ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

মুসলিমরা তাদের ইসলাম ধর্ম পালন করবে, হিন্দুরা তাদের সনাতন ধর্ম পালন করবে, খ্রিস্টানেরা তাদের খ্রিস্ট ধর্ম পালন করবে। আর কেউ যদি ধর্মে বিশ্বাস না করে, এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার৷ দেশটা তো কারও পৈত্রিক সম্পত্তি না যে, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একটা ধর্ম চাপিয়ে দেয়া হবে৷

কেউ ভুল ধর্ম অনুসরণ করলে বা না করলে তার শাস্তি সৃষ্টিকর্তাই দিবেন। এ নিয়ে একটি বিশেষ মহলের এত দুশ্চিন্তা কেন? রাজিব, দ্বীপ, অভিজিত, ওয়াশিকুর, অনন্ত, নিলয়; এরপর কে? একের পর এক মুক্তমনা ব্লগারদের হত্যা করার পর এই প্রশ্নটি সকলের কাছে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ছয় ব্লগারকে হত্যা করা হয়েছে। নির্মমভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে আসিফ মহিউদ্দিন এবং অভিজিতের স্ত্রী বন্যা আহমেদকে। সরকারের কাছে নাস্তিক আখ্যায়িত করে ব্লগারদের যে তালিকা দেয়া হয়েছিল, তা ধরেই এই হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হত্যাকাণ্ড থামাতে যেমন ব্যর্থ হচ্ছে তেমনি ব্লগারদের নিরাপত্তাও দিতে পারছে না। ফলে ক্রমেই মুক্তমনা লেখকদের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে দেশের পরিবেশ।

হত্যা কখনো সমর্থনের বিষয় নয়। বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে সব হত্যাই অন্যায়৷ বিশেষ করে ইসলাম ধর্ম বিচারবহির্ভূত হত্যা সমর্থন করেনা। ছয়জন ব্লগারকেই হত্যা করা হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার দায়ে এবং বিচারবহির্ভূত ভাবে!

ধর্মের নামে মানুষকে হত্যা করার অধিকার কারও নেই। একজন মানুষ জন্মগত ভাবেই স্বতন্ত্র মন নিয়ে জন্মায়। তাই সে যা বিশ্বাস করে তা সে অনুসরণ করতেই পারে। বাক স্বাধীনতার অধিকার সবার রয়েছে। স্বাভাবিকতই একজনের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণার সঙ্গে অন্যজনের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণার মিল না-ও হতে পারে। তাই বলে হত্যা করা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি মুক্তমনা ব্লগারদের হত্যার তীব্র প্রতিবাদ করছি। সেই সাথে মুক্তচিন্তার ব্লগারদের হত্যার বিচার দাবি করছি। মুক্তচিন্তার ব্লগারদের পরিবার যাতে ন্যায় বিচার পায়, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

যাদের শরীরিক শক্তিতে ও হত্যা করে ধর্ম টিকিয়ে রাখতে হয় তাদের উচিত সেই পথ ত্যাগ করে শান্তির পথে ফিরে আসা। একজন মানুষ তার ইচ্ছে হলে নাস্তিক হবে, ইচ্ছে হলে আস্তিক হবে। এটা তার চিন্তার ব্যাপার, তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তার কবরে যেহেতু অন্য কেউ যাবে না, সেহেতু তাকে নাস্তিক আর আস্তিক বিষয় নিয়ে তাকে হত্যা করার ইজারা কে দিয়েছে? ইসলামে স্পষ্ট বলা আছে, ‘যদি কোন মুসলমান একজন মানুষকে হত্যা করল, তাহলে সে যেন পুরো মানব জাতিকে হত্যা করল।’

আইএস নিয়ে আমি কিছু বলব না। আমি শুধু বলব আইএসে কেন মুসলিম যুবকরা যোগ দেয়! যারা আইএসে যোগ দেয় (যুবক), তাদের ধর্মীয় আবেগ আছে কিন্তু ধর্মীয় জ্ঞান নাই। মুসলিম আলেমরা তো আইএসে যোগ দেয় না। তাদের ধর্মের নামে ব্যবহার করা হচ্ছে। ধর্মে কি বলা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা অজ্ঞাত।

গুলশান হামলার কথা একটু বলব। গুলশান হামলায় যারা অংশগ্রহণ করেছে তারা সবাই উচ্চশিক্ষিত, পশ্চিমা সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী। তাদেরকে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভুলিয়ে ফেলা খুবই সহজ। একজন ইসলাম সম্পর্কে জানা জ্ঞানী মানুষকে আইএস কোরআন হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা বোঝাতে পারবেনা। কারণ, ইসলাম কখনো জঙ্গীবাদকে সমর্থন করে না।

কবে আমরা সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকে সমস্বরে অন্যায় বলতে শিখবো? শুভবুদ্ধির উদয় হোক সবার, এই প্রত্যাশাই রইল।