ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

r

বার্মার সেনাবাহিনীর দমন-নিপীড়ণ শুরু হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ঢল নামে। প্রথমে তাদেরকে বাংলাদেশে ঢুকতে না দেয়া হলেও পরবর্তীতে মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া হয়। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য সারাবিশ্বেই আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে আমাদের পরিচিতি বেড়েছে।

ছোট আয়তেন আমাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব এমনিতেই বেশি, আছে সম্পদের সীমাবদ্ধতা। সীমতি সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশের সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে যে সাহস দেখিয়েছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। তারপরেও রোহিঙ্গাদের সাথে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আমাদের বিবেককে পীড়া দেয়।

কয়েকটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে যাবে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আনার জন্য একশ্রেণীর দালাল আছে, যারা রোহিঙ্গাদের শেষ সম্বলটুকুও ছিনিয়ে নিচ্ছে। রাত্রিবেলা যেসব রোহিঙ্গা পানি পথে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছে, সেখানে জলদস্যুরা আক্রমন করে তাদের সবকিছু লুট করে নিচ্ছে।

একটি ঘটনা না বললেই নয়। জলদস্যুরা একটি ব্যবসায়ী রোহিঙ্গা পরিবারের নৌকা আক্রমণ করে তাদের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়েছে এবং যাত্রীসহ নৌকাটিকে সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছে, এর ফলে মহিলা-শিশু সহ অনেকেই মারা গেছে।

কক্সবাজারের স্থানীয় রিক্সাওয়ালারা সুযোগ পেয়ে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় করছে। নিরুপায় হয়েই রোহিঙ্গারা বেশি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছে। আরেক শ্রেণির স্থানীয় দালাল তৈরি হয়েছে, যারা অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় জনগণের মধ্য থেকে কিছু অর্থলোভী মানুষ ছাপড়া ঘর বানিয়ে রোহিঙ্গাদের কাছে থেকে অযৌক্তিক ভাড়া আদায় করছে। চোরাকারবারীরাও বসে নেই, তারা রোহিঙ্গাদেরকে মাদক বহনের কাজে ব্যবহার করছে। দেশের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় রোহিঙ্গাদের ত্রাণের নামে একধরনের চাঁদাবাজি চলছে।

ত্রাণ সংগ্রহকে আমরা স্বাগত জানাই। এই ত্রাণের টাকা কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, এটা সরকারকে মনিটর করতে হবে। ত্রাণ সংশ্লিষ্ট সরকারী ও বেসরকারী কর্মকর্তাদের ত্রাণের আত্মসাতের ঘটনা আমাদের সবারই জানা।

অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজধানীসহ সারা বাংলাদেশে যখন মিছিলের নামে সাধারণ জনগণকে কষ্ট দেয়া হয়, তখন বিবেকের কাছে প্রশ্ন জাগে- আমরা কী আদৌ মানবিক হতে পেরেছি?