্দিন রোড) রাস্তাদুটির একেবারে বেহাল দশা। শুধু সিলেট বিভাগ নয়, দেশের সব জেলা শহরের রাস্তাঘাটের দশাই এমন। এমন না যে, ঐ সড়ক মহাসড়কগুলিতে কোন উন্নয়ন কাজ হয়নি? এই গতবছরও মেরামত করা হয়েছে কিন্তু বছর না পেরুতেই রাস্তা চলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, এমন প্রায় সব রাস্তাই। এর একমাত্র কারন নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার এবং উপযুক্ত পরিমাণের কমতি। যেখানে ১০০ ফুট শুধু পাথরই লাগবে সেখানে লাগাচ্ছে ৫০ ফুট পাথর(নিম্ন মানের মরা পাথর), ৩০ ফুট ইটের সুরকি এবং ২০ ফুট নদীর পলিমিশ্রিত বালু! যেখানে সিমেন্ট লাগবে ৫০ বস্তা, সেখানে লাগাচ্ছে মাত্র ২০ বস্তা। ব্রীজ কালভার্ট সমূহে যেখানে ৮/১০ সূতা রড লাগানোর কথা, সেখানে লাগাচ্ছে ৪/৫ সূতার রড তাও গ্রেডহীন নিম্নমানের। কার্পেটিংয়ে যেখানে প্রয়োজন ১৬ ফুট প্রশস্তের, সেখানে ১২ ফুট প্রশস্তেই কোনরকম কমপ্লিট করেই চলে যাচ্ছে। নিয়ম মাফিক সহজে পানি নিস্কাশনের জন্য যেখানে দুধার ঢালু এবং মাঝখান উচু রাখার কথা, সেখানে পাথর ও আলকাতরা বাঁচাতে পাতলা করে কোন রকম প্রলেপ মেরেই রেখে দিচ্ছে। রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়া বা ধেবে যাওয়া রোধে কোথাও কোথাও মাটি ভরাট করার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, মাটি কাটার কাজ নতুন করে করা তো দূরের কথা; রাস্তার দুই পাশের ঘাঁস বেস্টিত স্থায়ী অংশটুকু কোনরকম পরিস্কার করে সমতল করেই আলকাতরা ও ইটের সুরকি বসিয়ে প্রলেপ মেরে দিচ্ছে। বিভিন্ন সড়কে এমন স্থান আছে যেখানে রাস্তা টেকাতে রাস্তার পাশে গার্ডার নির্মাণের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, যেখানে গার্ডার নির্মাণ প্রয়োজন সেখানে শুধু মাটি ভরাট করেই কাজ কমপ্লিট করে চলে যাচ্ছে। এতে করে বছর ঘুরার আগেই রাস্তা ভেঙ্গে আবার চলার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও কালবার্ট ভেঙ্গে বা ধেবে গিয়ে চলাচলে অসুবিধা তো হচ্ছেই, নানা দূঘর্টনাও ঘটছে।

এসব দেখার যেন কেউ নেই। কাউকে যদিও বা দেখার বা তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়, তবে সেই ঘুষ খেয়ে বসে! দায়িত্বে গাফিলতি তো করেই, টাকাও মেরে দেয়! যেই লঙ্কায় যায় সেই বনে যায় রাবণ। এমনিতেই মন্ত্রণালয়ে যদি ১০০ কোটি টাকার কোন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়, তবে বারো হাত ঘুরে তা নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত পৌছতে পৌছতেই অর্ধেকে নেমে যায়! তার উপর সেই অর্ধেক টাকার কাজও যদি ঠিকঠাক মত না করা হয় তবে আমাদের উন্নতি হবে কিভাবে? দেশ ক্রমশ উন্নতির দিকে যাবে কিভাবে?

শুধুমাত্র সড়ক পরিবহণ ও সেতু সেক্টর নয়, বিদ্যুৎ বলেন, শিক্ষা বলেন, গ্যাস-পানি বলেন প্রায় সব সেক্টরেই এমন দশা। প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে একজন সৎ থাকলে কি হবে, অধঃস্তন ৫০ জন থাকেন অসৎ। ফলে অধিক সংখ্যক অসৎদের পাল্লায় পড়ে সৎ’রাও অসহায় বনে যান এবং অসৎদের সাথে সৎ’রাও সমানতালে পাবলিকের গালাগালির, ক্ষোভের শিকার হোন।

এই জাল-জালিয়াতির অবসান চাই। কতিপয় অসৎ-দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অসততার কারনে, ব্যাক্তিস্বার্থের কারনে সরকারের পরিশ্রম-সাফল্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে না। সরকার চাইলেও আমাদের অভিযোগ প্রত্যাখান করতে পারে না। কারন, দূর্নীতির সূচকে আমাদের অবস্থান কিছুটা পেছালেও মোটাদাগে আমরা এখনো চরম দূর্নীতিবাজ রাষ্ট্র বলেই প্রমাণিত। তাই অভিযোগ প্রত্যাখান নয়, আমলে নিয়েই যথাবিহীত ব্যবস্থা গ্রহণ সরকারের জন্য অত্যাবশ্যক।