ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আমাদের সবচাইতে ভাল দিক হল আমরা খুব নিয়ম মাফিক চলতে পারি। এর বেশ কিছু উদাহরণ আছে আমাদের। আমরা দুর্নীতিতে হেট্রিক করেছি টানা পর পর তিন বার সেরা দুর্নীতি গ্রস্ত দেশ হতে পেরেছি। যদিও কিছু কিছু মানুষের জন্যে এটা ছিল আশীর্বাদ সরূপ। কারণ এই দুর্নীতির মাধ্যমে তারা তাদের দুর্নীতির স্বীকৃতি পেয়েছিল। হয়ত বা অনেক রাজনৈতিক নেতাদের থেকে অনেক সাধুবাদ ও পেয়েছিল।

গত বেশ কিছু বছর ধরে আমাদের প্রধান প্রবলেম হল দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি কিন্তু তাতেও আমরা সফল হয়েছি দিন দিন আমরা আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি করতে পেরেছি। আগে আমরা চাল কিনতাম 32-38 টাকার মধ্যে কিন্তু এখন আমাদের কিনতে হয় 40-50 টাকার মধ্যে। সবচাইতে দুখের বিষয় হল আমাদের দেশে আমন কিছু মন্ত্রী আছে তাদের কে যদি বলা হই যে আমরা আগে কম টাকা দিয়ে চাল কিনতাম কিন্তু এখন আমাদের বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হয়। তাহলে এর উত্তরে হয়ত আমাদের মন্ত্রীরা বলবেন “এতে ঐ প্রমাণ হয় যে আমাদের দেশের মানুষের জীবন যাত্রার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে, সবাই বেশি বেশি ইনকাম করছে তাই বেশি টাকা দিয়া ও খাবার কিনে খাচ্ছে, দেশ উন্নতির জওয়ারে ভেসে যাচ্ছে।” উনি হয়ত বুজবেন ও না যে উনি কী বলছেন।

যাই হোক এই হচ্ছে আমাদের দেশের অবস্থা। আসল প্রসঙ্গে আসি আমরা বলতে চাচ্ছিলাম গুণীজনদের কথা। যেহেতু গুণীজনদের কথা আসছেই তাহলে প্রথমে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের যোগাযোগ মন্ত্রী আবুল হোসেন কে উনি আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে দেশকে ভালোবাসতে হয়। উনি আমাদের আর ও শিখিয়েছেন কিভাবে দেশের ইমেজ নষ্ট করতে হয়। পদ্মা সেতু নিয়ে উনি অনেক কথা বলেছিলেন। নিজেকে বারে বারে নিষ্পাপ বলেছেন কিন্তু রেজাল্ট হল: উনি একজন প্রকৃত দেশ প্রেমিক, উনার মনে মানুষের জন্যে অনেক দরদ উনি চাচ্ছিলেন পদ্মা সেতু নিয়ে দেরি হোক কারণ যদি ঐ সেতু হয় তাহলে আরেকটা নতুন রাস্তা হবে অনেক দুর্ঘটনা ঘটবে এতে অনেক মানুষ মারা যাবে। উনি এই চিন্তা করেই হয়ত পদ্মা সেতু নিয়ে কাহিনী করেছেন। যাই হোক আমরা তাদের দেখে ভন্ডামি শিখি। হয়ত ঐ ভন্ডামি দিয়ে দেশ অনেক নিচে পড়ে যাবে আর তখন আমাদের কিছু মন্ত্রী ভাববে যে স্কুল এ যার রোল কম সে ভাল। ঠিক একই ভাবে আমাদের ইকোনোমিক্স অবস্থা পৃথিবীতে সবচাইতে নিচে তাই আমরা ও ভাল। কারণ আমাদের দেশের অনেক মন্ত্রী হাই স্কুল এও যাই নাই। তারপরেও তারা মহান। তাদের এত যোগ্যতা যে তারা একমাত্র নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস কেও নিয়ে মন্তব্য করেন। যার কথা শুনার জন্য হাজার হাজার মানুষ বাংলাদেশ এ। আমাদের দেশের কিছু পৃথিবী আলোড়ন সৃষ্টিকারী নেতা আছেন যারা কিনা যোগ্যতাতে একজন পিওন এর থেকেও নিচে কিন্তু এক্সপ্রেশন এর দিক দিয়া নোবেল বিজয়দের থেকেও বেশি। আমি তাদের নাম নিয়া বিতর্কিত হতে চাই না। আমাদের দেশে খুব একটা গুণী লোক জন্মায় না কারণ আমরা গুণী লোকদের সন্মান করতে জানি না।

সদ্য আমাদের প্রিয়, আদরণীয় এবং ভালোবাসার এক মানুষ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। আল্লাহ তার রুহের মাগফেরাত করুন। তাকে নিয়ে তার 2য় স্ত্রী যা নাটক করল তা পৃথিবীতে বিরল দৃষ্টান্ত। সে মহিলা শাওন প্রমাণ করল যে একজন মানুষ কত নিকৃষ্ট হতে পারে। একই সাথে শিলা, নোভা, নূহাশ প্রমাণ করল ভালোবাসা কাকে বলে তারা তার বাবার লাশ দাফন করার জন্যে পরাজয় শিকার করে নিল। একেই বলে ভালবাস।

আমরা এক নক্ষত্র হারালাম যাকে হারানোর পড়ে বুজলাম যে কী হারালাম!!!!!! আমাদের আকাশে আর এক নক্ষত্র আছে যিনি হলেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস।

উনি আমাদের দেশের জন্য অনেক সুনাম বয়ে এনেছেন। এখনো পুরো দমে পৃথিবী ঘুরে কাজ করে যাচ্ছেন। তাকে পুরো সন্মান দিতে যাতে আমরা না দেরি করে ফেলি।