ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

photo

file
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখের যৌন হয়রানির ঘটনার একমাস পূর্তি উৎসব আমরা পালন করতেই পারি। অনেক ঘটনা ঘটে যায়। এক পক্ষ ঘটনাটিকে স্মরণ করে এর সাথে জড়িতদের যথাযথ শাস্তির দাবি জানায় আরেক পক্ষ বিশেষ করে এই শাস্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব যাদের উপর তারা বরাবরের মতো নির্লিপ্ত থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দাবি আদায়ের দাবিকে অতিরঞ্জন বলতেও দ্বিধা করেন না।এর সর্বশেষ সংযোজন জড়িতদের গ্রেফতার করতে না পারার প্রতিবাদে ঢাকা পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচীতে পুলিশের হামলা। ছাত্র ইউনিয়নের একজন নারী কর্মীর উপর যে কায়দায় হামলা করা হয়েছে তার হয়তো আইনি ব্যাখ্যা আছে যেমনটা ব্যাখ্যা আমরা পেয়েছিলাম বর্ষবরণের ঘটনায় পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে। তাঁরা দাবি করেছে কিছুই হয়নি। যখন কিছুই হয়নি তখন এ নিয়ে ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের অহেতুক ঝামেলা সৃষ্টিকে লাঠি থেরাপির মাধ্যমে দমন অবশ্যই ন্যায়সংগত। সরকারও এই ব্যাপারে নিশ্চুপ। এর দুটি কারণ থাকতে পারে এক-অনেকে বলছে এর সাথে জড়িতরা তিতুমীর কলেজের ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত । দুই-সরকার যে কোন প্রকার আন্দোলনের বিপক্ষে কারণ এই আন্দোলনের সুযোগে সরকার বিরোধী আন্দোলন না আবার চাড়া দিয়ে ওঠে।

গতকাল যারা আন্দোলন করেছে বা অতীতে যারা এই আন্দোলনে ছিল অথবা এই ঘটনার প্রতিবাদে মানব বন্ধনে অংশ নিয়েছে কেউ কিন্তু ঐ দিন যে মা বোনেরা হয়রানির শিকার হয়েছে তাঁদের চেনে না ।ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে এজন্যই এই ধরনের কর্মকান্ডে তাঁদের অংশগ্রহন। এখানে যেমন নিজে অথবা নিজের স্বজনদের এই ধরনের ঘটনার শিকারের ভয় আছে তেমনি ভবিষ্যতে নারীর জন্য সুন্দর এক বাংলাদেশের স্বপ্নও আছে। কিন্তু এই মানুষগুলোকে নির্মম বাক্যবাণে জর্জরিত হতে হচ্ছে অথবা নির্মম লাঠির আঘাত সহ্য করতে হচ্ছে। ব্যাপারটা এমন আপনার তো কিছুই হয়নি। চুপ করে থাকেন। যাদের ক্ষতি হয়েছে তারা তো কোন অভিযোগ দিচ্ছে না। তাহলে আপনারা এতো লাফালাফি করছেন কেনো?

আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তির সাথে আপনার ভাবমূর্তি জড়িত। এই ঘটনা প্রমাণিত হলে আপনার ব্যর্থতার তালিকা বড় হয়ে যাবে। তাই আপনি চাননা এই ঘটনা আলোচনায় আসুক । কিন্তু কোনদিন যে আপনার মেয়ে বা আপনার ভালোবাসার কেই এই ধরণের ঘটনার শিকার হবেনা এই গ্যারান্টি আপনাকে কে দেবে? হয়তো মনে মনে এই ভেবে সন্তুষ্ট হচ্ছেন আমার মেয়ে তো দেশের বাইরে থাকে। অভিজিত দেশের বাইরে থাকলেও কয়েক দিনের জন্য দেশে এসে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে।অপরাধীরা ওঁৎ পেতে থাকে শিকারের অপেক্ষায়।

আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ত্রুটি জনসম্মুখে আসলে আপনার সমালোচনা হবে। অনেকে আপনার পদত্যাগ দাবি করবে। তাই চাচ্ছেন থাক কি হয়েছে, হয়েছে বেমালুম অস্বীকার করে যাব। আপনার স্বীকারোক্তি এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা থেকে আপনার প্রতিষ্ঠান কে , আপনার দেশকে রক্ষা করতে পারত। কিন্তু আপনার ইমেজ চলে যাবে তাই বিবেক কে দমিয়ে রেখেছেন। একদিন আপনি হয়তো বিবেকের দংশনের শিকার হবেন যখন আপনার কেউ যৌন হয়রানির শিকার হবে।

