ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, ভ্রমণ

লেখা শুরু করার প্রথমে শানে নুযুল দিয়ে নিই ভারত যাওয়ার ভুত কীভাবে মাথায় ঢুকল!  পড়ালেখা মাত্রই শেষ হযেছে। ছোটবেলায় ভেবেছিলাম পড়ালেখা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই শান্তি, আর কোন ঝামেলা নাই। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ঝামেলা মাশাল্লাহ দ্বিগুণ হয়ে গেছে। জানুয়ারির ১ তারিখ এই সব ঝামেলা নিয়ে গুরুগম্ভীর আলোচনা করতে করতে টিএসসিতে যখন চা-বিড়ি ধ্বংস করি তখন এক বন্ধু বলল, “দোস্ত এই পেইন লাইফ আর ভাল লাগে না, প্রেম নাই, চাকরি নাই, বিদেশ যাইতেগা মন চায়”। বন্ধুর কষ্টে কষ্টিত হয়ে আমরা ওই মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নিলাম  এই মাসেই বিদেশ যাবো গা। যেহেতু দূরের বিদেশ গেলে বাবা-মা বকা দিতে পারে তাই কাছের বিদেশ যাব, ইন্ডিয়া যাব। ১০ মিনিটের মধ্যে আমরা রক্ত শপথ নিলাম ইন্ডিয়া যাবোই যাব, শুরু হয়ে গেল শপথ রক্ষার পালা…।

বাসায় এসে ’ইন্ডিয়ান ভিসা ফ্রম বাংলাদেশ’ লিখে সার্চ দিলাম। সে এক কেলেংকারিয়াস ব্যাপার-স্যাপার। হাজার হাজার লিংক শুধু একটা বিষয়ের উপরেই। কোথাও লেখা ‘ভিসা পাওয়া খুব সহজ’, কোথাও লেখা ‘আল্লাহ এত ঝামেলার’। কেউ বলে ‘কনফার্ম টিকিট লাগবে’, কেউ বলে ‘দালাল ধরে ই-টোকেন করা লাগবে’। আর এন্ডোর্সমেন্ট এর ঝামেলা তো মাশাল্লাহ আছেই। কিছু ব্লগ পড়ে হতাশ হইলাম, মনে হইল এর চেয়ে অ্যামেরিকার ভিসা পাওয়া সোজা, দালাল ধরতে হয় না, ই-টোকেন এর জন্য মাথা কোটা লাগে না। এত সব ভাবনা-চিন্তা করতে করতেই অনলাইনে ভিসা অ্যাপ্লিকেশন করা শুরু করে দিলাম।

দালাল লাগে নাই, ই-টোকেন লাগে নাই, কোনো কাহিনীও করি নাই। এই লেখায় শুধু সেই অভিজ্ঞতাটুক শেয়ার করি। যারা ভাবেন দালাল লাগবেই, ঝামেলা হবেই এই লেখাটুক তাদের জন্য। ভারতীয় ভিসা পাওয়া খুবই সহজ, শুধু আপনার একটু কমন সেন্স আর হালকা হালকা কম্পিউটার চালানোর অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ব্যাস বাকিটুক করতে পারবেন একা একাই।

কীভাবে শুরু করবেন?

প্রথমেই চলে যান এই লিংকে ক্লিক করার পরপরই একটা পেজ পেয়ে যাবেন। সেখানে ইন্ডিয়ান মিশন “Bangladesh-Dhaka” সিলেক্ট করেন, মেইল আইডি দেন তারপর কোন কারণে যেতে চাচ্ছেন সিলেক্ট করে “Continue” বাটনে ক্লিক করে দেন। (ঢাকাই সিলেক্ট করতে হবে এমন কোন কথা নাই, যার যেই মিশন কাছে সেইটা সিলেক্ট করতে পারেন, আমি ঢাকায় থাকি বলে ঢাকা করলাম)। মেইল আইডিটা দেখেন, সব ক্যাপিটাল লেটারে। এই পুরা ভিসা ফর্মে আপনি ইংরেজীতে যা-ই লিখেন সব অটোমেটিক ক্যাপিটাল ফর্মে চলে যাবে। চিন্তার কোন কারণ নাই। “Expected Date of Arrival” এই ঘরে এক মাস পরের (যেদিন ভিসা অ্যাপ্লিকেশন করলেন সেদিন থেকে) যে কোন একটি তারিখ দিয়ে দেন।

IV1

কন্টিনিউ ক্লিক করার সাথে সাথেই নিচের মত একটা ছবি পাবেন যেখানে একটা টেম্পোরারি আইডি আপনাকে প্রোভাইড করা হবে। এই টেম্পোরারি আইডিটা কপি করে রাখেন (ধরেন ফর্ম পূরণ করতে করতে হঠাৎ আপনার বাসায় লোডশেডিং হইল, অথবা ইন্টারনেট কানেকশন চলে গেল তাহলে আপনি এই টেম্পোরারি আইডি এই পেজে গিয়ে দিলেই যেখানে শেষ করছেন সেখান থেকেই শুরু করতে পারবেন, আবার প্রথম থেকে শুরু করা লাগবে না)।

IV2

এখন আসা যাক ফর্ম পূরণে। উপরের পেজে দেখেন ‘Surname’ আর ‘Given Name’ নামে দুইটা অপশন আছে। অনেকেই হাউ মাউ খাউ খাউ করেন যে, কোনটা দিবেন সার নেম আর কোনটা লিখবেন গিভেন নেম। আসেন সমস্যার সমাধান করি। আপনার পাসপোর্ট খানা হাতে নেন এরপর দেখেন খুব সুন্দর করে জিনিসগুলা লেখা আছে। (বলতে ভুলে গেছি, Visible Identification Mark এর ঘরে ‘NONE’ লিখে দিবেন; তবে যদি আপনার মুখে কাটা দাগ থাকে তাহলে ‘স্কার’ লিখে দিতে পারেন।)

IV3

আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আপনার সিটিজেনশিপ নং/ন্যাশনাল আইডি। কোনটা দিবেন? প্রথমে দেখেন আপনার পাসপোর্ট এর ব্যক্তিগত নং এ কোন নাম্বারটা দেয়া আছে। ন্যাশনাল আইডি নাম্বার নাকি জন্মসনদের নাম্বার। এই নাম্বারটা ভিসা অ্যাপ্লিকেশনে হুবহু লিখে নেন। পরে যখন কাগজ সাবমিট করতে যাবেন তখন এই নম্বরের কপিটাই আপনাকে দিতে হবে। যদি সেটা ন্যশনাল আইডির নম্বর হয় তবে ন্যশনাল আইডির ফটোকপি দিবেন, আর জন্মসনদ হলে জন্মসনদের ফটোকপি দিবেন। (এটা কিন্ত ইম্পরট্যান্ট পার্ট, আপনার পাসপোর্টে আছে জন্মসনদের নাম্বার, কিন্ত আপনি ফিজিকালি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট করার সময় দিলেন ন্যাশনাল আইডির ফটোকপি- তাহলে কিন্ত আপনার ফর্মই ওরা নিবে না।)

বাকি ডিটেইলস নরমালি পূরণ করেন। অযথা তাড়াহুড়া করবেন না, পাসপোর্ট দেখে দেখে ইনফরমেশন গুলো লেখেন, মুখস্থ লেখার দরকার নাই। সেদিন আমাদের সাথেই এক ভাইয়া তার কাগজে পাসপোর্ট ইস্যুর তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর এর জায়গায় ২৩ সেপ্টেম্বর লিখার কারণে তার ফর্ম কাটাকুটি করে ফিরিয়ে দিয়েছে। পাসপোর্ট কোথা থেকে ইস্যু করছেন সেইটা পাসপোর্ট এর ইনফরমেশন পেজেই লেখা আছে। অনেকে বুদ্ধি করে ’আগারগাঁও’ লিখেন এবং অযথা ধরা খান। অথচ পাসপোর্টে স্পষ্ট করেই লেখা থাকে ‘Issue from: DIP/Dhaka’; সুতরাং আপনি লিখবেন শুধু ‘Dhaka’।

এখন একটার পরে একটা ইনফরমেশন দিয়ে কন্টিনিউ করেন। পরের পেজ এসে যাবে। এই পার্টটা খুব খুব ইম্পরট্যান্ট কারণ বেশির ভাগের ভিসা রিজেক্ট হয় এই অংশে ভুল ইনফো দেয়ার কারণে।

IV4

এই অংশ পূরণের আগে আপনি যে বাসায় থাকেন সেই বাসার একটা বিদ্যুল বিল বা আপনার টেলিফোন বিল জোগাড় করেন। যদি একটাও হাতের কাছে না থাকে তাহলে বাসার বাড়িওয়ালার কাছে যেয়ে কাঁদো কাঁদো গলায় বলেন, আংকেল একটা বিল দশ মিনিটের জন্য দেন। যদি বাড়িওয়ালাও বাসায় না থাকে তাহলে খালা-মামা-ফুফু-গার্লফ্রেন্ড যে কারো বাসার বিল জোগাড় করেন। (বিলের ফটোকপি জমা দিতে হবে, স্পষ্ট ফটোকপি না হলে এরা ঘ্যানঘ্যান করে, মাঝে মধ্যে মেইন কপিও রেখে দেয় তাই একটু কষ্ট করে স্পষ্ট ফটোকপি করাবেন)।

বিলের উপর যে ঠিকানাটুকু পাবেন হুবুহু, তা প্রেজেন্ট অ্যাড্রেসে লিখে ফেলেন। আবার বলছি প্রেজেন্ট অ্যাড্রেসের ঘরে পাসপোর্ট এর প্রেজেন্ট অ্যাড্রেস লিখবেন না। যে বিলের কপি আপনার কাছে আছে (সেটা যার-ই হোক) সেটা দেখে হুবহু লিখবেন, কিছু বাদও দিবেন না, কিছু বাড়াবেনও না। আর পার্মানেন্ট অ্যাড্রেস লিখে ফেলেন আপনার পাসপোর্ট দেখে দেখে। এইখানেও সেই একই কথা, যা আছে তা-ই লিখবেন। বাড়াবেনও না, কমাবেনও না।

এবার ঠিক নিচেই পাবেন ফ্যামিলি ডিটেইলস এর ঘর, এই ঘরে ‘Previous Nationality’ নামের একটা ব্যাপার আছে। ঘরটা পূরণ করা ম্যান্ডাটরি না, এই কারণে অনেকে পূরণ করেন না। কিন্ত আপনি অবশ্যই করবেন এবং ওই ঘরে ‘বাংলাদেশি’ সিলেক্ট করে দিবেন।

IV5

ব্যাস এভাবে একের পর এক ইনফরমেশন দিয়ে চলে যান পরের পেজে। এর পরের পেজে আপনার দুইটা রেফারেন্স নম্বর চাইবে। একটা ইন্ডিয়ান, একটা দেশি। দেশি যাকে ইচ্ছা তাকে রেফারেন্স দেন, আর বিদেশের জন্য ইন্ডিয়ান যে কোন একটা হোটেলের অ্যাড্রেস আর ফোন নাম্বার কপি করে দিয়ে দেন (গুগলে সার্চ দিলেই পাবেন)।

হাতের কাছে আপনার ছবির একটা সফট কপি রাখেন (২/২ হতে হবে, যে কোন স্টুডিও তে যেয়ে বলবেন ভিসা করব তাই ছবির হার্ড কপির সাথে সফট কপিও লাগবে)। ছবি অবশ্যই সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে হতে হবে। ঝাপসা ছবি দিবেন না, একদম ল্যাব প্রিন্ট। অনেকে ছবি থেকে ছবি করান কম দামে, সে ছবি ঝাপসা হয়, ওই ছবি দিবেন না। ছবিতে চশমা পড়া থাকতে পারবেন না। ছবি আপলোড করার পর দেখবেন ‘Form Print’ এর একটা বাটন আসবে। বাটনে ক্লিক করার পরেই আপনার ফর্ম ডাউনলোড হয়ে যাবে। এইবার সেই ফর্ম একটা কালার প্রিন্ট করে নেন।

এবার আসা যাক এন্ডোর্সমেন্টে। মতিঝিলের যে কোন ব্যাংকে ১২-১৩ হাজার টাকা নিয়ে চলে যান। বলেন আপনি ডলার করবেন। ওনারা সেটা ডলার করে আপনার পাসপোর্ট এর পিছনে সিল মেরে দিবে আর সাথে একটা কাগজ দিয়ে দিবে। ফি নেবে ৩০০-৩৪৫ টাকা। নূন্যতম ১৫০ ডলার এন্ডোর্স করতে হয়। (ভুলেও মানি এক্সচেঞ্জে এন্ডোর্স করাবেন না, ইন্ডিয়ান ভিসা সেন্টার মানি এক্সচেঞ্জের এন্ডোর্স এখন গ্রহণ করে না)।

যদি আপনি আমার মত বুদ্ধিমান হন তাহলে আপনি আপনার ক্রেডিট কার্ড নিয়ে চলে যাবেন ব্যাংকে, যেয়ে অফিসারকে ভাব নিয়ে চাবায় চাবায় বলবেন আমি অ্যামেরিকায় ঘুরতে যাবো, আমার কার্ডটা এন্ডোর্স করে দেন। ওই অফিসার আপনার কাছে এক টাকাও চাইবে না, বিনামূল্যে আপনার ক্রেডিট কার্ড এন্ডোর্স করে দিবে। ওনাকে কোন ফি দিতে হবে না, আপনার ক্রেডিট কার্ডের অ্যাকাউন্টে একটা পয়সা না থাকলেও সমস্যা নাই। আর যাদের ক্রেডিট কার্ডও নাই, ১২/১৩ হাজার টাকাও এই মুহূর্তে নাই তারা বাবা/মা/ভাই/বোন (রক্ত সম্পর্কীয়) এর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এর স্টেটমেন্ট জমা দিলেই হবে। ব্যাংকে ১৫ হাজার টাকা থাকলেই হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিতে ১১৫ টাকা ফি দিতে হয়।

ব্যাস, এইবার আপনি রেডি। এইবার চেক করে নেন হাতের কাছে এই জিনিসগুলা আছে কিনা। (ভিসা অ্যাপ্লিকেশনের প্রিন্ট কপি, ন্যাশনাল আইডি/বার্থ রেজিস্ট্রেশনের কপি, কারেন্ট/ফোন বিল, স্টুডেন্ট হলে কলেজ/ইউনিভার্সিটির আইডি, পেশা হলে এনওসি+আইডি/ভিজিটিং কার্ড এর ফটোকপি, এন্ডোর্সমেন্ট পেজটার ফটোকপি, পাসপোর্ট এর ইনফরমেশন পেজের কপি।)

যদি সব রেডি থাকে তাহলে সরাসরি চলে যান এই লিংকে। এখানে যেয়ে আপনার সব ইনফরমেশন দিবেন। তারপর একটা ঘরে লেখা আসবে ‘Walk In/E-Token’; যেহেতু আমরা দালাল ধরে ই-টোকেন নেইনি তাই দিব “Walk In“। এরপর কন্টিনিউ বাটনে চাপ দিলে দেখাবে ৬১৮ টাকা ফি (৬০০+১৮ টাকা প্রসেসিং)। এরপর কার্ডে পে করে দেবেন। কার্ড না থাকলে বিকাশ/রকেট দিয়েও পে করতে পারবেন। অনেকেই এটা জানেন না, পরে ভিসা সেন্টারে যেয়ে আশেপাশের দোকান থেকে ফি জমা দেন। কোন দোকানে ৬৭০ রাখে, কোন দোকানে ৬৫০ টাকা রাখে। বাসায় বসে আপনিই যখন পারেন তখন ৪০ টাকা বেশি দেয়ার দরকারটা কী? আর দোকানে যেয়ে তাড়াহুড়ারই বা দরকারটা কী? (পে করার পর ফোনে একটা ম্যাসেজ আসবে আর পেমেন্ট এর একটা সফট কপি আসবে মেইলে, ওইটা প্রিন্ট করানোর দরকার নাই, দেখতে চাইবে না কেউ।)

এবার একদম নিজের অভিজ্ঞতাঃ

কাগজ-টাগজ নিয়ে চলে গেলাম শ্যামলী আইভ্যাকে সকাল ৮ টায়। যাওয়ার পর লাইন ধরলাম, এক ঘন্টা পরে ভিতরে ঢুকতে দিল, ঢুকানোর সময় হাতে একটা প্রিন্টেড কাগজ নাম্বারসহ। ভিতরে যেয়ে আরো ১৫ মিনিট বসলাম, কফি খেলাম (কফি, চা, রোল, বার্গার সবই আছে, নাম ২০ টাকা, ৪০ টাকা), এরপর সিরিয়াল ধরে ডাক দিল। জিজ্ঞেস করল কেন যাবেন? বললাম ঘুরতে। ব্যাস ওই ওইটুকুই। পাশের কাউন্টারে অবশ্য বন্ধুকে জিজ্ঞেস করছে কোথায় যাবেন, অনেকে আবেগ দেখায় বলে ফেলেন কাশ্মীর যাব, বলবেন না এইটা; আপনার ভিসা দরকার এখন, ভিসা পাওয়ার পর কাশ্মীর যান নাকি উত্তর প্রদেশ যান সেইটা আপনার ব্যাপার, ওদের সামনে এমন কিছুই বলবেন না যাতে ওনারা এখন নেগেটিভ চিন্তা করে, কাশ্মীর সিকিম এগুলা ইন্ডিয়ার খুব স্পর্শকাতর জায়গা, এদের নাম না নেয়াই ভালো।

এরপর একটা স্টিকার লাগায় দিয়ে আপনাকে একটা টোকেন ধরায় দিবে যেখানে লেখা থাকে কবে আপনার পাসপোর্ট ওনারা ফেরত দিবেন। পাসপোর্ট ওনারা রেখে দিলেই যে ভিসা পাবেন সেটা ১০০% শিওর না, কিন্ত ৯৭% শিওর। আপনি ফর্মের ভিতরে বড় সড় কোন ভুল না করলে ওনারা ভিসা দিয়ে দিবে।

যেদিন পাসপোর্ট ফিরায় দেয়ার কথা সেদিন গেলেই যে পাবেন তা শিওর না। এজন্য চলে যান এই লিংকে। এখানে অ্যাপ্লিকেশন আইডি আর পাসপোর্ট নাম্বার দিলেই দেখাবে আপনার ভিসার অবস্থা কী। যদি ১০ তারিখ দেয়ার কথা লেখা থাকে তাহলে ১০ তারিখ এই চলে যাবেন না। চেক করবেন। যদি দেখেন ভিসা স্ট্যাটাস প্রসেসিং দেখাচ্ছে তাহলে যাওয়ার দরকার নাই। যদি প্রসেসড দেখায় তাহলে বিকালের দিকে যাবেন। ৩.৩০-৫.৩০ পর্যন্ত ওনারা ফেরত দেয়ার কাজগুলা করেন।

অফটপিকঃ

  • ভিসা সেন্টার এ ফর্ম জমা নেয় ৮-১২.৩০, ৭ টায় যেয়ে লাইনে দাড়ালে কাজ সারতে পারবেন ৮.৩০ টার মধ্যে। ৮ টায় গেলে ১১ টা বাজবে। আর ১০ টার দিকে না যাওয়াই ভালো, পরে লাইনে দাঁড়ায় থাকবেন দুই ঘন্টা তারপর শুনবেন আজকের মত বন্ধ।
  • পাসপোর্ট ফেরত দেয় ৩.৩০-৫.৩০, সকালে যেয়ে হাত পা ধরে কাঁদলেও দিবে না, ফেরত আনার জন্য বিকালের দিকেই যান।
  • মনে রাখবেন দরকার আপনার, তাই বিনয়ের অবতার হয়ে থাকবেন, কারো সাথে যেয়ে অযথা রাগারাগি করবেন না। কোন কারণ ছাড়াই ওরা আপনার ফর্ম রিজেক্ট করে দিতে পারে।
  • ব্যাগ নিয়ে যাবেন না, রাখার জায়গা নাই।
  • পোর্ট অফ এন্ট্রি/পোর্ট অফ এক্সিট নিয়ে অনেকে টেনশনে ভোগেন, যা ইচ্ছা তা দিতে পারেন ওখানে, সমস্যা নাই এখন। এখন সবার জন্য সব পোর্ট উন্মুক্ত।
  • যদি কাউন্টারে বলে আহ হা ওই কাগজ তো লাগত, বলবেন ‘সরি, আনি নি ওইটা’, বলতে যাবেন না “ওইটা কেন লাগবে, এইটা দিছি না? এইটা দিলেই তো হয়”, মোট কথা তর্ক করবেন না।
  • কিভাবে সাজাবেন তা টেনশনের দরকার নাই। কাগজ গুলা শুধু নিয়ে যাবেন হাতে বা ফাইলে, ওইখানে বড় ব্যানার টানানো আছে কিভাবে কাগজ সাজাবেন তা লেখা আছে, ওইভাবে সাজিয়ে রাখবেন, কাউন্টারে যেয়ে কাগজ গুলা দিলে ওরাই স্ট্যাপল করে নিবে। (কিন্ত অবশ্যই কাগজ সাজিয়ে দিবেন।)

এই হল ইন্ডিয়ান ভিসা নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা এবং হালকা পাতলা উপদেশ। ভিসা পেতে আমার খরচ হল মোট ৬১৮ টাকা, ব্যাস এইটুকুই। দালাল দিয়ে আপনি করাতে পারেন, সেক্ষেত্রেও আপনার লাইন ধরতে হবে, মাঝ দিয়ে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা এক্সট্রা দিতে হবে (আরো বেশিও লাগতে পারে)। নিজের গাটের পয়সা খরচ করবেন কেন যেখানে আপনি ঘরে বসেই শান্তি মত সব করতে পারেন।

আর যারা এখনো বলেন যে ভিসা অ্যাপ্লিকেশন করতে কষ্ট, এই ঝামেলা সেই ঝামেলা; তারা আশা করি বুঝবেন এইসব আসলে বানানো কথা। যদি ইন্ডিয়া ঘুরতে যাবার ইচ্ছা থাকে তাহলে মানুষের কথায় কান না দিয়ে ভিসা অ্যাপ্লিকেশন করতে নিজেই বসে যান।

শুভকামনা…।

১৩ জানুয়ারি, ২০১৮।