ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

নিজে ঢাকার ভোটার নই । তাই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ থাকলেও আলাদা কোন উত্তেজনা ছিল না। বরং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রচারের অত্যাচার হতে মুক্তি পাওয়ার আনন্দ নিয়ে একটা কিছু লিখব বলে ভাবছিলাম। মিছিল আর মাইকিং যে জনজীবনে কী পরিমাণ দুর্ভোগ নিয়ে এসেছে তা ঢাকায় বসবাসকারী নাগরিকদের আগামী কয়েক বছরে ভুলে যাওয়ার কথা নয়। অন্য কার কাছে কেমন লেগেছে জানিনা আমি মনে মনে কয়েকবার প্রচারের নামে মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলা এই ধরনের নির্বাচন ব্যবস্থার ধ্বংসও কামনা করেছিলাম।

দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার পরিকল্পনা থেকেই দেরিতে ঘুমাতে যাই।মানুষের কোলাহল আর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাঁশির আওয়াজে ঘুম ভেঙ্গে যায়। ছাদে গিয়ে এক অসাধারন দৃশ্য দেখি। শত শত মানুষ তীব্র রোদকে উপেক্ষা করে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক দিন পর ভোট দানের সুযোগ কেউ যেন হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না। বাসায় বসে থাকতে পারিনি। নিচে নেমে গেলাম। ভোটাররা ভোট দেবে আমি দেখবো। ভোট দেখার এই বাসনা সেই ছোটকালে ছিল। আজ আবার কেনো মনে জাগ্রত হলো বুঝলাম না। হয়ত একটু শান্তির আশা। পেট্রোল বোমার রাজনীতিতে ফিরে না যেতে চাওয়ার প্রত্যাশা বা অন্যকিছু । প্রার্থীদের বিশাল কর্মী বাহিনী আজও বসে নেই। প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষ ভাবে নিজ প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাওয়ার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না। আওয়ামী বা জাতীয়তাবাদী কেউ কারো চেয়ে পিছিয়ে নেই।

বাসায় ফিরে আসি। অনলাইন পত্রিকায় চোখ বোলাতেই দেখতে পাই দু’একটি ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোট সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। কোটি কোটি বাঙালির মতো আমারও ভালো লাগে। কিন্তু পরক্ষণেই পত্রিকায় আসে চট্টগ্রামের মেয়র প্রার্থী মঞ্জুর আলমের ভোট বর্জন এবং রাজনীতি থেকে অবসর ঘোষণা। ভোটের কারণে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন ভোট বর্জনের সাথে সাথে রাজনীতিও বর্জন করলেন । কিন্তু কেনো?

কিছুক্ষণ পর ঘোষণা আসল ঢাকায়ও ভোট বর্জন। সকালের ভাল লাগাটা নিমিষেই উধাও হয়ে গেল। আচ্ছা আমরা কেনো পারি না একটা সুন্দর স্বপ্ন দেখতে? উন্নত রাজনৈতিক শিষ্ঠাচারের সংস্কৃতি কেনো গড়ে উঠছে না? ভোটে বিশৃঙ্খলা, মারামারি স্বাভাবিক ঘটনা। কিছুদিন আগে কলকাতা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও ভোটে প্রভাব বিস্তার নিয়ে ব্যাপক মাত্রার অভিযোগ থাকা সত্বেও তো শুনিনি কোন দলকে ভোট বর্জন করতে। পুরো ভোট বর্জন করার মতো পরিস্থিতি কী সৃষ্টি হয়েছিল? যেসব কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে সেসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি করা যেত।এর আগের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে বিএনপি ভোট ডাকাতির অভিযোগ করার পরও কিন্তু বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। তখন তাঁরা দাবি করেছে কর্মীরা পাহারা দেওয়ায় সরকার ভোট চুরি করতে পারেনি। এবার পাহারা না দিয়ে পুরো ভোট বর্জন? কর্মীদের উপর আস্থা নেই কেনো ? গণতন্ত্রের নামে পুনরায় মানুষ হত্যার মতো জঘণ্য অপকর্মের বৈধতা জন্য এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ বলে আওয়ামীলীগ যে দাবি করে আসছিল তাহলে কি তা সত্য?

বিএনপির ভোট বর্জনের ঘোষণা আসার পর পরই ভোটের আনন্দ বিলীন হয়ে যায়। ভোট বর্জনের ঘোষণা জানাজানি হওয়ার পর ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমে গেছে। আগের ভোট গ্রহণের শান্তিপূর্ণ কোলাহলের স্থলে স্থান করে নিয়েছে ধর ধর রব। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এবং আওয়ামী বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া- পালটা ধাওয়ার দৃশ্য কিছুক্ষণ পর পর দেখা যাচ্ছিল। শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে, ভোট নয় জোর করে জেতার পরিবেশে রূপান্তরিত করার দায় কার? হয়তো বিএনপি আজ অনেক যুক্তি উপস্থান করার চেষ্টা করবে। সেনাবাহিনীর কথা বলবে, নেতাদের মামলার কথা বলবে। কিন্তু সেসব তো ভোটের আগের কথা। এসব অভিযোগে আগেই ভোট বর্জনের ঘোষণা দেয়া যেতে পারত। আজ কেনো? আগে ভোট বর্জন করলে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কে বলার মতো কিছু থাকতো না, এটা তাঁরা হয়তো ভেবে থাকবেন। কিন্তু তীব্র রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেয়া আপনার সমর্থকটার কথা একবারো ভাবেননি কেনো? আপনার নেত্রীর হাতকে শক্ত করার জন্য রাতদিন ভোট প্রার্থনা করা কর্মীটির কথা কেনো ভাবেননি?