ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ফেইসবুক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর ‘মৃত্যু কামনা’ করায় মুহাম্মদ রুহুল আমীন খন্দকার নামের এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে বৃহস্পতিবার দেওয়া রুলে জানতে চেয়েছে, রুহুলের বিরুদ্ধে কেন ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না।

দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও শিক্ষা সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির খণ্ডকালীন প্রভাষক রুহুল বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘মৃত্যু কামনা করে’ রুহুল শনিবার তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই দিন মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আশফাক মুনীরসহ পাঁচজনের মৃত্যুর পর এ স্ট্যাটাস দেন রুহুল।

ওই স্ট্যাটাস নিয়ে বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদ আদালতের নজরে নেওয়ার পর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে।

ওই স্ট্যাটাসের কারণে রুহুল আমীনের অপসারণ দাবি করে বুধ ও বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে ওই শিক্ষকের ফেইসবুক ওয়ালে পোস্ট করা একটি স্ট্যাটাসে লেখা ছিলো, “পরীক্ষা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার ফল তারেক ও মিশুক মুনীরসহ নিহত ৫: সবাই মরে, হাসিনা মরে না কেন?”

রোববার ভোর ৪টা ৫৯ মিনিটে দেওয়া আরেক স্ট্যাটাসে লেখা ছিলো, “পরীক্ষা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স! কোন সভ্য সমাজে কি চিন্তা করা যায়? পুরো পৃথিবী যেখানে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন করছে, সেখানে হাসিনা সরকার পরীক্ষা ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স দিচ্ছে!!!”

রুহুল আমিন ২০০৮ সালে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পান। ২০০৯ সাল থেকে বিনা বেতনে শিক্ষা ছুটিতে তিনি অস্ট্রেলিয়া রয়েছেন।

সূত্রঃ- BDNews24.কম