ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-ইচ্ছুকদের ভোগান্তি কমাতে কেন্দ্রীয়ভাবে অথবা আঞ্চলিকভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পাবলিক  বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।  গত ০২ নভেম্বর (বুধবার) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অষ্টম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান ।

abdul_hamid_politician

মহামান্য রাষ্ট্রপতি আমাদের রাষ্ট্রপ্রধান সবার অভিভাবক । বলা হয়ে থাকে রাষ্ট্রপতির ইচ্ছাই আইন । দেশের রাষ্ট্রপ্রধান মূল জায়গায় কথা বলেছিলেন । তাকেঁ অভিন্দন ও শ্রদ্ধা । প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে যে পরিমাণ ব্যবসা হয় তার সমীকরণ আঁতকে উঠার মত । শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির সমীকরণ তো বের করা সম্ভব না । এসএসসি ও এইচএসসি পাশের পর সবার স্বপ্ন থাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে বিচরণ করার । বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিকে এমন ভাবে সাজানো হয়েছে ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোচিং করতেই হয় তাও আবার শহরে এসে । যে ছেলেটা শহরে এসে কোচিং করতে পারবে না তার  ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার স্বপ্ন দেখা্ও পাপ । আমরা যারা কৃষি প্রধান গ্রামের সন্তান আমাদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নের একমাত্র বিকল্প পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় । তাই ধান বেচা ,আলু বেচা টাকা আর নিজের টিউশন থেকে জমানো টাকা নিয়ে আমরা পাড়ি দিয় শহরের উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে । কিন্তু এসেই শিক্ষা ব্যবসায়ীদের কবলে পড়তে হয়। অন্যান্য সময় শহরের মেসের সিট ভাড়া ১০০০-১৫০০ টাকা থাকলে ‍ও ভর্তি পরীক্ষার আগেকার সময় টাতে তা বেড়ে ২০০০-২৫০০ টাকাতে গিয়ে ঠেকে । সিজন বলে কথা।

c3938c01ab4593d3bb8b11fec0f3371c-untitled-14

 

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির গ্যারান্টি সম্বলিত বিজ্ঞাপন দিয়ে ভর্তি করানো কোচিং সেন্টার সমূহ কোচিংয়ের বদলে গাইড ও শীট বেচা শুরু করে্ । যারা কোচিং করায় তাদের কাছে আবার ব্যক্তিগতভাবে প্রাইভেট পড়ার পীড়াপীড়ি তো রয়েছে । ভর্তির পরীক্ষার মেধা যাচাই  প্রতিযোগিতার আগে আর্থিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য মায়ের মুরগীর ডিম বেচার টাকাটা্ পর্যন্ত যোগ করি এই বিনিয়োগে ।

বেসরকারী  বিশ্ববিদ্যালয় বাদ দিয়ে বাংরাদেশে সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েচে ৩৮ টি । সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরমের মূল্য ই  রাখা হয় ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা ।বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনে  পরীক্ষা সংখ্যা বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা চলে । বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ইউনিট ভিত্তিক কোন কোন ক্ষেত্রে সাবজেক্ট ভিত্তিক পরীক্ষা নেয় । একজন শিক্ষার্র্থী যদি ১০ টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২ টি করে ফরম নেয়ে এবং ফরমের মূল্য যদি ৬০০ টাকা করে হয় তবে শুধু ফরম নিতে লাগবে ১২০০ টাকা । প্রশ্ন হচ্ছে আমি কেন ১০ টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফরম নিবো ? আরে ভাই, কেমনে বুঝবো আমি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাবো ।

জাহঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ফরম কেনার আর্থিক পরীক্ষাই শেষ নয় , আর ও বেশ কয়েকটি আর্থিক পরীক্ষায় টিকতে হবে ভর্তিচ্ছুকে । বিশ্ববিদ্যালয় গুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত । প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজেদের ক্যাম্পাসে পরীক্ষা্ নেয় ।। যে শিক্ষার্থীর বাড়ি কুড়িগ্রাম সে যদি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে চায় তাকে  শুধু পরিবহন ব্যয় গুনতে হবে ২০০০-২৫০০ টাকা ।যার বাড়ি কক্সবাজার সে যদি সিলেটে পরীক্ষা দিতে চায় ট্রেনে গেলেও তাকে ১২০০ টাকা পরিবহন খাতে বাজেট করতে হবে ।কোনরকম তো পরীক্ষা দিতে গেলেন,খাবেন কি ? থাকবেন কোথায় ? তাছাড়া জার্নি করে পৌছাঁনোর  পর অনেকে অসুস্থ হয়ে যায় । নতুন জায়গা না চেনার বিড়ম্বনা তো রয়েছে । ভর্তি পরীক্ষার অংশগ্রহণ করার আগে একাধিকবার আর্থিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় । মেসে থেকে,কোচিং বানিজ্য ডিঙিয়ে এই প্রান্ত ঐ প্রান্ত দৌড়েঁ কোটার বিষ গলায় বেধে একটা ছেলে বা মেয়ের পরীক্ষার হলে বসতে হয় । তরুণ সমাজকে এভাবে মরিচীকার পিছনে ছুটানোর কোন মানে হয় না । তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পদ্ধতি,পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে ।

তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য বৃন্দ ও ইউজিসি কর্তপক্ষ মহামান্য রাষ্ট্রপতির আহবানে সাড়া দিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার ও আধুনিকায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করবেন আশা রাখি ।

লেখক-শিক্ষার্থী;জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ।