ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আমার ছোট বোন এবারের এইচএসসি পরিক্ষার্থী ছিল। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফলাফলে তার সিজিপিএ মোট ৪.৯২। তার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়েছে এবং মোটামুটি ভালো স্টুডেন্ট।

তার পদার্থবিদ্যা, রসায়ন আর অংকে এ প্লাস। পদার্থবিদ্যায় গড় নম্বর ৮৮, রসায়নে ৮৪, আর অংকে ৮৭।

কিন্তু কোর সাবজেক্ট আর বাংলা এই চার বিষয়ে তার এ প্লাস থাকলেও আইসিটি (ইনফরমেশন টেক) সাবজেক্টে তার প্রাপ্ত মোট নাম্বার ৭৯। আবার ইংরেজিতে তার প্রাপ্ত নম্বর প্রথম পত্রে ৬৯, দ্বিতীয় পত্রেও ৬৯ (৭০ নম্বর পেলে এ গ্রেড)।

অর্থাৎ মোট তিনটি বিষয়ে সে এক নম্বরের জন্য এ গ্রেড পায়নি। আইসিটিতে ৭৯ না পেয়ে ৮০ পেলেই সে ওই সাবজেক্টে এ না পেয়ে এ প্লাস পেয়ে যায়, আবার ইংরেজিতে ৬৯ না পেয়ে ৭০ পেলেই সে উপরের গ্রেডে চলে যায়।

এখন এই তিন সাবজেক্টের যে কোন একটা সাবজেক্টে যদি ওর এক নম্বরও বাড়ে, অর্থাৎ হয় আইসিটিতে অথবা ইংরেজিতে যদি এক নম্বর বাড়ে তাহলে তার মোট সিজিপিএ ৪.৯২ না হয়ে ৫ হয়।

গত বছর আমার এক স্টুডেন্টের দুই সাবজেক্টের মার্ক (৭৭ থেকে ৮১ হয়েছিল, ৭৯ থেকে ৮০ হয়েছিল) বেড়ে তার সিজিপিএ ৪.৭৫ থেকে জিপিএ ৫ হয়ে যায়।

শিক্ষা বোর্ড প্রতি বছরই ফলাফলের পর একটা সুযোগ দেয় খাতা চ্যালেঞ্জ করার। সম্ভবত এর নাম  পুনঃনিরীক্ষণ প্রোগ্রাম (Rescrutinity Program)। এই খাতা চ্যালেঞ্জ করার পর ওনারা আসলে খাতাটা কীভাবে মূল্যায়ন করেন? খাতা কি আবার কোন এক্সামিনার দিয়ে দেখানো হয়? নাকি তারা শুধু যোগ-বিয়োগের ব্যাপারগুলো দেখেন?

নাকি তারা মিলিয়ে দেখবেন কোনও নম্বর খাতা থেকে কভার পেজে তুলতে এক্সামিনারের ভুল হলো কি না? এক্সামিনার কোনও উত্তরে নম্বর দিতে ভুলে গেলেন কি না? না কি ওনারা কিছুই করবেন না? শুধু দেখবেন কম্পিউটারে ইনপুট দিতে ভুল হয়েছে কি না?

শিক্ষা বোর্ড কিংবা কোথাও তন্ন তন্ন করেও খুঁজে পেলাম না  এই নম্বর পুনঃনিরীক্ষণের  পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতিটি কী?

আমার কাছে পুরো বিষয়টিই ধোঁয়াশা। তাই এর সঙ্গে কোনও ভাবে জড়িত কিংবা পদ্ধতিটি জানেন এমন কোনও পাঠক যদি বিষয়টি খোলাসা করেন তবে আমার মত অনেকেই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।