ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

যে দেশে ভাল মানুষের কোন মূল্যায়ন নাই, সেই দেশে ভাল মানুষের আশা করা নিতান্তই ভুল। বলছিলাম চারিত্রিক মূল্যায়নের কথা। আমরা রক্ষককে ভক্ষক হতে শুনেছি। কিন্তু একজন ভক্ষককে রক্ষক হতে কি কেউ কখনো শুনেছেন? আমি একজন ভক্ষককে রক্ষক হতে শুধু শুনি নাই, নিজের চোখে দেখেছিও বটে।

গত ০৩ মে, ২০১৭ তারিখে ডাচ-বাংলা ব্যাংকে একাউন্ট করতে গিয়ে অবাক হয়েছিলাম ব্যাংকের ম্যানেজার সাহেবকে দেখে। ২০১৪ সালে যে লোক নিজে ব্যাংক ডাকাতি করেছিল, সে আবার একটি ব্যাংকের ম্যানেজার হয় কিভাবে? ২০০৭ সালে যে লোক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩টি কম্পিউটার চুরি করে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল, সে আবার একটি ব্যাংকের ম্যানেজার হয় কিভাবে?

জ্বী হ্যাঁ, ম্যানেজার তো তার হওয়ারেই কথা। কারণ তার মামা উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান। তার এই ভাইস-চেয়ারম্যান মামার বদৌলতেই সে ব্যাংক ডাকাতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার চুরির মামলা থেকে রেহাই পেয়েছিল। আর এই ভাইস-চেয়ারম্যান মামার বদৌলেই আজ সে ব্যাংকের ম্যানেজার। যাইহোক পরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকে একাউন্ট না করেই বাসায় ফিরে এলাম।

ডাচ-বাংলায় একাউন্ট না করার কারণ, শুটকির নৌকায় বিড়াল সাহেবকে পাহারাদার দেয়া হয়েছে। এখানে শুটকি কতটুকু নিরাপদ আপনারাই বলেন? এই হল আমাদের দেশের অবস্থা। ভালো কাজের জন্য একজন মানুষকে পুরষ্কৃত করলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভালো কাজ করতে উৎসাহিত হবে। আর খারাপ কাজের জন্য একজন মানুষকে পুরষ্কৃত করলে লক্ষ লক্ষ মানুষ খারাপ কাজের প্রতি উৎসাহিত হবে। যেখানে একজন ভালো মানুষকে পুরষ্কৃত করার কথা, সেখানে তাকে বিভিন্নভাবে অবমূল্যায়িত করা হচ্ছে। যেখানে একজন খারাপ মানুষ শাস্তি পাওয়ার কথা, সেখানে তাকে শাস্তির বদলে পুরষ্কৃত করা হচ্ছে! আর এসব দেখে সাধারণ মানুষ খারাপ কাজের প্রতি উৎসাহিত হচ্ছে।