আপনি পুলিশের বড় কর্তা। আপনি জানেন তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা , সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষনের পরও এতো সময় নিয়ে দলবদ্ধভাবে এই ঘটনা ঘটানো পুলিশের ব্যর্থতার মধ্যে পড়ে। কিন্তু ডিপার্টমেন্টের দুর্নাম হবে ভেবে আপনি এখানে শুধু মানুষের জটলা দেখলেন বা কোন নারীর মুখে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পর যে অভিব্যক্তি প্রকাশ পায় তা আপনার চোখে পড়ে না। আপনার সিরিয়াসনেস এবং সাহসী পদক্ষেপ পারত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করে দিতে সে যে ঘরানারই হোক ।আপনার আজকের যথাযথ পদক্ষেপের অভাব ভবিষ্যতে হয়তো আপনার কোন প্রজন্ম কে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করবে।

আপনি অভিজাত শ্রেণির মানুষ।আপনারার স্ত্রী সন্তান কালো কাঁচ ঘেরা গাড়ি ছাড়া চলাফেরা করেনা। তাই আশেপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে আপনার তেমন আগ্রহ নেই। এমনও তো হতে পারে কোন অপরাধীর একদিন ইচ্ছা জেগেছে গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গে আপনার মেয়েকে দেখার।

আপনি স্বনামধন্য লেখক, কবি , ব্লগার ইত্যাদি । লেখালেখির জগত নিয়েই ব্যস্ত। এই বিষয় নিয়ে লেখাতে আগ্রহ পান না। বা লিখলেও রূপকাশ্রয়ে মেয়েদের সংযত হতে বলেন। কোন একদিন এমন ঘটনাও ঘটতে পারে যখন আপনি লেখার ভাষা হারিয়ে ফেলবেন।

আপনি দেশে ইসলামি শাসন বাস্তবায়নের স্বপ্নে বিভোর ব্যক্তি। আপনার পাঁচ বছরের কন্যা সন্তানকেও পর্দা ও নেকাব পড়া ছাড়া ঘর হতে বের হতে দেন না। পহেলা বৈশাখের ঘটনাকে বেহায়াপনার ফল বলে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন । উচিত কাজটিই করেছে অপরাধীরা ইনিয়ে বিনিয়ে এই কথাটিই বলতে চাচ্ছেন।রাস্তার একেবারে প্রান্তঘেঁষে হাঁটা ভদ্র মেয়েটাও কিন্তু এদের হাত থেকে রেহাই পায় না।

আপনি তুখোড় ছাত্রনেতা। আপনার চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহস কারো নেই। যে মেয়েকে পছন্দ হবে তার ওড়না কেড়ে নেয়া আপনার রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে পড়ে।এই পাপ একদিন বড় হয়ে আপনার ঘাড়েও চেপে বসতে পারে। সেদিন আপনি বিহ্বলর মতো চেয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।

আপনি সেই অপরাধীদের একজন । বেহায়া মেয়েদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য কয়েকজন মিলে এই কাজ টা করেছেন যাতে মেয়েরা ঘরে থাকে।আপনার বোন কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কেউ হয়তো একদিন আপনার বাসায় ঢুকে পড়বে।

আপনি অপরাধী সন্তানের মা। পত্রিকায় , টিভিতে আপনার সন্তানের ছবি দেখেছেন। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি আপনার সন্তান এমন কাজ করতে পারে। বার বার দেখার পর যখন নিশ্চিত হলেন সে আর কেউ নয় আপনার সন্তান তখন আপনার মাতৃত্ববোধ জেগে উঠল। অপরাধের কাছে মাতৃত্বের পরাজয় ঘটল । যেভাবে হোক আপনার সন্তানকে রক্ষা করতে চাইলেন। সন্তানকে আশ্বস্ত করলেন চিন্তা করো না আমরা তো আছি। ছেলেরা একটু আধটু এমন করতেই পারে। আপনার আজকের ভুল ভূমিকা একদিন আপনাকে , আপনার মেয়েকে বিপদে ফেলতে পারে।সংবাদ সম্মেলন করে সন্তানের অপরাধের শাস্তি চাইলে হয়তো অনেক অপরাধ সংঘটনের হাত থেকে আপনি লাখো মা বোন কে বাঁচাতে পারতেন।

সবশেষে আপনি নিরীহ মানুষ। কারো আগেও নেই, পাছেও নেই। সেদিন কি ঘটেছে সেটা জানা আপনার কাজ নয় । কোনমতে জীবন পার করে দেয়াই আপনার জীবনের ব্রত। মনে রাখবেন প্রলয় হলে দেবালয় রক্ষা পায় না।
তাই সময় হয়েছে প্রতিবাদের- ঘরে, বাইরে, সবার , সবখানে।

সূত্র লিঙ্ক-
১। http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article966616.bdnews
২। http://blog.bdnews24.com/Krishna/167194
৩।http://www.somewhereinblog.net/mobile/blog/asif970/30031629
৪।https://www.youtube.com/watch?v=3ZxpznApAW0