ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধে বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এর স্টিয়ারিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৯ অগাস্ট। দুই বছর মেয়াদি ২১টি কার্যনির্বাহী পদের জন্য এই নির্বাচনে সরকার সমর্থক শিক্ষকরা প্রথমবারের মতো তিনটি প্যানেলে ভাগ হয়ে অংশ নিয়েছে।

প্যানেল তিনটি হলো- বর্তমান উপাচার্য সমর্থিত প্যানেল, যার আহ্বায়ক এম মজিবুর রহমান; সাবেক উপাচার্য মিজানউদ্দিন সমর্থিত প্যানেল, যার আহ্বায়ক অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম এবং মিজানউদ্দিন সমর্থিত প্যানেল থেকে বেরিয়ে আসা নতুন প্যানেল, যার আহ্বায়ক অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।

গণতান্ত্রিক পরিবেশে এটা অবশ্য ভালো দিক। যে কেউ চাইলেই নির্বাচন করতে পারেন, প্রার্থী হতে পারেন। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এই আলাদা হয়ে নির্বাচনকে ঘিরে রাবির আওয়ামী সমর্থক শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরি ভবনে সকাল নয়টা থেকে ঐদিন ভোট গ্রহণ শুরু হয়, চলে দুপুর দুইটা পর্যন্ত। এই সময়ে দেখা গেছে তিনটি পৃথক টেবিলে বসে তিন গ্রুপের শিক্ষকরা নিজ নিজ প্যানেলের জন্য ভোট চাচ্ছেন।

শিক্ষকদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, ২০১৬ সালে এই শিক্ষকরাই দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। আর তার আগে দৃশ্যমান কোনো প্যানেলই ছিল না।

তবে একই রাজনৈতিক আদর্শের শিক্ষকদের মাঝে এভাবে কয়েকটি ভাগ তৈরি হওয়াকে অনেকে ভালোভাবে নেয়নি। অনেক শিক্ষক এ বিষয়টি নিয়ে তাই  মনঃক্ষুণ্ন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “আমাদের মধ্যে এ ধরনের বিভাজন তৈরি হবে তা কখনো কল্পনা করিনি। এই বিভাজনের ফলে এখানে আমাদের দলটা বিপাকে থাকবে, দুর্বল থাকবে। অন্য গোষ্ঠীর শিক্ষকরা এটাকে পুঁজি করে সুবিধা নিবে।”

সরকার সমর্থক শিক্ষকদের মাঝে তৈরি হওয়া বিভক্তির মাত্রা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে নির্বাচনের আগের রাতের এক ঘটনা দিয়ে।

নিবার্চনে একটি বিশেষ প্যানেলকে ভোট প্রদানে অন্য শিক্ষকদের প্রভাবিত করার অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করে অপর দুটি প্যানেল।

অভিযোগপত্রে তারা উল্লেখ করেন, “বিশেষ ঐ প্যানেলে ভোট দেয়ার প্রমাণ হিসেবে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে তা দেখানোর জন্য অনেক শিক্ষককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় শিক্ষকরা তাদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দেয়া নিয়ে সংশয়ে পড়বে।”

তাই সুষ্ঠু ও আতঙ্কমুক্ত পরিবেশে ভোট গ্রহণের স্বার্থে বুথে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া এবং বুথের সামনের পর্দা তুলে দিয়ে বুথকে উন্মুক্ত করার দাবি জানান তারা। এই ঘটনা দিয়ে অনুমান করা যায়, আওয়ামী সমর্থকদের নিজেদের মধ্যে কতটা বিভক্তি বিদ্যামান। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. জুলফিকার এই অভিযোগকে অনুমাননির্ভর বলেন।

নির্বাচনের ফলাফলে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এম সোবহান সমর্থিত প্যানেল থেকে আহ্বায়ক পদে জয়ী হয়েছেন পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক এম মজিবুর রহমান। ২০টি কার্যনির্বাহী পদের মধ্যে তার প্যানেল পেয়েছে ১৭টি। অধ্যাপক মজিবুর আহ্বায়ক পদে পান ২২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক উপাচার্য মিজানউদ্দিন সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম পেয়েছেন ১৭৯ ভোট। তৃতীয় প্যানেল থেকে অধ্যাপক হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১৬০টি ভোট।

ফলে দেখা যাচ্ছে সবগুলো পক্ষেই বড় সংখ্যায় সমর্থন রয়েছে। তাই নির্বাচনে বর্তমান উপাচার্য সমর্থিত প্যানেল জয়ী হলেও আওয়ামী সমর্থক শিক্ষকদের সংগঠনের এই বিভক্তিটা স্থায়ীভাবে রয়ে যাবে বলে মনে করছেন অনেক শিক্ষক।